১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮, মঙ্গলবার ০৯:২৯:৫৭ পিএম
সর্বশেষ:

২৯ জুন ২০১৮ ০৪:৩৬:০৯ পিএম শুক্রবার     Print this E-mail this

এবার রাজধানীতেই বাসে নারী যাত্রীর সামনে হস্তমৈথুন!

ডেস্ক রিপোর্ট
বাংলার চোখ
 এবার রাজধানীতেই বাসে নারী যাত্রীর সামনে হস্তমৈথুন!

বাসে বা চলতি পথে নারীদের যৌন হয়রানী করাটা এখন ডালভাতের মতো ব্যাপার হয়ে গেছে। পাবলিক বাসে চলাফেরা করেন, অথচ শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে বাজে হাতের স্পর্শ পাননি, এমন নারী হয়তো ঢাকা শহরে খুঁজে পাওয়া যাবে না। বিকৃতমনস্ক একদল পুরুষ নিজেদের লালসা চরিতার্থ করার জন্যে ঢাকা শহরের পাবলিক বাসগুলোকে বেছে নিচ্ছে আজকাল।

আর সবচেয়ে অবাক করার বিষয় কি জানেন? যে ঘটনাগুলো ঘটছে, তার দুয়েকটা বাদে কোনটাই হয়তো আমি-আপনি জানতে পারছি না। কেউ যদি সাহস করে ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে ফেলেন, তাহলেও হয়তো জানা যায় খানিকটা। সেই সাহসটাও তো সবাই করতে পারেন না, আমাদের সমাজে মেয়েদের দোষ দেয়ার বাজে প্রবণতাটা যে অনেক পুরনো। কোন পুরুষ বাজে ব্যবহার করেছে? নিশ্চয়ই মেয়েটারও দোষ আছে, হয়তো সে ‘শালীন’ পোষাকে ছিল না, নিশ্চয়ই সে বেপর্দা চলাফেরা করেছে, নইলে দুনিয়াতে এত মেয়ে থাকতে তার সঙ্গে কেন খারাপ আচরণ করা হলো? এটা কেউ বুঝতে চান না যে, বিকৃতমনস্ক মানুষগুলোর বাজে কাজকর্মের সাথে মেয়েদের পোষাকের কোন সম্পর্ক নেই। একটা মেয়ে বিকিনি পরিহিত অবস্থায় থাকলে তারা যেমন বাজে আচরণ করবে, মেয়েটা বোরখা পরে এলেও তাকে ছেড়ে কথা বলবে না।

ঢাকা শহরের ইদানিং এই পার্ভার্টগুলোর সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। এরা পাবলিক বাসের মধ্যেই নিজেদের যৌন কামনা মেটানোর কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। আট থেকে আশি, যেকোন বয়সের নারী দেখলেই এরা নিজেকে স্থির রাখতে পারে না। কয়েকদিন আগেও একই দিনে এমন দুটো ঘটনা ঘটে গেল। এগুলোর কথা কোন মেইনস্ট্রিম মিডিয়া বলতে সাহস পায় না হয়তো। কি জানি, প্রকাশ করার মতো কোন খবর হয়তো এগুলো নয়। কিন্ত এভাবে এই কাপুরুষগুলোকে ছেড়ে দেয়াটাও এক ধরণের অপরাধ। সেটা হয়তো অনেকেই বোঝেন না।

মেয়েটা নূর-ই মক্কা বাসে করে মিরপুর থেকে রামপুরা যাচ্ছিলেন। মিরপুর দশ নম্বর থেকে একটা লোক বাসে উঠলো, গিয়ে বসলো মেয়েটার পাশের সারির একটা সিটে। বাসে ভীড় ছিল না তেমন। হেডফোন কানে দিয়ে গান শুনছিল মেয়েটা, বাসে উঠলে অনেকেই যেটা করে থাকেন। কিছুক্ষণ পরে হঠাৎ লোকটার দিকে নজর পড়তেই মেয়েটা স্তম্ভিত হয়ে গেল। বিকৃতমনস্ক সেই মানুষটা বাসের মধ্যেই হস্তমৈথুন করছে! কোন বিকার নেই তার মধ্যে!

মেয়েটা প্রথমে ভয়ে কি করবে বুঝেই উঠতে পারেনি। তার কথা কেউ বিশ্বাস করবে না ভেবে প্রমাণ সংগ্রহের জন্যে প্রথমে মোবাইল বের করে কৌশলে ভিডিও করার চেষ্টা করলেন তিনি, যাতে কেউ তাকে অবিশ্বাস করতে না পারে। ভিডিওটা বন্ধ করে লোকটার দিকে তাকিয়ে বাসের হেল্পারকে ডাক দিতেই পড়িমড়ি করে বাস থামিয়ে নেমে গেল সেই পার্ভার্টটা।

অবাক করার ব্যাপারটা কি জানেন? মেয়েটা বাসায় এসে ভিডিওটা ফেসবুকে আপলোড দিয়েছিল, ঘটনার বর্ণনা সহ। কিছুক্ষণ পরেই সেই ভিডিও সহ পোস্টটা ডিলিট করে দেয়া হয়েছে, বা প্রাইভেসি দিয়ে দেয়া হয়েছে তাতে। খুব সম্ভবত পরিবারের চাপেই এটা করতে বাধ্য হয়েছেন তিনি। মেয়ে হয়ে এসব অপরাধের প্রতিবাদ করাটা নাকি ভালো দেখায় না, এরকমটা অনেকেই ভেবে থাকেন। এই মেয়েটার ক্ষেত্রেও হয়তো সেই ঘটনাটাই ঘটেছে। নির্মম একটা ঘটিনার শিকার হয়েও তাকে চুপ করে থাকতে হয়েছে, বিচারের আশা বাদ দিতে হয়েছে তাকে। এমনকি তার আইডিটাও ডিয়েক্টিভ করে রাখতে হয়েছে।

তবে কিছু মানুষ সেখানেই থেমে থাকেননি। তারা প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই পার্ভার্ট লোকটার ছবি থেকে তাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করেছেন, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের সাহায্য নিয়েছেন। বেশ কয়েকজন তথ্যও দিয়েছেন তাদের। সেই মেয়েটার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়েছে, তিনি ছবি দেখে নিশ্চিত করেছেন যে, এই সেই ব্যক্তি!

লোকটার ফেসবুকের প্রোফাইল ঘেঁটে দেখা গেছে, এই লোক বিবাহিত। দাম্পত্য জীবনে তাকে যথেষ্ট সুখীই মনে হয়েছে। তাহলে এই কাপুরুষোচিত বিকৃতমনস্ক মানসিকতার কারণ কি? সেটা তিনিই ভালো জবাব দিতে পারবেন। এই লোকগুলো সুযোগের অপেক্ষায় থাকে, ঘরে স্ত্রী আছে কি নেই সেটা তাদের ভাবনার বিষয় না। নারীদের তারা ভোগ্যপণ্যের বেশীকিছু ভাবতে চায় না, ভাবেও না। যেখানেই নারী দেখে, তারা হামলে পড়তে চায়, বের করে আনে নিজের পাশবিক মানসিকতা।

একই দিনে বিআরটিসির একটা বাসে এমনই এক ন্যাক্কারজনক ঘটনার সাক্ষী হয়েছেন আরেকজন নারী। বৃদ্ধ এক ব্যক্তি বাসের মধ্যেই শুরু করেছিলেন হস্তমৈথুন। সেই সাহসী নারী প্রতিবাদ করেছেন, চিৎকার করে বাসে থাকা বাকীদের জানিয়েছেন এই অমানুষটার কীর্তিকলাপের কথা। আশ্চর্য্যের বিষয় কি জানেন, মার খেয়েও নাকি লোকটার এই হীন কাজকর্ম বন্ধ হচ্ছিল না, উল্টো সে হুমকি দিচ্ছিল- “তুই আমার মাইয়া হইলেও আমি এমন করমু, তোগো তাতে কি?” কিছুদিন আগে ঢাকায় ভূঁইয়া পরিবহনের একটা বাসেও এমন ঘটনা ঘটেছিল, অভিযুক্ত পার্ভার্ট লোকটাকে নামিয়ে উত্তম-মধ্যম দিয়েছে বাসের যাত্রীরা।

মার খেয়ে আসলে এদের শিক্ষা হয় না। দরকার কি জানেন? এই কাপুরুষগুলোকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা। দ্রুত বিচার আইনে মামলা পরিচালনা করে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড আর সঙ্গে অর্থদণ্ডের ব্যবস্থা করা। কয়েকমাস জেলের ভাত হজম করলে এসব বিকৃত মানসিকতা পেছনের দরজা দিয়ে আপনা আপনিই পালিয়ে যাবে। মার দিয়ে তাকে সাত দিনের জন্যে শোধরানো যাবে হয়তো, কিন্ত থামানো যাবে না। এই কাপুরুষগুলোর ছবি ভাইরাল হওয়া দরকার, সবাই জানুক, কি ভীষন বিকৃত মানসিকতা নিয়ে এরা আমাদের চারপাশে ভালোমানুষের বেশ ধরে ঘুরে বেড়ায়!

কিছুদিন আগে কলকাতায় এমনই একটা ঘটনা ঘটেছিল। প্রিয়াঙ্কা নামের এক তরুণী বাসে করে বাড়ি ফিরছিলেন, সঙ্গে ছিলেন তার এক বান্ধবী। পেছনের সিটে বসা এক লোক তাদের দিকে তাকিয়েই হস্তমৈথুন করছিলেন। সেটা দেখার পরপরই চিৎকার করে বাসের হেল্পারকে ডেকে বিষয়টা জানান প্রিয়াঙ্কা, কিন্ত কোন সাহায্য তিনি পাননি। তখন এই দৃশ্যটা নিজের মোবাইলে ভিডিও করেন সেই তরুণী। আর ওই মানসিক বিকারগ্রস্থ লোকটাও পুরোটা সময় একদম হেসে হেসে পোজ দিয়ে চলছিল ভিডিওতে, যেন ভীষণ মজার কিছু ঘটছে!

ভিডিওটা ছড়িয়ে পড়তে সময় লাগেনি। এই বিকৃতমনস্ক ব্যক্তির গ্রেফতারের দাবীতে একের পর এক পোস্ট আসতে থাকে। হাত পা গুটিয়ে বসে থাকেনি কলকাতা পুলিশ, নিজেদের উদ্যোগেই মামলা দায়ের করে কলকাতা শহর চষে ফেলেছিল তারা। ফেসবুকে ভিডিওটা পোস্ট হবার সাত ঘন্টার মধ্যেই কলকাতার শ্যামপুকুর থেকে ওই লোকটাকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। অসিত রায় নামের সেই কাপুরুষটা এখনও জেলেই আছে, বিচার চলছে তার।

প্রিয়াঙ্কা সাহস দেখিয়েছিলেন, কলকাতার পুলিশও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছিল বিষয়টাকে আমাদের দেশে ভিক্টিম আর পুলিশ, দুই পক্ষের যোগাযোগেই বড়সড় একটা ঘাটতি আছে। আমাদের নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনী এখনও পুরোপুরি প্রযুক্তিনির্ভর নয়। আর এই ঘটনাগুলো ঘটার পরে কেউ থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়ের করে না, অনেক ক্ষেত্রে করলেও হয়তো গুরুত্ব দেয়া হয় না। আর পুলিশের ব্যাপারে আমাদের অনেকেরই ভীতি কাজ করে। এজন্যে ঝামেলায় না জড়িয়ে ভুলে যেতে চায় সব, এরমাঝে পার পেয়ে যায় মানসিক বিকারগ্রস্থ ওই লোকগুলো। কিন্ত এভাবে আর কত দিন? আগাছা বাড়তে দিলে একসময় জঙ্গল হিয়ে যাবে, সেটা হয়তো আমরা ভুলে যাই। আগাছা জন্ম নিলেই উপড়ে ফেলে সাফ করতে হয়। এই বিকৃতমনস্ক মানুষগুলো আগাছার মতোই, এদেরও আইনের আওতায় এনে শাস্তি দিয়েই শোধরাতে হবে। এটা এখন সময়ের দাবী।- সূত্র: এগিয়ে চলো


সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
নির্বাহী সম্পাদক
নাঈম পারভেজ অপু
কার্যালয়
জামান টাওয়ার (৮ম তলা), ৩৭/২ কালভাট রোড, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।
সেল : ০১৭১১২৬১৭৫৫, ০১৯১২০২৩৫৪৬
E-Mail: banglarchokh@yahoo.com, banglarchokh.photo1@gmail.com
© 2005-2018. All rights reserved by Banglar Chokh Media Limited
Developed by eMythMakers.com
Close