১৯ জুলাই ২০১৮, বৃহস্পতিবার ০১:৪৩:৫২ পিএম
সর্বশেষ:

১২ জুলাই ২০১৮ ০১:০৪:১৯ এএম বৃহস্পতিবার     Print this E-mail this

উপজেলা শিক্ষা অফিসারের প্রেমের ফাঁদে পড়ে দিশেহারা প্রধান শিক্ষিকা

মুকসুদপুর (গোপালগঞ্জ) থেকে নাহিদ পারভেজ জনি
বাংলার চোখ
 উপজেলা শিক্ষা অফিসারের প্রেমের ফাঁদে পড়ে দিশেহারা প্রধান শিক্ষিকা

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসার মুন্সি রুহুল আসলামের প্রলোভন এবং প্রতারনায় সর্বস্ব হারিয়ে এখন দিশেহারা সদর উপজেলার হরিদাসপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সাবিহা শারমিন। ঐ উপজেলা শিক্ষা অফিসার মুন্সি রুহুল আসলামের পাতা ফাঁদে পা দিয়ে সাবিহার গর্ভের সন্তানের বয়স এখন তিন বছর। স্ত্রীর মর্যাদা এবং সন্তানের স্বীকৃতি পেতে সাবিহা আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। সাবিহা দুটি পৃথক মামলা করেছেন মুন্সি রুহুল আসলামের বিরুদ্ধে। একটি যৌতুক চাওয়ায় ( এনএসপি নং ২৪২/১৮,তাং - ০৯.০৪.১৮ ইং) এবং অপরটি ধর্ষনের মামলা (এনএসপি নং-২৭৮/১৮,জিআর-৩৩৮/১৮,তাং-১১/০৬.১৮ ইং)। উভয় মামলা দায়ের করা হয়েছে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুন্যাল আদালতে। মামলা দুটি বিচারধীন রয়েছে। একটি মামলায় মুকসুদপুরের ঐ উপজেলা শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে দায়ের করা যৌতুকের মামলায় গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী রয়েছে। আসামীর কাঠগড়ায় দাড়িয়ে মুন্সি রুহুল আসলাম সন্তানের পিতৃত্ব অস্বীকার করায় ডিএনএ টেষ্ট করার নির্দেশ দিয়েছেন মাননীয় আদালত।
মামলার বিবরন এবং প্রধান শিক্ষিকা সাবিহার সাথে কথা বলে জানা গেছে ২০১০ সালে কাশিয়ানী উপজেলার ফুকরা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলী হওয়ার পর মুন্সি রুহুল আসলামের সাথে তিনি ঘনিষ্ঠ হন। সেই সুবাদে গড়ে ওঠে প্রেমের সম্পর্ক। প্রেমের ফাঁদ পেতে সেই সময়কার কাশিয়ানী উপজেলার সহকারী শিক্ষা অফিসার মুন্সি রুহুল আসলাম প্রধান শিক্ষিকা সাবিহার সাথে সম্পর্ক তৈরী করে। ২০১২ সাল থেকে প্রেম পরিনত হয় শারীরিক সম্পর্কে। পরে ইসলাম ধর্ম মতে কলেমা পড়ে বিয়ে করে সাবিহা ও রুহুল আসলাম। ভালোবাসা ও বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে শারীরিক সম্পর্কের ফলে মুন্সি রুহুলের ঔরসে এবং সাবিহার গর্ভে সন্তান আসে। এসময় কাবিন রেজিষ্ট্রি করার জন্য সাবিহা বারবার তাগাদা দিলেও রুহুল আসলাম তাতে রাজী হয় নাই। এক পর্যায়ে গর্ভের সন্তান ভুমিষ্ঠ হয়। ২০১৪ সালের ২৭ অক্টোবর তারিখে সন্তান পৃথিবীর আলোর মুখ দেখে। কিন্তু রুহুল আসলাম কাবিন রেজিষ্ট্রি করতে আগ্রহ দেখায় না। শেষ পর্যন্ত সাবিহা ও রুহুল আসলামের সম্পর্কের অবনতি হয়। দুই জনই সরকারী চাকুরী করেন বিধায় বদলী জনিত কারনে দুই জন দুই স্থানে চলে গেলে সম্পর্ক শেষ হয়ে যায়। এদিকে স্ত্রীর মর্যাদা এবং সন্তানের স্বীকৃতির দাবীতে সাবিহা তাগাদা দিয়েও রুহুল আসলামের কাছ থেকে সাড়া না পেয়ে বাধ্য হয়ে আদালতের শরনাপন্ন হন। প্রধান শিক্ষিকা সাবিহা জানিয়েছেন ভালোবাসার কথা বলে রুহুল আসলাম তার সর্বনাশ করেছেন। তিনি যে এমন ছলনাকারী এবং চরিত্রহীন তা জানা ছিলোনা। সুখের আশায় ঘর বাধার স্বপ্নে বিভোর হয়ে সবর্স্ব খুইয়ে সাবিহা এখন হতাশায় নিমজ্জিত। সে অপেক্ষায় আছে কখন তার সন্তানের স্বীকৃতি মিলবে সেই আশায়। এ ব্যাপারে মুকসুদপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসার মুন্সি রুহুল আসলামের সাথে যোগাযোগ ( মোবাইল নং-০১৭১১২৬২২৯৪) করা হলে তিনি কথা বলার আগ্রহ প্রকাশ করেন নাই। পরে গোপালগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের সাথে আলাপ করা হলে তিনি বলেন,মুকসুদপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধ বিভাগীয় কোন ব্যবস্থা গ্রহন করা হয় নাই। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির নেতৃত্ব প্রদানকারী ও সদর উপজেলার একজন প্রধান শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তারা যদি এভাবে শিক্ষিকাদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে সর্বনাশ করে তবে সমগ্র শিক্ষা ব্যবস্থা কলুষিত হবে। নিরাপত্তার অভাবে শিক্ষিকারা পেশা পরিবর্তন করতে বাধ্য হবে।




সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
নির্বাহী সম্পাদক
নাঈম পারভেজ অপু
কার্যালয়
জামান টাওয়ার (৮ম তলা), ৩৭/২ কালভাট রোড, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।
সেল : ০১৭১১২৬১৭৫৫, ০১৯১২০২৩৫৪৬
E-Mail: banglarchokh@yahoo.com, banglarchokh.photo1@gmail.com
© 2005-2018. All rights reserved by Banglar Chokh Media Limited
Developed by eMythMakers.com
Close