২৩ অক্টোবর ২০১৮, মঙ্গলবার ০৪:৩৮:৩৩ এএম
সর্বশেষ:

১৩ মে ২০১৮ ০২:৫১:০৫ পিএম রবিবার     Print this E-mail this

প্রতিটা দিন হোক মায়ের জন্যই

হেনা মনি
বাংলার চোখ
 প্রতিটা দিন হোক মায়ের জন্যই

 ‘মা’ খুব ছোট, খুব সহজ একটা শব্দ। কিন্তু তাৎপর্যে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ শব্দ এটি। যার সাথে তুলনা হয় না পৃথিবীর অন্য কোন শব্দের। অন্য কোন ভাষার। একটা শিশু পৃথিবীতে ভূমিষ্ঠ হবার পর তার প্রথম উচ্চারিত শব্দ হলো মা। মা ডাকের মধ্যে শত অর্থ লুকায়িত। মা কে কোন বিশেষণ দিয়ে বিশেষায়িত করা যায় না। করা সম্ভব নয়। মায়ের ঋণ শোধ তো অকল্পনীয়, অচিন্তনীয় ব্যাপার।
মায়ের মতো এমন এক মূল্যবান সম্পদ আমাদের থাকার পরেও আমরা হত দরিদ্র। কারণ আমরা মায়ের গুরুত্ব বুঝি না। বুঝি না মায়ের মর্যাদা। কত অবহেলা করি, এমন কি খোঁজ খবর পর্যন্ত রাখি না। মা তার সন্তানকে প্রতিপালন করার জন্য, মানুষ করার জন্য, শিক্ষা দেবার জন্য, তার স্বপ্ন পূরন করার জন্য দিনের পর দিন নিজেকে বিসর্জন দিয়েছেন। সেই সন্তান প্রতিষ্ঠিত হয়ে মায়ের সব অবদানকে অস্বীকার করতে সামান্যতম কুণ্ঠিত হয় না। বরং এটা প্রমান করতে ব্যস্ত থাকে যে, যা কিছু সে অর্জন করেছে সবই তার নিজ যোগ্যতায়। নিজ যোগ্যতায় সন্তান হয়তো প্রতিষ্ঠত হয় ঠিকই কিন্তু তাকে সঠিক পথ দেখানো, সাহস যুগানো, হাতে-কলমে সব কিছু শেখানো, অন্যায় এর বিরোধীতা করতে শেখানো, তার বিবেক বুদ্ধি কে সঠিক পথে কাজে লাগানো; এ সবই কিন্তু মা-ই করে থাকেন।
সন্তানের ভবিষ্যৎ সুন্দর করার জন্য নিজের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে নিমজ্জিত করেন, নিজের জন্য একবারও না ভেবে, সমস্ত উপার্জন সন্তানের জন্য শেষ করে দেন। একজন মা হোক শিক্ষিত কিংবা অশিক্ষিত তিনি তো মা, সন্তানের শ্রেষ্ঠ শিক্ষিকা। মা দূরদর্শী ও বটে, সন্তানের আচরনের সামান্য বিচ্যুতি তার দৃষ্টির আড়াল হয় না। একজন মা তার সন্তানের শুধু অভিভাবক নন, পরম বন্ধুও বটে। একজন মা ধরিত্রীর মতো, ধরিত্রী যেমন সবকিছু তার নিজের মধ্যে ধারন করে মা ও ঠিক তেমনি সন্তানের ভালো মন্দ, দোষ গুন সব নিজের মধ্যে গোপন রাখেন। মর্যাদার বিচারে মায়ের সমতূল্য কেউ নয়। সৃষ্টিকর্তার পরেই মায়ের স্থান।
আজ মা দিবস। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্য ভার্জিনিয়ার আনা জার্ভিসকে বলা হয় মা দিবসের প্রবর্তক। মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর জন্য ১৯১৪ সালের ৮ মে মার্কিন কংগ্রেস মে মাসের দ্বিতীয় রবিবার কে ‘মা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করে। সেই থেকে বহু যুগ ধরে এই দিনটিতে মা দিবস পালন করা হচ্ছে। মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা ভালোবাসা জানানোর জন্য কি একটা দিবস যথেষ্ট? বছরের প্রতিটা দিন কেন মায়ের জন্য হতে পারে না? যে সন্তানের জন্য এত কিছু, সেই সন্তানের কি উচিৎ নয় মাকে আগলে রাখা? মায়ের শেষ বয়সে মাকে সঙ্গ দেওয়া?
যে মা তার সন্তানের জন্য এত ত্যাগ স্বীকার করে সেই মা কেন বৃদ্ধাশ্রমে? কেন সন্তান তার নিজের সাথে একই ছাদের নিচে মা কে রাখতে পারে না? নিজে মা না হলে হয়তো কোন দিন বুঝতাম না, মা কাকে বলে। সন্তানের জন্য মা কি করতে পারেন!
মা অনেক ভালোবাসি তোমায়, শুধু পারি না তোমার মত করে প্রকাশ করতে, তোমার মত করে তোমার যত্ন নিতে।
বছরে প্রতিটা দিন মা দিবস হয়ে উঠুক। মায়ের জন্য সন্তানের মনটাও ভালোবাসায় পূর্ণ হয়ে উঠুক। সন্তানের কাছে থাকার জন্য সন্তানের ভালোবাসা পাবার জন্য আর কোন মা কে যেন চোখের জল ফেলতে না হয়। এটাই হোক আজকের প্রার্থনা, আগামীর প্রত্যাশা। তবেই মা দিবস সার্থক হবে, হবে তাৎপর্যবাহী।


সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক
মমতাজ বেগম
নির্বাহী সম্পাদক
নাঈম পারভেজ অপু
কার্যালয়
১০৫, এয়ারপোর্ট রোড, আওলাদ হোসেন মার্কেট (৩য় তলা)
তেজগাঁও, ঢাকা-১২১৫।
সেল : ০১৭১১২৬১৭৫৫, ০১৯১২০২৩৫৪৬
E-Mail: banglarchokh@yahoo.com, banglarchokh.photo1@gmail.com
© 2005-2018. All rights reserved by Banglar Chokh Media Limited
Developed by eMythMakers.com
Close