১৭ ডিসেম্বর ২০১৭, রবিবার ১২:০৬:৫২ পিএম
সর্বশেষ:

০৬ ডিসেম্বর ২০১৭ ০৯:৩২:২৬ পিএম বুধবার     Print this E-mail this

সৈয়দপুরের তৈরী পোশাক দেশের চাহিদা মিটিয়ে রপ্তানী হচ্ছে বিদেশে

মিজানুর রহমান মিলন, সৈয়দপুর থেকে
বাংলার চোখ
 সৈয়দপুরের তৈরী পোশাক দেশের চাহিদা মিটিয়ে রপ্তানী হচ্ছে বিদেশে

 সৈয়দপুরে দিন দিন প্রসারিত হচ্ছে ঝুট কাপড়ের তৈরী পোশাক শিল্প। প্রায় দুই দশকে এখানে গড়ে উঠেছে প্রায় ৪০০ মাঝারি ও ক্ষুদ্র পোশাক কারখানা। এতে কর্মসংস্থান হয়েছে ৫ হাজার নারী-পুরুষের। এদের নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় তৈরী হচ্ছে সার্ট, প্যান্ট, ট্রাউজার, মোবাইল প্যান্ট, জ্যাকেট ও টুসিহ নানাবিধ পোশাক। এসব তৈরী পোশাক দেশের চাহিদা মিটিয়ে রফতানি হচ্ছে প্রতিবেশী ভারত, নেপাল ও ভুটানে।
সূত্র মতে জানা যায়, পোশাক তৈরীর এসব কারখানা সারা বছর ব্যস্ত থাকলেও ব্যস্ততা বেড়ে যায় শীত মৌসুমে। এ ব্যবসার বড় মওসুম শীতকাল। চলতি শীত মওসুমে কয়েকগুণ অর্ডার নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন এর কর্মীরা এখন তাদের দম ফেলার ফুরসৎ নেই। সম্পূর্ণ ব্যক্তি মালিকানাধীন সরকারি প্রণোদনা ছাড়াই বেড়ে উঠেছে এ শিল্প। ফলে নানা সমস্যা নিয়ে চলছে তেরী এসব পোশাক কারখানা।
এ শিল্পের মালিকদের সংগঠন সৈয়দপুর রপ্তানিমুখী ক্ষুদ্র গার্মেন্টস মালিক গ্র“প নেতৃবৃন্দের অভিযোগ, তারা কোন সরকারি সাহায্য সহযোগিতা পান না। নিজস্ব পুঁজি শ্রম ও মেধা দিয়ে তিলে তিলে এ শিল্প গড়ে তুরেছেন। দেশে বাজারজাতে তেমন সমস্যা নেই। তবে রফতানিতে তাদের সমস্যার অন্ত নেই। বিশেষ করে রফতানি কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুরো সহযোগিতা মিলছে ন্ াবরং উল্টো হয়রানি হতে হচ্ছে তাদের। তারা এর অবসানে এ শিল্পের জন্য ক্ষুদ্র পোশাক পল্লী গড়ে তোলা এবং ক্ষুদ্র পোশাক মালিকদের জন্য আলাদা নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানান।
সূত্র জানায়, ২০০০ সালের আগে এ শিল্পের যাত্রা শুরু হয় সৈয়দপুরে। তখন মাত্র কয়েকজন ব্যবসায়ী ব্যক্তিগত উদ্যোগে গার্মেন্টস পণ্য তৈরী করেন। সে সময় ঢাকা, গাজিপুর, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে গার্মেন্টস্ এর ঝুট কাপড় কিনে বিভিন্ন ধরনের পোশাক তৈরী করেন তারা। পরবর্তীতে তৈরী হওয়া এসব পণ্য ভারতে রপ্তানী করা হয়। সে সময় সৈয়দপুরে তৈরী জ্যাকেট, মোবাইল প্যান্ট, যেমন- শর্ট প্যান্ট, থ্রি কোয়ার্টার প্যান্ট, ফোর কোয়ার্টার প্যান্ট, ট্রাউজারসহ অন্যান্য পোশাক ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। বিদেশের বাজারে বেড়ে যায় এসব পণ্যের চাহিদা। ফলে বিগত ২০০০ সালের পর সৈয়দপুরে ক্ষুদ্র ও মাঝারী গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বাড়তে থাকে। এরই প্রেক্ষিতে সৈয়দপুরে গড়ে ওঠে সৈয়দপুর রপ্তানীমুখি ক্ষুদ্র গার্মেন্টস মালিক গ্রুপ নামে একটি ব্যবসায়ী সংগঠন।
সূত্র জানায়, এ সংগঠনের আওতায় ছোট বড় মিলিয়ে সৈয়দপুরে প্রায় ৪ শতাধিক কারখানা রয়েছে। এসবের মধ্যে বৃহৎ প্রতিষ্ঠান রয়েছে প্রায় ১৪/১৫টি। প্রতিটি কারখানায় রয়েছে ২টি থেকে সর্বোচ্চ ৪০/৫০টি সেলাই মেশিনসহ অন্যান্য উপকরণ। এসব কারখানায় কাটিং মাস্টার, কারিগর, হেলপার, আয়রন ম্যানসহ প্রায় ৫ হাজার শ্রমিক-কর্মচারি নিয়োজিত রয়েছেন। এর মধ্যে নারী শ্রমিক রয়েছে প্রায় দেড় হাজার।
এসব ক্ষুদ্র ও মাঝারি কারখানায় প্রায় ৩০/৩৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে উদ্যোক্তারা। ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠানে ২ লাখ থেকে সর্বোচ্চ ১৫/২০ লাখ এবং মাঝারি ও বড় প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ রয়েছে ৪০/৫০ লাখ টাকা। প্রতিটি কারখানায় ৫ জন থেকে সর্বোচ্চ ৫০/৫৫ জন শ্রমিক নিয়োজিত রয়েছে।
বর্তমানে শীত মওসুমে এসব শিল্প প্রতিষ্ঠানে জ্যাকেট, ট্রাউজার ও টুপি উৎপাদন করতে ব্যস্ত রয়েছে শ্রমিক কারিগররা। পরবর্তীতে তৈরি হওয়া এসব পণ্য দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহের পাশাপাশি ভারতেও রপ্তানি করা হয়। শহরের মুন্সিপাড়া জোড়াপুকুর এলাকায় অবস্থিত আর এ গার্মেন্টস এর উদ্যোক্তা মোছা. আঞ্জুয়ারা বেগম এবং পরিচালক গোলাম রব্বানী বলেন, তাদের এ শিল্পে ৩০টি মেশিনের মাধ্যমে বর্তমানে শীতের পোশাক জ্যাকেট তৈরী করা হচ্ছে। এসব তৈরীতে সার্বক্ষণিক কাজ করছে ৪০/৪৫ জন শ্রমিক কর্মচারি। উৎপাদন হওয়া এসব পোশাক দেশের বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীরা নিয়ে যায়। আবার রপ্তানিকারকরাও তার প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন শিল্পের মালিকদের কাছে জ্যাকেট খরিদ করে ভারতে রপ্তানি করছে।
সংগঠনের সূত্র জানায়, গার্মেন্টস শিল্পের সহায়তায় ক্ষুদ্র, মাঝারি শিল্প ফাউন্ডেশন (এসএমই) থেকে সৈয়দপুরের মাত্র ৯২ জন প্রতিষ্ঠান মালিককে স্বল্প সুদে আড়াই কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে। যা চলতি মাসেই পরিশোধ হবে এসব ঋণের টাকা। তবে এ ঋণ পরিশোধ হলেই এসএমই এবার ৫ কোটি টাকা ঋণ দেয়ার আগ্রহ দেখিয়েছে শিল্প মালিকদের।
সংগঠনের নেতা রপ্তানীকারক প্রতিষ্ঠান এম আর ইন্টারন্যাশনালের কর্ণধার নীলফামারী চেম্বার অব কমার্স এ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের নির্বাহী সদস্য মো. মতিয়ার রহমান দুলু জানান, এ শিল্পের প্রসার ঘটাতে সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণের মাধ্যমে সরকারি সহায়তা প্রয়োজন। তিনি বলেন, গার্মেন্টস্ শিল্প দেশের অন্যতম অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান। তাই এ শিল্প যাতে মাথা উঁচু করে দাড়াতে পারে সে জন্য সরকারি সহায়তার দাবি জানান। এটি হলে যেমন বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব হবে তেমনি হাজার হাজার পরিবারের কর্মসংস্থানে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
আনিকা গার্মেন্টস এন্ড এমব্রোডায়োরীর মালিক মো. আজাহার হোসেন জানান, সৈয়দপুরে রয়েছে উন্নতমানের যোগাযোগ ব্যবস্থা। এখানে গার্মেন্টস্ পল্লী স্থাপন হলে বিদেশি বায়ার সরাসরি আসবে। ফলে তারা যেমন পছন্দ মত পণ্য কিনতে পারবে, তেমনি খরচ কমে সৈয়দপুরের অর্থনৈতিক বিপ্লব ঘটবে। এগিয়ে যাবে সৈয়দপুর।
ব্যবসায়ী আরশাদ আমির পাপ্পু জানান, ইপিজেডসহ বড় বড় শিল্প এলাকায় ক্ষুদ্র গার্মেন্টস্ স্থাপনের সুযোগ নেই। তাই সৈয়দপুরের সকল গার্মেন্টস্ ফ্যাক্টরীকে একত্রিত করে গার্মেন্টস্ পল্লী স্থাপন করা প্রয়োজন। এটি স্থাপন হলে সৈয়দপুরসহ জেলার চিত্রই পাল্টে যাবে। সংগঠনের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মো. শাহিন আকতার জানান, শুধু ঝুট কাপড় নয় এখন নতুন নতুন কাপড় কিনে সৈয়দপুরে গার্মেন্টস্গুলোতে শীত ও গরমের পোশাক তৈরি হচ্ছে।
তবে এসব পোশাক উৎপাদনে রয়েছে নানা রকম সমস্যা। এসবের মধ্যে রয়েছে উন্নতমানের বিভিন্ন মেশিন। তাই এ শিল্পকে এগিয়ে নিতে কমন ফ্যাসেলিটি সেন্টারের মাধ্যমে ওয়াশ মেশিন, ডাই প্রিন্ট, কম্পিউটার এমব্রোডায়োরীসহ অন্যান্য সুবিধার জন্য সরকারি সহায়তার প্রয়োজন। তিনি বলেন এসব সহায়তা পেলে দেশের চাহিদা মিটিয়ে আরও ব্যাপকভাবে গার্মেন্টস পণ্য বিদেশে রপ্তানি সম্ভব হবে।  

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
নির্বাহী সম্পাদক
নাঈম পারভেজ অপু
কার্যালয়
চৌধুরী কমপ্লেক্স, ৫০/এফ, ইনার সার্কুলার (ভিআইপি) রোড, নয়াপল্টন, ঢাকা-১০০০।
ফোন ও ফ্যাক্স :+৮৮০-৭১২৬৩৬৯
সেল : ০১৭১১২৬১৭৫৫, ০১৯১২০২৩৫৪৬
E-Mail: banglarchokh@yahoo.com, banglarchokh.photo1@gmail.com
© 2005-2017. All rights reserved by Banglar Chokh
Developed by eMythMakers.com
Close