২৩ অক্টোবর ২০১৮, মঙ্গলবার ০৪:৫৯:৫৫ এএম
সর্বশেষ:

১০ আগস্ট ২০১৮ ১২:৫৪:৪৪ এএম শুক্রবার     Print this E-mail this

সাইবার অপরাধ রেধে প্রয়োজন নৈতিক ভিত্তি ও পারিবারিক সচেতনতা

রুপম আচার্য্য
বাংলার চোখ
 সাইবার অপরাধ রেধে প্রয়োজন নৈতিক ভিত্তি ও পারিবারিক সচেতনতা

ডিজিটাল বাংলাদেশের সুফল কি পুরো যুব সমাজ ভোগ করছে নাকি ইন্টারনেটের অশালীন কনন্টেন্ট ব্যবহার করে নৈতিকতার তলানীতে নিমজ্জিত হচ্ছে কৌতুহলী ব্যবহারকারী। পারিবারিক সচেতনতার অভাব, নৈতিকতার ঘাটতি ও খারাপের প্রতি আকর্ষণের দৃষ্টিভঙ্গি এদেশের ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের মধ্যে অনেকই ইন্টানেটে থাকা নিষিদ্ধ কনন্টেন্ট এর দিকে ঝুঁকছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, ইউটিউব ও বিভিন্ন সাইটে বিভিন্ন রগরগে অশ্লীলতাসমৃদ্ধ উপাদানে ভরপুর লিংক এ প্রবেশ করছে বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষ, আর এতে করে বিরুপ মনো - সামাজিক প্রতিক্রিয়া হচ্ছে বিশেষ করে তরুন -তরুনীদের মধ্যে। ফেসবুক ব্যবহার করে ফেক আইডি তৈরী করে অশ্লীল ছবি আপলোড, যৌনকর্মের আবেদন, টাকার বিনিময়ে ফোনসেক্স, অশ্লীল ভিডিও চ্যাট, ফেসবুক লাইভে এসে যৌনতাতাড়িত কথা বলা, একই নামে আইডি বানিয়ে কোন ধর্ম, গোষ্টি, রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে বিষেদগার করে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরী, ধর্মীয় উসকানিমূলক কথা বার্তা বলে অন্যকে ফাঁসিয়ে দেওয়া, মিথ্যা প্রপাগান্ডা, গুজব প্রকাশ, পাপ্পারাজিতায় ব্যস্ত থাকা, সামাজিকভাবে কাউকে হেয় করার উদ্দেশ্যে উদ্দেশ্যমুলক অপপ্রচার ও জনমনে বিরুপ ধারনা সৃষ্টি, দাঙ্গা - হাঙ্গামা লাগানোর সুপ্ত অভিপ্রায় - এরকম সামাজিক সমস্যায় জর্জরিত হয়ে পড়ছে বিভিন্ন ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ। কিন্তু কেন?
হাল আমলের নতুন উপকরণ হলো ইউটিউব ভিডিও ও ভিডিওকল বা চ্যাট। প্রযুক্তির প্রসার ঘটেছে মানুষের যোগাযোগকে আরো সহজ ও সাবলীল করার জন্য কিন্তু মানুষ নেতিবাচকভাবে এর অপব্যবহার করে প্রযুক্তির সুফলকে প্রশ্নবিদ্ধ করে ফেলেছে। যেখানে ভিডিওকল ও ইউটিউব ভিডিও এখন অশ্লীলতার মাধ্যম হয়ে উঠেছে। ইন্টারনেট ও বিভিন্ন জার্নাল ঘেঁটে জানা জানা যায়, ইউটিউবের মাধ্যমে চলছে অশ্লীলতার প্রচার। কিছু উঠতি বয়সের ছেলে -মেয়েরা ইউটিউব ভিউয়ার রেটিং এর মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করতে গিয়ে  অশ্লীল শিরোনামের ও ফানি ভিডিও এর লেবাসে যৌনতাতাড়িত কথাবার্তার সম্মিলনে কোন ধরনের সেন্সরবিহীনভাবে প্রকাশ করা হচ্ছে। ফানি ভিডিওর আড়ালে সুক্ষভাবে অশ্লীলতার উপাদান সমৃদ্ধ এসব দেদারসে মিলছে ইন্টারনেটে। যেগুলোর মুল দর্শক অল্পবয়সী উঠতি ছেলে - মেয়েরা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এসব ভিডিওর অভিনেতা, অভিনেত্রী, নির্মাতারা প্রকৃতপক্ষে মেইনস্ট্রীম মিডিয়ার কোন পরিচিত মুখ নয়। তারা ইউটিউবার হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। মেইনস্ট্রীম মিডিয়ার রয়েছে আলাদা শিল্পী সমিতি, অভিনয় সংঘ, পরিচালক সমিতি এবং সরকারের মনিটরিং কিন্তু কিছু অসাধু ব্যক্তি নামে বেনামে ফেসবুকে বিভিন্ন পেজ খুলে, তথাকথিত পরিচালক, প্রযোজক পরিচয় দিয়ে বা ভুঁইফোঁড় মিডিয়ার সাইনবোর্ড লাগিয়ে মডেল বা জনপ্রিয় নায়ক -নায়িকা তৈরীর আশ্বাস দিয়ে অর্থগ্রহণ করে এবং ইউটিউবে নির্মাণকৃত যৌনসুড়সুড়ি তাড়িত এসব ভিডিও প্রকাশ করে। এ প্রকৃত পক্ষে মিডিয়া সংশ্লিষ্ট কেউ না।
এ ব্যাপারে বিশিষ্ট সমাজবিজ্ঞানী সব্যসাচী পুরকায়স্থ বলেন, ‘আমাদের সমাজ একটা পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হচ্ছে, পরিবর্তনের মাধ্যমে সামাজিক উৎকর্ষ কাম্য কিন্তু অধঃপতন কাম্য নয়। যেহেতু ইন্টারনেটের মাধ্যমে পুরো বিশ্ব এক ছাদের নিচে সেখানে ভালোমন্দ থাকবে বা বিভিন্ন রাষ্ট্রের সাংস্কৃতিক ব্যবধান জণিত একেক জায়গায় একেকরকম সামাজিক অথবা আইনি বিধিনিষেধ থাকতে পারে। এক্ষেত্রে প্রত্যেকটি পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ধর্মীয় অনুশাসন, নৈতিকতা ও মুল্যবোধ সৃষ্টি এবং সামাজিক বিধিনিষেধ ও রাষ্ট্রীয় আইন মানার সংস্কৃতি গড়ে তোলার বিকল্প নেই। এক্ষেত্রে অভিভাবকদের মুলভুমিকা পালন করতে হবে, নিজেদের আচরণকেও সন্তানের নিকট অনুকরনীয় হিসেবে দাঁড় করাতে হবে। ইদানিংকালে আমরা এক্ষেত্রে কিছুটা বিচ্যুতি দেখছি। অনেকে মজার ছলে এমনকিছু সাইবার দুনিয়ায় ব্যবহার করে যা অপরাধের আওতায় পড়ে, তা হয়তো সে নিজেও জানে না। এ ব্যাপারে ব্যাপক আকারে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে, আর যারা ইন্টারনেট ব্যবহার করে অশ্লীলতা, গুজব, উসকানিমুলক কর্ম করে তাদের মনো -সামাজিক অবস্থান স্বাভাবিক নয় এমনটা বলার যথেষ্ট কারন আছে এবং সে জেনে -বুঝেই অপরাধ করেছে। এক্ষেত্রে মানসিকতার উন্নতি ঘটানোও জরুরী। সমাজে সহমর্মিতা, সহযোগীতা, সহনশীলতা, শ্রদ্ধাশীলতা আবহ তৈরী করা না গেলে ‘ওয়াইট কালার ক্রাইমার’ বৃদ্ধি পাবে। যা আমাদের জন্য একটা অশনিসংঙ্কেত।’    


সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক
মমতাজ বেগম
নির্বাহী সম্পাদক
নাঈম পারভেজ অপু
কার্যালয়
১০৫, এয়ারপোর্ট রোড, আওলাদ হোসেন মার্কেট (৩য় তলা)
তেজগাঁও, ঢাকা-১২১৫।
সেল : ০১৭১১২৬১৭৫৫, ০১৯১২০২৩৫৪৬
E-Mail: banglarchokh@yahoo.com, banglarchokh.photo1@gmail.com
© 2005-2018. All rights reserved by Banglar Chokh Media Limited
Developed by eMythMakers.com
Close