১৮ নভেম্বর ২০১৮, রবিবার ০২:৪৯:০৯ পিএম
সর্বশেষ:
বাসসের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক শাহরিয়ার শহীদের ইন্তেকাল ( ইননাল--- রাজিউন দুপুর ১:২০ মিনিটে রাজধানীর এ্যাপোলো হাসপাতালে মারা যান           

১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ১১:৪১:৪৮ পিএম সোমবার     Print this E-mail this

খালেদা জিয়াকে স্থায়ীভাবে জেলে রাখার পরিকল্পনা

ডেস্ক রিপোর্ট
বাংলার চোখ
 খালেদা জিয়াকে স্থায়ীভাবে জেলে রাখার পরিকল্পনা

 খালেদা জিয়াকে স্থায়ীভাবে জেলে রাখতে চায় সরকার। এ পরিকল্পনা নিয়েই এগুনো হচ্ছে বলে আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী একটি সূত্র আভাস দিয়েছে। খালেদা যাতে দ্রুত জামিন না পান সে জন্য ইতমোধ্যে প্রক্রিয়া শুরু করেছে আইনশৃংখলা বাহিনী। সোমবার কুমিল্লার একটি মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

জিয়ার অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ার পরও খালেদা জিয়াকে দণ্ড দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হচ্ছে তার দলের পক্ষ থেকে। এটি ছাড়াও তার বিরুদ্ধে আরও ৩৪টি মামলা রয়েছে। দুর্নীতি, যানবাহনে আগুন দিয়ে মানুষ হত্যা, সহিংসতা, নাশকতা ও রাষ্ট্রদ্রোহ এবং মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে এসব মামলা হয়। এর মধ্যে ১৯টি মামলা বিচারাধীন আছে।

এই ১৯টির মধ্যে গত ৪ জানুয়ারি ১৪টি মামলা বিচারের জন্য ঢাকার বকশীবাজারে স্থাপিত বিশেষ জজ এজলাসে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি দুর্নীতি মামলার অভিযোগ গঠন বিষয়ে শুনানি হবে ১৮ ফেব্রুয়ারি।

ওই বিশেষ এজলাসে আগে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার বিচার শেষে ৮ ফেব্রুয়ারি রায় ঘোষণা করেন আদালত। সেখানে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার বিচার অনেকটা শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এ মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী দিন ধার্য রয়েছে।

আদালতের নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে এখন যে ৩৪টি মামলা রয়েছে, তার মধ্যে দুর্নীতির অভিযোগে আছে ৪টি। সেগুলো হলো জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট, নাইকো, গ্যাটকো ও বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি দুর্নীতির মামলা। চারটি মামলায়ই সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে (এক-এগারোর সময়‍) করা।

অন্য ৩০টি মামলা ২০১৪ সালের পর বিভিন্ন সময়ে হয়েছে। মূলত রাষ্ট্রদ্রোহ, হত্যা, ইতিহাস বিকৃতি, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটূক্তি, ভুয়া জন্মদিন পালনের অভিযোগে এসব মামলা হয়। পুলিশ, সরকারি দলের নেতা-কর্মী ও আইনজীবীরা এসব মামলা করেছেন। এর মধ্যে ২৫টি মামলা হয়েছে ঢাকায়। কুমিল্লায় তিনটি এবং পঞ্চগড় ও নড়াইলে একটি করে মামলা রয়েছে।

সরকারের একাধিক সূত্রের সাথে খালেদা ইস্যুতে কথা বলে মনে হয়েছে, খালেদার কারাগারে থাকার মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য এসব মামলার মধ্যে বেশ কয়েকটিকেই ব্যবহার করতে চায় সরকার। এজন্য চলতি ও আগামী মাসে একাধিক মামলার কার্যক্রম ত্বরান্বিত হতে পারে। এর মাধ্যমে সরকার এটিই নিশ্চিত করতে চায় যে, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের মামলায় কোনো কারণে খালেদা জিয়া জামিন পেলেও তাকে কারাগার থেকে বের হতে দেয়া হবে না। এ ক্ষেত্রে ২০১০ সালে জামায়াতের সর্বোচ্চ নেতাদের কারাগারে ঢুকানোর কৌশল অনুসরণ করা হবে।

জামায়াতের তৎকালীন আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, নায়েবে আমীর মাওলানা দেলওয়ার হোসাইন সাঈদীসহ অন্যান্য নেতাদেরকে প্রথমে ধর্মীয় অনুভূতির একটি মামলায় গ্রেফতার করা হয়। এই মামলায় তারা জামিন পেলেও পরে অন্যান্য মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে রাখা হয় তাদেরকে। সর্বশেষ যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রস্তুত করে সেই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। খালেদা জিয়ার ক্ষেত্রেও একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। তবে এটা শুধু আগামী নির্বচনের জন্য নয়, বরং নির্বাচনে জিতে আসতে পারলে খালেদা জিয়াকে আজীবন কারাবন্দীই রাখতে চায় আওয়ামী লীগ। এর মাধ্যমে বিএনপি ও অন্যান্য বিরোধী দল ও সংগঠনকে নৈতিকভাবে দুর্বল রাখাই মূল উদ্দেশ্য।
উৎসঃ বিডি টুডে

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক
মমতাজ বেগম
নির্বাহী সম্পাদক
নাঈম পারভেজ অপু
কার্যালয়
১০৫, এয়ারপোর্ট রোড, আওলাদ হোসেন মার্কেট (৩য় তলা)
তেজগাঁও, ঢাকা-১২১৫।
সেল : ০১৭১১২৬১৭৫৫, ০১৯১২০২৩৫৪৬
E-Mail: banglarchokh@yahoo.com, banglarchokh.photo1@gmail.com
© 2005-2018. All rights reserved by Banglar Chokh Media Limited
Developed by eMythMakers.com
Close