১৭ ডিসেম্বর ২০১৭, রবিবার ১২:০০:২৬ পিএম
সর্বশেষ:

০৫ ডিসেম্বর ২০১৭ ১২:৫১:২৫ পিএম মঙ্গলবার     Print this E-mail this

আমদানী-রফতানী বন্ধ থাকায় নাকুগাঁও স্থলবন্দর স্থবির হয়ে পড়েছে

শেরপুর প্রতিনিধি
বাংলার চোখ
 আমদানী-রফতানী বন্ধ থাকায় নাকুগাঁও স্থলবন্দর স্থবির হয়ে পড়েছে

 শেরপুর জেলার একমাত্র নাকুগাঁও স্থলবন্দরটি আমদানী-রফতানী বন্ধ থাকার কারণে দীর্ঘদিন যাবত স্থবির হয়ে পড়ে রয়েছে। এ বন্দর দিয়ে চলতি অর্থ বছরের প্রথম ৬ মাসে কোন পণ্য আমদানি হয়নি। তবে, সিমেন্ট ও পারটেক্স বোর্ড অল্প পরিমাণ রপ্তানি হলেও রাজস্ব আয় নেমে এসেছে শূন্যের কোঠায়। এতে বেকার হয়ে পড়েছে বন্দরের শতাধিক ব্যবসায়ী এবং কয়েক হাজার শ্রমিক। এদিকে, ভুটানের সঙ্গে  পণ্য পরিবহনে এই বন্দর ব্যবহারের আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।
শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলার নয়াবিল ইউনিয়নের নাকুগাঁও সীমান্তে (ভারতীয় অংশের ঢালু) প্রথমে পূর্ব পাকিস্তান অমল থেকেই চালু থাকলেও পাক-ভারত যুদ্ধের পর বন্দরটি অঘোষিতভাবে বন্ধ হয়ে যায়। ১৯৯৭ সালে পুনরাই নাকুগাঁও শুল্ক স্টেশন হিসেবে চালু করা হয়। এরপর ২০১০ সালে ওই শুল্ক স্টেশনটি পূর্নাঙ্গ স্থলবন্দর হিসেবে ঘোষণা করা হয়। প্রায় ২ শ কোটি টাকা ব্যায়ে বন্দরের বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণের পর ২০১৫ সালের ১৮ জুন আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় নাকুগাঁও স্থলবন্দরটি।
জেলা শুল্ক, কাস্টমস ও ভ্যাট অফিস সূত্র জানায়, গত ৬ বছরে কাস্টমস বিভাগে রাজস্ব আয় হয়েছে, ২০১২-১৩ অর্থ বছরে ১২ কোটি ৯৬ লাখ ৪৮ হাজার টাকা, ২০১৩-১৪ অর্থ বছরে ৫ কোটি ৫৩ লাখ ৬৫ হাজার টাকা, ২০১৪-১৫ অর্থ বছরে ১ কোটি ৬৯ লাখ ৩৫ হাজার টাকা, ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে ২ কোটি ৫৮ লাখ ৩৯ হাজার টাকা, ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে ২ কোটি ২৫ লাখ ২৪ হাজার টাকা রাজস্ব^ আয় হলেও বিগত ৬ মাসে চলতি ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে এ বন্দর থেকে রাজস্ব আয় হয় হয়েছে শূন্য (০) টাকা।
সূত্র জানায়, প্রথম পর্যায় ভারত থেকে ১৯ ধরনের পণ্য আমদানী-রফতানী দিয়ে বন্দরের কার্যক্রম শুরু হলেও  কেবল মাত্র পাথর এবং কয়লা আমদানীতেই জমে উঠে এ বন্দর। সেসময় বন্দরে হাজার হাজার পাথর ও কয়লা এবং পরিবহন শ্রমিকের কর্ম চাঞ্চল্যতায় মুখরিত হয়ে উঠে বন্দর ও আশপাশের পরিবেশ। নালিতাবড়ি উপজেলা ও শেরপুর জেলা সদরসহ দেশের বিভিন্নস্থানের ব্যবসায়ীদের আনাগোনায় প্রত্যন্ত এ সীমান্ত এলকা যেন আলোর মুখ দেখতে শুরু করে। আশপাশের শত শত বেকার মানুষের কর্ম সংস্থানের পথ খুলে যায়। কিন্তু গত দুই বছর আগে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের স্থানীয় পরিবেশবাদীদের দায়ের করা মামলার কারণে বন্ধ হয়ে যায় পাথর-কয়লা আমদানী। তবে গত এক বছর সামন্য কিছু পাথর-কয়লা আমদানী হলেও চলতি বছরের শুরু থেকে একেবারে বন্ধ হয়ে যায় আমদানী। ফলে বিপাকে পড়ে ভারত ও বাংলাদেশী ব্যবসায়ীরা। ভারতীয় ব্যবসায়ীরা ইতিমধ্যে এ বন্দর থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন। সেসঙ্গে   কমতে থাকে রাজস্ব আয়ও। যা গত ৬ বছরের মধ্যে চলতি অর্থ বছর রাজস্ব আয় নেমে আসে শুন্যের কোঠায়। অর্থাৎ এ বন্দর দিয়ে চলতি ২০১৭-১৮ অর্থ বছরের মধ্যে কোন আমদানী-রফতানী না হওয়ায় বিগত ৬ মাসে কোন রাজস্ব আদায় হয়নি।
এদিকে বন্দরে কাজ না থাকায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন বন্দরে কর্মরত কয়েক হাজার শ্রমিক। সেসঙ্গে কাস্টমস বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও অলস সময় পর করছেন। শ্রমিকদের দাবী সরকারের উচ্চ পর্যায়ে এ বিষয়ে বৈঠক করে ভারতের সঙ্গে  আমদানী-রফতানী বিষয় নিয়ে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা করে বন্দরকে সচল করা হোক।
জেলা কাস্টমস, এক্সসাইজ ও ভ্যাট অফিস সূত্রে জানাগেছে, বন্দরটি সচল করতে ইতিমধ্যে নেয়া হয়েছে নানামূখী পদক্ষেপ। এরই মধ্যে ভুটানের সঙ্গে পণ্য পরিবহনে এই বন্দর ব্যবহারের আলোচনা শুরু হয়েছে।
সূত্র জানায়, যেহেতু ভারত থেকে পাথর ও কয়লা আমদানী আপাতত বন্ধ রয়েছে সেহেতু নতুন করে আরো কিছু পন্য আমদানী’র জন্য গত ২২ অক্টোবর নাকুগাঁও আমদানী-রফতানীকারক সমিতি’র পক্ষ থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত আবেদন দেওয়া হয়েছে । আবেদনে উল্লেখিত পণ্যের মধ্যে রয়েছে, ফল ঝাড়ু, সুপারি, ডাব, হালুদ, কাজু বাদাম, তেতুল, স্ক্র্যাপ (পুরাতন লোহা), কসমেটিকস, থ্রি-পিছ কাপড়, সেন্ডেল ও বিভিন্ন ইলেট্রনিক্স পণ্য।
নাকগাঁও স্থলবন্দর আমদানী- রফতানীকারক সমিতি’র সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান মুকুল বলেন, ভারতীয় ব্যবসায়ীরা মামলার কারণে পাথর-কয়লা দিতে পারছে না,  আমারা সরকারের কাছে এ বন্দর দিয়ে বৈধ সকল পন্য আমদানীর সুযোগ করে দেয়ার দাবী জানাই। সম্প্রতি এনবিআর এর চেয়ারম্যান এ বন্দর পরির্দশন করে গেছেন। তখন আমরা তার কাছে আমাদের নানা সমস্যা ও সকল বৈধ পণ্য আমদানী-রফতানী বিষয়ে লিখিত ও মৌখিকভাবে জানানোর পরও আজো এ বিষয়ে কোন সুরাহা হয়নি। ফলে আমাদের এখানে শতাধিক ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিশেষ করে যাদের ব্যাংক ঋণ রয়েছে তারা পথে বসার উপক্রম হয়েছে। এছাড়া বন্দরের প্রাণ হাজার হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে ফকির হওয়ার উপক্রম হয়েছে।   
শেরপুর জেলা কাস্টম, এক্সসাইজ ও ভ্যাট অফিসের সহকারি কমিশনার মো: আব্দুল হান্নান বলেন, নাকুগাঁও স্থলবন্দর দিয়ে কয়লা ও পাথর আমদানীর পাশাপাশি অন্যান্য নতুন পণ্য আমদানী করতে রাজস্ব বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা চলছে। ভারতে পাথর-কয়লার বিষয়ে যে মামলা রয়েছে সেটি’র সমাধান এবং আরো নতুন নতুন পণ্য আমদানীর বিষয়টি নিয়ে উদ্ধতন কর্তৃপক্ষ সমাধানের চেষ্টা করছেন। এছাড়া ইতিমধ্যে ভূটান-বাংলাদেশ কাস্টমসের  মধ্যে বানিজ্যক সম্ভাবনা নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। ভুটানের সাথে এ বন্দর দিয়ে পণ্য আমদানী-রফতানী শুরু হলে এবং ভারতের আভ্যন্তরীন সৃষ্ট সমস্যা সমাধান হলে অচিরেই এ বন্দরে আবারও কর্ম তৎপরতা শুরু হবে। সেসঙ্গে  বন্দরের রাজস্ব আয়ও বৃদ্ধি পাবে বলে আমি আশা করি।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
নির্বাহী সম্পাদক
নাঈম পারভেজ অপু
কার্যালয়
চৌধুরী কমপ্লেক্স, ৫০/এফ, ইনার সার্কুলার (ভিআইপি) রোড, নয়াপল্টন, ঢাকা-১০০০।
ফোন ও ফ্যাক্স :+৮৮০-৭১২৬৩৬৯
সেল : ০১৭১১২৬১৭৫৫, ০১৯১২০২৩৫৪৬
E-Mail: banglarchokh@yahoo.com, banglarchokh.photo1@gmail.com
© 2005-2017. All rights reserved by Banglar Chokh
Developed by eMythMakers.com
Close