১৮ জুন ২০১৯, মঙ্গলবার ০৭:২৯:০৯ এএম
সর্বশেষ:

১০ জানুয়ারি ২০১৯ ০২:৪২:৫১ পিএম বৃহস্পতিবার     Print this E-mail this

চালের বাজার অস্থির

আবু হেনা রাসেল বিশেষ প্রতিনিধি
বাংলার চোখ
 চালের বাজার অস্থির

আমন মৌসুম শেষে কৃষকের গোলায় ধান ওঠার দুই মাসও পার হয়নি। কৃষকের ঘরে এখনো পর্যাপ্ত ধান আছে। এরপরও চালের বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে। ভোক্তা ও খুচরা ব্যবাসায়ীদের অভিযোগ, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ীর কারসাজিতে চালকল মালিকরা অসম প্রতিযোগিতা করে চালের দাম বাড়িয়েছেন। তারা আরও বলছেন, নির্বাচনের মাত্র তিনদিন আগে (২৭ ডিসম্বের) থেকেই মিল মালিকরা বাজারে চালের সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছেন।

নির্বাচনের সময় সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলাকে পুঁজি করে বিপুল অঙ্কের মুনাফারও স্বপ্ন দেখছিলেন তারা। এই সুযোগে স্থানীয় চাল সংগ্রহকারীরা (ফড়িয়া) বাড়িয়ে দিয়েছেন ধানের দাম। সেই ধান থেকে পাওয়া চাল বাজারে আসতে আরও সময় লাগলেও মিল মালিকরা বসে নেই। তারা বাড়িয়ে দিয়েছেন চালের দাম।

এরই প্রভাব পড়েছে পাইকারি ও খুচরা বাজারে। আবার সরকারের কাছে বিক্রির জন্য ধান সংগ্রহে বেশি মনযোগী হওয়ায় বাজারে চাল সরবরাহও কমিয়ে দিয়েছেন মিল মালিকরা। এর ফাঁকেও চালের দাম বেড়ে গেছে। তবে, ভোক্তা ও খুচরা ব্যবসায়ীদের এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মিল মালিকরা। আর খাদ্য বিভাগ বলছে, সরকারের চাল সংগ্রহ কার্যক্রমকে ইস্যু বানিয়ে মিল মালিকরা ধান সংগ্রহের প্রতিযোগিতা শুরু করেছেন, যার প্রভাব পড়েছে চালের বাজারে।

সিলেটেও অস্থির চালের বাজার

জানা গেছে, সাধারণত কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করেন স্থানীয় ফড়িয়া ব্যবসায়ীরা। সেই ধান যায় আড়তদারের কাছে। আড়তদার থেকে কিনে নেন মিল মালিকরা। আর মিল মালিকদের কাছ থেকে চাল সংগ্রহ করে সরকারের খাদ্য বিভাগ। পাইকারি ক্রেতারাও তাদের কাছ থেকে কেনেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রতিযোগিতার কারণে ধানের দাম বাড়লেও কৃষকের কাছে বাড়তি দাম পৌঁছাচ্ছে না। মাঝখান থেকে ফড়িয়া, আড়তদার ও মিল মালিকরা বাড়তি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন।


গত এক সপ্তাহে রাজধানীর খুচরা বাজারগুলোতে মিনিকেট চালের দাম বেড়েছে কেজিতে সর্বোচ্চ ৫ টাকা। বর্তমানে ৫২ থেকে ৫৫ টাকায় মিনেকেট বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহ আগেও এ জাতীয় চাল মিলেছে ৫০ টাকায়। আটাশ চালের দামও ২ থেকে ৩ টাকা বেড়েছে। বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৪২ থেকে ৪৫ টাকায়। আর বস্তা প্রতি সাধারণ চালের দাম বেড়েছে ১০০ থেকে ২৫০ টাকা। তবে, বাজারে নাজির জাতীয় চালের দাম স্থির আছে। আর পোলাও চালের দাম বেড়েছে বস্তাতে ৫০০ টাকা।

কাওরানবাজারের এক চাউল ব্যবসায়ী বলেন, ‘দাম বেড়ে যাওয়ায় বাজারে ক্রেতা কমেছে। আমরা গল্প করে সময় কাটাচ্ছি। তবে নতুন করে চালের দাম বাড়েনি, কমেওনি। মিনিকেট পাইকারি বাজারে ৫২ টাকা, আর খুচরা বাজারে ৫৪ থেকে ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।’

কিচেন মার্কেটের চাল ব্যবসায়ী সমিতির এক কর্মকরতা বলেন, ‘নির্বাচনের ৪ দিন আগে থেকে মিলাররা চাল সরবরাহ বন্ধ রেখেছে। তারা বলেছে ভোটকে সামনে রেখে সবাই ছুটিতে ছিল। নির্বাচনের আগে চালের ডেলিভারি দিতে পারেনি। তবে এখনো তারা সরবরাহ বাড়াননি। বরং নানা অজুহাত দেখাচ্ছেন।’



এদিকে, গত দুই সপ্তাহের ব্যবধানে বন্দরনগরী চট্টগ্রামের পাইকারি বাজারে সব ধরনের চালের দাম বস্তাপ্রতি (৫০ কেজি) ১০০ টাকা থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

চট্টগ্রাম নগরীতে চালের পাইকারি বাজার আছে দু’টি। একটি চাক্তাই অন্যটি পাহাড়তলী। দুই বাজার ঘুরে জানা গেছে, বেতি ও স্বর্ণা আতপ বস্তাপ্রতি ১০০ টাকা বেড়ে ১৭০০ টাকা, নাজিরশাইল সিদ্ধ বস্তাপ্রতি ২৫০ টাকা বেড়ে গিয়ে এখন বিক্রি হচ্ছে দুই হাজার ৬৫০ টাকায়। এছাড়া জিরাশাইল সিদ্ধ ২৫০ টাকা বেড়ে দুই হাজার ৪৫০ টাকা, মিনিকেট সিদ্ধ ২০০ টাকা বেড়ে এক হাজার ৮৫০ টাকা ও স্বর্ণা সিদ্ধ বস্তাপ্রতি ১৫০ টাকা বেড়ে এখন বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ৬৫০ টাকায়।

অন্যদিকে, মিনিকেট আতপ বস্তায় ২৫০ টাকা বেড়ে দুই হাজার ৫০ টাকা, বাসমতি সিদ্ধ ১০০ টাকা বেড়ে এক হাজার ৬০০ টাকা, কাটারিভোগ আতপ ১০০ টাকা বেড়ে দুই হাজার ৬০০ টাকা, দিনাজপুরী পাইজাম ১৫০ টাকা বেড়ে এক হাজার ৮৫০ টাকা, চিনিগুঁড়া চাল ২০০ টাকা বেড়ে তিন হাজার ৯০০ টাকা এবং মোটা সিদ্ধ চাল ২০০ টাকা বেড়ে গিয়ে এখন বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ৬০০ টাকায়।


চাক্তাই চাল ব্যবসায়ী সমিতির এক নেতা গনমাধ্যমকে বলেন, দেশে সবচেয়ে বেশি চাহিদা আছে বেতি ও স্বর্ণা আতপ চালের। এই দু’জাতের চালের দাম বস্তাপ্রতি মাত্র ১০০ টাকা বেড়েছে। কেজিপ্রতি বেড়েছে ২ টাকা। সরকার চাল সংগ্রহ করেছে ৩৬ টাকায়। আর আমরা স্বর্ণা কেজিপ্রতি ৩২-৩৩ টাকা এবং বেতি বিক্রি করছি ৩৩-৩৪ টাকায়। সে হিসাবে, দেশে যে চালের চাহিদা সবচেয়ে বেশি, সেই চালের দাম খুব বেশি বাড়েনি। নির্বাচন মাত্র শেষ হয়েছে, সেজন্য এই মুহুর্তে চালের দাম বেড়ে যাওয়াটা বেশি আলোচিত হচ্ছে।’

পাহাড়তলী বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এস এম নিজাম উদ্দিন সারাবাংলাকে বলেন, ‘নির্বাচনের আগে মিল মালিকরা হঠাৎ করে চাল সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছেন। ধানের দাম বেড়ে যাওয়ার কথা বলে চালের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। অথচ তারা বাড়তি দামে যে ধান সংগ্রহ করছেন, সেগুলো বাজারে পৌঁছাতে আরও সময় লাগবে। মজুদ থাকা ধান-চাল বাড়তি দামে বিক্রির জন্য মিল মালিক সিন্ডিকেটের এই কৌশল।’



সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
সম্পাদক
শরীফ মুজিবুর রহমান
নির্বাহী সম্পাদক
নাঈম পারভেজ অপু
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক
মমতাজ বেগম
কার্যালয়
১০৫, এয়ারপোর্ট রোড, আওলাদ হোসেন মার্কেট (৩য় তলা)
তেজগাঁও, ঢাকা-১২১৫।
ফোন ও ফ্যাক্স :+৮৮০-০২-৯১০২২০২
সেল : ০১৭১১২৬১৭৫৫, ০১৯১২০২৩৫৪৬
E-Mail: banglarchokh@yahoo.com, banglarchokh.photo1@gmail.com
© 2005-2019. All rights reserved by Banglar Chokh Media Limited
Developed by eMythMakers.com
Close