২৩ মে ২০১৮, বুধবার ০৭:০৪:৫৯ এএম
সর্বশেষ:

১৬ মে ২০১৮ ০২:৩৮:২২ এএম বুধবার     Print this E-mail this

চূড়ান্ত বরখাস্তের মুখে বিতর্কিত শিক্ষক শ্রাবণী সুর

যশোর থেকে এম.জামান কাকা
বাংলার চোখ
 চূড়ান্ত বরখাস্তের মুখে বিতর্কিত শিক্ষক শ্রাবণী সুর

ফের চূড়ান্ত বরখাস্ত হতে চলেছেন যশোরের বিতর্কিত শিক্ষক শ্রাবণী রাহা ওরফে শ্রাবণী সুর। শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি, জাল সনদে নিয়োগ, ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্টে উসকানিমূলক সামাজিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী মনোগ্রামসম্বলিত ব্যাজ ছাত্রীদের মধ্যে বিতরণ, বিদ্যালয়ের টাকা আত্মসাৎ এবং অবাধ্যতার অভিযোগে ২০১৭ সালের ২২ অক্টোবর শ্রাবণী সুরকে সাময়িক বরখাস্ত করে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি। পরে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে শ্রাবণী সুরের বিরুদ্ধে আনীত সব অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে চূড়ান্ত বরখাস্তের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে তা অনুমোদনের জন্য ২২ এপ্রিল যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের আপিল অ্যান্ড আরবিট্রেশন বোর্ডে পাঠিয়েছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। যশোর নৈশ মাধ্যমিক বিদ্যালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
এদিকে, শ্রাবণী সুর তার বিরুদ্ধে আনীত সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, তাকে সপদে বহালের জন্য যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড একটি আদেশ দিয়েছেন। অচিরেই তিনি পুনর্বহাল হবেন।
এর আগে শহরের মধুসূদন তারাপ্রসন্ন (এমএসটিপি) বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকেও শ্রাবণী সুরকে বরখাস্ত করা হয়েছিল ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার অভিযোগে। সেসময় তিনি বহিষ্কারাদেশকে তার বিরুদ্ধে ‘সাম্প্রদায়িক দলন ও অন্যায়’ হিসেবে অভিহিত করে পার পাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। এমনকি বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে তিনি মামলা এবং তাকে হুমকি দিয়েছিলেন ‘বেশিদূর না এগুনোর’ জন্য। এবার নৈশ মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে সাময়িক বরখাস্তের পর তিনি তঞ্চকতার আশ্রয় নিয়ে পার পাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন বিদ্যালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ইকবাল কবির জাহিদ স্বাক্ষরিত ২২ আগস্ট ২০১৭ শ্রাবণী সুরের সাময়িক বহিষ্কারাদেশ (স্মারক সংখ্যা যনৈমাবি ৪২/১৭) থেকে জানা যায়, এর আগে শ্রাবণী সুরকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেয় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ২০১৭ সালের ৯ জুন বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৫ জুন তাকে ওই নোটিস দেওয়া হয়। ৩০ জুন শ্রাবণী সুর যে জবাব দিয়েছেন ১৯ আগস্টের সভায় বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির কাছে তা ‘সন্তোষজনক’ মনে হয়নি। সেই কারণে তাকে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে পরিচালনা কমিটি। একইসঙ্গে অভিযোগ তদন্তে শহীদ মসিয়ূর রহমান ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ পাভেল চৌধুরী, আব্দুস সামাদ মেমোরিয়াল স্কুলের সাবেক প্রধান শিক্ষক মো. আতিয়ার রহমান এবং জেলা শিক্ষা অফিসের বিদ্যালয় পরিদর্শক গাজী হুমায়ুন কবিরকে সদস্য করে একটি কমিটিও গঠন করা হয়।
তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ উত্থাপিত অভিযোগগুলোর মধ্যে দশটি বিষয়ের তদন্ত করা হয়। এসব অভিযোগের মধ্যে রয়েছে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ দিতে স্বপ্নারানি বিশ্বাস নামে একজনের কাছ থেকে দুই লাখ ১৭ হাজার টাকা ঘুষ আদায়, ছাত্রীদের স্কুলড্রেস তৈরিতে ৬০,৭০৫ টাকা আদায় করে ক্যাশ বইতে জমা না করা, কর্মচারীদের প্রতি অসদাচারণ ও তার স্বামী কর্তৃক বিদ্যালয়ের কর্মচারীদের ভয়-ভীতি প্রদর্শন, বিপিএড শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিতে অনুপ বৈরাগী নামে একজনের কাছ থেকে এক লাখ ৩৫ হাজার টাকা ঘুষ গ্রহণ, ২০১২ সাল থেকে ২০১৭ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত ৪৩৪টি অনুমোদনহীন ভাইচারের মাধ্যমে তিন লাখ পাঁচ হাজার ৯৫৫ টাকা উত্তোলন, ঢাকায় যাতায়াত বাবদ অননুমোদিতভাবে ৮৯,৮৬৩ টাকা খরচ, বিশেষ পাঠদান থেকে গৃহীত অর্থের ১০ শতাংশ হারে ১৮,৪৮৫ টাকা গ্রহণ, দুর্নীতি দমন কমিশনে দেওয়ার নামে ৫০ হাজার টাকা গ্রহণ, ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্টকারী স্কুলব্যাজ অনুমোদন ছাড়াই শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ এবং অনুমোদন ছাড়াই খণ্ডকালীন একাধিক কর্মচারী নিয়োগ দেখিয়ে তাদেরকে বেতন প্রদান।
স্বপ্না জানান, স্কুলের উন্নয়নের কথা বলে শ্রাবণী সুর তার কাছ থেকে এই টাকা নিয়েছিলেন। যা তার স্বামী নৃশংকর মণ্ডল প্রধান শিক্ষক শ্রাবণী সুরের বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছিলেন। স্কুল ম্যানেজিং কমিটির কোনো সদস্য এই লেনদেনের কথা জানতেন না।
প্রায় দুই বছর চাকরিকালীন সময়ে স্কুল থেকে কোনো টাকা পাননি দাবি করে স্বপ্না বলেন, ‘এমনকি স্কুলে যাওয়া-আসার খরচও আমার স্বামীর কাছ থেকে নিতে হতো। বেতন করানোর নামে আমার কাছ থেকে আরো ১১ হাজার টাকা নিয়েছেন শ্রাবণী। পরে জানলাম এখানে উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষকের কোনো পদ নেই। বাধ্য হয়ে দুই বছর পর আমি স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিই।’
স্বপ্নারানি আরো বলেন, ‘ম্যাডামকে টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলেছিলাম। কিন্তু তিনি দেননি। তারপর কমিটির কাছে দরখাস্ত করি।’


সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
বাংলার চোখ মিডিয়া লিমিটেড

চেয়ারম্যানঃ মোঃ আলী আকবর
নির্বাহী সম্পাদকঃ নাঈম পারভেজ অপু
কার্যালয়
জামান টাওয়ার (৮ম তলা), ৩৭/২ কালভাট রোড, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।
সেল : ০১৭১২০৮০৭৭৯ (চেয়ারম্যান), ০১৭১১২৬১৭৫৫, ০১৯১২০২৩৫৪৬ (নির্বাহী সম্পাদক)
E-Mail: banglarchokh@yahoo.com, banglarchokh.photo1@gmail.com
© 2005-2018. All rights reserved by Banglar Chokh Media Limited
Developed by eMythMakers.com
Close