১৮ জুন ২০১৮, সোমবার ১১:৩৬:১৪ পিএম
সর্বশেষ:

০৬ মে ২০১৮ ১২:৩৪:৫৮ এএম রবিবার     Print this E-mail this

গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে

প্রার্থীদের একে অপরের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ

গাজীপুর থেকে আবুল হাসান
বাংলার চোখ
গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রার্থীদের একে অপরের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ

গাজীপুর সিটি নির্বাচনে প্রার্থীরা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। এসময় তাদের কর্মী ও সমর্থকরা বিভিন্ন শ্লোগানে নিজেদেরে প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন। তবে দুই মেয়র প্রার্থীই প্রচারণায় একে অপরের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ আনছেন। বিএনপি মেয়র প্রার্থী নির্বাচনী ময়দানে নির্বাচন কমিশন সমান সুযোগ দিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন। অপর দিকে আওয়ামীলীগ মেয়র প্রার্থী স্থানীয় নির্বাচনে স্থানীয় জনগনের ভোট প্রত্যাশা করে বলছেন, মন্ত্রী এবং সংসদ সদস্য থাকায় অনেক কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ প্রচারণায় নামতে পারছেন না।
সরেজমিনে দেখা গেছে, শনিবার সকালে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ৩৯ নং ওয়ার্ড থেকে আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম প্রচারণা শুরু করেন। এসময় তার সাথে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় দলীয় নেতাকর্মীরা।  নির্বাচিত হলে গাজীপুরকে পরিকল্পিত নগরী এবং এলাকার উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেন পথসভায়। এবং উপস্থিত ভোটারদের কাছে ভোট প্রার্থনা করেন জাহাঙ্গীর আলম। এসময় তিনি বলেন,  মন্ত্রী এবং সংসদ সদস্য থাকায় অনেক কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ প্রচারণায় নামতে পারছেন না। তবে স্থানীয় নির্বাচনে স্থানীয় জনগন যেভাবে চাইছে তেমনভাবে আমি কাজ করছি।
পরে তিনি হায়দরাবাদ, মেঘডুবি, তালুটিয়া, হারবাইদ মোড়, হারবাইদ নন্দিবাড়ি, মাজুখান, কুদাব, বিন্দান, পুবাইল উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গন, নওগাঁ, পুবাইল মাদ্রাসা মাঠে পথসভায় বক্তব্য দেন। গাজীপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটির সদস্য মো. আখতারউজ্জামান কয়েকটি পথসভায় বক্তব্য রাখেন।
পথসভায় জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমি নিজে কাজ পছন্দ করি। বেকার যুবকদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে একটি স্বচ্ছল সমাজ গঠনের উদ্যোগ নিব। আমি নির্বাচিত হলে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, মাদকমুক্ত সমাজ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে অগ্রাধিকার দেব। আমাকে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করুন, আমি আপনাদের একটি পরিকল্পিত নগর উপহার দিব।’
এসময় অন্যান্যের মধ্যে টঙ্গী থানা আওয়ামী লীগর সাধারণ সম্পাদক মো. রজব আলী, কাউন্সিলর মো. আজিজুর রহমান শিরিষ, কাউন্সিলর মো. বিল্লাল হোসেন, মহানগর আওয়ামী লীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক মো. জাহিদ আল মামুন, কৃষি বিষয়ক সম্পাদক মো. আবুল কাশেম, সদস্য আলী হোসেন মাষ্টার, মহানগর যুবলীগ যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সাইফুল ইসলাম, পুবাইল আ. লীগ নেতা মো. মাসুদ, পুবাইল ইউনিয়ন আ. লীগের ক্রিড়া বিষয়ক সম্পাদক এড মো. মোজিবুর রহমান, বন বিভাগের জিপি রেজাউল করিম রেজা, জাতীয় পার্টি কেন্দ্রীয় কমিটির পরিবার পরিকল্পনা ও জনসংখ্যা বিষয়ক যুগ্ম সম্পাদক মো. নিজাম উদ্দিন সরকার, পুবাইল ইউনিয়ন সভাপতি আশরাফ হোসেন, মহানগর যুব সংহতির সভাপতি জাকির হোসেন, ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র টঙ্গী আঞ্চলিক কামিটির সা. সম্পাদক শ্যামলাল দাস প্রমুখ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
অপরদিকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার সকালে মহানগরের কোনাবাড়ির রাজাবাড়ি এলাকায় প্রচারণা শুরু করেন। এসময় তিনি নির্বাচনী লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড ঠিক নেই উল্লেখ করে নির্বাচন কমিশন তাকে সমান সুযোগ দিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন।
বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও মিডিয়া সেলের প্রধান ডা. মাজহারুল আলম জানান, পরে হাসান উদ্দিন সরকার কোনাবাড়ি ইউনিয়নের কাদের মার্কেট, কুদ্দসনগর, কেয়া ম্পিনিং মিল, মেডিটেক্স , জেলখানা গেট, মাহবুব মার্কেট, কলেজ গেট, বাঘিয়া পুকুরপাড়, নাছের মার্কেট, মিতালী ক্লাব, আমবাগ, তেতুল তলা, বিসিক গেট এলাকায় প্রচার কাজ করেন। তাঁর সাথে ছিলেন  বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিষ্টার মওদুদ আহম্মেদ, গাজীপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক একেএম ফজলুল হক মিলন, সদস্য সচিব কেন্দ্রীয় নেতা কাজী সাইয়্যেদুল আলম বাবুল, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আহমদ আজম খান, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্ট হাবিবুর রহমান, কেন্দ্রীয় নেতা  প্রফেসর আমিনুল ইসলাম,  জাসাস কেন্দ্রীয় নেতা সায়লা, হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক মুফতী নাসির উদ্দিন,  জেলা বিএনপি নেতা কুতুব উদ্দিন চেয়ারম্যান, আব্দুস সালাম, সৈয়দ হাসান সোহেল, লাবলু, বাবলু, কাপাসিয়া থানা বিএনপির সেক্রেটারী সাখাওয়াত হোসেন সেলিম। নগরীর ৪২নং ওয়ার্ডের নারায়নপুর করমতলা হিন্দু এবং খ্রিস্টান অধ্যুষিত এলাকায় প্রচার কাজ করেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও পেশাজীবী নেতা ডা, এজেড এম জাহিদ হোসেন। তাঁর সাথে ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন এর উপদেষ্টা ডা. এম এ কুদ্দুস, যুবদল সাবেক সভাপতি এরবার্ট পি কস্তা, সহ- স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক জাহানারা বেগম, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা অধ্যাপক আলমগীর হোসেন,পেশাজীবী গাজীপুর জেলার সভাপতি অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, ইঞ্জিনিয়ার রুহুল আমীন আকন্দ, ডা. শাহজাহান সিরাজ, ডা. মোস্তফা কামাল,আব্বাস, দেলোয়ার, ফারুক, আরিফ প্রমুখ।২৭ নং ওয়ার্ডে প্রচার কাজ করেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, নাজিম উদ্দিন আলম, তুহিন। নগরীর ২৪নং ওয়ার্ডে প্রচার কাজ করছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ২৫ নং ওয়ার্ডে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা শহিদুল্লা তালুকদার,  ২৮ ওয়ার্ডে কাজ করেন বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, স্বেচ্ছাসেবক দল কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের ভূইয়া জুয়েল, এসএম জিলানী, পেশাজীবী নেতা এড, নুরুল কবীর শরীফ, আসাদুজ্জামান সোহেল, অধ্যাপক হারুনুর রশিদ, হাসিবুর রহমান মুন্না, ফখরুল ইসলাম রনি, গোলাম সারোয়ার, ফিরোজ প্রমুখ।২৯ নং ওয়ার্ডে প্রচার করেন  কেন্দ্রীয় নেতা শাহ শহীদ সারোয়ার। ৩২নং ওয়ার্ডে প্রচার কাজ করেন সেলিম রেজা হাবিব, ছাত্রদলের আনিছুর রহমান,  তালুকদার খোকন প্রমুখ। ৫৬,৫৭,৫৮ নং ওয়ার্ডে প্রচার কাজ করেন কেন্দ্রীয় যুবদল নেতা মোস্তাজুল করিম বাদরু, নুরুল ইসলাম, বশির, হাবিবুর রহমান হাবিব প্রমুখ।নগরীর ১৮ নং ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শামীম। তাঁর সাথে ছিলেন কেন্দ্রীয় নেতা ভিপি হারুনুর রশিদ,মশিউর রহমান বিপ্লব, শাহানা আক্তার, আব্দুল খালেক হাওলাদার, ওয়াহিদুর রহমান বকুল,ডা. হারেছ মোল্লা, আবুল কালাম, যুবদল নেতা সবুজ, মাহিম,হাবিব, ওয়ার্ড সমন্বয়কারী হযরত আলী প্রমুখ। নগরীর ৩১ নং ওয়ার্ডে প্রচার কাজ করেন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শ্যামা ওবায়েদ। তাঁর সাথে থাকা গাজীপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্মদলের সভাপতি রায়হান আল মাহমুদ রানা ডিবি পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন। এয়াড়াও ছিলেন কেন্দ্রীয় নেতা ফিরোজ উজ জামান, হাবিবা, শামীম, ছাত্রনেতা জাহাঙ্গীর প্রমুখ। ১৭ নং ওয়ার্ডে পথসভা করেন কেন্দ্রীয় নেতা মীর নাসির উদ্দিন। তাঁর সাথে ছিলেন সদর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সুরুজ আহম্মেদ, কেন্দ্রীয় ছাত্রদল নেতা মনির হোসেন।নগরীর ২৫ নং ওয়ার্ডে প্রচার কাজ করেন জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য একরামূল হক বিপ্লব, সালাউদ্দিন ভূঁইয়া, বিএনপি কেন্দ্রীয় নেতা কামাল আনোয়ার, ভিপি ইব্রাহিম, ছাত্রনেতা টিটু, তন্ময় হাসান প্রমুখ। নগরীর ৪১নং ওয়ার্ডে প্রচার কাজ করেন বিএনপি কেন্দ্রীয় নেতা মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল।
এছাড়া নির্বাচনে কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর প্রার্থীরা দিনরাত তাদের এলাকায় প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। আগামী ১৫ মে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এতে ভোটার সংখ্যা ১১ লাখ ৩৭ হাজার ৭৩৬ জন।
 


সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
বাংলার চোখ মিডিয়া লিমিটেড

চেয়ারম্যানঃ মোঃ আলী আকবর
নির্বাহী সম্পাদকঃ নাঈম পারভেজ অপু
কার্যালয়
জামান টাওয়ার (৮ম তলা), ৩৭/২ কালভাট রোড, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।
সেল : ০১৭১২০৮০৭৭৯ (চেয়ারম্যান), ০১৭১১২৬১৭৫৫, ০১৯১২০২৩৫৪৬ (নির্বাহী সম্পাদক)
E-Mail: banglarchokh@yahoo.com, banglarchokh.photo1@gmail.com
© 2005-2018. All rights reserved by Banglar Chokh Media Limited
Developed by eMythMakers.com
Close