২৪ জানুয়ারি ২০১৮, বুধবার ০৭:২৭:৫৭ এএম
সর্বশেষ:

০৭ জানুয়ারি ২০১৮ ১২:১৫:৪১ এএম রবিবার     Print this E-mail this

মাদারীপুরের ৩ আসনেই নির্বাচনী হাওয়া

আওয়ামীলীগ-বিএনপি’র সম্ভাব্য প্রার্থী একাধিক ঃ দু’দলেই দ্বন্ধ- গ্রুপিং চরমে

এস. এম. রাসেল, মাদারীপুর থেকে
বাংলার চোখ
মাদারীপুরের ৩ আসনেই নির্বাচনী হাওয়া আওয়ামীলীগ-বিএনপি’র সম্ভাব্য প্রার্থী একাধিক ঃ দু’দলেই দ্বন্ধ- গ্রুপিং চরমে

নির্বাচনের দিন তারিখ ঘোষণা না হলেও এরই মাঝে মাদারীপুরে তিনটি নির্বাচনী এলাকার সম্ভাব্য প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছেন। আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত মাদারীপুরের তিনটি সংসদীয় আসনে ক্ষমতাসীন দলের বর্তমান তিন এমপিরই প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তবে আওয়ামীলীগ বিএনপি উভয় দলেই গ্রুপিং দ্বন্দ্ব চরমে। এই গ্রুপিংয়ের প্রভাব প্রায় সারা জেলাতেই। মাদারীপুরে আওয়ামীলীগের অধিকাংশ প্রার্থীই প্রবীন অপর দিকে বিএনপির আগ্রহী প্রার্থীরা বেশির ভাগই নতুন মুখ হওয়ায় কারা জোট বা দলীয় মনোনয়ন পাবেন, তা নিয়ে জটিলতা অন্তত আওয়ামীলীগের চেয়ে বিএনপিতে বেশি।
মাদারীপুরে নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান এবং কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমের সাথে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে গ্রুপিং চলে আসছে দীর্ঘদিন ধরে।  সম্প্রতি দুই গ্রুপ তুচ্ছ ঘটনার জের ধরে অস্ত্র নিয়ে রাজপথে নেমেছে।  ঘটেছে রক্তক্ষয়ি সংঘর্ষের ঘটনা। অপর দিকে অযোগ্য লোক ও ত্যাগী নেতাকর্মীদের বাদ বিএনপির জেলা কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে দুই ভাগে বিভক্ত জেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। এক গ্রুপের নেতৃত্ব দেয় জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক জাহান্দার আলী জাহান অপর গ্রুপের নেতৃত্ব দেয় জেলা যুবদলের সভাপতি মিজানুর রহমান মুরাদ। এই গ্রুপিং এর প্রভাবে দুই গ্রুপ থেকেই তাদের ভিন্ন ভিন্ন প্রার্থী রয়েছে পছন্দের তালিকায়। মাদারীপুরে বাম সংগঠনগুলো তেমন প্রভাব না থাকলেও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোটামুটি প্রভাব রয়েছে। তারা মাদারীপুরের তিনটি আসনেই প্রার্থী দিবেন বলে জানিয়েছে দায়িত্বশীল একটি সূত্র। এর আগে উপজেলা এবং পৌর নির্বাচনে জাতীয় পার্টি এবং অন্যান্য বাম দলগুলোর চেয়ে বেশি ভোট পেয়েছিল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীরা।  মাদারীপুর ১৪ দলীয় এবং ২০ দলীয় জোটের মধ্যে আওয়ামীলীগ এবং বিএনপি ছাড়া অন্য দলের দু’একজন নেতা থাকলেও কর্মী নেই। তবে জামায়াত চুপে চুপে নিজেদের শক্তি সঞ্চার করছেন। উপজেলা নির্বাচনে জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী জয় লাভ করতে না পারলেও ভোটের মাঠে চমক দেখিছে। মাদারীপুর সংসদীয় আসন ২১৮ (শিবচর), ২১৯ (মাদারীপুর সদরের একাংশ ও রাজৈর) এবং ২২০ (মাদারীপুর সদরের একাংশ এবং কালকিনি) আওয়ামীলীগের একাধিক প্রভাবশালী নেতার নিজ জেলা। কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কৃষিবিদ আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, দপ্তর সম্পাদক ড. আব্দুস সোবাহান গোলাপ, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, নির্বাহী কমিটির সদস্য আনোয়ার হোসেন প্রমুখ। এছাড়া বর্তমান নৌ-পরিবহন মন্ত্রী বীরমুক্তিযোদ্ধা শাজাহান খান এবং সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী আলহাজ্ব সৈয়দ আবুল হোসেন এবং সাবেক হুইপ নুর-ই-আলম চৌধুরী লিটনের নিজ জেলা মাদারীপুর। অপর দিকে বিএনপিতে তেমন কোন হেভিওয়েট প্রার্থীর নিজ জেলা না হলেও ছাত্রদল-যুবদলের অনেক প্রভাবশালী নেতা মাদারীপুরের।  
মাদারীপুর-১ (শিবচর) ঃ শিবচর পৌরসভাসহ ১৯টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত মাদারীপুর-১ আসন। পৌরসভা ও ইউপি চেয়ারম্যানদের পরিসংখ্যানে বড় দল দুটি সমানে সমান হলেও মূলত এটি আওয়ামীলীগ অধ্যুষিত এলাকা। আসনটিতে ভোটার ২ লাখ ১৭ হাজার ৮২৫ জন। এ আসনে আওয়ামীলীগ থেকে বর্তমান এমপি ও জাতীয় সংসদের সাবেক হুইপ নূর-ই-আলম (লিটন) চৌধুরীর মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই মরহুম ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরীর ছেলে। তিনি এ পর্যন্ত  ৫ বার এমপি নির্বাচিত হয়েছেন, যে কারণে এ আসনে আওয়ামীলীগের আর কোনো প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে না। নির্বাচনী এলাকায় আওয়ামীলীগের সম্ভাব্য একক প্রার্থী নুর-ই আলম চৌধুরী লিটন। তবে বিএনপিতে গ্রুপিংয়ের কারনে রয়েছে একাধিক প্রার্থী। নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন শিবচর উপজেলা বিএনপি আহ্বায়ক বিশিষ্ট শিল্পপতি, সমাজ সেবক জামান কামাল নুরুদ্দিন মোল্লা। এর আগেও প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়ে ছিলেন। তিনি কেন্দ্রীয় বিএনপির সকল কর্মসূচী পালনসহ নেতাকর্মীদের পাশে থেকে দলের কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি এবারও নির্বাচনের প্রচারনা চালাচ্ছেন। এ ছাড়াও নির্বাচনের প্রচারনা চালাচ্ছেন শিবচর উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইয়াজ্জেম হোসেন রোমান। তারও রয়েছে শিবচরের প্রতিটি ইউনিয়নে ব্যাপক জনপ্রিয়তা। তার সাথে জেলা বিএনপির প্রায় সকল নেতাদের রয়েছে গভীর সম্পর্ক। তিনি শিবচরের প্রতিটি মাঠ ঘাট চষে বেড়াচ্ছেন। বিশিষ্ট সমাজ সেবক ইয়াজ্জেম হোসেন রোমান মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলায় বন্যায় কবলিত মানুষের পাশে থেকে নিজের অর্থায়নে সাহায্য করেন। কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে রয়েছে তার গভীর সম্পর্ক। এছাড়াও অসহায় রোহিঙ্গাদের পাশে থেকে ঔষধ, ত্রান সমাগ্রী ও বিভিন্ন উপকরণ বিতরণ করেন। এছাড়াও কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের নেতা আঃ হান্নান মিয়ার নামও শোনা যাচ্ছে। অপর দিকে মাদারীপুর জেলা জাতীয় পার্টির সহ-সভাপতি জহিরুল ইসলাম মিন্টু একক প্রার্থী হওয়ায় তার প্রার্থীতা প্রায় নিশ্চিত। তিনি একাধারে ব্যবসায়ী ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব। তার সাথে জেলা জাতীয় পার্টির প্রায় সকল নেতাদের রয়েছে গভীর সম্পর্ক। তিনি শিবচরের প্রতিটি মাঠ ঘাট চষে বেড়াচ্ছেন।
মাদারীপুর- ২ (সদরের একাংশ এবং রাজৈর) ঃ মাদারীপুর পৌরসভাসহ সদর উপজেলার ১০টি ও রাজৈর উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন নিয়ে মাদারীপুর- ২ আসন। এ আসনে ভোটার ৩ লাখ ৩ হাজার ২৬১ জন। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের কার্যকরী সভাপতি বর্তমান এমপি ও নৌ-পরিবহন মন্ত্রী বীরমুক্তিযোদ্ধা শাজাহান খান এ আসন থেকে আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তিনি এ আসন থেকে ৬ বার এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। তিনিই মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন। এছাড়াও দলের কাছে মনোনয়ন চাইবেন জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বিশিষ্ট শিল্পপতি সাহাবদ্দিন মোল্ল¬া এবং জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা গোলাম মাওলা প্রচারনা চালাচ্ছেন। বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে সাবেক এমপি হেলেন জেরিন খান মাদারীপুর-২ আসনে এই প্রান্ত থেকে ঐ প্রান্ত চষে বেড়াচ্ছেন। কর্মী ও ভোটারদের সাথে তার রয়েছে গভীর সম্পর্ক। তিনি এই আসনে নির্বাচন করলে তার মনোণয়ন প্রায় নিশ্চিত বলে অনেক নেতাই জানান। সাবেক এমএলএ লুৎফর রহমান হাওলাদারের ছেলে বিএনপি নেতা বিশিষ্ট শিল্পপতি হাবিবুর রহমান (কাওছার) হাওলাদার দলের প্রার্থী হিসেবে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তিনি সর্বদাই তৃণমূলের নেতাকর্মীদের খোঁজ খবরও নিচ্ছেন। ভোটারদের সাথে রয়েছে তার গভীর সম্পর্ক। বিএনপি’র রাজনীতি করেন বলেই তাকে পড়তে হয়েছে মানসিক চাপে। আর্থীক ও সামাজিকভাবে হয়েছেন অনেক ক্ষতিগ্রস্ত। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মিল্টন বৈদ্যর নামও শোনা যাচ্ছে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে। তিনি এর আগেও রাজৈর উপজেলা পরিষদ এর চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্ধিতা করেন। সেখানে সে বিএনপি’র হয়ে ভাল ফলাফল পান। এবারও যদি বিএনপি তাকে মনোণয়ন দেয় হয়তো মাদারীপুর-০২ আসনের হিসেব পাল্টে যেতে পারে বলে স্থানীয় নেতা-কর্মীরা জানান। তবে আওয়ামীলীগের প্রার্থী  নৌমন্ত্রী শাজাহান খান প্রায় প্রতি সপ্তাহে মাদারীপুরে থাকেন। বিভিন্ন কর্মসুচিতে অংশ গ্রহন করে জণগনের কাছাকাছি থাকেন। এক্ষেত্রে পিছিয়ে রয়েছে বিএনপি প্রার্থীরা।
মাদারীপুর-৩ (সদরের একাংশ এবং কালকিনি) ঃ  মাদারীপুর সদরের পাঁচটি ইউনিয়ন, কালকিনি পৌরসভাসহ উপজেলার ১৪ ইউনিয়ন নিয়ে মাদারীপুর- ৩ আসন। এ আসনে ভোটার ২ লাখ ৮৩ হাজার ২২৩ জন। এই আসনে আলোচনায় আওয়ামীলীগের একাধিক প্রার্থী রয়েছে। আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও বর্তমান এমপি আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন, আওয়ামীলীগের দপ্তর সম্পাদক ড. আব্দুস সোবাহান গোলাপের নাম শোনা যাচ্ছে কর্মীদের কাছে। তবে এই নির্বাচনী আসনে আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিম গ্রুপের সাথে রয়েছে সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন গ্রুপের দ্বন্দ্ব।
অনেকের কাছে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও কালকিনি উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক মীর গোলাম ফারুকের নামও শোনা যাচ্ছে।  তবে বাহাউদ্দিন নাসিম এ আসনের প্রতিটি পাড়া-মহল্লা তার লোকজন নিয়ে জন-সংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। সরকারী-বেসরকারী বিভিন্ন দিবসের অনুষ্ঠান অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে পালন করছেন। কেন্দ্রীয় বিএনপির গণ-শিক্ষা বিষয়ক সহ-সম্পাদক আলহাজ্ব আনিসুর রহমান খোকন তালুকদার এ আসনে তৃণমূল পর্যায়ে জন সমর্থন পাওয়ার জন্য মড়িয়া হয়ে উঠেছেন। তিনি কেন্দ্রীয় বিভিন্ন কর্মসুচীতে এলাকায় এসে নেতা-কর্মীদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলছেন। তার সাথে জেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের রয়েছে গভীর সম্পর্ক। তিনি কালকিনির প্রতিটি মাঠ ঘাট চষে বেড়াচ্ছেন।  বিএনপি’র এই জনপ্রিয় নেতা কালকিনি তথা মাদারীপুর-০৩ আসনে তৃণমূল নেতাকর্মী ও তরুণদের প্রিয় হয়ে সর্বত্রই সে বিচরণ করছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তুখোর মেধাবী ছাত্রনেতা এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আসাদুজ্জামান পলাশ নির্বাচনী প্রচার ও জনসংযোগে ব্যস্ত সময় পাড় করছেন। তবে এ আসনে রাজেন্দ্র কলেজের সাবেক ভিপি ও কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক খন্দকার মাশুকুর রহমান মাশুকও রয়েছেন আলোচনায়। তিনিও কালকিনিতে নির্বাচনী প্রচার ও জনসংযোগে ব্যস্ত সময় পাড় করছেন।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
নির্বাহী সম্পাদক
নাঈম পারভেজ অপু
কার্যালয়
চৌধুরী কমপ্লেক্স, ৫০/এফ, ইনার সার্কুলার (ভিআইপি) রোড, নয়াপল্টন, ঢাকা-১০০০।
ফোন ও ফ্যাক্স :+৮৮০-৭১২৬৩৬৯
সেল : ০১৭১১২৬১৭৫৫, ০১৯১২০২৩৫৪৬
E-Mail: banglarchokh@yahoo.com, banglarchokh.photo1@gmail.com
© 2005-2018. All rights reserved by Banglar Chokh
Developed by eMythMakers.com
Close