১৪ অক্টোবর ২০১৯, সোমবার ০৩:৩৭:৪৭ পিএম
সর্বশেষ:

০৯ জুলাই ২০১৯ ০১:০৯:৫৮ এএম মঙ্গলবার     Print this E-mail this

বিকট শব্দে পলেস্তরা খসে পড়ায় ভয়ে শিক্ষার্থীরা মাঠে

সাইমুন রহমান এলিট, গলাচিপা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
বাংলার চোখ
 বিকট শব্দে পলেস্তরা খসে পড়ায় ভয়ে শিক্ষার্থীরা মাঠে

গলাচিপায় উত্তর গোলখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাদের পলেস্তরা বিকট শব্দে খসে পড়লে শিক্ষার্থীদের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এতে শিক্ষার্থীরা ভয়ে ছুটা ছুটি করে মাঠে গিয়ে আশ্রয় নেয়। শিশুদের চিৎকারে আশেপাশের লোকজন ছুটে এসে এ অবস্থা দেখতে পায়। শিক্ষার্থীদের শান্ত করতে কয়েক ঘণ্টা চলে যায়। পরে পরিস্থিতি সামাল দিতে শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ দুর্ঘটনার পর রোববার শ্রেণি কার্যক্রম শুরু হলেও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কম বলে জানিয়েছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। তবে এতে কেউ আহত হয়নি।

এদিকে এ ঘটনা পরিদর্শনের জন্য উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দ্রুত অন্যত্র পাঠদানের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানাগেছে। তবে এ দুর্ঘটনার পর বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কিছুটা কমছে বলে জানিয়েছেন প্রধান শিক্ষক।

ছাদের পলেস্তরা খসে পড়া উত্তর গোলখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবদুল হালিম জানান, বিদ্যালয়ের ক্লাশ চলার পর লেইজারের সময় হঠাৎ করে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কক্ষের ছাদের পলেস্তরা বিকট শব্দ করে খসে পড়তে থাকে। এতে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা ভয়ে এদিক-সেদিক ছুটাছুটির পর দৌড়ে মাঠে নেমে আসে। ঘটনার পর সবাই মিলে উপরে গেলে ছাদের পলেস্তরা খসে পড়ে থাকতে দেখি। এতে শিক্ষর্থীরা ভীত হয়ে পড়ে। শিশুরা দৌড়ে মাঠে আশ্রয় নেয়। প্রথমে আমরা সবাই ভেবেছিলাম ভূমিকম্প হচ্ছে। কিন্তু পরে জানলাম কোন কারণ ছাড়াই বিদ্যালয়ের শ্রেণি কক্ষের দোতলার ছাদের পলেস্তরা খসে পড়ছে। তিনি আরো জানান, গত ২০০১ সালে এলজিইডির তত্ত্বাবধানে দ্বিতল সাইক্লোন শেল্টার কাম ইস্কুল ভবন হিসেবে এটি নির্মিত হয়। নির্মাণের পর থেকে তেমন কোন মেরামতের কাজ হয়নি। ইতিমধ্যে ভবনটির বিভিন্ন পিলারের রড বেড়িয়ে গেছে। ছাদে শ্যাঁওলা ধরেছে। পলেস্তরা খসে পড়ায় ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেছে। এর মধ্যে প্রায় ২০০ শিক্ষার্থী আতঙ্কে প্রতিদিন ক্লাশ করছে। শনিবার দুর্ঘটনার পর আজ রোববার উপস্থিতিও কমে গেছে। ১৯০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ১৫৯জন উপস্থিত হয়েছে। বিষয়টি তখনই উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানালে তিনি রোববার সকালে পরিদর্শনে আসেন। আলোচনা করে পাশের গোলখালী ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার দুটি কক্ষ খ-কালীন সময়ের জন্য ব্যবহারের অনুমতি করিয়ে দেন।

এ প্রসঙ্গে ওই বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী  মো. মারুফ ও জিসান বলে, ‘আমরা বারান্দায়, এসময় হাঠাৎ করে ছাদ ভেঙ্গে পড়ে এতে আমরা চিৎকার করে দৌড় দিয়া মাঠের পাশে বড় গাছ ছিল সেখানে চলে যাই। আমরা মনে করছি ভূমিকম্প হচ্ছে। আমরাগো বিল্ডিং এর খুটিগুলো সব নষ্ট হয়ে গেছে। রড দেখা যায়। স্কুলে আসতে আমাদের অনেক ভয় করে। সবাই দেখতে আয় কিন্তু কেউ কিছু করে না।’


এ বিষয় উপজিলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মীর রেজাউল ইসলাম বলেন, ‘আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। স্কুলটি অনেক ঝুঁকিপূর্ণ তাই আপাতত পাশের একটি মাদরাসার দুটি কক্ষ ব্যবহারের ব্যবস্থা করেছি। এ ছাড়া ইতিমধ্যে মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানোর ব্যবস্থা করছি। পাশাপাশি উপজেলা পর্যায়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে করণীয় বিষয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।’

এ প্রসঙ্গে গলাচিপা উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মো. আতিকুর রহমান তালুকদার বলেন, ‘বিষয়টি অবহিত হওয়ার পর জরুরী মিটিং করে আজ রোববার ঢাকা এলজিইডির প্রধান কার্যালয়ে নতুন ভবনের চাহিদা দিয়ে আবেদন করেছি। আপাতত জরুরীভাবে শিশুদের ক্লাশ করার জন্য থোক বরাদ্দ দিয়ে টিনসেটের একটি ঘর নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
সম্পাদক
শরীফ মুজিবুর রহমান
নির্বাহী সম্পাদক
নাঈম পারভেজ অপু
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক
মমতাজ বেগম
কার্যালয়
১০৫, এয়ারপোর্ট রোড, আওলাদ হোসেন মার্কেট (৩য় তলা)
তেজগাঁও, ঢাকা-১২১৫।
ফোন ও ফ্যাক্স :+৮৮০-০২-৯১০২২০২
সেল : ০১৭১১২৬১৭৫৫, ০১৯১২০২৩৫৪৬
E-Mail: banglarchokh@yahoo.com, banglarchokh.photo1@gmail.com
© 2005-2019. All rights reserved by Banglar Chokh Media Limited
Developed by eMythMakers.com
Close