২১ অক্টোবর ২০১৯, সোমবার ০৪:০৮:১৮ পিএম
সর্বশেষ:
ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে মাঠে নামছে ৪ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন; দ্রুত মোতায়েনের জন্য ১টি প্লাটুনকে নেয়া হয়েছে হেলিকপ্টারে           

১২ জুলাই ২০১৯ ০২:০৭:৪৯ এএম শুক্রবার     Print this E-mail this

নারী নির্যাতন ও যৌতুক মামলায়

লোহার শিকল পরে পাগল সেজে জামিন, বাদীকে হুমকি

গাইবান্ধা প্রতিনিধি
বাংলার চোখ
নারী নির্যাতন ও যৌতুক মামলায় লোহার শিকল পরে পাগল সেজে জামিন, বাদীকে হুমকি

গাইবান্ধা সিনিয়র জুটিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নারী নির্যাতন ও যৌতুক মামলায় কাস্টোরী হওয়ার কয়েক ঘন্টা পরে পাগলের অভিনয় করে বিচারকের চোখ ফাকি দিয়ে জামিনে মুক্তির ঘটনা ঘটেছে । জামিনে এসে পাগল ছদ্দবেশী আব্দুল হাকিম নামের এক আসামী যৌতুক মামলার  বাদী ও সাক্ষীদের মামলা তুলে নেয়ার  চাপ দেয় তা না হলে প্রান নাশকসহ উল্টো মিথ্যা মামলা দেয়ার  হুমকি দিচ্ছে । ফলে মামলার আতংকে বাদীর পরিবার কোনঠাসা হয়ে পরেছে । ৭ দিনের অনুসন্ধানের পরে বেরিয়ে এসেছে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য ।  

গত ৪ আগাষ্ট গাইবান্ধা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে যৌতুক নিরোধ আইনের মামলার (মামলা নং সি আর ৯১/১৯) হাজিরার তারিখে আসামী হাকিম তার বড় ভাইয়ের পরামর্শে চেতনানাশক ইনজেকশন শরীরে পুশ করে এবং হাতে পায়ে লোহার শিকল পরে শিকলে আবার তালা ঝুরিয়ে হাজিরা দিতে আদালতে আসে । বিজ্ঞ আদালতের বিচারক শবনম মোস্তারী আসামীকে জেল হাজাতে পাঠানোর আদেশ দেয় । আদেশ অনুযায়ী আসামীকে প্রাথমিক কোর্ট পুলিশের হেফাজতে আসামী গননা করার জন্য কোর্ট চত্তোরের হাজতে রাখা হয় । মামলার কাগজসহ বিকালে আসামীকে জেলা কারাগারে প্রেরনের কথা থাকলেও আসামী আব্দুল হাকিম হাজতে অন্যন্য আসামীদের মারধর করাসহ এমন কিছু আচরন করে যার ফলে কোট চত্বোরে হট্রোগোল সৃষ্টি হয় । এরপর আসামী পক্ষোর আইনজীবি এ্যাড: শাহাদুল আলম আসামীকে পাগল উন্মোদ অসুস্থ বলে জামিনে আবেদন করেন । গাইবান্ধা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারক শবনম মোস্তারী সরোজমিনে কোট জেল হাজতের এসে আসামীকে অচেতন অবস্থায় দেখে জামিন মঞ্জুর করে । জামিনে এসে পাগল ছদ্দবেশী আসামী আব্দুল হাকিম মামলার  বাদী ও সাক্ষীদের মামলা তুলে নেয়ার  চাপ দেয় তা না হলে প্রাণ নাশকের ভয় দেখিয়ে  উল্টো মিথ্যা মামলা দেয়ার  হুমকি দিচ্ছে ।

 মামলার বাদী সিমা বেগম জানান, জামিনে এসে আসামী আব্দুল হাকিম মোবাইল ফোনে তাকে মামলা তোলার জন্য চাপ দেয় । মামলা না তুললে উল্টো মিথ্যা মামলা দেয়ার হুমকি দেয় এবং এই মামলার সাক্ষীদেও মারপিট ও নতুন মামলার আসামী করা হবে বলে ভয় দেখায়। ফলে তার পরিবার ও মামলার সাক্ষীগন নিরাপত্তাহীনতায় আছে বলে অভিযোগ করেন ।

আসামী আব্দুল হাকিম পাগল কি না এই তথ্য অনুসন্ধানে হাকিমের বাড়ী বাড়াই কান্দিতে গেলে তার দেখা পান নি । তার বড় ভাই জানান, হাকিম নদীতে গেছে মাছ ধরতে । আসামী আব্দুল হাকিম পাগল হলে কি ভাবে মাছ ধরতে যায় এই প্রশ্ন থেকে গেল ।

আসামীর বড় আব্দুল হান্নান আরো জানান, ঘটনার (জামিনের) দিন আসামী আব্দুল হাকিমকে ৫ টাকা দামের ইনজেকশন করা হয় এবং তার হাতে পায়ে লোহার শিকল পাড়ানো হয় । যাতে বিচারক কোন ভাবেই সন্দেহ না করে ।

মোবাইল ফোনে আসামী আব্দুল হাকিমের সাথে কথা বললে সে জানান, আমি পাগল ? কে বলেছে আমি পাগল । মামলাটা হালকা করতে পাগলের বেশ ধরেছিলাম । এবার পাগলের সার্টিফিকেট এনে বাদী ও সাক্ষীদের  নামে মামলা দিবো ।

আসামী হাকিমের গ্রামের বাসিন্ধা সাবেক ভারপ্রাপ্ত কচুয়া ইউপি চেয়ারম্যান সোহাবাব হোসেন জানান, এই গ্রামে আব্দুল হাকিম নামের কোন পাগল নেই । কখনো শুনিনি যে হাকিম নামের কেউ পাগলামো করেছে ।

এ বিষয়ে বাদী পক্ষের আইনজীবি এ্যাড: মিলা বেগম জানান , ৪ আগষ্ট আইনজীবি হিসাবে তার গাইবান্ধা কোটের  যা কাজকর্ম থাকে শেষ করে বাসায় ফেরে । সেদিন সন্ধ্যার দিকে আদালত থেকে ফোনে  জানতে পারে কাস্টোর হওয়া আসামী আব্দুল হাকিম পাগল, উন্মাদ হয়ে কোট পুলিশকে মার-ধর করেছে । তাকে জামিন না দিলে যে কোন অঘটন ঘটাতে পারে । বিষয়টি শুনে তিনি অবাক হন । পরে তাকে  এই মামলার বাদী পক্ষোর আইনজীবি হিসাবে আসামীকে জামিনে মুক্তিতে তার কোন বাধা নেই বলে স্লো-নামা দিতে বলে । কিন্তু তিনি তাতে অস্বীকার করে । পরে বিজ্ঞ বিচারক শবনম মোস্তারী কোট হাজতে উপস্থিত হয়ে অসুস্থতার বিভিন্ন কাগজ-পত্র দেখে তাকে জামিন দেন ।

আইনজীবি এ্যাড: মিলা বেগম আরো বলেন, তার জীবনে এই প্রথম কোন আসামী কোস্টোরীর কয়েক ঘন্টা পরে পাগলের অভিনয়ে জামিন পেয়েছে । এতে সাধরন মানুষ আইনের প্রতি আস্থা হারাবে ।  তাই মিডিয়ার ভাইদের এই বিষয়টি অনুসন্ধান করে সত্য ঘটনা তুলে ধরার অনুরোধ করেন তিনি ।

উলেখ্য: গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার কচুয়া ইউনিয়নের বড়াইকান্দি গ্রামের আব্দুল হাকিম । ২০১৪ সালে একই উপজেলার কামালের পাড়া ইউনিয়নের বাংগাবাড়ী গ্রামের সিমা আক্তারকে ইসলামী শরীয়া অনুয়াযী বিবাহ করেন । বিবাহের বছর খানেক  পর তাদের সংসারে জন্ম নেয় পুত্র সন্তান ।  সুখের সংসারে চেপে বসে যৌতুকের লোভ তাই সংসারে নেমে আসে অশান্তি ।  সিমার বাবা সিদ্দিকুর রহমান একজন শারীরিক প্রতিবন্ধি । নেই তেমন অর্থ সম্পদ । বিবাহের সময় জমাজমি বিক্রি করে জামাইকে দেয়ার পরে এখন দেয়ার আর কিছু নেই । জামাইয়ের যৌতুকের চাহিদা মেটাতে না পাড়ায় বিভিন্ন সময় দ্বন্দ্ব-কলেহ বাধল্ওে এই বিষয়টি স্থানীয় ভাবে মিমাংসার চেষ্টা হয় । কিন্তু সেই মিমাংসাত্ওে  বেশী দিন সংসার টেকে না ।  বার বার স্ত্রী সিমার উপর নির্যাতন কওে হাকিম । নির্যাতন সহ্য করতে না পেয়ে সিমা  গাইবান্ধা আমলী আদালতে যৌতুক নিরোধ আইনের মামলা করে ( মামলা নং-৯১/১৯ )। মামলার পরে হাকিম নতুর কৌশল অবলম্বন শুরু করে এবং নিজেকে পাগল প্রমানিত করতে ভুয়া কাগজপত্র সংগ্রহ করে ।  


সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
সম্পাদক
শরীফ মুজিবুর রহমান
নির্বাহী সম্পাদক
নাঈম পারভেজ অপু
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক
মমতাজ বেগম
কার্যালয়
১০৫, এয়ারপোর্ট রোড, আওলাদ হোসেন মার্কেট (৩য় তলা)
তেজগাঁও, ঢাকা-১২১৫।
ফোন ও ফ্যাক্স :+৮৮০-০২-৯১০২২০২
সেল : ০১৭১১২৬১৭৫৫, ০১৯১২০২৩৫৪৬
E-Mail: banglarchokh@yahoo.com, banglarchokh.photo1@gmail.com
© 2005-2019. All rights reserved by Banglar Chokh Media Limited
Developed by eMythMakers.com
Close