১৯ আগস্ট ২০১৯, সোমবার ০৮:২১:২৮ পিএম
সর্বশেষ:

১৫ মে ২০১৯ ০৯:১৪:৪৭ পিএম বুধবার     Print this E-mail this

জয়পুরহাটে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী দম্পতির ভাগ্যে এখনো জোটেনি প্রতিবন্ধী ভাতা

জয়পুরহাট প্রতিনিধি
বাংলার চোখ
 জয়পুরহাটে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী দম্পতির ভাগ্যে  এখনো জোটেনি প্রতিবন্ধী ভাতা

জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার বুধইল গ্রামের সামছুল হক বাদলের বাড়িতে আশ্রিত ও ঠিকানা বিহীন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী দম্পতি এখনো রয়েছেন সরকারি সবিধা বঞ্চিতদের তালিকায়। দৃষ্টি প্রতিবন্ধী দম্পতিরা হলেন- মাজাদ মিয়া (৪৭) ও তার স্ত্রী কুলছুম বিবি (৪২)।

সরেজমিনে জানা গেছে, জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার আয়মা রসুলপুর ইউনিয়নের বুধইল গ্রামের বাদলের বাড়িতে আশ্রিত হিসেবে বসবাস করছেন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মাজাদ মিয়া ও তার স্ত্রী কুলছুম বিবি। মিষ্টান্ন ব্যবসায়ী বাদল স্বপরিবারে তার কর্মস্থল জেলার গতন শহর এলাকায় বসবাস করেন বলে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী অসহায় দম্পতিকে বসবাসের জন্য তিনি তার বাড়িতে থাকার ব্যবস্থা করে দেন।

একই গ্রামের আলী আকবর, মোসলেম উদ্দিন, গৃহবধূ গুলশানারাসহ এলাকাবাসীরা জানান, প্রায় ২০ বছর ধরে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মাজাদ মিয়া ও তার স্ত্রী কুলছুম বিবিকে বাদল তার নিজ বাড়িতে বসবাস করার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। এই আশ্রয় ছাড়া অসহায় স্বামী-স্ত্রী ও তাদের ২ সন্তানের আর কোন ঠিকানা নাই। গ্রামবাসীরা আক্ষেপ করে বলেন, স্বামী-স্ত্রী দু’জনেই দৃষ্টি প্রতিবন্ধী হলেও তারা প্রতিবন্ধী ভাতা বা সরকারি কোন সুযোগ-সুবিধাই লাভ করেননি।

মাজাদ মিয়া ও তার স্ত্রী কুলছুম বিবি বলেন, তাদের দু’জনেরই একটি করে চোখে আলো নেই, অপর চোখ দিয়েও ভালো দেখতে পান না। যত দিন যা্েছ, এ সমস্যা আরো বাড়ছে বলেও জানান মাজাদ ও কুলছুম। চরম অভাব-অনটন আর ভালোভাবে পৃথিবীটাকে দেখতে না পাওয়ার যন্ত্রনা বুকে নিয়ে কিছুটা রসিকতা করে কুলছুম জানান, ‘ হামরা দু’জনাই অন্ধ তো, তাই এক জন আরেক জনাক খোঁটা দেওয়া পারবে না, সংসারে অশান্তি হবে না বলে হামাঘরে বাপ-মাও, ইষ্টি-কুটুম, পাড়া-পরশি সবাই মিলে হামাঘরক বিয়া দিছে। গরীব মানুষ, দেকতে দেকতে ২০/২২ বছর গেল, কষ্ট-দুক্কু হলেও একস্ত্রেই আছি, মরার আগ পর্যন্ত একস্ত্রেই থাকমো।’

এ সময় পাশে বসে মুচকি হাসছিলেন মাজাদ। তিনি জানান, তাদের বিবাহিত জীবনে তাদের ঘরে ২টি পুত্র সন্তানের জন্ম হয়। বড় ছেলে বাদলের মিষ্টির দোকানের কর্মচারী আর ছোট ছেলে স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেনিতে লেখাপড়া করছে। আশ্রয়দাতা মিষ্টান্ন ব্যবসায়ী বাদলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, ‘দ্যাশের বেশী মানুষেরই ঠিকানা আছে, হামাঘরে পরিচয় দেওয়ার মত কোন ঠিকানা নাই, বসত বাড়ি এমনকি পা রাখার মত নিজের কোন জমিন নাই বাবা, বাদল ভাই দয়া করে তার বাড়িেেত থাকতে দিছে, না হলেও তো বউ-ছল লিয়ে গাছতলা আর হয় ইষ্টিশনত থাকা লাগত। তা ছাড়া তার দোকানত বড় ব্যাটাক চাকুরীও দিছে, মাস মাস ব্যাটার চাকুরীর ভালো বেতনও দেয়।’

এই অসহায় দম্পতির আশ্রয় দাতা মিষ্টান্ন ব্যবসায়ী সামছুল হক বাদল জানান, ‘ আমার বাবা মাজাদ ও কুলছুমকে তার সন্তানের মত ভালো বাসতেন বলে আমাদের বাড়িতে তাদের থাকতে দিয়েছেন, বিষয়টি আমি জানি বলে বাবার মৃত্যুর পরও তার প্রতি সম্মান দেখিয়ে আমার বাড়িতে বসবাস করতে দিচ্ছি। কিন্তু আমার মৃত্যুর পর আমার সন্তানদেরই তো জায়গা হবে না, তখন এ অসহায়দের ভাগ্যে কি হবে তা নিয়ে আশঙ্কা করছি। তাই সরকারের কাছে বিনীত আবেদন করছি যেন তাদের প্রতিবন্ধী ভাতাসহ একটি স্থায়ী মাথা গোঁজার ঠাই হয়।’ কথাগুলো বলতে বলতে অঝোরে কাঁদলেন বাদল।

এই দৃষ্টি প্রতিবন্ধী দম্পতি বলেন, প্রতিবন্ধীর তালিকায় নাম থাকলেও তারা আজ পর্যন্ত প্রতিবন্ধী ভাতা কিংবা সরকারি কোন সহয়াতা তারা পাননি। প্রতিবন্ধী ভাতা লাভের জন্য এখনো পথ চেয়ে বসে থাকেন এই দৃষ্টি প্রতিবন্ধী স্বামী-স্ত্রী।

এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হলে পাঁচবিবি উপজেলা নির্বাহিী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ রাজিবুল আলম জানান, “বিষয়টি জানা ছিল না, আবেদন পাওয়ার পর তদন্ত সাপেক্ষে যত দ্রুত সম্ভব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
সম্পাদক
শরীফ মুজিবুর রহমান
নির্বাহী সম্পাদক
নাঈম পারভেজ অপু
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক
মমতাজ বেগম
কার্যালয়
১০৫, এয়ারপোর্ট রোড, আওলাদ হোসেন মার্কেট (৩য় তলা)
তেজগাঁও, ঢাকা-১২১৫।
ফোন ও ফ্যাক্স :+৮৮০-০২-৯১০২২০২
সেল : ০১৭১১২৬১৭৫৫, ০১৯১২০২৩৫৪৬
E-Mail: banglarchokh@yahoo.com, banglarchokh.photo1@gmail.com
© 2005-2019. All rights reserved by Banglar Chokh Media Limited
Developed by eMythMakers.com
Close