১৭ জুলাই ২০১৯, বুধবার ১০:৫৪:৪০ এএম
সর্বশেষ:

২০ জুন ২০১৯ ১২:৫৬:৫৭ এএম বৃহস্পতিবার     Print this E-mail this

পরিবারের চাপেই মোহনপুরের স্কুলছাত্রী বর্ষা আত্মহত্যা:আসামি পরিবারের দাবি

সোহরাব হোসেন সৌরভ রাজশাহী থেকে
বাংলার চোখ
 পরিবারের চাপেই মোহনপুরের স্কুলছাত্রী বর্ষা আত্মহত্যা:আসামি পরিবারের দাবি

রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার স্কুলছাত্রী সুমাইয়া আক্তার বর্ষা প্রকৃতপক্ষেই আত্মহত্যা করে। আর রাজনৈতিক কারণেই প্রকৃত ঘটনা আড়াল করতে বর্ষার আত্মহত্যার আগে অপহরণের মামলাটি করা হয়েছে বলে আসামি পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। বুধবার (১৯ জুন) দুপুরে রাজশাহী মহানগরীতে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে মামলার প্রধান আসামি মুকুলের ছোট ভাই মোহাম্মদ আলী এ দাবি করেন।
জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা রাজশাহী জেলা শাখা কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘সহপাঠী নাঈমের সাথে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্ষার পরিবার মুকুলের সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছিল। এতে সম্মতি না থাকায় মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরেই বর্ষা আত্মহত্যা করে। কিন্তু প্রকৃত ঘটনা আড়াল করতেই একটি মহলের চাপে মিথ্যা মামলা দিয়ে আমার বড়ভাই মুকুলকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। যে কারণে সঠিক তদন্ত হলে বর্ষা অপহরণের মামলায় আমার ভাই অব্যাহতি পাবেন।’
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ২৩ এপ্রিল মোহনপুর উপজেলার বিলপাড়া গ্রামের আবদুল মান্নানের মেয়ে বাকশিমুল উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী বর্ষাকে তার পোশাক পরিবর্তন ও অচেতন অবস্থায় খানপুর বাগবাজার এলাকার একটি রাস্তার পাশে পাওয়া যায়। এ ঘটনায় বর্ষার পরিবারের অভিযোগ, বর্ষার বান্ধবী সোনিয়ার সহযোগিতায় প্রতিবেশি মুকুল বর্ষাকে অপহরণ করে। এরপর শারিরীক নির্যাতন করে সেখানে অচেতন অবস্থায় ফেলে রেখে যায়। কিন্তু সংবাদ সম্মেলনে মুকুলের ভাই মোহাম্মদ আলী দাবি করেন, এ ঘটনার সঙ্গে মুকুল জড়িত নয়। বর্ষাকে কে অপহরণ করেছিল তাও জানেন না মুকুল।
এদিকে বর্ষাকে অপহরণের ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা করতে গেলে গড়িমশি করে পুলিশ। অবশেষে ২৭ এপ্রিল মুকুল ও সোনিয়াকে আসামি করে মোহনপুর থানায় দায়েরকৃত অপহরণের মামলা হয়। আর এ মামলায় মুকুলকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় নানা নাটকীয়তার পর গত ১৬ মে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে বর্ষা। এর প্রেক্ষিতে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে মুকুলের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা করেন বর্ষার বাবা।
এদিকে বর্ষার এই অপহরণ ও আত্মহত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে মোহনপুর থানার তৎকালীন অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল হোসেনকে প্রত্যাহার করা হয়। আর সম্প্রতি বর্ষার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে কেন ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন উচ্চ আদালত।
এ ঘটনায় আসামি মুকুলের পরিবার সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করে সংবাদ সম্মেলনে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীকে আইনের আওতায় আনার জন্য পুলিশের ঊর্ধোতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।
এ ঘটনায় বর্ষার বড় বোন চাঁদনি খাতুন বলেন, নাঈমের সঙ্গে বর্ষার প্রেমের সম্পর্ক নয়, সহপাঠী হিসেবে বন্ধুত্ব ছিল। আর প্রতিবেশি মুকুলই বর্ষাকে বিয়ের প্রস্তাব দিত। কিন্তু এতে বর্ষা রাজি ছিল না। মুকুল বর্ষাকে উত্যক্ত করত। সে বর্ষাকে অপহরণ করে। চাঁদনি বলেন, যেদিন বর্ষাকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায় সেদিন নাঈম আমাকে ফোন করে এ বিষয়ে জানতে চায়। পরে সে হাসপাতালে বর্ষাকে দেখতে গিয়েছিল। তাই পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়েছিল।
একটি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) পরিদর্শক খালিদুর রহমান বলেন, মামলা মোট দুটি। কোনোটিতেই নাঈম নামে কোনো আসামি নেই। তিনি বলেন, বর্ষার ঘর থেকে তাকে লেখা কয়েকটি চিঠি উদ্ধার করা হয়েছে। সেগুলো কার হাতের লেখা তা তদন্ত করে দেখা হবে। তাহলেই সবকিছু পরিস্কার হয়ে যাবে। দ্রুত তদন্ত কাজ এগোচ্ছে বলেও জানান তিনি।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
সম্পাদক
শরীফ মুজিবুর রহমান
নির্বাহী সম্পাদক
নাঈম পারভেজ অপু
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক
মমতাজ বেগম
কার্যালয়
১০৫, এয়ারপোর্ট রোড, আওলাদ হোসেন মার্কেট (৩য় তলা)
তেজগাঁও, ঢাকা-১২১৫।
ফোন ও ফ্যাক্স :+৮৮০-০২-৯১০২২০২
সেল : ০১৭১১২৬১৭৫৫, ০১৯১২০২৩৫৪৬
E-Mail: banglarchokh@yahoo.com, banglarchokh.photo1@gmail.com
© 2005-2019. All rights reserved by Banglar Chokh Media Limited
Developed by eMythMakers.com
Close