হাওরাঞ্চলে ঝুকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো ও ছোট নৌকায় স্কুলে যাওয়া আসা করছে কোমলমতি শিশুরা
১৮ আগস্ট ২০১৮, শনিবার ০৫:০১:৪৪ এএম
সর্বশেষ:

১৮ জুলাই ২০১৮ ০১:১৪:৫৬ এএম বুধবার     Print this E-mail this

হাওরাঞ্চলে ঝুকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো ও ছোট নৌকায় স্কুলে যাওয়া আসা করছে কোমলমতি শিশুরা

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
বাংলার চোখ
 হাওরাঞ্চলে ঝুকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো ও ছোট নৌকায় স্কুলে যাওয়া আসা করছে কোমলমতি শিশুরা

একটি প্রবাদ আছে `বর্ষা নাও হেমন্তে পাও`এই হচ্ছে ভাটির হালচাল। বর্ষাকালে চারদিকে থৈ থৈ পানি করছে সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলের ১১টি উপজেলার গ্রাম গুলো। হাওরের কিছু দুর পর পর একখ- উঁচু ভূমি— ছোট দ্বীপের মতো একেকটা গ্রাম। পানির কারণে ঘর থেকে বের হওয়ার সাহস নেই। হাওর আর নদীর বড় বড় ঢেউয়ে ভেঙ্গে পড়ছে সেই সব ঘরবাড়ি। হাওরের মানুষেরা ভয় ও আতঙ্কের মধ্যেই কাটান বর্ষার ৬টি মাস। এর মধ্যেই হাওর পাড়ের শিশু শিক্ষার্থীরা শিক্ষা জীবন শুরু করছে বাঁেশ সাকোঁ ও কাঠের তৈরী ছোট ডিঙ্গি নৌকা দিয়ে স্কুলে যাতায়াত।
জানাযায়,জেলার জগন্নাথপুর,তাহিরপুর,জামালগঞ্জ,বিশ্বম্ভরপুর,ধর্মপাশা,দিরাই,শাল্লা,মধ্যনগন থানা,দোয়ারা বাজার,ছাতক উপজেলা সহ হাওরের উত্তাল ঢেউয়ের মাঝে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে বছরের পর বছর ধরে এই সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলের মানুষদের। এমনকি হাওরের মধ্যে অবস্থানরত বিদ্যালয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতে হয় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের। একমাত্র ভরসা নড়বড়ে বাঁশের সাকোই হচ্ছে না হয় কাঠের ছোট নৌকা। নৌকা কেনার সামর্থ আবার ৯০ভাগ হাওরবাসীর নেই। হাওরের ঢেউয়ের গর্জন ও নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো এবং সড়ক পথের ব্যবস্থা না থাকার কারনেই বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত হচ্ছে ৮০ভাগ শিক্ষার্থীরা। বিদ্যালয়ে রাস্তা না থাকায় স্থানীয়দের উদ্যোগে নির্মিত করা হয়েছে বাঁশের সাঁকো। ঝুঁকিপূর্ণ পারাপারের জন্যই শিক্ষার্থীরা অহরহ দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। শিশুদের এই  ঝুঁকিপূর্ণ পারাপারে অভিভাবকরা থাকেন সারাক্ষন আতঙ্কের মধ্যে। বর্ষা হলেই প্রতি বছর এমন ঝুঁকিতে বিদ্যালয়ে বাধ্য হয়ে আসতে হয় না হয় বাড়িতেই অবস্থান করতে হয় কোমলমতি শিশুদের।
শিউলী আক্তার,চম্পা বেগম,তিন্নি বেগম,ফরিদা বেগমসহ হাওর পাড়ের বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানায়,স্কুলে যাওয়ার একমাত্র পথ পানি ডুবে যাওয়ায়। সাঁকো দিয়ে না নৌকা দিয়ে পার হওয়ার সময় সাকোঁ নড়ে ওঠে। তখন ভয় করে। অনেকে পার হতে গিয়ে পানিতে পড়ে যায়। বই-খাতা,জামা-কাপড় নষ্ট হয়। ক্লাস না করে বাড়ি ফিরে যেতে হয়। শফিকুল,আব্দুল আওয়ালসহ হাওর পাড়ের অভিবাবকগন জানান,প্রতিদিনই আমরা আমাদের ছেলে মেয়েদেরকে স্কুলে পাঠাতে হয়। তখন কাঁধে ব্যাগ,এক হাতে স্যান্ডেল এবং অন্য হাত দিয়ে বাঁশ ধরে পা টিপে টিপে একটা বাঁশের ওপর দিয়ে প্রতিদিন মেয়েকে নিয়ে যাওয়া আসা করতে হয়। না হয় ছোট কাঠের নৌকা দিয়ে। নৌকা ত সবার নেই দু-একজন ছাড়া। হাদিউজ্জামান,জান্নাতুল নাহার,তিন্নি বেগম,হালিমা বেগমসহ হাওর পাড়ের বিভিন্ন বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ও শিক্ষিকাগন বলেন,সড়ক পথের যোগাযোগ ব্যবস্থা ভাল নেই হাওরপাড়ের বিদ্যালয় গুলোতে। তাই অনেক স্কুলে বাশেঁর সাকোঁ দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে আসে ছাত্র-ছাত্রীরা। ফলে অনেক শিক্ষার্থীরাই বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকে। তাহিরপুর উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা গোলাম রাব্বী জানান-তাহিরপুর উপজেলার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন গ্রাম গুলোতে শিক্ষার প্রসারে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কার্যকর সর্বাতœক চেষ্টা অব্যাহত আছে। বর্ষায় শিক্ষার্থীরা অনেক কষ্ট করেই স্কুলে যাতায়ত করে। তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল জানান,আমার এই উপজেলা হাওর পাড়েই বেশীর ভাগ স্কুল তৈরী করা হয়েছে। ঐ সব স্কুল গুলোতে বর্ষায় আসতে গিয়ে প্রচুর কষ্ট করতে হয় শিশু শিক্ষার্থীদের। বিশেষ করে বর্ষায় স্কুলে সড়ক পানিতে ডুবে যাওয়ায় বিকল্প পথের যাতায়ত ব্যবস্থা না থাকায়। তখন তারা বাঁেশ সাকো অথবা ছোট কাঠের তৈরী ডিঙ্গি নৌকা দিয়ে স্কুলে আসা যাওয়া করে। শিশু শিক্ষার্থীদের দিক বিবেচনা করে প্রতিটি স্কুলের সাথে সড়ক পথের ব্যবস্থা করার জন্য শিক্ষা মন্ত্রনালয় প্রয়োজনী ব্যবস্থা নেওয়া খুবেই প্রয়োজন। আমার পক্ষ থেকে এই বিষয়ে যা করনীয় তার সবোর্চ্চ চেষ্টা করব।     


সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
নির্বাহী সম্পাদক
নাঈম পারভেজ অপু
কার্যালয়
জামান টাওয়ার (৮ম তলা), ৩৭/২ কালভাট রোড, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।
সেল : ০১৭১১২৬১৭৫৫, ০১৯১২০২৩৫৪৬
E-Mail: banglarchokh@yahoo.com, banglarchokh.photo1@gmail.com
© 2005-2018. All rights reserved by Banglar Chokh Media Limited
Developed by eMythMakers.com
Close