১৯ ডিসেম্বর ২০১৮, বুধবার ০৩:০৪:৪৪ এএম
সর্বশেষ:

১৬ এপ্রিল ২০১৮ ১২:২৮:১০ পিএম সোমবার     Print this E-mail this

বরিশালের নদীগুলোর বাইপাস সার্জারী জরুরী

ফিরোজ মোস্তফা, বরিশাল
বাংলার চোখ
 বরিশালের নদীগুলোর বাইপাস সার্জারী জরুরী

বৈবাহিক জীবনের পঞ্চম বছরে প্রথমবারের মতো নৌপথে ঢাকা বেড়াতে গিয়েছিলেন বরিশালের গৃহবধূ শায়লা শারমিন (ছদ্মনাম)। বিলাসবহুল লঞ্চের কেবিনে স্বামী সন্তান নিয়ে রাতে ঘুমিয়েছিলেন তিনি। মধ্য রাতে হঠাৎ ঘুম ভেঙ্গে যায় তার। ভয়ার্ত চোখে স্বামীকে ডেকে তোলেন তিনি। কারন বিশালাকৃতির লঞ্চটি তখন এদিক ওদিক কাত হয়ে, হেলে-দুলে চলছিলো। লঞ্চটি নদীর তলদেশ এমনভাবে ডুবোচর ঘেষে চলছিলো যে স্বামী এবং দুই শিশু সন্তান সহ নিজেকে ওই সময় আর নিরাপদ মনে করছিলেন না তিনি। স্ত্রীর মনের অবস্থা দেখে কেবিনের দরজা খুলে বাইরে বারান্দায় গিয়ে তার মনোবল বাড়ানোর চেস্টা করছিলেন স্বামী। স্বামী যতই সাহস দেখাক না কেন, তার চোখে-মুখেও ছিলো আতংকের ছাপ। এতে আরও বিগরে গিয়েছিলেন শায়লা। এভাবে প্রায় আধা ঘন্টা এক সময়ের প্রমত্তা মেঘনার ডুবো চর ঘেষে বিশাল নৌযানটি চলতে চলতে নিরাপদ পথে পৌঁছার পর স্বামী-সন্তানদের নিয়ে হাফ ছেড়ে বাঁচেন শায়লা। নদীতে এটি তার জীবনের প্রথম ভয়ংকর অভিজ্ঞতা।

ভেবেছিলেন ঢাকা যাওয়ার পথে হয়তো লঞ্চটি ভুল পথে গিয়ে ডুবো চরে ঠেকেছে। তাই বরিশাল ফেরার সময় নির্বিঘেœ যাওয়ার আশা ছিলো তার। কিন্তু বিধিবাম, এবারও মধ্য রাতে নৌপথে সেই তীক্ত অভিজ্ঞতা। না এবার লঞ্চের মাস্টার কোন ভুল পথে চলেননি। ঢাকা যাওয়ার সময়ও সঠিক পথে ছিলেন তিনি। সমস্যা হচ্ছে নদীর নাব্যতা। যে পথে বড় বড় জাহাজগুলো চলাচল করে তার দুই পাশে যতদুর চোখ যায়, শুধু পানি আর পানি, নদীর কুল দেখা যায়না স্বচ্ছভাবে। অর্থ্যাৎ বিশাল প্রশস্ত নদী। কিন্তু পানির দুই তিন ফিট নিচেই ডুবো চর। এই ডুবো চর ঘেষেই প্রতিনিয়ত হাজার হাজার যাত্রী নিয়ে ঢাকার সাথে দক্ষিনাঞ্চলের বিভিন্ন রুটে আসা যাওয়া করছে শতাধিক লঞ্চ। শুধু যাত্রীবাহি জাহাজই নয়, শত শত টন পন্যবাহী নৌযানগুলো ঢাকা, নারায়নগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, সমূদ্র বন্দর চট্টগ্রাম, বরিশাল, পায়রা সমূদ্র বন্দর, খুলনা, যশোর ও মংলার সমূদ্র বন্দরে যাতায়াতের নদীগুলোরও নাব্যতা কমেছে আশংকাজনকভাবে।

বরিশাল ঢাকা রুটের অন্যতম বৃহৎ যাত্রীবাহি জাহাজ এমভি সুন্দরবন-১০ এর প্রথম শ্রেনীর মাস্টার মজিবর রহমান বলেন, ঢাকা থেকে বরিশাল যাওয়ার পথে হিজলার মেঘনায় মিয়ারচর পয়েন্টের প্রবেশপথ থেকে ৩ কিলোমিটার পথের পুরোটাই ডুবোচর। বরিশাল থেকে ঢাকা যাওয়ার পথেও অনুরূপ। গত ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারী মাস পর্যন্ত টানা ৩মাস মিয়ারচর জ্রেজিং করার পরও কোন সুফল পাওয়া যাচ্ছেনা। এই পথে সুফল পাওয়ার কোন আশাও দেখছেন না প্রবীন মাস্টার মজিবর। তিনি বলেন, ওইখানে নদী অনেক প্রশস্ত। নদীতে দ্রুত পলি পড়ে যায়। এ কারনে ওই পথে আগামী বছর জাহাজ চালানো সম্ভব হবে না বলে আশংকা তার। মিয়ারচর রুটের বিকল্প হিসেবে মেঘনা থেকে কালীগঞ্জ পথের উলানিয়া লঞ্চঘাটের এক কিলোমিটার দূরে মাঝের চর (নদীর মধ্যে চর জেগে ওঠায় মাঝের চর হিসেবে পরিচিত) পয়েন্টে নদীর ভেতরে মাত্র অর্ধ কিলোমিটার ড্রেজিং করলে দির্ঘ মেয়াদে নৌ রুটের সমস্যা কেটে যাবে বলে মনে করেন প্রথম শ্রেমীনর মাস্টার মজিবর রহমান।

শুধু ওই পয়েন্টে নয়, ঢাকা-বরিশাল নৌ পথের আড়িয়াল খাঁ নদীর বামনীর চর গ্রীনবাতি থেকে লালখারাবাদ লালবাতি পর্যন্ত ২ কিলোমিটার, কীর্তনখোলা নদীর পোটকার চর থেকে রাজাপুর পর্যন্ত ১ কিলোমিটার এবং চরমোনাই থেকে লামছড়ি পর্যন্ত কীর্তনখোলা নদীর দেড় কিলোমিটার এলাকায় ভাটার সময় পানি থাকে দুই থেকে আড়াই মিটার। রাজধানী ঢাকার সাথে দেশের দক্ষিনাঞ্চলের নৌ যোগাযোগ স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ন এই নৌপথের নিবির পরিচর্যা প্রয়োজন বলে মনে করেন এমভি পারাবত-৯ লঞ্চের প্রথম শ্রেনীর মাস্টার মো. শামীম আহমেদ।

এতো গেলো, বরিশাল-ঢাকা নৌ পথের কথা। ভান্ডারিয়া-হুলারহাট-কাউখালী-নেছারাবাদ-বানারীপাড়া-উজিরপুর-শিকারপুর-বাহেরচর-রহিমগঞ্জ-ভাঙ্গারমুখ-নন্দিরবাজার-মুলাদী-হিজলা হয়ে মেঘনা নদী পাড়ি দিয়ে ঢাকা রুটে যাত্রী ও পন্যবাহী নৌযান চলাচলের ইতিহাস অন্তত দেড়শ’ বছরের। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে বর্ষার ৩মাস ব্যতিত এই রুটে স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পাড়ছেনা বড় নৌযানগুলো। এই পথের সন্ধ্যা নদীর উজিরপুর-শিকারপুর-বাহেরচর-রহিমগঞ্জ ছাড়িয়ে ভাঙ্গারমুখ (ট্যারামারী) থেকে নন্দিরবাজার পর্যন্ত আগরপুর নদীর ১ কিলোমিটার জুড়ে দির্ঘ ডুবো চর জেগেছে। এ কারনে বর্ষার ৩মাস ব্যতিত শীত এবং শুস্ক মৌসুম সহ বছরের অন্তত ৯ মাস এই নদী পথে বড় নৌযান চলাচল করতে পারেনা। তাই এই রুটের যাত্রীবাহি নৌযানগুলো সংকটকালীন সময়ে সন্ধ্যা নদীর শিকারপুর লঞ্চঘাট থেকে যাত্রী নিয়ে আবার পেছনের দিকে ঘুরে সুগন্ধা ও আড়িয়াল খাঁ নদী হয়ে মেঘনা নদী পাড়ি দিয়ে ঢাকার গন্তব্যে চলাচল করে।

বরিশাল বিআইডব্লিউটিএ’র নৌ সংরক্ষন ও পরিচালন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল থেকে কাউখালী রুটে গাবখান নালার মুখ, বরিশাল থেকে বরগুনা রুটে বরগুনা নালা, উজিরপুর থেকে নন্দিরবাজার রুটে ট্যারামারীর নালা, লাহারহাট ভেদুরিয়া ফেরী রুটের লাহারহার নালারমুখ থেকে চরমহিষা ও ভেদুরিয়া ফেরীঘাট, বরিশাল-নাজিরপুর রুটের (ভোলা-লালমোহন) নাজিরপুর নালা, বরিশাল-পটুয়াখালী-গলাচিপা-খেপুপাড়া রুটের নলুয়া, আফালকাঠী, জিলনা, বাঁধঘাট, শেকাঠী, আমখোলা ও গলাচিপা পয়েন্ট, পটুয়াখালী নদী বন্দর এলাকা, বরিশাল-আমতলী রুটের মীর্জাগঞ্জ নালার মুখ, বরিশাল-আজাদবাজার রুটের পোটকার চর, বরিশাল-পাতারহাট-ইলিশা রুটের সাদেকপুর এবং একই রুটের ইলিশা জোড়াখাল পয়েন্টে নাব্যতা সংকট ভয়াবহ আকার ধারন করেছে।

উল্লেখিত নদী পথে ভাটার সময় বরগুনা নালায় ৫ফুট, ট্যারামারী নালায় ৫ফুট, লাহারহাট নালারমুখে ৬ফুট, চরমহিষা ও ভেদুরিয়া ফেরীঘাট পয়েন্টে ৫ফুট, নাজিরপুর নালায় ৫ ফুট, নলুয়া, আফালকাঠী, জিলনা, বাঁধঘাট, শেকাঠী, আমখোলা ও গলাচিপা পয়েন্টে ৬ ফুট, পটুয়াখালী নদী বন্দর পয়েন্টে ৬ফুট, মীর্জাগঞ্জ নালারমুখে ৬ফুট, সাদেকপুর পয়েন্টে ৫ ফুট এবং ইলিশা জোরখাল পয়েন্টে পানির সর্বোচ্চ গভীরতা থাকে মাত্র ৫ ফুট। অথচ ঢাকা, চট্টগ্রাম, মংলা, পায়রা, নারায়নগঞ্জ সহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে দক্ষিনাঞ্চলের বিভিন্ন রুটে যেসব পন্য ও যাত্রীবাহী নৌযান চলাচল করে সেগুলোর ড্রাফট সর্বনি¤œ ৫ ফুট থেকে ১০ ফুট। এ কারনে ভাটার সময় ওইসব রুটে চলাচল করতে পারেনা বড় জাহাজগুলো।

নদীর মালিকানা জেলা প্রশাসনের। কিন্তু নৌযান চলাচলের রুটগুলোর নাব্যতা রক্ষা করে অভ্যন্তরীন নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) নৌ সংরক্ষন ও পরিচালন বিভাগ। গত ৮ মার্চ বরিশাল বিআইডব্লিউটিএ’র নৌ সংরক্ষন ও পরিচালন বিভাগের উপ-পরিচালকের কার্যালয় থেকে ঢাকায় পরিচালক কার্যালয়ে পাঠানো এক চিঠিতে উল্লেখিত পয়েন্টগুলোতে সুষ্ঠু ও নিরাপদে নৌযান চলাচলে বিঘœ সৃস্টির কথা উল্লেখ করা হয়। জোয়ার-ভাটার সুবিধা নিয়ে এসব পয়েন্ট দিয়ে নৌযান চলাচল করছে উল্লেখ করে ওইসব পয়েন্টগুলোতে হাউড্রোগ্রাফিক জরিপ করে ড্রেডিংয়ের অনুরোধ জানানো হয়।

একই দপ্তর থেকে গত ২০ মার্চ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো আরেকটি চিঠিতে বলা হয় বরিশাল-লালমোহন-নাজিরপুর নৌরুটের তেতুলিয়া নদী হয়ে নাজিরপুর লঞ্চঘাট পর্যন্ত নাব্যতা সংকটের কারনে নাজিরপুর লঞ্চঘাটে কোন লঞ্চ নোঙ্গর করতে পারছেনা। একইভাবে বরিশাল-লালমোহন-নাজিরপুর রুটের তেতুলিয়া নদী থেকে গাইমারা লঞ্চঘাট পর্যন্ত নাব্যতা সংকটের কারনে গাইমারা লঞ্চঘাটে, কাউখালী-নন্দিরবাজার রুটের বানারীপাড়া লঞ্চঘাটের সন্মুখে নাব্যতা সংকটের কারনে বানারীপাড়া লঞ্চঘাটে এবং বরিশাল-পটুয়াখালী-গলাচিপা রুটের বাঁধঘাট শোয়াকাঠী ও আমখোলা পয়েন্টে ভাটার সময় নাব্যতা একেবারে কমে যাওয়ায় গলাচিপা লঞ্চঘাটে লঞ্চ নোঙ্গর করতে পারেনা। এসব ঘাটে নোঙ্গর করার জন্য নৌযানগুলোকে জোয়ার-ভাটার জন্য অপেক্ষা করতে হয় উল্লেখ করে নৌ সংরক্ষন বিভাগের উপ-পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম এসব পয়েন্টে (শোল) ড্রেজিং করার অনুরোধ করেন। বিআইডব্লিউটিএ’র ম্যাপে বরিশাল বিভাগে ৪৩টি নদীর অস্তিত্ব পাওয়া যায়।

নদীর নাব্যতা ও গতিপ্রবাহ রক্ষা করে নদীর তীর ভাংগন রোধ সহ জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। গত ২৭ মার্চ বিশ্ব পানি দিবসের এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সারা দেশের নদীগুলো রক্ষার উপর গুরুত্বারোপ করেন।

এর আগেই পানি উন্নয়ন বোর্ড দক্ষিনাঞ্চল জোনের প্রধান প্রকৌশলীর দপ্তর থেকে বরিশাল বিভাগের ৪৫টি নদীর বর্তমান অবস্থা উল্লেখ এবং পলি পড়ে ভরাট হয়ে যাওয়া ৪২টি নদীর বিভিন্ন অংশের ৬২৯ কিলোমিটার ড্রেজিংয়ের চাহিদাপত্র পাঠিয়েছে সংশ্লিস্ট কর্তৃপক্ষের কাছে।

এর মধ্যে বরিশাল জেলার তেতুলিয়া নদীর ৫.৬০ কিলোমিটার, পান্ডব নদীর সাড়ে ৩ কিলোমিটার, রাঙামাটি নদীর ১১.২০ কিলোমিটার, কীর্তনখোলা নদীর ৮.৭৫ কিলোমিটার, সুগন্ধা নদীর ৩.৩০ কিলোমিটার, সন্ধ্যা নদীর ১৩ কিলোমিটার, জয়ন্তী নদীর সাড়ে ৩ কিলোমিটার, বরিশাল ও ঝালকাঠী জেলা দিয়ে প্রবাহিত কালিজিরা নদীর ১৫ কিলোমিটার, ঝালকাঠীর মরা বিষখালী নদীর ১৮ কিলোমিটার, নবগ্রাম নদীর ১২ কিলোমিটার, ধানসিঁড়ি নদীর ১৩ কিলোমিটার, পিরোজপুরের মরা বলেশ্বর নদীর১৭ কিলোমিটার, হলতা নদীর ১৪.৪৫ কিলোমিটার, ভোলার তেতুলিয়া নদীর ৯০ কিলোমিটার, পটুয়াখালী জেলার পটুয়াখালী নদীর ৩ কিলোমিটার, লোহালিয়া নদীর ৭৬ কিলোমিটার, গোপালদী ডন নদীর, ৮ কিলোমিটার, বহালগাছিয়া নদীর ৬ কিলোমিটার, কলাগাছিয়া নদীর ৮ কিলোমিটার, মুরাদিয়া ডন নদীর ৫ কিলোমিটার, ভূড়িয়া নদীর ৩ কিলোমিটার, মহিপুর নদীর (চ্যানেল) ১০ কিলোমিটার, পাটুয়া নদীর ১০ কিলোমিটার, লোন্দা নদীর ৪ কিলোমিটার, সাপুরিয়া নদীর ১৩ কিলোমিটার, টিয়াখালী ডোন নদীর ১০ কিলোমিটার, রাঙ্গাবালী নদীর ১৫ কিলোমিটার, পাঙ্গাশিয়া নদীর ১০ কিলোমিটার, , ডিগ্রী নদীর ৪ কিলোমিটার, রাবনাবাদ চ্যানেলের ১০ কিলোমিটার, বরগুনার পায়রা নদীর ২৫ কিলোমিটার, কুকুয়া নদীর ২০ কিলোমিটার, টিয়াখালী নদীর ১৬ কিলোমিটার, বাদুরা ও নেউলী নদীর ২০ কিলোমিটার, নিশানবাড়িয়া ভারানী নদীর ৭ কিলোমিটার, আরপাঙ্গাশিয়া নদীর ২০ কিলোমিটার, চাওড়া নদীর ১৫ কিলোমিটার, চরদুয়ানী ভারানী নদীর ১০ কিলোমিটার, হলতা নদীর সাড়ে ১৮ কিলোমিটার, খাকদন নদীর ১৫ কিলোমিটার, বিষখালী নদীর ৩০ কিলোমিটার এবং বলেশ্বর নদীর ১০ কিলোমিটার জরুরী ভিত্তিতে ড্রেজিং (খনন) আবশ্যক বলে ওই চাহিদাপত্রে উল্লেখ করা হয়।

বিশিস্ট পরিবেশ বিজ্ঞানী বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এসএম ইমামুল হক বলেন, বরিশাল হচ্ছে ভাটি অঞ্চল। উত্তরের হিমলায় কিংবা উত্তর-পশ্চিমের বিভিন্ন নদীর বিশাল পলি এসে জমা ভাটি অঞ্চলের বিভিন্ন নদীতে। এ কারনে নদীগুলো নিয়মিত ড্রেজিং দরকার ছিলো। দির্ঘদিন নদীগুলোকে খনন করা হয়নি। ড্রেজিং উপক্ষো করায় নদীর প্রবাহ নস্ট হয়েছে। আবার অবৈধ দখলেও নদীগুলো নিজস্ব গতি প্রবাহ হারিয়েছে। এ জন্য সামনে আরও দুরাবস্থা অপেক্ষা করছে।

নদীর দেশ বরিশালের বিভিন্ন নদীর ৬২৯ কিলোমিটার খনন আবশ্যকের তথ্যে বিস্মিত এবং ব্যথিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ড. ইমামুল হক। তিনি বলেন, এটি ‘অবাক’ করে দেওয়ার মতো ‘হৃদয়ে রক্ত ক্ষ্মরন’ করার মতো তথ্য। জরুরী ভিত্তিতে খনন করা না হলে সকল নদীর নাব্যতা শেষ।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ইমামুল হক বলেন, নদীগুলো দ্রুত সময়ের মধ্যে খনন না হলে এ অঞ্চলের যাত্রী ও পন্য পরিবহন, নদী নির্ভর ব্যবসা বানিজ্য, জীব বৈচিত্র, নদী তীরবর্তী জনগোষ্ঠীর জীবিকা নির্বাহ, মাছের চাহিদা সব কিছুতেই বিপর্যয় নেমে আসবে। নাব্যতা উদ্ধার না হলে অসময়ে নদীর দুই তীর প্লাবিত হবে। পানি সরবেনা। অনেক দিন পানি আটকে থাকবে। এতে ফসলী জমি নস্ট হবে।

তিনি বলেন, নাব্যতা হারিয়ে গেলে নদীর তীরবর্তী জনগোষ্ঠীর জীবিকা নির্বাহের ধরন পাল্টাতে হবে। কিন্তু সহজে জীবিকা নির্বাহের ধরন পাল্টানো যায়না। এ কারনে এক শ্রেনীর মানুষ অভ্যন্তরীন উদ্বাস্তুতে পরিনত হবে। এতে সমাজে অস্থিরতার সৃস্টি হতে পারে। বড় বড় নদী এবং ওইসব নদীর শাখাগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে খনন সহ পর্যায়ক্রমে অন্যান্য সকল নদী খননের উপর বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করেন পরিবেশ বিজ্ঞানী প্রফেসর ড. এসএম ইমামুল হক।
 
বাংলাদেশ জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মজিবুর রহমান হাওলাদার বলেন, নদীগুলোর নাব্যতা রক্ষা এবং নদীর অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করতেই হবে। প্রকৃতি এবং পরিবেশ বাঁচাতে নদী রক্ষার বিকল্প নেই। নদীর অবৈধ দখল এবং দুষন রোধে স্ব-স্ব জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান বলেন, বিশেষ করে নদী বিধৌত বরিশালের নদী রক্ষায় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। বরিশালের পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে নদী খননের প্রাপ্ত তালিকার মধ্য থেকে গুরুত্বপূর্ন নদীগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এবং অন্যান্য নদী পর্যায়ক্রমে খননের জন্য সরকারের কাছে জোড় সুপারিশ করার কথা বলেন দক্ষিনাঞ্চলের কৃতি সন্তান সরকারের সচিব ড. মজিবুর রহমান হাওলাদার।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
সম্পাদক
শরীফ মুজিবুর রহমান
নির্বাহী সম্পাদক
নাঈম পারভেজ অপু
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক
মমতাজ বেগম
কার্যালয়
১০৫, এয়ারপোর্ট রোড, আওলাদ হোসেন মার্কেট (৩য় তলা)
তেজগাঁও, ঢাকা-১২১৫।
সেল : ০১৭১১২৬১৭৫৫, ০১৯১২০২৩৫৪৬
E-Mail: banglarchokh@yahoo.com, banglarchokh.photo1@gmail.com
© 2005-2018. All rights reserved by Banglar Chokh Media Limited
Developed by eMythMakers.com
Close