০৯ ডিসেম্বর ২০১৯, সোমবার ১১:৩৫:৪৭ এএম
সর্বশেষ:

১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০২:৩৫:৪৭ এএম মঙ্গলবার     Print this E-mail this

ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর পবিত্র আশুরা

মুহাম্মদ মহরম হোসাইন
বাংলার চোখ
 ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর পবিত্র আশুরা

আজ মহররম মাসের ১০ তারিখ তথা ইয়াউমে আশুরা।
আজ থেকে প্রায় চৌদ্দশত বছর পূর্বে ১৩৮০ চন্দ্র-বছর আগে  ৬১ হিজরি মহররম মাসের ১০ তারিখে বর্তমান ইরাকের ফুরাত নদীর তীরে কারবালা প্রান্তরে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স.) এর আদরের দৌহিত্র সৈয়দুনা  ইমাম হোসাইন (রা.) স্বপরিবারে শাহাদাৎ বরণ করেন। মহানবী (স.) যুগ ও সময়ের পর একশত বছরের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত চাঞ্চল্যকর মর্মান্তিক ট্র্যাজেডি এটি। শুধু মুসলমান নয়, বিশ্বের অন্যান্য ধর্মাবলীর মানুষও এই মর্মান্তিক ঘটনায় শিউরে উঠেন ও আফসোস করেন।

মর্মান্তিক এদিনে ইমাম হোসাইন ও তাঁর পরিবারের বিরল আত্মত্যাগের বিনিময়ে ইসলাম পুঃনজীবন ফিরে পেলেও এদিনটি বিশ্ব মুসলিমের কাছে শোক ও বেদনাদায়।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ব সাহিত্যে বহু কবিতা, গল্প, কাব্যগাঁথা, গবেষণা বই, প্রবন্ধ, নিবন্ধ ও উপন্যাস রচিত হয়েছে।

 
মহানবীর (দ.) ওফাতের পর ইসলামি খিলাফতের যে ধারাবাহিকতা চলে আসছিল তাকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে হজরত আমিরে মোয়াবিয়ার (রা.) এর পুত্র সত্যবিচ্যুত পাপাচার ইয়াজিদের অন্যায়ভাবে ক্ষমতারোহনের কারণেই কারবালার মর্মান্তিক কাহিনীর সূত্রপাত। শহিদ হতে হয় নবী বংশের উজ্জলতম পুতপবিত্র এ তারকাকে।

মহানবী (দ.) বিদায় হজের ভাষণে তাঁর পরবর্তী উম্মতদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন, কোরআন-সুন্নাহ তথা তাঁর পরিবারবর্গকে অনুসরণ করতে।

ইতিহাসের পান্ডু লিপি থেকে জানা যায়, কুফায় পৌঁছামাত্র নানা কুফাবাসী ও ওবাইদুল্লাহ বিন জিয়াদের নানান চালছাতুরী, কপটতা ও প্রতারণার শিকার হয়ে ইমাম হোসাইন (রা.) মদিনায় ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফুরাত নদীর অববাহিকা কারবালার প্রান্তর বেয়ে রওনা হলে ইমাম হোসাইনে সাথে থাকা পরিবারের নারী ও শিশুসহ ৭২ জনের একটি ছোট্ট শান্তিকামী দলের বিরুদ্ধে ইয়াজিদের বিশাল স্বশস্ত্র বাহিনী যুদ্ধ ঘোষণা করেন। এসময় সংঘাত ও রক্তপাতে না গিয়ে ইমাম হোসাইন ইয়াজিদের প্রতিনিধির কাছে তিনটি শান্তি প্রস্তাব পাঠান। কিন্তু ইয়াজিদের প্রতিনিধিত্বকারী বাহিনী সেই প্রস্তাব উপেক্ষা করে বিনা শর্তে ইয়াজিদের কাছে আত্মসমর্পন ও বায়াতের আহবান জানান। কিন্তু ইমাম হোসাইন স্বৈরচারি, একনায়কতান্ত্রিক শাসক ও ইসলাম বিকৃতকারী শোষকের কাছে মাথা নত না করে বরং ইয়াজিদের ই”ছাকৃতভাবে সৃষ্ট যুদ্ধ মোকাবেলার সিদ্ধান্ত নেন।  সর্বশেষ অসম এ যুদ্ধে বাধ্য হয়ে ইমাম হোসাইন ও তাঁর পরিবারের শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণ করতে হয়েছিল, সর্বশেষ অসুস্হ পুত্র জয়নুল আবেদীন বিন হোসাইন ও বোন জয়নাব ছাড়া বাকী ইমামসহ সকলেই নির্মমভাবে শহিদ হন।

এ অসম যুদ্ধ ইসলামের ইতিহাস তথা বিশ্ব ইতিহাসের একটি নির্মম হত্যাকান্ড হিসেবেই চিহ্নিত হয়ে আছে। ইমাম হোসাইন শাহাদত বরণ করেছেন তবু পাপাচার জালেম ইয়াজিদের বশ্যতা স্বীকার করেন নি। এ ঘটনা শুধু মুসলমানদের জন্য শিক্ষণীয় নয়, বরং সমগ্র বিশ্ব মানবের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত। অসত্য ও অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করাই আশুরার দিনের মূল শিক্ষা। ইমাম হোসাইন ইয়াজিদের অন্যায় প্রস্তাবে রাজি হলে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটতো না। বরং তিনি হয়ত পৃথিবীতে আয়েশি জীবন-যাপন করতে পারতেন।

ইমাম হোসাইন (রা.) জাগতিক আরাম-আয়েশ এবং নিরাপদ জীবনযাপনের চেয়ে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা করার জন্য আত্মত্যাগে উদ্বুদ্ধ হয়েছিলেন।  সেদিন শত্রুরা ভেবে ছিল ইমাম হোসাইন (রা.) ও তাঁর পরিবারবর্গের আত্মত্যাগে আহলে বাইয়াতের সমাপ্তি ঘটবে।

কিন্তু ইসলামের মূল স্রোতধারাকে পুনরুজ্জীবনের জন্য ইমাম হোসাইন (রা.) এর আত্মত্যাগকে বিশ্বের কোটি কোটি আহলে বাইয়াতের নবী প্রেমিকরা প্রতি বছর বেদনার্ত চিত্তে স্মরণ করছে ।

হযরত ইমাম হোসাইন (রা.) এর এই আত্মত্যাগ মানব জাতির জন্য মিথ্যা ও অসত্যের পথ পরিহার, সত্য, ন্যায় ও মানবতা ধারাকে সমুন্নত রাখতে শ্রেষ্ঠ নিয়ামতের প্রেরণা। তাঁর এ মহান আত্মত্যাগ বিশ্বমানবের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে আছে।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
সম্পাদক
শরীফ মুজিবুর রহমান
নির্বাহী সম্পাদক
নাঈম পারভেজ অপু
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক
মমতাজ বেগম
কার্যালয়
১০৫, এয়ারপোর্ট রোড, আওলাদ হোসেন মার্কেট (৩য় তলা)
তেজগাঁও, ঢাকা-১২১৫।
ফোন ও ফ্যাক্স :+৮৮০-০২-৯১০২২০২
সেল : ০১৭১১২৬১৭৫৫, ০১৯১২০২৩৫৪৬
E-Mail: banglarchokh@yahoo.com, banglarchokh.photo1@gmail.com
© 2005-2019. All rights reserved by Banglar Chokh Media Limited
Developed by eMythMakers.com
Close