১৭ ডিসেম্বর ২০১৭, রবিবার ১১:৫৭:৩০ এএম
সর্বশেষ:

০৬ ডিসেম্বর ২০১৭ ০৯:৩৬:৫০ পিএম বুধবার     Print this E-mail this

বন্ধের উপক্রম রেল কারখানা

মিজানুর রহমান মিলন, সৈয়দপুর থেকে
বাংলার চোখ
 বন্ধের উপক্রম রেল কারখানা

সৈয়দপুর রেলওয়ে বিভাগের অধীনস্থ রেলওয়ে কারখানাসহ ৭টি রেলওয়ে দপ্তর জনবল সংকটে ধুকছে। সৈয়দপুর রেলওয়ে বিভাগে রেল কারখানাসাহ ৭টি দপ্তরে মোট জনবল মঞ্জুরী রয়েছে ৪ হাজার ১৯ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী। অথচ বর্তমানে গোটা বিভাগে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ১ হাজার ৫৬৮ জন। এতে করে রেলওয়ে কারখানাসহ ৭ দপ্তরে মোট ২ হাজার ৪৫৩টি পদে কোন লোক নেই। ফলে বছরের পর বছর জনবল সংকটের মধ্যে চলছে দপ্তরগুলো। কিন্তু কোন লোক নিয়োগ দেয়া হচ্ছে না। জনবল অভাবে কারখানার উৎপাদন হ্রাসসহ অন্যান্য দপ্তরের কাজে গতি আসছে না। আর এ অবস্থা চলতে থাকলে কোন কোন দপ্তরের কাজকর্ম গুটিয়ে নিতে হতে পারে। এ অবস্থায় গত ১৫ নভেম্বর রেলওয়ে বিভাগের জনবল সংকট নিরসন ও লোক নিয়োগের দাবিতে রেলওয়ে ১১টি ট্রেড ইউনিয়ন মানববন্ধন ও প্রধানমন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপি দিয়েছেন। ফলে প্রতিটি দপ্তরে নিয়মিত কাজে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এসব দপ্তরে নতুন লোক নিয়োগ না হলে মাঠ পর্যায়ের অনেক কার্যক্রম গুটিয়ে নিতে হতে পারে। কারণ জনবল কমলেও কাজ কমেনি, বরং কাজের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে কাজ সম্পন্ন করতে দীর্ঘ সময় লেগে যাচ্ছে। ফলে সময় মেনে অনেক কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না দপ্তরগুলোতে। বিশেষ করে রেলওয়ের প্রাণ সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বেহাল দশা চলছে। কারখানায় যাত্রীবাহি কোচ ও ওয়াগন মেরামত এবং যন্ত্রাংশ তৈরীর মেশিন ও প্লান্ট চালানোর জনবলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে কারখানার মাসিক উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা পূরণে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। সিডিউল মত কোন কোন কাজই সম্পন্ন করা যাচ্ছে না। কারখানার কাজের সিডিউল ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। রেলওয়ে কারখানার ট্রেড ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ ও শ্রমিক-কারিগরদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য মিলেছে।
সূত্র মতে জানা যায়, কারখানায় বার্ষিক ৬৪২টি বিজি ও এমজি যাত্রীবাহি কোচ এবং ১ হাজার ৫৩৫টি বিজি ওয়াগন মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের লক্ষ্যস্থির করা রয়েছে। কিন্তু জনবল সংকটের মুখে উৎপাদনের ওই লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব হচ্ছে না। এ কাজের জন্য ৩ হাজার ১৬৯ জন জনবল মঞ্জুরী রয়েছে। কিন্তু বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ১ হাজার ২১০ জন। বাকি ১ হাজার ৯৫৯ পদে কোন লোক নেই। ফলে মেরামত কাজে জনবল সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। জনবল অভাবে মাসিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জন বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। এতে করে যাত্রীবাহী কোচ ও ওয়াগন মেরামত করার সিডিউল সময় ভেঙে পড়েছে। সময় মেনে মেরামত কাজ করা সম্ভব হচ্ছে। এছাড়া প্রতি মাসে অভিজ্ঞ শ্রমিক-কারিগর অবসরে যাওয়ায় দিন দিন দক্ষ জনবলের তীব্র সংকট দেখা যাচ্ছে। কাজের গুণগত মানও বজায় রাখা দুরুহ হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে খুচরা যন্ত্রাংশ তৈরীর ক্ষেত্রে চলছে রুগ্ন দশা। এছাড়াও কারখানায় যন্ত্রাংশ তৈরীর ৭৮৭টি মেশিন ও প্লান্টস চালানোর জন্য মঞ্জুরী পদ রযেছে ২৫৫ জন। সেখানে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ১০৯ জন শ্রমিক-কারিগর। ফলে মেশিনারী বিভাগে ১৪৬টি পদে কোন লোক নেই। এতে স্বল্প সংখ্যক লোক দিয়ে সব মেশিন চালানো যাচ্ছে না। আবার অনেক মেশিন ও প্লান্টসে লোক না থাকায় অচল হয়ে আছে। ফলে অনেক গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ তৈরী বন্ধ হয়ে গেছে। আর এসব যন্ত্রাংশের চাহিদা মেটাতে বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে মালামাল। এতে করে রেলওয়েকে অতিরিক্ত অর্থ গুণতে হচ্ছে। অপরদিকে রেলওয়ে কারখানায় যাত্রীবাহী কোচ ও ওয়াগন মেরামতের কাজেও চরম জনবল সংকট বিরাজ করছে। নতুন লোক নিয়োগ না হলে ১/২ বছরের মধ্যে মেরামত কাজও বন্ধ হয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন কারখানা সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে রেলওয়ে কারখানা ছাড়াও সৈয়দপুরে রেলওয়ের আরও ৬টি দপ্তর রয়েছে। দপ্তরগুলো হল রেলওয়ে হাসপাতাল, জেলা সরঞ্জাম দপ্তর, হিসাব দপ্তর, ব্রীজ কারখানা, রেলওয়ে স্কুল ও পূর্ত দপ্তর। এ দপ্তর রেলওয়ের নানামুখী কাজের সঙ্গে জড়িত। এই ৬ দপ্তরে জনবল থাকার কথা ৯৫০ জন। কিন্তু বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ৪৫৬ জন। পদ শূণ্য রয়েছে ৪৯৪ জনের। এর মধ্যে হিসাব বিভাগ, ব্রীজ কারখানা ও জেলা সরঞ্জাম দপ্তরে অর্ধেকেরও কম জনবল রয়েছে। ফলে নিয়মিত কাজ করতে হিমশিম খাচ্ছে দপ্তরগুলো। কাজ সচল রাখতে একজনকে ৪/৫টি শাখার কাজ করতে হচ্ছে। ফলে মানসিক যন্ত্রণার শিকার হচ্ছে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এছাড়াও অন্যান্য দপ্তরেও চলছে প্রকট জনবল সংকট। এতে করে সৈদপুর রেলওয়ে বিভাগের সকল কাজকর্ম জনবল সংকটে ঢিলাঢালাভাবে চলছে।
জানতে চাইলে, সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক (ডিএস) কুদরত-ই-খুদা জনবল সংকটের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, দক্ষ শ্রমিক-কারিগর অবসরে চলে যাচ্ছেন। এই অবস্থায় লোক নিয়োগ জরুরি হয়ে পড়েছে।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
নির্বাহী সম্পাদক
নাঈম পারভেজ অপু
কার্যালয়
চৌধুরী কমপ্লেক্স, ৫০/এফ, ইনার সার্কুলার (ভিআইপি) রোড, নয়াপল্টন, ঢাকা-১০০০।
ফোন ও ফ্যাক্স :+৮৮০-৭১২৬৩৬৯
সেল : ০১৭১১২৬১৭৫৫, ০১৯১২০২৩৫৪৬
E-Mail: banglarchokh@yahoo.com, banglarchokh.photo1@gmail.com
© 2005-2017. All rights reserved by Banglar Chokh
Developed by eMythMakers.com
Close