১৬ নভেম্বর ২০১৯, শনিবার ০২:৪৬:৫৯ এএম
সর্বশেষ:

১২ মে ২০১৯ ১১:৫৮:০০ এএম রবিবার     Print this E-mail this

পার্বত্যাঞ্চলে শুরু হয়ে আরেক দেশের শাসন

সেলিম রায়হান
বাংলার চোখ
 পার্বত্যাঞ্চলে শুরু হয়ে আরেক দেশের শাসন

বাংলাদেশের পার্বত্যাঞ্চল যেন ভিনদেশের কোন রাজা এসে দখল করে নিয়েছে। এখানে বাংলাদেশের প্রশাসনের কোন নিয়ন্ত্রণ নেই।
শাসন করছে সন্ত্রাসীরা।
 
পার্বত্য চট্টগ্রামে চাদাবাজি,খুন,ধর্ষণ,অপহরণ ইত্যাদি স্বাভাবিক ঘটনা। প্রতি বছর প্রায় ৪শ’ কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় হচ্ছে। সশস্ত্র সংগঠনগুলো বিভিন্ন পদ্ধতিতে চাঁদা আদায় করে থাকে। চাঁদা আদায়ের জন্য পার্বত্য চট্টগ্রামের ২৬ উপজেলা ছাড়াও ইউনিয়ন ও গ্রাম পর্যায়ে তাদের রয়েছে কালেক্টর।

 তারা স্বাধীন জুম্মল্যান্ড প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখছে। তাই পার্বত্য চট্টগ্রামে  ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে তিন হাজারের বেশি পাহাড়ি সন্ত্রাসী । চাঁদাবাজির হাত থেকে উপজাতি, বাঙালি কেউ বাদ যাচ্ছে না। চাঁদার বেশির ভাগ টাকা অস্ত্র কেনার কাজে ব্যবহার করছে। অস্ত্র আসছে ভারতের মিজোরাম হয়ে মিয়ানমার থেকে।


একটি সরকারি গোয়েন্দা সূত্র থেকে জানা গেছে, ইউপিডিএফের সামরিক শাখার তিনটি কোম্পানি রয়েছে।  এগুলো হচ্ছে, জাগুয়ার কোম্পানি (খাগড়াছড়ি), ড্রাগন কোম্পানি (রাঙ্গামাটি) ও ঈগল কোম্পানি (বাঘাইছড়ি)।  এদের কাছে রকেট লঞ্চার, ১৪-এমএম, এম-১৬, এসকে-৩২, সেনেভা-৮১, এম-৪ ও এম-১-এর মতো ভয়াবহ অস্ত্রসহ প্রায় এক হাজার অত্যাধুনিক ও ভারী আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে।  তবে এদের কোনো স্থায়ী সামরিক ক্যাম্প নেই।  সবগুলোই ভ্রাম্যমাণ।  এসব মারাত্মক অস্ত্রের বিপরীতে বাঙালিদেরকে মানব ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।  


বেশ কয়েক বছর ধরে ফেসবুকসহ অন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সক্রিয় সন্ত্রাসীরা। তারা স্বাদীন জুমর‌্যান্ড প্রতিষ্ঠার প্রচারণা চালাচ্ছে। শুধু তাই নয় বিদেশি অনেক এনজিও তাদেরকে গোপনে সহায়তা করছে এবং বাঙালিদের উপর হামলা করার জন্য গোপনে উস্কানি দিয়ে থাকে।

পার্বত্য অঞ্চল নিয়ে কাজ করা গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বিষয়টি আমলে নিয়ে তৎপর রয়েছেন। সশস্ত্র গ্রুপগুলো অত্যাধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত বলে গোয়েন্দাদের কাছে খবর আছে। পাহাড়কে অশান্ত করতে তারা সবসময় তৎপর। সন্ত্রাসী এসব গ্রুপের কারণে প্রাণহানি ও ভোগান্তির শিকার হন নিরীহ মানুষ। ভয়ে ও নিরাপত্তাহীনতায় ভোগছেন তারা। গত কয়েক মাসে প্রায় ১০০ জনের মতো মানুষ হত্যার ঘটনা ঘটেছে পাহাড়ে।

স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন, শান্তিচুক্তির আওতায় সেনাবাহিনী এরইমধ্যে অনেক ক্যাম্প প্রত্যাহার করে নিয়েছে। আর এ সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে সশস্ত্র গ্রুপের সদস্যরা। যেসব এলাকা থেকে ক্যাম্প প্রত্যাহার করা হচ্ছে-সেসব এলাকায় রাতারাতি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। সশস্ত্র গ্রুপগুলো ওইসব এলাকা দখল ও পাল্টা দখলের খেলায় মেতে উঠছে। এতে বাড়ছে খুনোখুনি, চাঁদাবাজি আর অপহরণ ধর্ষণের মতো ঘটনা।

চুক্তির পর গত ২১ বছরে সন্ত্রাসীদের হামলায় ৮ শ’র বেশি মানুষ খুন হয়েছে। আহত হয়েছে দেড় হাজারের বেশি মানুষ। পাহাড়ের মূল সংগঠনগুলোর পৃথক অঙ্গসংগঠন পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ, হিল উইমেন্স ফেডারেশন, যুব সমিতি, মহিলা সমিতি ও গণতান্ত্রিক যুব ফোরামসহ একাধিক শাখার সংগঠন রয়েছে। সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোর হাতে রয়েছে এম-১৬, একে-৫৬, একে-৪৭, উজি গান, জি থ্রি, মার্ক ফোর এলএমজি, এসএমজি ও রকেট লাঞ্চারসহ আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র।

ফলে তারা যে কোন সময় আবারো বড় ধরনের হামলা করতে পারে। যা দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি। তাই সরকারের জন্য উচিত হবে, পাহাড়ে সেনাক্যাম্প কয়েকগুণ বৃদ্ধি করা এবং পুরো পাহাড়ের নিয়ন্ত্রণ সেনাবাহিনীর হাতে অর্পন করা।


সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
সম্পাদক
শরীফ মুজিবুর রহমান
নির্বাহী সম্পাদক
নাঈম পারভেজ অপু
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক
মমতাজ বেগম
কার্যালয়
১০৫, এয়ারপোর্ট রোড, আওলাদ হোসেন মার্কেট (৩য় তলা)
তেজগাঁও, ঢাকা-১২১৫।
ফোন ও ফ্যাক্স :+৮৮০-০২-৯১০২২০২
সেল : ০১৭১১২৬১৭৫৫, ০১৯১২০২৩৫৪৬
E-Mail: banglarchokh@yahoo.com, banglarchokh.photo1@gmail.com
© 2005-2019. All rights reserved by Banglar Chokh Media Limited
Developed by eMythMakers.com
Close