২৩ অক্টোবর ২০১৯, বুধবার ১১:২৪:৫১ এএম
সর্বশেষ:

২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০৭:০৮:৪১ পিএম রবিবার     Print this E-mail this

বশেমুরবিপ্রবি-র ভিসির পদত্যাগের দাবীতে চলছে আন্দোলন

ষ্টাফ করেসপন্ডেন্ট, গোপালগঞ্জ
বাংলার চোখ
 বশেমুরবিপ্রবি-র ভিসির পদত্যাগের দাবীতে চলছে আন্দোলন

গোপালগঞ্জ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্বাবিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. খোন্দকার নাসিরউদ্দিনের পদত্যাগের এক দফা দাবীতে চতুর্থ দিনের মত বিরতিহীন আন্দোলন করছে শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনের মুখে গতকাল শনিবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষনা করে সকাল ১০টার মধ্যে হল ত্যাগের নির্দেশ দেয়া হলেও অধিকাংশ শিক্ষার্থী হল ছাড়েননি। তবে কিছু সংখ্যক ছাত্রী হল ছাড়েছে। এ আন্দোলনের সাথে আওয়ামী লীগসহ অঙ্গ সংগঠেনর নেতৃবৃন্দের একত্মতা ঘোষনা করেছে। এদিকে শিক্ষার্থীদের উপর হামলার ঘটনায় তিন সদস্যদের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

জানাগেছে, বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া উপচায্য প্রফেসর ড. খোন্দকার নাসিরউদ্দিনের পদত্যাগের এক দফা দাবীতে চতুর্থ দিনের মত বিরতিহীন আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে শিক্ষার্থীরা। সকাল থেকে বিভিন্ন স্থান থেকে মিছিল সহকারে শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে এসে প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে আন্দোলন করছেন। বেলা বাড়ার সাথে সাথে আন্দোলন স্থানে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে।

আন্দোলনের প্রেক্ষিতে গত শনিবার বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করে শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেয়া হলেও অধিকাংশ শিক্ষার্থীই সে আদেশ মানেনি। তারা তাদের আন্দোলন অব্যাহত রেখেছে। এদিকে ক্যাম্পাসের বাইরে বিভিন্ন স্থানে শনিবার বহিরাগতদের হামলায় ২০ শিক্ষার্থী আহত হওয়ার ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা আবোরো হামলার আশংকা রয়েছে শিক্ষার্থীরা। এ হামলার ঘটনার প্রতিবাদে সহকারী প্রক্টর মোঃ হুমায়ূন কবীর পদত্যাগ করেন।

এ হামলার ঘটনায় ইলেক্ট্রিক্যাল এ্যন্ড ইলেক্ট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ডীন প্রফেসর ড. আব্দুর রহিমকে প্রধান, আইন বিভাগের ডীন আঃ কুদ্দুছ মিয়াকে সদস্য সচিব ও ড. সামচুল আরেফিনকে সদস্য করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাদেরকে তদন্ত করে তারা আগামী ৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।

এদিকে, গোপালগঞ্জ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্বাবিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. খোন্দকার নাসিরউদ্দিনের পদত্যাগের এক দফা দাবীতে চলমান আন্দোলনের চতুর্থ দিনে জেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন। রোববার দুপুরে জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান চৌধুরী এমদাদুল হকের নেতৃত্বে জেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ক্যাম্পাসে এসে সংহতি প্রকাশ করেন। পরে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন, জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান চৌধুরী এমদাদুল হক, সাধারন সম্পাদক মাহাবুব আলী খান ও জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আব্দুল হামিদ। এসময় জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শেখ রুহুল আমিন, গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও পৌর মেয়র কাজী লিয়াকত আলী লেকু, সাধারন সম্পাদক রফিকুল ইসলাম মিটু, জেলা যুব লীগের সভাপতি জি.এম সাহাবউদ্দিন আযম, সাধারন সম্পাদক এমবি সাইফ, টুঙ্গিপাড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সোলায়মান বিশ্বাস, টুঙ্গিপাড়া পৌর আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক শেখ তোজাম্মেল হোসেন টুটুল।

এসময় জেলা আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ বলেন, আমরা মনে করি এটা শিক্ষার্থীদের ন্যায্য আন্দোলন। তাই আমরা তাদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করতে ক্যাম্পাসে এসেছি।আশা করবো শিক্ষার্থীরা কোন হিংসাত্মক আন্দোলন করবে না। শান্তিপূর্ণভাবে তাদের আন্দোলন করবে।

শিক্ষর্থীরা জানান, আমাদের একটাই দাবী ভিসির পদত্যাগ চাই। তিনি পদত্যাগ না করা পয্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব। বিশ্ববিদ্যালয় আন্দোলন থামাতে ছুটি ও হল ত্যাগের ঘোষনা দিলেও আমরা হল ত্যাগ করিনি। তবে আবারো হামলার আশংকা শিক্ষার্থীরা তাদের বন্ধুদের মেসে আবস্থান নিচ্ছে এবং আন্দোলনে যোগ দিচ্ছে।

তিন সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রধান ড. আব্দুর রহিম খান জানান, অল্প সময়ের মধ্যে আমরা তদন্তের চিঠি পেয়েছি। ইতিমধ্যে আমরা তিনজন সদস্য একে অপরের সাথে যোগযোগ করেছে। একজন সদস্য খুলনায় রয়েছে। তিনি আসলে সাথে সাথেই আমাদের তদন্ত কায্যক্রম শুরু হবে। তদন্ত শেষ করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ভারপ্রাপ্ত সহকারী প্রক্টর ড. বশির উদ্দিন বলেন, আমরা চাই না আমাদের শিক্ষার্থীদের সাথে বাজে কোন সম্পর্ক হোক। হয়তো তারা বুঝবে তাদের কি দাবী নেমে নেয়া হয়েছে এবং তারা আন্দোলন থামিয়ে ক্লাশে ফিরে যাবে। শিক্ষার্থীরা তাদের আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে, তবে এটা দ্রুত সমাধানের দিকে যাচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, এ বিয়য়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে সত্য ঘটনা বের হয়ে আসবে। ঘটনা কোন দিকে যাচ্ছে এটা তদন্ত কমিটি খুঁজে বের করবে। এখানে উপচায্য কতটুকু এটার জন্য দায়ী, কতটুকু গ্রহনযোগ্য হবে সব মিলিয়েই তদন্ত কমিটি সিদ্ধান্ত দিবে।

প্রসঙ্গত, গত ১১ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী ও ক্যাম্পাস সাংবাদিক ফাতেমা তুজ জিনিয়াকে সাময়িক বহিষ্কার করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। গত বুধবার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ওই ছাত্রীর বহিষ্কারাদেশ তুলে নেন। বৃহস্পতিবার থেকে শিক্ষার্থীরা ভিসির বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা, অনিয়ম, দূর্নীতি, স্বজনপ্রীতিসহ নানা অভিযোগ এনে তাঁর পদত্যাগের দাবীতে এক দফা আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করেন এবং সে অনুযায়ী শিক্ষার্থীরা তাদের আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে।


সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
সম্পাদক
শরীফ মুজিবুর রহমান
নির্বাহী সম্পাদক
নাঈম পারভেজ অপু
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক
মমতাজ বেগম
কার্যালয়
১০৫, এয়ারপোর্ট রোড, আওলাদ হোসেন মার্কেট (৩য় তলা)
তেজগাঁও, ঢাকা-১২১৫।
ফোন ও ফ্যাক্স :+৮৮০-০২-৯১০২২০২
সেল : ০১৭১১২৬১৭৫৫, ০১৯১২০২৩৫৪৬
E-Mail: banglarchokh@yahoo.com, banglarchokh.photo1@gmail.com
© 2005-2019. All rights reserved by Banglar Chokh Media Limited
Developed by eMythMakers.com
Close