২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, সোমবার ০৩:১৭:০৪ পিএম
সর্বশেষ:

১৮ আগস্ট ২০১৯ ০১:৫২:২৫ এএম রবিবার     Print this E-mail this

জান দিবো তবু বালু দিবো না অস্তিত্ব রক্ষার দাবীতে মানববন্ধন

মোল্লা তোফাজ্জল, টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
বাংলার চোখ
 জান দিবো তবু বালু দিবো না অস্তিত্ব রক্ষার দাবীতে মানববন্ধন

টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে যমুনা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধের দাবীতে ফুঁসে উঠেছেন এলাকাবাসী। জান দিবো তবু বালু দিবো না এই স্লোগানে নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় মানববন্ধন করেছেন সাত গ্রামের তিন সহ¯্রাধিক মানুষ।

শনিবার দুপুরে বঙ্গবন্ধু সেতুর দক্ষিণ-পূর্ব পাশের্^ উপজেলার আলীপুরে দুই ঘন্টাব্যাপি মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ক্ষতিগ্রস্থদের অভিযোগ স্থানীয় প্রশাসন ও বিবিএ’র কিছু অসাধু কর্র্মকর্তাদের ম্যানেজ করেই চলে বালু উত্তোলন। তারা অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করেন।

মানববন্ধনে গ্রামবাসীর পক্ষে বক্তব্য রাখেন আব্দুর রাজ্জাক, বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম মাষ্টার, শামসুল আলম প্রমুখ।

বক্তব্যে আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বঙ্গবন্ধু সেতুর কোল ঘেঁষে যমুনা নদী থেকে দীর্ঘদিন যাবৎ বালু উত্তোলন করে আসছে উপজেলার গোহালিয়াবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হযরত আলী তালুকদার, গোহালিয়াবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সুলতান মেম্বারসহ একটি প্রভাবশালী মহল। বালু উত্তোলনের ফলে উপজেলার চর সিংগুলি, বন সিংগুলি, কায়েম সিংগুলি, জিদহ, ভৈরববাড়ী, আলীপুর, বেলটিয়া, খাগচড়া গ্রাম নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বাড়ী ঘর হারিয়ে নি:স্ব হয়েছেন সহ¯্রাধিক মানুষ।

বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম বলেন, বালু উত্তোলনের প্রতিবাদ করায় চাঁদাবাজির মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাদের হয়রানি করা হচ্ছে। বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শণ করে বালু উত্তোলনকারী। এরআগে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে গ্রামবাসীর সাথে বালু উত্তোলনকারীদের সাথে কয়েকবার সংঘর্ষ হয়েছে।

শামসুল আলম বলেন, বঙ্গবন্ধু সেতুর ৬ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে নদী থেকে বালু উত্তোলন নিষিদ্ধ হলেও তোয়াক্কা করে না প্রভাবশালীরা। দীর্ঘদিন যাবৎ বালু উত্তোলনের ফলে হুমকির মুখে পড়েছে বঙ্গবন্ধু সেতু। এছাড়া উত্তরবঙ্গে গ্যাস সংযোগের লাইনও রয়েছে হুমকিতে। যে কোন সময় গ্যাস লাইন বিস্ফোরণ হয়ে ঘটতে পারে মারাত্মক দূর্ঘটনা। ক্ষতিগ্রস্থরা জানান, বালু উত্তোলন করে পাহাড়সম মজুদ করা হয়েছে। উপজেলার গড়িলাবাড়ী গ্রামের জনাব আলী তালুকদার নামের কৃষক বলেন, নদীতে আমার বাড়ী সাত থেকে আটবার ভেঙে গেছে। নদী ভাঙণ রোধে বালু উত্তোলন বন্ধ ও স্থায়ী ব্যবস্থা চাই।

বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের অধীনে বঙ্গবন্ধু সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী আহসানুল কবীর পাভেল বলেন, সেতু এলাকায় ৬ কিলোমিটারের মধ্যে বালু উত্তোলন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তারপরেও একটি প্রভাবশালী মহল বালু উত্তোলন করার চেষ্টা করে। বালু উত্তোলনের প্রভাব পরোক্ষভাবে সেতুর উপর গিয়ে পড়ে। বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে মামলা ও ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান পরিচালিত হয়। আমরা তাদের বিরুদ্ধে সতর্ক আছি।

এ বিষয়ে কালিহাতী উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) শাহরিয়ার রহমান বলেন, বালু উত্তোলন বন্ধে আমাদের ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান পরিচালিত হয়। বর্তমানে বালু উত্তোলন বন্ধ রয়েছে।


সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
সম্পাদক
শরীফ মুজিবুর রহমান
নির্বাহী সম্পাদক
নাঈম পারভেজ অপু
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক
মমতাজ বেগম
কার্যালয়
১০৫, এয়ারপোর্ট রোড, আওলাদ হোসেন মার্কেট (৩য় তলা)
তেজগাঁও, ঢাকা-১২১৫।
ফোন ও ফ্যাক্স :+৮৮০-০২-৯১০২২০২
সেল : ০১৭১১২৬১৭৫৫, ০১৯১২০২৩৫৪৬
E-Mail: banglarchokh@yahoo.com, banglarchokh.photo1@gmail.com
© 2005-2019. All rights reserved by Banglar Chokh Media Limited
Developed by eMythMakers.com
Close