১৮ ডিসেম্বর ২০১৮, মঙ্গলবার ১১:৩৭:১৪ পিএম
সর্বশেষ:

১৮ জুলাই ২০১৮ ০২:৫৫:২১ এএম বুধবার     Print this E-mail this

সারিয়াকান্দিতে কঞ্চির টোপা বিক্রি করে দিন নিচ্ছেন প্রতিবন্ধী কপিল

সারিয়াকান্দি (বগুড়া) থেকে তাজুল ইসলাম
বাংলার চোখ
 সারিয়াকান্দিতে কঞ্চির টোপা বিক্রি করে দিন নিচ্ছেন প্রতিবন্ধী কপিল

 নাম কপিল উদ্দীন প্রামানিক। বয়স আনুমানিক ৭০ বছর। অভাব অটন তাঁকে শেষ বয়সেও বিশ্রাম নিতে দেয়নি। দেয়নি ভালমন্দ কিছু খেতে। সবই মালিকের ইচ্ছে। কিন্তু তারপরেও আশপাশের লোকেরা প্রতিবন্ধী আর বয়স্ক ভাতার কার্ড পেলে ৭০ উর্দ্ধা বয়সে কিছুই না জোটার প্রশ্ন থেকে যায় সকলের। তিনি আট-নয় বছর আগে প্যারালাইসিস (পক্ষাঘাত) রোগে আক্রান্ত হয়ে স্বাভাভিক ভাবে চলাফেরা ও কথা বলার শক্তি হারিয়ে ফেলেন। অনেক কবিরাজি-ডাক্তারি চিকিৎসায় ও আল্লাহর ক্রিপায় তার মুখের বাঁকা ভাজ ও কথা বলার শক্তি ফিরে পেলেও ফিরে পাইনি স্বাভাভিকভাবে চলাফেরার শক্তি। বলছিলাম একজন ভূমিহীন পরিবার প্রধানের কথা। নাম তাঁর কপিল উদ্দীন প্রামানিক। গত কয়েক মাস আগে তার স্ত্রী কমেলা বেগম পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হয়ে শয্যাশাহী আছেন। পারেন না একা চলাফেরা করতে।

কপিল সারিয়াকান্দি উপজেলার ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের জোড়গাছা পূর্ব উত্তরপাড়া গ্রামের এক অসহায় পরিবারের প্রধান। বাড়ীর বসতভিটা ছাড়া নেই তেমন কোন জমিজমা। যেখানে চাষ করে জীবন যাপন করবেন। নেই অন্য উপায়ে অর্থ উপার্জণের ক্ষমতা। জীবন বাঁচানেরা তাগিদে বাধ্য হয়ে শেষ বয়সে পক্ষাঘাত রোগ নিয়ে বাজারে-বাজারে টোপা বিক্রি করছেন তিনি। প্রতি শুক্রবার ও মঙ্গলবার গ্রামের হাটে প্রতি জোড়া টোপা ৭০-১০০টাকা জোড়া বিক্রি করে নিজের ঔষধ ও পরিবারের খরচ জোগান। সংসারে দুই ছেলে ও চার মেয়ে থাকলেও মেয়েরা স্বামীর বাড়ী আর ছেলেরা স্ত্রী-সন্তান নিয়ে পৃথক হয়ে গেছে। নিজেদের সংসার চালানোর পর যতটুকু সম্ভব তা দিয়ে বাবা-মাকে দেখছেন সন্তানরা।
কপিল উদ্দীন এক স্বাক্ষাৎকারে বলেন, আমরা গরিব মানুুষ, নেই টাকা পয়সা! এতো ছবি তুলে কি করবা, কোন লাভ হবে না? আশপাশের অনেকেই সামান্য সমস্যা সমস্যাতেই তাদের প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড হয়, পায় বয়স্ক ভাতার কার্ড। কিন্তু আমি কিছুই পাইনা। হয়তো আমি এদেশের নাগরিক নয় ? যার জন্যে আমার কপালে কোনটিই জুটছে না।
বৃদ্ধের মেয়ের দিকের ডিগ্রী পাশ করা নাতি আব্দুল কুদ্দুস জানান, আমার নানা প্রায় সাড়ে ৯ বছর আগে প্যারালাইসিস (পক্ষাঘাত) রোগে মুখ বন্ধ আর পা বাঁকা হয়ে যায়। টাকার অভাবে ভাল চিকিৎসা করাতে না পাড়ায় মুখের বাঁকা ভাঁজ ভাল হলেও ফিরে পায়নি স্বাভাবিকভাবে চলাফেরার শক্তি। সে থেকে অনেক কষ্টে জীবন যাপন করছেন। তার বাড়ীর জমি ছাড়া চড়াৎ জমি নেই। তিনি অন্যের আড়া থেকে বাঁশের কঞ্চে কেঁটে গরু-মুুগরির টোপা বুনে বাজারে বেঁচে যা আনে তাই দিয়ে সংসার চালায়। প্রতিদিন অন্যের আড়ায় কঞ্চে কাঁটপার গেলে বাঁশ আলারা বিভিন্ন ভাষায় গালিগালাচ করে। কিন্তু কি করবে? জীবন বাঁচানোর তাগিদে নিরবে সব সহ্য করতে হয়। তাঁকে সহযোগিতায় অদ্যবধী কেউ এগিয়ে আসেনি। তাঁকে যদি সরকারিভাবে সহযোগিতা করা হতো তাহলে কিছুটা দুঃখ লাঘব হতো। এদিকে নানিও কয়েক মাস হলে একই রোগে ভুগছেন। প্রতিবেশীরা জানান, তাঁরা নিত্যান্তই অসহায় ভাবে জীবন যাপন করছেন।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
সম্পাদক
শরীফ মুজিবুর রহমান
নির্বাহী সম্পাদক
নাঈম পারভেজ অপু
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক
মমতাজ বেগম
কার্যালয়
১০৫, এয়ারপোর্ট রোড, আওলাদ হোসেন মার্কেট (৩য় তলা)
তেজগাঁও, ঢাকা-১২১৫।
সেল : ০১৭১১২৬১৭৫৫, ০১৯১২০২৩৫৪৬
E-Mail: banglarchokh@yahoo.com, banglarchokh.photo1@gmail.com
© 2005-2018. All rights reserved by Banglar Chokh Media Limited
Developed by eMythMakers.com
Close