১৭ ডিসেম্বর ২০১৭, রবিবার ১১:৫৮:২৪ এএম
সর্বশেষ:

০৬ ডিসেম্বর ২০১৭ ১১:২১:৩৪ পিএম বুধবার     Print this E-mail this

সাজাপ্রাপ্ত আসামী চেয়ারম্যান প্রার্থী !

নোয়াখালী প্রতিনিধি
বাংলার চোখ
 সাজাপ্রাপ্ত আসামী চেয়ারম্যান প্রার্থী !

নোয়াখালী সদর উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে মো. খলিল মিয়া নামে সাজাপ্রাপ্ত এক আসামীকে আ.লীগের মনোনিত চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে বৈধতা দেওয়ার অভিযোগ ওঠেছে নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে। এতে নির্বাচন কমিশনারের কার্যক্রমে সচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে প্রতিদ্বন্দ্বি অপর প্রার্থীরা।
মো. খলিল নোয়াখালী সদর উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের চরদরবেশ গ্রামের মৃত সামছুদ্দিনের ছেলে। তিনি আগামী ২৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত্ব ধর্মপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আ.লীগের মনোনিত চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালে মো. খলিল এর বিরুদ্ধে সামাজিক বনায়নের সৃজিত বাগানের গাছ কেটে নেওয়ার ঘটনায় বনবিভাগ থানায় একটি (মামলা নং-৪১৯/১৪) মামলা করে। করাতকল বিধিমালা ২০১২ এর ১২ ধারার অভিযোগে দায়েরকৃত মামলাটির দীর্ঘ বিচার কার্য শেষ হয় চলতি বছরে। বিচার চলাকালীন আসামীর বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে মামলার সত্যতা প্রমাণি হওয়ায় চলতি বছরের ২৪ অক্টোবর নোয়াখালীর ২নং বিচারিক আদালতের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফারহানা ভূইয়া আসামীর বিরুদ্ধে ২ বছরের বিনাশ্রম কারাদন্ড, ৫ হাজার টাকা অর্থদন্ড এবং অনাদায়ে আরো ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ডের আদেশ দেন।
সূত্র জানায়, রায় ঘোষণার সময় আসামি মো. খলিল আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন। রায়ের পরও আদালতে আত্মসমার্পন না করায় গত ১২ নভেম্বর তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আদালত।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত মো. খলিল বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে আদালতে যে মামলা  হয়েছে তা তিনি কখনও শুনেনওনি। তার কাছে কখনও কোনো নোটিশও আসেনি। প্রতিপক্ষের কয়েকজন ব্যক্তি ভূয়া কাগজপত্র দেখিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বি অন্য প্রার্থীদের অভিযোগ, গত শনিবার প্রার্থিতা বাছাইয়ের শেষ দিনে তাঁরা নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সাইফুল আলমের কাছে আদালতের রায়ের কপি দাখিল করার পরও তিনি খলিলের প্রার্থিতা বাতিল করেননি। উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার এ সিদ্ধান্তে এলাকায় নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন ২০০৯ এর ৬ষ্ঠ অধ্যায়ের (ঘ) উপধারা বলা হয়েছে ‘তিনি নৈতিক স্খলনজনিত কোনো ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হইয়া নূন্যতম ২ (দুই) বৎসরের কারাদ-ে দ-িত হন এবং তাঁহার মুক্তি লাভের পর ৫ (পাঁচ) বৎসর কাল অতিবাহিত না হইয়া থাকে’ তাহলে নির্বাচনে অযোগ্য হবেন।
সাজাপ্রাপ্ত আসামীকে কিভাবে প্রার্থী হিসেবে বৈধতা দেয়া হয়েছে এমন প্রশ্নে জেলা নির্বাচন কার্যালয়ের জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কর্মকর্তা সুধাংশু কুমার সাহা বলেন, তাঁরা অভিযোগ পেয়েছেন অনেক দেরিতে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে আজ ৭ ডিসেম্বর শুনানীর তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। শুনানীর পর কি করা যায় তা বিবেচনা করা হবে।
গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন বলেন, গত ৫ ডিসেম্বর মো. খলিলের বিরুদ্ধে আদালত থেকে সাজা তথা গ্রেফতারি পরোয়ানা থানায় এসে পৌঁছেছে। পুলিশ আসামীকে গ্রেফতারে অভিযান চালাচ্ছে বলেও জানান তিনি।
এক প্রশ্নে ওসি আরও বলেন, মনোনয়ন পত্র দাখিলের পর নিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রার্থীদের মামলা কিংবা সাজা আছে কী না তথ্য জানতে চেয়ে চিঠি দেওয়ার একটা নিয়ম রয়েছে। এ ক্ষেত্রে নির্বাচন/রিটার্নিক কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে সে রকম চিঠিও দেওয়া হয়নি।
জেলা নির্বাচন কমিশনার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, আগামী ২৮ ডিসেম্বর জেলার সদর উপজেলার ৩টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ইতোমধ্যে মনোয়নপত্র জমা ও প্রাথিতা যাচাই-বাছাই কার্যক্রম শেষ হয়েছে। আগামী ৯ ডিসেম্বর প্রার্থিতা প্রত্যাহার ও ১০ ডিসেম্বর প্রতীক বরাদ্ধের জন্য তারিখ নির্ধারিত রয়েছে।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
নির্বাহী সম্পাদক
নাঈম পারভেজ অপু
কার্যালয়
চৌধুরী কমপ্লেক্স, ৫০/এফ, ইনার সার্কুলার (ভিআইপি) রোড, নয়াপল্টন, ঢাকা-১০০০।
ফোন ও ফ্যাক্স :+৮৮০-৭১২৬৩৬৯
সেল : ০১৭১১২৬১৭৫৫, ০১৯১২০২৩৫৪৬
E-Mail: banglarchokh@yahoo.com, banglarchokh.photo1@gmail.com
© 2005-2017. All rights reserved by Banglar Chokh
Developed by eMythMakers.com
Close