২৩ মে ২০১৮, বুধবার ০৭:১৩:০৫ এএম
সর্বশেষ:

১৬ মে ২০১৮ ০২:৫৮:৪৯ পিএম বুধবার     Print this E-mail this

জোয়ানশাহী হাওরে কৃষকের স্বপ্ন বৃষ্টির পানিতে ভাসছে

ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) থেকে এম.আর রুবেল
বাংলার চোখ
 জোয়ানশাহী হাওরে কৃষকের স্বপ্ন বৃষ্টির পানিতে ভাসছে

জমিতে অধিক ফলন হওয়ায় ভৈরবের জোয়ানশাহী হাওরের কৃষকরা যখন স্বপ্ন দেখছিল নতুন ধান ঘরে তুলে ভাগ্যে বদলের। ঠিক সে সময় হাওরের পাকা ধান প্রবল বৃষ্টির পানিতেই তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকের স্বপ্ন এখন তাদের বোঝা। পনিতে তলিয়ে যাওয়া ধান ঘরে তুলতে গিয়ে শ্রমিক সংকট ও বজ্রপাতের প্রাণ হানির আশংকায় দিশেহারা জোয়ানশাহীর হাজারো কৃষক পরিবার। অতিরিক্ত মুল্য দিয়ে চাহিদামত শ্রমিক না পাওয়ায় নিজেরাই ডুবিয়ে ডুবিয়ে কাটছে আধাপাকা ধান। পরিবারের সদস্য ও অল্পসংখ্যক শ্রমিক নিয়ে ভোর থেকে সন্ধ্যার আগমুহুর্ত পর্যন্ত অবিরাম ধান কাটার পরও কোনো কুল পাচ্ছেনা এ হাওয়েরর কৃষকগণ। উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের বিস্তৃর্ণ জোয়ানশাহী হাওরে এবছর ৩ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ হয়েছে বলে ভৈরব কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানাগেছে। হাওরে ধানের বাম্পার ফলন হলেও জলের মধ্যেই হাবুডুবু খাচ্ছে কষ্টঅর্জিত সোনালী ফসল।

শ্রমিক সংকটের কারণে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবছর তিনগুণ চড়ামুল্যে ধান কাটতে হচ্ছে। ফলে লাভ দূরের কথা একর প্রতি শ্রমিকের মুল্য ৮-৯ হাজার টাকাও জলে যাবে। মেঘলা আবাহওয়ার কারণে যতটুকু ধান কাটা হচ্ছে তা শুকাতে না পারায় শেষ সম্বলটুকু ঘরে তোলতে পারছেনা তারা।
সরেজমিনে জোয়ানশাহী হাওরে গিয়ে দেখা যায় কৃষকের এ দূর্দশার চিত্র। দূর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় দীর্ঘ ১৫ দিন যাবত প্রবলবর্ষণ ও আকাশ মেঘলা থাকায় ডুবে যাওয়া ধান কাটার পরও শুকাতে না পারার কারণে ধান পঁচতে শুরু করে। শনিবার আকাশে রোদের দেখা পেয়ে হাওরের কৃষকরা অনেকটাই উৎফুল্ল। এখন তাদের একটাই আশা অন্তত আরো কয়েকটা দিন রোদ্র পেলে হয়ত কাটা ধান গুলো ঘরে তুলতে পারবে।
 
কৃষকদের সাথে কথা বলে জানাযায়, অতিরক্তি বৃষ্টি ও মেঘনা নদীর পানি হাওরে ঢুকে পড়ায় তলিয়ে যায় তাদের কষ্টে অর্জিত ফসল। রোদ না থাকায় ধান শুকাতে না পারায় পঁচন ধরেছে যেন তাদের স্বপ্নে। শ্রীনগর বাজার থেকে মেঘনার চর পর্যন্ত একটি রাস্তা হলেই কেবল কেরিং খরচ অনেকটা কম হতো। রাস্তার এ দাবিটি তাদের দীর্ঘ দিনের। রাস্তার অভাবেই তাদের ক্ষতিটা পূরণ হবার নয় বলে জানান তারা। তলিয়ে যাওয়া ধান কেটে নৌকায় তুলা হয়, পাড়ে আনার পর আরো অন্তত এক কিলোমিটার দূরে খলায় আনতে হয় বোঝা বইয়ে। শ্রমিকের অভাবে পানি থেকে কেটে ধানের মটি গুলো পাড়ে স্তুপ করে রাখতে গিয়ে মারাতœক পঁচনের সৃষ্টি হয়েছে। অতিরিক্ত টাকায় ধান কাটার পর খলায় আনা সম্ভব হচ্ছে না তাদের। ওই হাওরে অন্তত ২ হাজার পরিবার কৃষির সাথে জড়িত। বছরে শুধু একবারই জমিতে ধান চাষ করতে পারে তারা। ধান বিক্রি করে ছেলে মেয়ের পড়া-লেখা ও সংসারের চাহিদা মিটাতে হয় ওই অঞ্চলের কৃষকদের।

এ সংকটময় মুহুর্তে সরকারের সহযোগিতা চেয়ে বিস্তৃর্ণ হাওরের মাঝে শ্রীনগর ইউপি সদস্য কৃষক জাহের মিয়ার নেতৃত্বে মানববন্ধন করেছে হতাশা ও ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক ও তাদের পরিবারের সদস্যরা। শনিবার দুপুরে ভৈরব উপজেলার জোয়ানশাহী হাওরে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এসময় হাওরের কৃষি ও কৃষকের বর্তমান অবস্থা বর্ণনা করেতে গিয়ে কৃষকগণ হাউমাউ করে কাঁদতে থাকেন।



সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
বাংলার চোখ মিডিয়া লিমিটেড

চেয়ারম্যানঃ মোঃ আলী আকবর
নির্বাহী সম্পাদকঃ নাঈম পারভেজ অপু
কার্যালয়
জামান টাওয়ার (৮ম তলা), ৩৭/২ কালভাট রোড, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।
সেল : ০১৭১২০৮০৭৭৯ (চেয়ারম্যান), ০১৭১১২৬১৭৫৫, ০১৯১২০২৩৫৪৬ (নির্বাহী সম্পাদক)
E-Mail: banglarchokh@yahoo.com, banglarchokh.photo1@gmail.com
© 2005-2018. All rights reserved by Banglar Chokh Media Limited
Developed by eMythMakers.com
Close