১৯ ডিসেম্বর ২০১৮, বুধবার ০৩:০৫:৫৬ এএম
সর্বশেষ:

১৯ নভেম্বর ২০১৮ ১২:৫৫:৪১ পিএম সোমবার     Print this E-mail this

ইসি

গোপন অনুসন্ধান, আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে

ডেক্স রিপোট
বাংলার চোখ
ইসি গোপন অনুসন্ধান, আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে

নির্বাচনের সময় দায়িত্ব পালন করতে পারেন, এমন ব্যক্তিদের তালিকা গোপনে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা। সেই তালিকা নিয়ে দুই মাস আগে তথ্য সংগ্রহে মাঠে নামে পুলিশ। পুলিশের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।

তালিকায় থাকা প্রিসাইডিং, সহকারী প্রিসাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তা এবং আনসার-ভিডিপির সদস্যদের নাম-ঠিকানা, জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর, আগে কখনো নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করেছেন কি না, বর্তমান ও অতীতে দলীয় পরিচয়, কারও স্বামী বা পরিবারের অন্য কেউ রাজনীতি করেন কি না—এসব তথ্য রেকর্ড করা হচ্ছে।

নির্বাচনী কর্মকর্তাদের ব্যাপারে এমন গোপন অনুসন্ধান নিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে অনেকে নির্বাচনী দায়িত্ব কীভাবে এড়াবেন, তার কৌশল খুঁজছেন বলে  জানিয়েছেন। তবে মাঠপর্যায়ে গোপনে ও প্রকাশ্যে তথ্য সংগ্রহ করা হলেও ঢাকায় নির্বাচন কমিশন ও পুলিশ সদর দপ্তরের কর্মকর্তারা বিষয়টি অস্বীকার করে যাচ্ছেন। পুলিশের জনসংযোগ বিভাগের সহকারী মহাপরিদর্শক সোহেল রানা  বলেন, এ ব্যাপারে পুলিশের কোনো নির্দেশনা নেই।

পুলিশের এমন গোপন অনুসন্ধানের ব্যাপারে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম গতকাল সাংবাদিকদের বলেন, কারা নির্বাচনী কর্মকর্তা হবেন, এ-সংক্রান্ত নীতিমালায় অনেকগুলো শর্ত আছে। যদি কেউ দণ্ডপ্রাপ্ত হন বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কোনো কর্মকর্তা কোনো দলের সঙ্গে যুক্ত থাকেন, এটা যাচাই করার সক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের নেই। কাজটি রিটার্নিং কর্মকর্তাকে কেউ করে দিতে হবে। এ রকম ক্ষেত্রে যাচাইয়ের জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তা পুলিশকে অনুরোধ করতে পারেন। তারপরও নির্বাচন কমিশন বা রিটার্নিং কর্মকর্তা এ ধরনের কোনো নির্দেশ দেননি বলে তিনি জানান।

পুলিশ যদি আগবাড়িয়ে এসব করে থাকে, তাহলে কমিশন কিছু বলছে না কেন, এ প্রশ্ন করা হলে রফিকুল ইসলাম বলেন, যদি অত্যুৎসাহী কোনো পুলিশ এ ধরনের কাজ করে থাকে, কেউ এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গণমাধ্যমে তো খবর প্রকাশিত হয়েছে, ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না কেন, এ প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, গণমাধ্যমে আসা নাম-ঠিকানাগুলো যাচাই করা হবে। সত্যতা পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নির্বাচন কর্মকর্তাদের তালিকা ইসির হাতে থাকার কথা। সেই তালিকা পুলিশের হাতে গেল কীভাবে, এ প্রশ্নের জবাবে রফিকুল ইসলাম বলেন, নির্বাচন কর্মকর্তা কারা হবেন, এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা আছে। যেকোনো মানুষই চিহ্নিত করতে পারেন কারা নির্বাচন কর্মকর্তা হবেন। এ ক্ষেত্রে কাউকে হয়রানি করা হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা  বলেন, দুই মাস আগে থেকেই নির্বাচন কর্মকর্তাদের ব্যাপারে তাঁরা খোঁজখবর শুরু করেছেন। ওপরের নির্দেশে এসব করা হচ্ছে জানিয়ে ওই কর্মকর্তারা বলেন, জামায়াত ও বিএনপির লোকদের তথ্যের ব্যাপারে তাঁরা বেশি তৎপর।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মাঠপর্যায়ের একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, দুই মাস আগে নির্বাচন কর্মকর্তাদের প্রাথমিক তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়েছিল। ওই সময় জেলা প্রশাসন থেকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চিঠি দিয়ে ভোট গ্রহণ কর্মকর্তাদের তালিকা চাওয়া হয়। সেই প্রাথমিক তালিকা পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এখন পুলিশের প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে তালিকা চূড়ান্ত হচ্ছে।

এ বিষয়ে সাবেক নির্বাচন কমিশনার এম সাখাওয়াত হোসেন  বলেন, এটা নির্বাচন কমিশনের চরম ব্যর্থতা। এই সময়ে সবকিছু তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকার কথা। নির্বাচনকেন্দ্রিক সবকিছুই হবে তাদের হুকুমে। নির্বাচন কর্মকর্তাদের বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে, এমন খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের উচিত ছিল তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া। কিন্তু তা না করে পুরো বিষয়টি প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের কাঁধে চাপিয়ে দেওয়াটা অন্যায়। তাদের এমন আচরণ অত্যন্ত হতাশাজনক।

উৎস:প্রথম আলো

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
সম্পাদক
শরীফ মুজিবুর রহমান
নির্বাহী সম্পাদক
নাঈম পারভেজ অপু
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক
মমতাজ বেগম
কার্যালয়
১০৫, এয়ারপোর্ট রোড, আওলাদ হোসেন মার্কেট (৩য় তলা)
তেজগাঁও, ঢাকা-১২১৫।
সেল : ০১৭১১২৬১৭৫৫, ০১৯১২০২৩৫৪৬
E-Mail: banglarchokh@yahoo.com, banglarchokh.photo1@gmail.com
© 2005-2018. All rights reserved by Banglar Chokh Media Limited
Developed by eMythMakers.com
Close