১৭ আগস্ট ২০১৯, শনিবার ০৭:১৬:৫৩ পিএম
সর্বশেষ:

২৮ মার্চ ২০১৯ ০৭:৪৬:৪১ পিএম বৃহস্পতিবার     Print this E-mail this

বিশ্বাস ও ধর্ম

ইয়ামীন আজমান চৈৗধূরী
বাংলার চোখ
 বিশ্বাস ও ধর্ম

অলৌকিক ঘটনা সোহেল বিশ্বাস করে। সৃস্টিকর্তা আছেন, তিনি এমন কিছু করতেই পারেন যাকে অলৌকিক ঘটনা মনে হবে। সৃস্টিকর্তার প্রতি গভীর বিশ্বাস থাকলে সেই রিস্ক কেউ নিতেই পারে। সোহেল অনেকগুলো বিষধর সাপ পুষেছে গতো পাঁচ বছর। বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সংগ্রহ করেছে এই বিষধর গোখরা সাপ। এদের থাকার ব্যবস্থা খাদ্য সবকিছুতে চুড়ান্ত যতœ ছিলো। আজ সবগুলো বিষধর সাপ সোহেল তার শোবার ঘরে এনে ছেড়ে দিয়েছে। চারদিন সাপগুলো সোহেলের সাথে শোবার ঘরে মুক্ত অবস্থায় থাকবে। সোহেলের বিশ্বাস সাপগুলো তাকে ছোবল দিবে না। সাপগুলো ঘরের চতুর্দিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। কিছু আলমিরা, খাটের নিচে চলে গেছে। কিছু কুন্ডুলি পাকিয়ে পারে আছে। একটাও কাছে আসছেনা, দুরে দুরেই আছে। সোহেল নিজের জন্য এবং সাপদের জন্য শোবার ঘরেই খাবার মজুদ রেখেছে। চারদিন যেনো ঘর থেকে বের না হতে হয়। শোবার ঘরেই টিভি আছে, মোবাইল আছে ওয়াইফাই আছে। সোহেল জানে সাপগুলো তাকে ছোবল দিবে না, জন্তু জানোয়ার ভালোবাসা বোঝে, মানুষের মাঝে লোভ কাজ করে, তারা ভুল করে। সাপেদেরতো লোভের কোনো বিষয় নেই, এরা ভয় পেলে বাঁচার জন্য ছোবল দেয়। বিনা কারনে এসে ছোবল দিবেনা। দুইটা একটা করে জড়ো হয়ে আছে, খুব নিঃশব্দ সাপদের চলাচল। সময় কাটাতে সাপদের কিছু ছবি তুলছে সোহেল। বিষধর গোখরা। সব পূর্ন বয়স্ক গোখরা সাপ। প্রায় চল্লিশটা। একটি কোনে বড়ো গোখড়া ফোনা তুলে বসে আছে। সোহেল ছবি গুলো পোস্ট করছে, অন্যদের পোস্ট গুলো দেখছে, সময় কাটাতে হবে চার দিন এই একটি ঘরে বিষধর সাপেদের সাথে। যতো সময় যাচ্ছে সাপগুলো জড়তা কাটিয়ে চলাচল শুরু করেছে, ঘরের বিভিন্ন দিকে নিঃশব্দে চলাচল করছে। দু-একটি সাপ নিজেদের মাঝে নেতৃত্ব নিচ্ছে মনে হচ্ছে। তাদের মাঝে হয়তো ভাবের আদান প্রদান হয়। একটি সাপের ভাবসাব ভালো ঠেকছেনা। সে সোহেলের খাটের চারপাশ ঘুড়ে বেড়াচ্ছে। সাপেরা কি পরিকল্পনা করে কাজ করতে পারে! যতো সময় যাচ্ছে মনে হচ্ছে এদের মাঝে একটা ভাবের আদানপ্রদান হচ্ছে, কিছু একটা সিদ্ধান্ত নিতে চেস্টা করছে। খাটের পাশে যে সাপটি ছিলো, তার পাশে এখন আরো দুটি সাপ। এই তিনটি সাপ তার লকলকে জিভ বের করে কি এক অজানা ভয় তৈরী করছে সোহেলের মনে। সবচাইতে বড়ো গোখড়াটি এতোক্ষণ কোথায় ছিলো, এখন ঘরের ঠিক মাঝখানে ফোনা তুলে বসে আছে। একটা আশ্চর্যের বিষয় সাপগুলো অনেকদিনের দেখা আগে যতোটা শান্ত মনে হতো এখন ভয়ঙ্কর মনে হচ্ছে। সোহেল ভাবছে আমি কি ভুল করলাম! ঘর থেকে বের হয়ে যাওয়া উচিত! বিছানা থেকে নড়বার শক্তি যেনো হারিয়েছে সোহেল। সাপগুলো দরজার কাছে জড়ো হচ্ছে। তাহলে কি সাপগুলো সোহেলের মনের কথা বুঝতে পারছে, তাকে ঘরে থেকে বের হতে দিতে চায় না! বিছানা থেকে নামবে বা দরজা দিয়ে বের হয়ে যাবে এমন কোনো পরিস্থিতি নেই। সাপগুলো বিছানার কাছাকাছি সবদিকেই আছে। নামতে গেলে ছোবল বসাবে, নেমে দরজার কাছে যাওয়া অসম্ভব। এমনকি বিছানাতে নড়াচড়া করাটাও বিপদজনক, ভয় পেয়ে ছোবল বসাতে পারে। সাপগুলো সোহেলকে বন্দি করে ফেলেছে। সোহেলের হাতে এখন কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। তার বাচা মরা নির্ভর করছে সৃস্টি কর্তার উপর, স্বাভাবিকভাবে বলা যায় এতোগুলা সাপের মাঝে কোনো একটি ছোবল দিবেই, তার মানে নিশ্চিত মৃত্যু। তবে সৃস্টিকর্তা চাইলে এই অবস্থা থেকেও বেঁচে ফিরবে সোহেল। একটি সাপ বিছানাতে উঠে এসেছে, আরেকটি, আরো একটি। সোহেল বুঝতে পারছে সাপের ধর্ম ছোবল সে দিবেই, বেশ কয়েক বছর আগের একটি ঘটনা মনে পড়ছে সোহেলের। একটা বিড়াল সোহেলের ঘরের এক কোনে চারটি বাচ্চা দিয়েছিলো, ফুটফুটে ছোট্ট চারটি বিড়াল ছানা। সোহেল কোনো বিড়াল পোষে না। বিড়ালটি বাচ্চা দেয়ার জন্য সোহেলের ঘরে এসেছে। সোহেল বিড়ালটিকে বিরক্ত করেনি, থাকুক তার বাচ্চাদের নিয়ে।প্রতিদিন রাতে সব জানালা দরজা বন্ধ করে সোহেল ঘুমাতে যায়, মশার উপদ্রপ খুব বেশি, সেদিনও দরজা জানলা সব বন্ধ করে ঘুমাতে গেছে সোহেল। খুব ভোর বেলা, বাইরে ভোরের স্নিগ্ধ আলো, কোনো একটা কারনে সোহেলের ঘুম ভেঙ্গে গেলো, চোখ খুলে দেখে মা বিড়ালটি সোহেলের পায়ের বুড়ো আঙুলে জিভ দিয়ে খুব আলতো করে চাটছে, এই কারনেই ঘুম ভেঙ্গে গেছে এবং বোঝা যাচ্ছে বিড়ালটি সোহেলের ঘুম ভাঙ্গাতেই চেস্টা করছে। বিছানার সাথেই জানালা। বিড়ালটির হয়তো খিদে পেয়েছে, বা কোনো কারনে বের হতে চাচ্ছে। সোহেল জানালা খুলে দিতেই বিড়ালটি বাইরে চলে গেলো সম্ভবত খাবারের সন্ধানে। এই ঘটনা সোহেল অনেকের সাথে আলোচনা করেছে, যে বেড়াল পরম মমতায় জিভ দিয়ে চেটেচেটে ঘুম ভাঙ্গাতে পারে, সে তো চাইলে ঘুমের মাঝে কামড় বসাতে পারতো। একটা ইদুর তো চাইলে ঘুমের মাঝে কোনো শক্তিমান মানুষেরও চোখ উপড়ে ফেলতে পারে। বা মানুষ যখন বাচ্চাকে নিয়ে ঘুমায় তখন ইদুর বেড়াল চাইলে বাচ্চাকে মেরেও ফেলতে পারে। কিন্তু এ প্রানীগুলো মানুষের সাথে এমন আচরণ করে না। বেড়ালের সেই ঘটনাতে একটি বিষয় বোঝা যায় পশু পাখিও কিছু বিষয় মেনে চলে, তাদের কিছু ধর্ম আছে। যতো অধর্ম সব মানুষের মাঝে। এর কারন লোভ ও হিংসা। মানুষের আসলে কোনো ধর্ম নেই, যে ধর্মের কথাই বলুক তা লোক দেখানো, বা ব্যবসা, বা পরপারে জান্নাত পাবার লোভ। নিহঃসার্থ ধর্ম আছে কিট পতঙ্গ, জন্তু জানোয়ার, বৃক্ষের মাঝে।মানুষ স্বার্থপর উচ্চাভিলাষী, এ পৃথিবীকে বসবাসের অনুপযোগী করে তুলেছে। এর কারন মানুষের লোভ এবং হিংসা। লোভ ও হিংসা না থাকলে সেটাই ধর্ম। গল্পটি শেষ পর্যায়ে, সাপগুলো সোহেলকে ছোবল দেয়নি, সোহেল জানালা খুলতে পেরেছিলো, সাপগুলো ঘর থেকে বের হয়ে গেছে। পয়তাল্লিশ বছর বয়েসে সোহেল যতো সাধনা করেছে আজ তার সব পূর্ন হলো। হারাতে জানলেই সুখ। যার শূন্য যতো বড়ো সেই সবচাইতে বড়ো।মানুষের আছে লোভ ও হিংসা। হিংসা থেকেই চাহিদা। চাহিদা যতো কম ততই ভালো, ধর্ম তখন শূন্য। (সমাপ্ত)

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
সম্পাদক
শরীফ মুজিবুর রহমান
নির্বাহী সম্পাদক
নাঈম পারভেজ অপু
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক
মমতাজ বেগম
কার্যালয়
১০৫, এয়ারপোর্ট রোড, আওলাদ হোসেন মার্কেট (৩য় তলা)
তেজগাঁও, ঢাকা-১২১৫।
ফোন ও ফ্যাক্স :+৮৮০-০২-৯১০২২০২
সেল : ০১৭১১২৬১৭৫৫, ০১৯১২০২৩৫৪৬
E-Mail: banglarchokh@yahoo.com, banglarchokh.photo1@gmail.com
© 2005-2019. All rights reserved by Banglar Chokh Media Limited
Developed by eMythMakers.com
Close