২৩ আগস্ট ২০১৯, শুক্রবার ০৪:৫৯:৩৪ পিএম
সর্বশেষ:

১২ আগস্ট ২০১৯ ১২:৩০:১৫ এএম সোমবার     Print this E-mail this

আড়াইহাজারে কর্মকারপল্লীতে চলছে শেষ মূহুর্তের ব্যস্ততা

আড়াইহাজার(নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি
বাংলার চোখ
 আড়াইহাজারে কর্মকারপল্লীতে চলছে  শেষ মূহুর্তের ব্যস্ততা

ঈদুল আজাহাকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কর্মকারপল্লীগুলোতে চলছে হরধম কাজ। আজ রোববার সকালে স্থানীয় বিভিন্ন কর্মকারপল্লীতে গিয়ে দেখা গেছে ঢুকঢাক শব্দে মুখরিত হয়ে উঠেছে কর্মকারপল্লী। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে তাদের মহাকর্মযজ্ঞ। কাজের চাপে তাদের যেন ফুসরত নেওয়ার সময় নেই। তবে হঠ্যাৎ তাদের কাজের চাপ বেড়ে গেলেও বাড়তি আয় হওয়ায় তাদের চোখে মুখে যেন হাসির যিলিক। বড়দের পাশাপাশি বসে নেই পরিবারের ছোটরাও। দেখা গেছে তারাও কাজে হাত লাগিয়েছেন। কর্মকাররা জানান, ঈদুল আজাহাকে সামনে রেখে প্রতিবছরই তাদের কর্মব্যস্ততা বেড়ে যায়। এ সময়টাতে তাদের আয়রোজগারও ভালো হয়। তবে কয়লা সঙ্কট আর আধুনিকায়নের ফলে বিলুপ্তির পথে যেতে চলেছে কামার শিল্প। লোহার তৈরী ছুরি, কাচি, কুড়াল, দা-বটির পরিবর্তে স্টেইনলেস স্টিলের তৈরী বিদেশী আধুনিক গৃহসামগ্রী বাজার দখল করেছে। ফলে এ শিল্প এখন চরম হুমকির মুখে। বড় বড় শিল্প কারখানাগুলো বিদেশ থেকে এলসির মাধ্যমে কয়লা আমদানী করে থাকে। কিন্তু সে কয়লা কামররা পান না। ফলে আবাসিক বাড়ির খড়ির কয়লা দিয়ে এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখা দুঃস্বাধ্য হয়ে পড়েছে তাদের জন্য। এক সময় উপজেলা শহরের মোড়ে মোড়ে কামারদের কর্মব্যস্ততা চোখে পড়তো। কালির ঝুঁলি আর ধোঁয়ার বেষ্টিত কামারদের দিনরাত ব্যস্ত থাকতে দেখা যেত। আগে ১ টাকায় পাওয়া যেত ১ কেজি কয়লা। এখন তার দাম কেজি প্রতি ২৫ থেকে ৩০ টাকা। মাত্র ১ টাকার লোহা এখন প্রায় ৫০ টাকায় উন্নিত হয়েছে। তাই এ কাজে আর আগের মত লাভও হয় না। একদিকে কয়লা সঙ্কট অন্যদিকে খাটুনির কাজ। পরিশ্রমের এ কাজের জন্য লোক পাওয়াও মুসকিল। বেঁচে থাকার তাগিদে কেউ কেউ ধরে রেখেছেন বাপ-দাদার আমলের এই পেশা। আবার অনেকেই পেশা পরিবর্তনও করেছেন।স্থানীয় চরপাড়ার কর্মকার নিমাই কর্মকার বলেন, না পারি ছাড়তে, না পাড়ি চালাতে, লোহা ও কয়লার দাম দিন দিন বেড়েই চলেছে। প্রতিদিন ২০০ থেকে ২৫০ টাকার বেশি আয় করা সম্ভব হয় না। পেটের দায়ে এখনো পড়ে আছি এ পেশায়। অন্য কাজতো আর পারি না, বাপ-দাদার এই পেশাও ছাড়তে পারি না, ছাড়লেও চলতে পারব না। বর্তমানে বেশিরভাগ কামররাই এ পেশা ছেড়ে দিয়ে কেউ কৃষি কাজ করে, কেউ ভ্যান চালায়, কেউ ইটভাটা ও ধানের চাতালে কাজ করছে। প্রায় ৫০ বছর ধরে বাপ-দাদার দেয়া এই পেশায় আছি। অন্য কোনো কাজ তেমন করতে পারি না। তবে বর্তমানে লোহা ও কয়লার যে রকম দাম বাড়ছে তাতে আমিও হয়তো আর বেশিদিন এই কাজ করতে পারব না। তাই এই কাজ ছেড়ে তিনি মাঠে কৃষি কাজ করবেন বলে জানান।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
সম্পাদক
শরীফ মুজিবুর রহমান
নির্বাহী সম্পাদক
নাঈম পারভেজ অপু
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক
মমতাজ বেগম
কার্যালয়
১০৫, এয়ারপোর্ট রোড, আওলাদ হোসেন মার্কেট (৩য় তলা)
তেজগাঁও, ঢাকা-১২১৫।
ফোন ও ফ্যাক্স :+৮৮০-০২-৯১০২২০২
সেল : ০১৭১১২৬১৭৫৫, ০১৯১২০২৩৫৪৬
E-Mail: banglarchokh@yahoo.com, banglarchokh.photo1@gmail.com
© 2005-2019. All rights reserved by Banglar Chokh Media Limited
Developed by eMythMakers.com
Close