১৪ অক্টোবর ২০১৯, সোমবার ০৮:১৩:৪৫ এএম
সর্বশেষ:

১২ জুলাই ২০১৯ ০২:২১:২৯ এএম শুক্রবার     Print this E-mail this

খাগড়াছড়িতে বন্যার্তদের পাশে মানবতার ফেরিওয়ালারা!

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি
বাংলার চোখ
 খাগড়াছড়িতে বন্যার্তদের পাশে মানবতার ফেরিওয়ালারা!

টানা ৬ দিনের ভারী বর্ষন, পাহাড়ী ঢল ও পাহাড় ধসের বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে খাগড়াছড়ির স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবনযাত্রা। অবিরাম বৃষ্টিপাতের কারনে নতুন করে পাঁচটি গ্রাম প্লাবিত হওয়ায় সহস্রাধিক পরিবার পানি বন্ধি হয়ে পড়েছে। জেলার বিভিন্ন স্থানে অব্যাহত রয়েছে পাহাড় ধস। পৌর শহরের বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে প্রায় তিন শতাধিক পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। শহরের শালবাগান এলাকায় পাহাড়ের পাদদেশে ঝুকিপূর্ণ ভাবে বসবাসকারী অর্ধ শতাধিক পরিবারকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়েছে জেলা প্রশাসন। ইতি মধ্যে পৌরসভা ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করে সচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রমও চলছে পুরোদমে। বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে চেঙ্গী ও মাইনী নদীর পানি। এ অবস্থায় খাগড়াছড়ি জেলায় খোলা হয়েছে ৪৫টি আশ্রয় কেন্দ্র। গত ২৪ ঘন্টায় ৫৬.২৫ মিলি মিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে খাগড়াছড়ি সম্প্রসারণ বিভাগ। শহরের গঞ্জপাড়া, মেহেদীবাগ, মুসলিমপাড়া, বটতলী ও কালাডেবা এলাকার নিন্মাঞ্চল পানি নীচে তলিয়ে যাওয়ায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছে স্থানীয় এসব এলাকার বাসিন্দারা।


ইতিমধ্যে অসহায় বন্যার্তদের পাশে খাবার নিয়ে দাঁড়িয়েছে সেনাবাহিনী, জেলা প্রশাসন, পৌর প্রশাসন ও পার্বত্য বাঙ্গলী ছাত্র পরিষদ। মঙ্গলবার (৯ জুলাই) রাত ৮ টায় খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার উত্তর গঞ্জপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয় কেন্দ্রে উপস্থিত ৫৫০ জন পানিবন্দীদের মাঝে রান্না করা খাবার বিতরণ করেন খাগড়াছড়ি সদর জোনের (বিজয়ী বাইশ) উপ-অধিনায়ক মেজর মোঃ রেজাউল করিম। এরপর বুধবার (১০ জুলাই) দুপুর ২ টায়  এবং রাত ৮ টায় খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার হেডম্যানপাড়া মধুবাজার (ধর্মঘর), ঠাকুরছড়া উচ্চ বিদ্যালয় এবং চম্পাঘাট (নতুন বাজার) আশ্রয় কেন্দ্রে উপস্থিত ৩২০ জন পানিবন্দীদের মাঝে রান্না করা খাবার বিতরণ করেন খাগড়াছড়ি সদর জোনের সেনা সদস্যরা।
এদিকে একই দিন জেলার দীঘিনালা উপজেলার ১নং কবাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাচিনসন পুর উচ্চ বিদ্যালয়সহ আশপাশের এলাকায় আশ্রয় কেন্দ্রে পানিবন্দীদের মাঝে রান্না করা খাবার ও ঔষধ বিতরণ করেন দীঘিনালা জোনের ক্যাপ্টেন শাহরিয়ার মাহমুদ শোভন। এসময় দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ উল্লাহ, কবাখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর হোসেন সহ অন্যান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
বৃহস্পতিবার (১১জুলাই) দুপুরে জেলা সদরের মুসলিম পাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, গোলাবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদ, শিশু সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ ১০ টি আশ্রয় কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক মো. শহিদুল ইসলাম। এসময় পানিবন্দী পরিবারের খোঁজ খবর নেন। তুলে দেন শুকনা খাবারের পাশাপাশি খিঁচুড়ি। একইসাথে খাগড়াছড়ি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে প্লাবিত হওয়া এলাকার লোকজনদের বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে ট্যাবলেট ও পানির জার দেয়া হয়েছে।