২৩ অক্টোবর ২০১৯, বুধবার ১০:৫০:২৫ এএম
সর্বশেষ:

১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০২:৪২:২১ পিএম বুধবার     Print this E-mail this

মারধোর ও হত্যার হুমকির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

নড়াইল প্রতিনিধি
বাংলার চোখ
 মারধোর ও হত্যার হুমকির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

লোহাগড়া  উপজেলার বাগডাঙ্গা গ্রামের  অশিতীপর এক বৃদ্ধাকে হত্যার ঘটনায় পুলিশের  পক্ষপাতিত্ব , বাদি পক্ষকে হেনস্তা ও হুমকী এবং প্রকৃত দোষীর বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে নড়াইল প্রেসক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য রাখেন খুন হওয়া হাজেরা বেগমের  নাতি মোঃ নুরুল ইসলাম নয়ন। এ সময় তার পরিবারের ২০ সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

লিখিত বক্তব্যে নয়ন বলেন, লোহাগড়া উপজেলার বাগডাঙ্গা গ্রামের হাজেরা বেগম(৯১) ২০১০ সালে নিজ নামের  পৈত্রিক  সম্পত্তি  পূত্র লুৎফর রহমান ও  গোলাম রসুলের চার সন্তানের নামে দলিল করে দেয়। এতে একই পাড়ায় বসবাসকারী হাজেরা বেগমের বড় মেয়ের ছেলেরা  ক্ষুব্ধ হয়ে  আমাদের দু’পরিবারের ওপর হুমকি ধমকি, মারধর, ফসলের ক্ষতি সাধন, রাতে  বাড়িতে ঢিল ছোড়াসহ বিভিন্ন ধরনের অত্যাচার শুরু করে। ২০১৮ সালের  ৪ নভেম্বর আমাদের পরিবারের ৪জনসহ গ্রামের ১০জনকে কুপিয়ে জখম করে। এরপর আমাদের পরিবারের লোকদের ফাসাতে চলতি বছরের ৪ জানুয়ারী ঘরের মধ্যেই বৃদ্ধা দাদীকে প্রথমে বালিশ চাপা দিয়ে  খুন করে বাড়ির পাশের বাগানে নিয়ে গলা কেটে ফেলে রাখে।
অভিযোগ,পুলিশ এ ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে ৫ জানুয়ারী লোহাগড়া থানায় কর্মরত এ.এস.আই ওবায়দুল্লাহ (আসামি ফুফাতো ভাইদের ভগ্নিপতি) ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত ও সুরতহাল ভালোভাবে না করে কোন কারন ছাড়াই বুদ্ধি প্রতিবন্ধী আমিনকে এবং ৬ জানুয়ারী  চাচী লায়লী বেগমকে ধরে নিয়ে যায়।
পরে পুলিশ  ঘটনার রাতে ঘরে থাকা বুদ্ধি প্রতিবন্ধী আমিনকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে চাচী লায়লী  বেগমকে এ হত্যার সাথে জড়িত বলে স্বীকারোক্তি নেয়। পরে  এর  ধারাবাহিতকায় ১৬৪ ধারা জবানবন্দী  দিতে বাধ্য করা হয়।

এ ঘটনায় ৭ জানুয়ারী  নিহতের ছেলে গোলাম রসুল  বাদি হয়ে লোহাগড়া থানায় একটি হত্যা মামলা করেন মামলা নম্বর- ০৭/১৯।  মামলায়  প্রতিবেশী আতœীয় ইচামুল মোল্যা, আলীজান মোল্যা, ছলেমান মোল্যা, রহমত মোল্যা ও আতাউর খাঁ কে আসামী করা হয়।

লিখিত অভিযোগে আরো বলা হয়, হত্যা  মামলাকে ভিন্ন খাতে নিতে লোহাগড়া থানার তৎকালীন ওসি প্রবীর কুমার প্রভাব খাটিয়ে আমাদের টাইপকৃত এজাহার বাদ দিয়ে তাদের নিজের মতো করে এজাহার দিতে বাধ্য করেন। এছাড়া মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এস.আই মিল্টন কুমার আসামিদের গ্রেফতার করলেও তাদের প্রকৃত জিজ্ঞাসাবাদ না করেই কোর্টে চালান দেয়। ফলে আসামিরা কয়েকদিনের  মধ্যেই সহজেই জামিনে ছাড়া পেয়ে যায়।
সাংবাদিক  সম্মেলনে উপস্থিত পুলিশের কাছে মার খেয়ে জবানবন্দী দেয়া বুদ্ধি প্রতিবন্ধী আমিন এবং নিহতের ছেলের বৌ লায়লী  বেগম পুলিশের নির্যাতনের বর্ননা দেন এবং বর্তমানে তারা হুমকীর মধ্যে আছেন এ বিষয়টি স্বীকার করেন।
এদিকে মামলার সাথে জড়িত পুলিশ কমকর্তাদের পক্ষপাতমূলক আচরণে মামলার প্রকৃত আসামিরা আড়ালে থেকে যাচ্ছে এবং নির্দোষ ব্যক্তিকে দোষী সাবস্ত করা  হচ্ছে এই আশংবায়  গত ১৭ এপ্রিল পুলিশ হেড কোয়ার্টারে মামলাটি তদন্তের আবেদন করে ভূক্তভোগী পরিবারের লোকজন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ গত আগষ্ট মাসে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেষ্টিকেশন (পি.বি.আই.) কে ঘটনাটি তদন্তের নির্দেশ প্রদান করেন।
আতঙ্কিত ভূক্তভোগীরা সাংবাদিকদের বলেন,হত্যা মামলার আসামিরা জামিনে ছাড়া পেয়ে পরিবারের দু জনকে  শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করেছে এবং ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। বাড়ির ছেলেরা ভয়ে বাড়িতে থাকতে পারে না। এলাকার প্রভাবশালী একটি মহল আসামিদের পক্ষ নিয়েছে। তাদের দাবি,কোনো প্রকার প্রভাব ছাড়া হত্যা মামলার নিরপেক্ষ তদন্ত  হোক এবং প্রকৃত দোষী যেন সাজা পায় ।

লোহাগড়া থানার  ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোকাররম হোসেন পুলিশের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,বাদী যেখানে ভালো মনে করেছে সেখানেই তারা বিচার চাইতে পারে,এখানে আমারে কিছু বলার নাই।

মামলার বর্তমান তদন্তকারী  কর্মকর্তা পিবিআই(পুলিশ বুরো অব ইনভেস্টিগেশন) ইন্সপেক্টর মো.ফসিউর রহমান বলেন,মামলাটি পিবিআই তদন্ত করছে, সঠিক সাক্ষ্য প্রমান নিয়েই তদন্তকাজ শেষ হবে। ভূক্তভোগী পরিবারের পুলিশের প্রতি আস্থাহীনতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন,পিবিআই সঠিকভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করবে।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
সম্পাদক
শরীফ মুজিবুর রহমান
নির্বাহী সম্পাদক
নাঈম পারভেজ অপু
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক
মমতাজ বেগম
কার্যালয়
১০৫, এয়ারপোর্ট রোড, আওলাদ হোসেন মার্কেট (৩য় তলা)
তেজগাঁও, ঢাকা-১২১৫।
ফোন ও ফ্যাক্স :+৮৮০-০২-৯১০২২০২
সেল : ০১৭১১২৬১৭৫৫, ০১৯১২০২৩৫৪৬
E-Mail: banglarchokh@yahoo.com, banglarchokh.photo1@gmail.com
© 2005-2019. All rights reserved by Banglar Chokh Media Limited
Developed by eMythMakers.com
Close