১৮ আগস্ট ২০১৯, রবিবার ০৬:৫৬:৪০ এএম
সর্বশেষ:

১৩ আগস্ট ২০১৯ ০৯:২২:২৬ পিএম মঙ্গলবার     Print this E-mail this

জয়পুরহাটে চামড়া বাজারে মহা ধ্বসঃ বিপাকে ব্যবসায়ীরা

জয়পুরহাট প্রতিনিধি
বাংলার চোখ
 জয়পুরহাটে চামড়া বাজারে মহা ধ্বসঃ বিপাকে ব্যবসায়ীরা

সরকারি ভাবে ৪০ টাকা ফুট দরে চামড়া কেনার নির্দেশনা দেওয়া হলেও জয়পুরহাটে ধস নেমেছে কোরবানির পশুর চামড়ার বাজারে। মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, জেলার বাজারগুলোতে চামড়া বিক্রি করতে হচ্ছে গতবারের চেয়ে চার ভাগের এক ভাগ দামে। চামড়ার বাজারে ধসের শিকার মধ্যস্বত্বভোগী ও মৌসুমি ব্যবসায়ীরা অনেকটাই দিশেহারা। আর যেসব হতদরিদ্র মানুষ কোরবানির চামড়া বিক্রির টাকা থেকে একটা অংশ পেয়ে থাকে প্রতি বছর, এবার তাদের ভাগ্যেও জুটবে না কাংখিত দান-অনুদান।                       

সরেজমিনে জানা গেছে, বিগত বছরগুলোতে জেলায় বিভিন্ন বাজারে যেখানে প্রতিটি ছাগলের চামড়া বিক্রি হয়েছিল ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা ও প্রতিটি গরুর চামড়া বিক্রি হয়েছিল ৮০০ থেকে হাজার টাকারও বেশী। আর এবার সেখানে আকার ভেদে প্রতি ছাগলের চামড়া বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৩০ থেকে ৪০ টাকায় এবং গরুর চামড়া বিক্রি হচ্ছে মাত্র ২০০ থেকে ৩০০ টাকায়।  

জেলার ক্ষেতলাল উপজেলার তালশন গ্রামের ইব্রাহিম হোসেন, কালাই উপজেলা শহরের থানা পাড়া এলাকার সেলিম সারওয়ার সেলিম, পাঁচবিবি উপজেলার চানপাড়া গ্রামের মানিক হোসেনসহ অনেক কোরবানী দাতারা চামড়ার বর্তমান এমন বাজার দরের কথা বলে আরো জানান. এতে করে চামড়া বিক্রির সব টাকারই পাওনাদার যেখানে হত দরিদ্র, দুঃস্থ এতিম ও ছিন্নমূল মানুষ, তারাই  বঞ্চিত হবেন বলে অভিযোগ করেন কোরবানী দাতা ও চামড়া বিক্রেতাগন

পুঁজি সংকট, ট্যানারি মালিকদের কাছে বকেয়া পাওনা ইত্যাদি কারণে চামড়ার দাম পড়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় চামড়া ব্যবসায়ীরা। চামড়ার বাজার ধসের কারণে লোকসানের শিকার হচ্ছেন জেলার মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীরা। কোরবানির চামড়ার এই আকস্মিক দরপতনে দিশেহারা মধ্যস্বত্বভোগী চামড়া ব্যবসায়ীরা। এতে পুঁজি হারিয়ে অনেকেই পথে বসবেন বলেও আশঙ্কা করছেন তারা।

কালাই উপজেলার মোলামগাড়িহাটের চামড়া ব্যবসায়ী মুসা মিয়া, আক্কেলপুর উপজেলার গোপীনাথপুর বাজারের মাহবুব হোসেনসহ  মৌসূমী চামড়া ব্যবসায়ীগন জানান, তারা ঘুরে ঘুরে খুচরা মূল্যে চামড়া কিনে তা বিক্রি করে আসছেন। বাজার দর তুলনা করলে ৪০ বছরের মধ্যে এবারেই চামড়ার বাজার দরের সব চেয়ে খারাপ অবস্থা।

জয়পুরহাট শহরের জানিয়ার বাগান এলাকার রায়হান হোসেন জানান, ‘কম দামে চামড়া কিনে মনে করলাম বেশী লাভ হবে।  আমি ৬০ হাজার টাকার চামরা কিনে ৫২ হাজার টাকায় বিক্রি করলাম, এখানে ৮ হাজার টাকা লোকসান গুনলাম।’ একই মন্তব্য করে অন্যান্য মৌসুমি চামড়া বিক্রেতারা বলেন, স্মরনকালের এমন ভয়াবহ দর পতনের শিকার হচ্ছেন  এক দিকে মৌসুমী বা ফরিয়া ব্যবসায়ীরা, অন্য দিকে বঞ্চিত হেেচ্ছন কোরবানীর চামড়া বিক্রির টাকা যারা অনুদান হিসেবে পেয়ে থাকেন।

ট্যানারী মালিকরা সিন্ডিকেট করে সরকারি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে নিজেদের মন মর্জ্জি মত পানির দামে চামরা বিক্রি করতে বাধ্য করছেন বলেও অভিযোগ চামড়া ব্যাবসায়ীদের।

জয়পুরহাট চামড়া ব্যাবসায়ী সমিতির নেতা অহেদুল হোসেন ছোটন অভিযোগ করেন ফরিয়াদের কাছ থেকে গরুর চামরা ৩০০, ৪০০, ৫০০, ৬০০, ৭০০ আর ভালো হলে হাজার টাকায়ও চামরা কিনছি, এরপর ট্যানারী মালিকরা যে এই মালগুলো কিনবে তারও নিশ্চয়তা নাই, সরকার ৪০ টাকা ফুট বেঁধে দিলেও ট্যানরী মালিকরা ২০/২৫ টাকা দেয় আর বকরীর চামড়ার তো অবস্থা আরো খারাপ অবস্থা

সরেজমিন ঘুরে জেলার চামড়া ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে আরো জানা গেছে, ট্যানারী মালিকদের কাছে জয়পুরহাটের চামড়া ব্যাবসায়ীদের পাওনা প্রায় শতকোটি টাকা। দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া টাকা না পাওয়ায় পুঁজি হারিয়েছে এসব ব্যবসায়ীরা। তাই এ শিল্পকে রক্ষা করতে চামড়ার ন্যায্য মূল্য নির্ধারন করার দাবী সংশ্লিষ্টদের।


সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
সম্পাদক
শরীফ মুজিবুর রহমান
নির্বাহী সম্পাদক
নাঈম পারভেজ অপু
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক
মমতাজ বেগম
কার্যালয়
১০৫, এয়ারপোর্ট রোড, আওলাদ হোসেন মার্কেট (৩য় তলা)
তেজগাঁও, ঢাকা-১২১৫।
ফোন ও ফ্যাক্স :+৮৮০-০২-৯১০২২০২
সেল : ০১৭১১২৬১৭৫৫, ০১৯১২০২৩৫৪৬
E-Mail: banglarchokh@yahoo.com, banglarchokh.photo1@gmail.com
© 2005-2019. All rights reserved by Banglar Chokh Media Limited
Developed by eMythMakers.com
Close