১৫ অক্টোবর ২০১৯, মঙ্গলবার ০২:৪৫:৪০ এএম
সর্বশেষ:

৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ১০:৫৭:১৮ পিএম সোমবার     Print this E-mail this

নবরূপে নবদুর্গা ও মহিষাসুরমর্দিনী নৃত্যনাট্য মঞ্চায়িত

রুপম আচার্য্য, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
বাংলার চোখ
 নবরূপে নবদুর্গা ও মহিষাসুরমর্দিনী নৃত্যনাট্য মঞ্চায়িত

দেবী দুর্গা মানে দশভুজা, দেবী দুর্গা মানে মহাশক্তি, মহামায়া, দেবী দুর্গা মানে মাতৃরূপী, শক্তিরূপী, বিপদতারিণী স্নেহময়ী জননী। দেবী দুর্গা শরৎকালে পূজিত হলেও, ভক্তের ডাকে দেবী দুর্গা বিভিন্ন রূপে মর্ত্যলোকে আবির্ভূতা হন। দেবী দুর্গা দশভূজা ছাড়া আরও নয়টি রূপে আবির্ভূতা হন। সব রূপেই দেবী মহাশক্তির আধার, প্রতি রূপেই দেবী মাতৃরূপা, কল্যাণময়ী, অশুভ শক্তি বিনাশিনী। দেবীর অনেক রূপের মাঝে নয়টি রূপ বিশেষভাবে, বিশেষ লগ্নে পুজিত হয়ে থাকেন, দেবীপক্ষের সূচনায় মহালয়া দিয়ে শুরু হয়ে দেবী দুর্গার বন্দনা। “উৎসব যার যার আনন্দ সবার” এই স্লোগান”কে ধারণ করে এই প্রথম মহালয়া উপলক্ষে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে “নবরূপে নবদুর্গা ও মহিষাসুরমর্দিনী” নৃত্যনাট্য মঞ্চায়িত হয়েছে।

রোববার সন্ধ্যায় শহরের ভানুগাছ রোডস্থ মহসিন অডিটোরিয়ামে এই প্রথম নৃত্যাঙ্গনের আয়োজনে “নবরুপে নব দুর্গা ও মহিষাসুরমর্দিনী” নৃত্যনাট্য`তে বিভিন্ন রুপে ছিলেন শৈলপুত্রী রুপে-প্রজ্ঞা পারমিতা একা, ব্রহ্মচারিনী রুপে - সংগিতা দেব,  চন্দ্রঘণ্টা রুপে - অপরাজিতা ঐশী,  কুস্মান্ডা রুপে- বন্দনা চক্রবর্তী,  স্কন্দমাতা রুপে- অন্বেষা দেবনাথ দোলা,  কাত্যায়নী রুপে - তিথি দেব পুজা,  কালরাত্রি রুপে - শতাব্দী চৌধুরী রিয়া,  মহাগৌরী রুপে - লিপি রায়,  সিদ্ধিধাত্রী রুপে - চন্দ্রিমা গোস্বামী তিথি ও দুর্গা রুপে - টুম্পা দেব, শিব রুপে- সাজু দেব, মহিষাসুর রুপে-অদ্রি বর্মন, ইন্দ্র রুপে- শোভন রায়, কাম দেব ও বিষ্ণু রুপে - বিজয় সরকার, মেনকা রুপে- পিয়ালী চন্দ, স্কন্দ রুপে-ঋদ্ধিমান দেব শ্লোক,  ব্রহ্ম রুপে- নিঝুম চক্রবর্ত্তী ও সখী-তমা দেব, অস্মি দেব, পুষ্পিতা দে, অমি রায়, পৃথা ধর, কৃষ্ণা সরকার প্রমুখ।

উল্লেখ্য,  ১) শৈলপুত্রীঃ ব্রহ্মা মহাদেবী দুর্গার যে নবরূপের বর্ণনা দিয়েছেন তা মধ্যে প্রথমেই শৈলপুত্রীর নাম পাওয়া যায়। কূর্মপুরাণে শৈলপুত্রীর কাহিনী রয়েছে। ভগবতী সর্বস্থানে ঐশ্বর্য্যময়ী হয়েও ভক্ত শৈলের পুত্রীত্ব স্বীকার করেন। শৈল কঠোর তপস্যা দ্বারা মহাদেবীকে প্রার্থনা করেন। এজন্য ভগবতী ভক্ত বাৎসল্য প্রদর্শন করে করুণা -বসতঃ শৈলের পুত্রীত্ব স্বীকার করেন। শৈলপুত্রী মঙ্গলমহী, ভক্তবৎসল।

২) ব্রহ্মচারিণীঃ ব্রহ্মচারিণী হল দেবী দুর্গার দ্বিতীয় রূপ, দেবী ব্রহ্মচারিণীর মূর্তি খুবই চাকচিক্যমণ্ডিত। দেবীর ডান হস্তে পদ্মফুল, বামহস্তে কমণ্ডলু। ব্রহ্মচারিণী অর্থে ব্রহ্মরূপপ্রদা। স্বচ্চিদানন্দ ব্রহ্মপ্রাপ্তি তাঁর শীল বা স্বভাব। ব্রহ্মচারীণি আজীবন কুমারী থাকেন।

৩) চন্দ্রঘণ্টাঃ দেবী দুর্গার তৃতীয় রূপ হচ্ছে চন্দ্রঘণ্টা। দেবী চন্দঘন্টা খুবই মহোময়ী ও উজ্জ্বল । গাত্রবর্ণ স্বর্ণোজ্জ্বল, ত্রিনয়নী দেবী চন্দ্রঘণ্টার দশ হাত।চন্দ্রঘন্টা চন্দ্র অপেক্ষা লাবণ্যবতী, সোন্দর্য্যমন্ডিতা। মূলত চন্দ্রের ঘন্টাকে চন্দ্রঘন্টা বলে।

৪) কুশমণ্ডাঃ দেবী দুর্গার চতুর্থ রূপ কুশমণ্ডা।কুৎসিত উষ্মা, তাপত্রয় রূপ-সন্তাপ যে সংসারে অবস্থিত, যাঁর মাংসপেশী সমূহ পেশীময় উদর স্বরূপ অন্ডে থাকে তিনি দেবী কুম্মাণ্ড। দেবী কুশমণ্ডার আট হাত, আট হাতের সাতটি হাতে শত্রুনিধন মারণাস্ত্র শোভা পায়, ডান পাশের এক হাতে ধরা থাকে পদ্মফুল। দেবী কুশমণ্ডার বাহন ‘সিংহ’।

৫) স্কন্দমাতাঃ ভগবতী গর্ভজাত সনৎকুমার স্কন্দ নামে পরিচিত। ছান্তোজ্ঞ উপনিষদে আছে, ‘ভগবান সনৎকুমার নিজেকে স্কন্দ নামে আখ্যায়িত করেছেন। জ্ঞানীগণ যার উদরে জন্মগ্রহণের অভিলাস করেন। সেই শুদ্ধা দেবীই স্কন্দমাতা।

৬) কাত্যায়নীঃ দুর্গার ষষ্ঠতম রূপটি হচ্ছে দেবী কাত্যায়নী। দিব্যকর্ম সম্পাদনের জন্য মহর্ষি কাত্যায়নের আশ্রমে ভগবতী আবির্ভূতা হন এবং তার কন্যাত্ব স্বীকার করেন। আবার কোন কোন পুরাণ বলছেন যে কাত্যায়ন ঋষি নিজের মানস থেকে দেবী দুর্গাকে সৃষ্টি করেন বলেই দেবীর একনাম কাত্যায়নী। দেবী কাত্যায়নীর আট হাত, প্রতি হাতে ধরে আছেন শত্রু নিধনের জন্য মারণাস্ত্র। দেবী কাত্যায়নী ত্রিনয়নী, তার বাহন সিংহ।

৭) দেবী কালরাত্রিঃ ‘কালরাত্রি’ হল দেবী দুর্গার সপ্তম রূপ । দেবী কালরাত্রির গায়ের রং নিকষ কালো, মাথার চুল খোলা। কালরাত্রি অর্থে সর্বনাশক কালেরও নাশিকা রাত্রি। তিনি বিপদকালে সকল কিছু বিনাশ করেন। কালরাত্রি প্রলয়কালকেও বিনাশ করতে পারেন।

৮) মহাগৌরীঃ দুর্গার অষ্টম রূপের নাম ‘মহাগৌরী’। আট বছর বয়সী দেবী মহাগৌরীর গাত্রবর্ণ শঙ্খ, চাঁদ অথবা জুঁই ফুলের মতো সাদা। শুধু গাত্রবর্ণই নয়, তার পরিধেয় বস্ত্র, অলঙ্কারও শ্বেত-শুভ্র। দেবী মহাগৌরীর বাহন ষাঁড়, ষাঁড়ের পিঠে উপবিষ্ট অষ্টমবর্ষী মহাগৌরী দেবী ত্রিনয়নী, প্রতি পাশে দুই হাত মিলিয়ে তার হাতের সংখ্যা চার।

৯) সিদ্ধিদাত্রী-মহাশক্তিঃ সিদ্ধিকাদেবী হলেন মোক্ষদা। সিদ্ধিকা শব্দের সহিত নবম অন্বিত হলে নবদুর্গা হন। এর অর্থ একই দুর্গার নবভেদ। যোগীর ধোয়রূপে যাহা শাস্ত্রে কথিত তাহাই ব্রহ্মাদ্বারা কীর্তীত হল। এসকল নাম স্বয়ং ব্রহ্মা কীর্তন করেছেন বলেই আজ দেবী দুর্গার প্রচলন বিশ্বব্যাপী বৃদ্ধি পাচ্ছে।দুর্গার মায়ের নবম রূপটি সিদ্ধিদাত্রী হিসেবে পুজিত হয়। সিদ্ধির আট প্রকার : অনিমা, মহিমা, গরিমা, লঘিমা, প্রাপ্তি, প্রকাম্য, ঈষিতভা, (ঈষিত্ব) ভাষিতভা (ভাষিত্ব)। মহাশক্তি এই আটটি সিদ্ধি পূরণ করেন। ‘দেবীপুরাণে’ বলা হয়েছে, স্বয়ং শিব দেবী মহাশক্তির সাধনা করে সকল সিদ্ধি লাভ করেছেন, সিদ্ধিলাভের পর দেবী মহাশক্তির ইচ্ছায় শিবের দেহের অর্ধেক নারীত্ব লাভ করে, যে কারণে শিব ঠাকুর ‘অর্ধনারীশ্বর’ রূপে বিখ্যাত। দেবী মহাশক্তির চার হাত, সিংহের পিঠে আসন গ্রহণ করেছেন, দেবী মহাশক্তির মুখশ্রীতে সর্বদা সন্তুষ্টির ছাপ দেখা যায়।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
সম্পাদক
শরীফ মুজিবুর রহমান
নির্বাহী সম্পাদক
নাঈম পারভেজ অপু
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক
মমতাজ বেগম
কার্যালয়
১০৫, এয়ারপোর্ট রোড, আওলাদ হোসেন মার্কেট (৩য় তলা)
তেজগাঁও, ঢাকা-১২১৫।
ফোন ও ফ্যাক্স :+৮৮০-০২-৯১০২২০২
সেল : ০১৭১১২৬১৭৫৫, ০১৯১২০২৩৫৪৬
E-Mail: banglarchokh@yahoo.com, banglarchokh.photo1@gmail.com
© 2005-2019. All rights reserved by Banglar Chokh Media Limited
Developed by eMythMakers.com
Close