১৯ নভেম্বর ২০১৯, মঙ্গলবার ০৯:৫১:৩৮ এএম
সর্বশেষ:

০৮ অক্টোবর ২০১৯ ০১:৫৫:০৪ এএম মঙ্গলবার     Print this E-mail this

কিছুই না পেয়ে অনেক কিছু দেয়া হলো

ডেক্স রিপোর্ট
বাংলার চোখ
 কিছুই না পেয়ে অনেক কিছু দেয়া হলো

মাঝে মাঝে এমন হয় যে লেখার কোনো টপিক পাই না। আর টপিক পেলেও নানান রকম হিসাব নিকাশ করতে হয়। স্পর্শকাতর বিষয়ে লিখতে গেলে হিসাব করতে হয়, আইনের চোখে ফেঁসে যাবো কিনা, সরকার এটা কীভাবে দেখবে ইত্যাদি ইত্যাদি। আবার মাঝে মাঝে একদিনে এতো টপিক আসে যে কোনটা ছেড়ে কোনটা লিখবো তার কোনো দিশা পাই না। আজকে হয়েছে তেমনি অবস্থা। অনেকগুলো খবর। সবগুলোই হট নিউজ। লিখতে হবে তো একটি টপিকের ওপর। কিন্তু বিষয়বস্তু অনেকগুলো। এই ধরুন, টপ ক্যাসিনো সম্রাট ইসমাইল হোসেন সম্রাট গ্রেফতার। ঐ দিকে বাংলাদেশ ভারতের মধ্যে যে চুক্তি এবং সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে সেখানে ভারতকে ফেনী নদীর পানি দেওয়া হয়েছে। অথচ আমরা তিস্তা নদীর পানি পাওয়ার কোনো সম্ভাবনা দেখছি না। ভারতকে মংলা ও চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার করার অনুমতি আগেই দেওয়া হয়েছে। এবার সেই ব্যবহারের আইন কানুন ও গাইডলাইনগুলো নির্ধারণ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আর একটি গুরুত্বপূর্ণ খবর হলো, এবার ভারতকে আমাদের সমুদ্র তটে নজরদারি করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। অন্যেরা আশঙ্কা করছেন, এটি গণচীনের প্রতি একটি আঘাত। একটি অনলাইন পত্রিকায় দেখলাম, যুবলীগ প্রেসিডেন্ট ওমর ফারুক চৌধুরীর বিদেশ যাত্রার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। খবরটা এই জন্য উল্লেখ করলাম যে, ঐ অনলাইন নিউজ পোর্টালের যিনি সম্পাদক তিনি আওয়ামী লীগের ঊর্ধ্বতন মহলের সাথে তার উঠা বসা আছে। আরও আছে। লিফট কেনার জন্য একটি বিশ^বিদ্যালয়ের ৮ জন শিক্ষক এবং কর্মকর্তার ইউরোপ সফর। খবরের কি শেষ আছে? বেগম খালেদা জিয়াকে জামিনে মুক্ত করার জন্য প্রথমে পর্দার অন্তরালে এবং পরে প্রকাশ্যে দেন দরবার। এই দেনদরবারের চূড়ান্ত ফলাফল এখনো অজ্ঞাত। এই ধরনের অনেক খবর, যা পড়লে ভিরমী খেতে হয়। চেষ্টা করবো যতগুলো আইটেম সম্ভব, ততগুলো কাভার করার। তারপর যদি স্পেসে না কুলায় এবং পরবর্তী সপ্তাহে বাসি না হয়ে যায় তাহলে বাকিগুলো লিখবো।

প্রথমেই আসি সম্রাটের গ্রেফতারে। সকলেই পত্রপত্রিকায় পড়েছেন যে, কুমল্লিার চৌদ্দগ্রামের একটি গ্রামে একজন পরিবহন ব্যবসায়ীর বাড়ি থেকে রোববার সুবেহ্ সাদিকের সময় র‌্যাব তাকে অ্যারেস্ট করে। এর আগে র‌্যাব রাত ১২টা থেকে সমস্ত গ্রামটি ঘিরে ফেলে। ভোরবেলা তাকে গ্রেফতার করা হয় এবং তারপর তাকে ঢাকা আনা হয়। যখন এই কলামটি ছাপা হবে তখন আপনারা তার রিমান্ড এবং তার বিরুদ্ধে কী কী অভিযোগ সেগুলো খবরের কাগজে দেখবেন।

কিন্তু সম্রাটের গ্রেফতারের ব্যাপারে আমার একটি প্রশ্ন রয়েছে। ক্যাসিনো বিরোধী অভিযান শুরু হয়েছে ১৮ সেপ্টেম্বর। আর তাকে গ্রেফতার করা হলো ১৬ দিন পর ৬ অক্টোবর। কেনো এই বিলম্ব? বলা হচ্ছে, বিলম্ব নয়, গড়িমসি। পুলিশকর্তারা পরোক্ষভাবে বলতে চেয়েছেন যে, এই ১৬ দিন ধরে সম্রাটের প্রতি মুহূর্তের প্রতিটি খবর তাদের নখদর্পণে ছিলো। কিন্তু গ্রেফতারের ব্যাপারে তারা গ্রিন সিগন্যাল পাচ্ছিলেন না।

গ্রিন সিগ্যানলের এই অভিযোগটি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন ধানমন্ডির এমপি প্রধানমন্ত্রীর ফুফাতো ভাই যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা শেখ ফজলুল হক মণির পুত্র শেখ ফজলে নূর তাপস এমপি। এমপি তাপস প্রশ্ন করেছেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পরেও কেন সম্রাটকে আটক করা হয়নি? তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দেয়ার পরও কেন এখন পর্যন্ত সম্রাটকে আটক করা হয়নি? কেন এ নিয়ে ধূম্রজাল সৃষ্টি করা হচ্ছে? তাকে বাঁচানোর জন্য কারা ষড়যন্ত্র করছে, পাঁয়তারা করছে। এগুলো আমাদের দেখতে হবে।’ একই সাথে ফজলে নূর আরো কতগুলো প্রশ্ন তুলেছেন, যেগুলো পড়ে এবং শুনে মানুষ রীতিমতো হতভম্ব। কারণ এসব প্রশ্ন এতদিন বিরোধী দল করে আসছিলো। সরকার এসব গুরুত্বর অভিযোগে কোনো গা করছিলো না। সেই ধরনের অভিযোগেরই পুনরাবৃত্তি করেছেন জনাব তাপস।

তিনি প্রশ্ন করেন, বেসিক ব্যাংককে ডুবিয়েছে আবদুল হাই বাচ্চু। আজ পর্যন্ত কেন দুর্নীতি দমন কমিশন তার বিরুদ্ধে মামলা করেনি, তাকে আটক করেনি? সিটি কর্পোরেশনের এই ব্যর্থতা কেন? মশা মারার অর্থ কাদের পকেটে গেছে, কাদের পকেটে যায়? কে বা কারা এই প্রকল্প থেকে ২০ ভাগ টাকা আগেই পকেটস্থ করে? তাদের বিরুদ্ধে আগে ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রকল্পে বালিশের দাম চড়া করা হয়, পরে সেই প্রকল্প ভাগাভাগি করা হয়। এর পেছনে বা নেপথ্যে কারা এই ষড়যন্ত্রকারী? তাপস এমপি দাবি করেন যে, এসব দুর্নীতিকে আগে দেখতে হবে।

জনগণের মনে প্রশ্ন হলো এই যে, সমস্ত মিডিয়ার দাবি অনুযায়ী ঢাকা দক্ষিণ যুবলীগের চেয়ারম্যান সম্রাট প্রথম থেকেই গোয়েন্দাদের নজরদারিতে ছিলেন। তাকে সর্বক্ষণ ফলো করা হয়েছে। তিনি কুমিল্লা হয়ে ভারতে পালিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। সেটিও গোয়েন্দারা জেনে ফেলে এবং দেশের বিমান ও স্থল বন্দরগুলোকে এই মর্মে সতর্ক করা হয় যে, ইসমাইল হোসেন সম্রাট যেনো বিদেশ পালাতে না পারে। যদি এই খবর সত্য হয় যে, সম্রাট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং গোয়েন্দা বাহিনীর ২৪ ঘণ্টা নজরদারিতে ছিলেন তাহলে তাকে ধরতে ১৬ দিন লাগলো কেন? প্রধানমন্ত্রীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও স্নেহভাজন আত্মীয় বলে পরিচিত ফজলে নূর তাপস এসব প্রশ্ন করার ফলেই কি সম্রাট গ্রেফতার হলেন?

দুই

এর পাশাপাশি আর একটি খবরেও মানুষ হতবাক হয়ে গেছেন। সেটি হলো নিউজ পোর্টাল ‘বাংলা ইনসাইডারের’ খবর। কট্টর আওয়ামী লীগপন্থী বলে পরিচিত সম্পাদক বোরহান কবিরের এই অনলাইন পত্রিকায় নিম্নরূপ রিপোর্ট করা হয়েছে: ‘বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীর ব্যাংক হিসাব তলবের পর তার বিদেশ যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। সরকারের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, সম্রাটসহ যুবলীগের একাধিক নেতা গ্রেফতার হওয়ার পর যুবলীগ চেয়ারম্যানের বিদেশ যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে যে, সাম্প্রতিক শুদ্ধি অভিযানে যেসব রাজনৈতিক নেতার দুর্নীতি, অনৈতিক কর্মকান্ডের বিষয় উঠে আসছে সেগুলো নিয়ে সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে যুবলীগ চেয়ারম্যানকে আপাতত দেশ না ছাড়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।’ উল্লেখ্য গত বৃহস্পতিবার যুবলীগ চেয়ারম্যানের ব্যাংক হিসাব তলব করা হয়েছিলো। এরপর আজ (রবিবার) তার বিদেশ যাওয়ার ওপরও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হলো।

তিন

সমস্যাটি শুধু ক্যাসিনোই নয়, তার চেয়েও বড় কিছু। তার চেয়েও ভয়াবহ কিছু। সেটিই শনাক্ত করেছেন শেখ মুজিব পরিবারেরই অপর এক সদস্য সাবেক এমপি ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ। তিনি তীব্র ব্যাঙ্গাত্মক ভাষায় বলেন, ছাত্রলীগের শোভন এবং রাব্বানীর ঘুষ খাওয়ার মধ্যে তেমন কোনো দোষ দেখেন না। পার্থ বলেন, ‘শোভন আর রাব্বানী ৮০ বা ৮৫ কোটি টাকা ঘুষ চেয়েছে, কিন্তু এতে সমস্যা কোথায়? তারা তো কোনো সিস্টেমের বাইরে নয়। তারা দেখছে যে ৭ হাজার কোটি টাকা বেসিক ব্যাংক খেয়ে ফেলছে, বছরে ১ লক্ষ কোটি টাকা পাচার হয়ে যাচ্ছে, মুজিব কোট আগে বশির টেইলার্স বানাতো, এখন দেখা যাচ্ছে সেটা ব্রিয়ানি বা আরমানি বানাচ্ছে, মহাসচিবদের হাতে রোলেক্স ঘড়ি, সবার লাইফ স্টাইল চেঞ্জ হয়ে যাচ্ছে, মহিউদ্দিন খান আলমগীর ব্যাংক খেয়ে ফেলছে, এ গাড়ি নিয়ে গেছে, ও লুট করছে- তাহলে ওদের দোষটা কোথায়? পার্থর মতে এটা সিস্টেমেরই একটা অংশ।

ক্যাসিনো অভিযান প্রসঙ্গে পার্থ বলেন, এর মাঝে সম্রাটের নাম আসছে, অনেকের নাম আসছে। কিন্তু এরা তো পাওয়ার প্ল্যান্টের ক্যাপাসিটি প্রাইসের মতো চালাক নয় যে, ৮ বা ১০ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাঠিয়ে দিয়ে বিলিয়োনিয়ার হবে। এরা তো একটা ব্যাংকও খেয়ে ফেলতে পারে না। এরা পারে লোকাল ব্যবসা করতে। এজন্য এরা এটাই চিন্তা করেছে।

যারা লোকাল প্ল্যান্টের ক্যাপাসিটি বৃদ্ধি করে, ব্যাংক খালি করে, ১ লক্ষ কোটি টাকা সিঙ্গাপুরে পাচার হয়, এটা তো শোভন-রাব্বানী বুঝছে না, ওরা শুধু শুনছে। ওরা ভাবছে যে আমরা কি করবো।

চার

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরকালে শনিবার ৫ অক্টোবর কয়েকটি সমঝোতা স্মারক এবং চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এসব স্মারক এবং চুক্তির সারমর্ম নিম্নরূপ:

(১) ত্রিপুরার সাবরুম শহরের পানীয় জলের চাহিদা মেটানোর জন্য বাংলাদেশ ভারতকে ১.৮২ কিউসেক পানি প্রত্যাহার করা বা নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে।

(২) কিন্তু তিস্তার পানি ভারত বাংলাদেশকে কবে দেবে সে সম্পর্কে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব নাই।

(৩) বাংলাদেশ ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চলের সাতটি রাজ্যে এলপিজি গ্যাস রপ্তানি করবে। বলা হয়েছে পরবর্তী পর্যায়ে ভারতের অন্যান্য রাজ্যেও এটি রপ্তানি করার টার্গেট রয়েছে। এতে বাংলাদেশের ভোক্তাদের ওপর চাপ বাড়তে পারে।

(৪) রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভারতের সমর্থনের বিন্দুমাত্রও আলামত পাওয়া যায়নি।

(৫) চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর ব্যবহারের জন্য ভারতকে আগেই অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এখন সেটির স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর প্রণয়নের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

(৬) ভারত বঙ্গপোসাগরের উপকূলে টহলদারি করার জন্য বাংলাদেশের নিকট অনুমতি চায়। সেই অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

(৭) ভারত থেকে অস্ত্র কেনার জন্য ভারত বাংলাদেশকে যে ঋণ দিতে চেয়েছিলো সেই ঋণের টাকা গ্রহণের জন্য বাংলাদেশকে আবার অনুরোধ করা হয়েছে।

(৮) ভারতকে যে ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা দেওয়া হয়েছে সেটি আরো বৃদ্ধি করা হয়েছে।

(৯) মনু, মহুরী, খোওয়াই, গোমতি, ধরলা এবং দুধকুমার নদীর পানি বণ্টনের উদ্দেশ্যে যৌথ নদী কমিশনের টেকনিক্যাল টিমকে উভয় দেশের মধ্যে তথ্য ও উপাত্ত বিনিময় করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশের উপকূলে নজরদারি করবে ভারত। এ জন্য ভারতকে উপকূল অঞ্চলে ২০টি নজরদারি রাডার স্থাপনের অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের নৌসীমানায় নজরদারি বাড়াতে এবং ভারত-বাংলাদেশ অভিন্ন উপকূলে দৃষ্টি রাখতে এসব রাডার স্থাপন করবে ভারত। বিশেষ করে এ অঞ্চলে চীনা যুদ্ধজাহাজ ও সাবমেরিনের উপস্থিতির কারণে এমন ব্যবস্থা নেয়া হয়ে থাকতে পারে বলে মনে করছে ভারতীয় মিডিয়া। এটা থেকে পরিষ্কার হয়ে গেলো যে, চীনের সাথে সম্পর্ক উন্নত হোক বা না হোক তাতে ভারতের আধিপত্য বিন্দুমাত্র ক্ষুন্ন হবে না।

পর্যবেক্ষকদের মতে, এবারের ৪ দিনের ভারত সফরে বাংলাদেশ কিছুই আনতে পারেনি। বরং, নতুন করে গুরুত্বপূর্ণ কিছু দিয়ে এসেছে।

ইনকিলাব

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
সম্পাদক
শরীফ মুজিবুর রহমান
নির্বাহী সম্পাদক
নাঈম পারভেজ অপু
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক
মমতাজ বেগম
কার্যালয়
১০৫, এয়ারপোর্ট রোড, আওলাদ হোসেন মার্কেট (৩য় তলা)
তেজগাঁও, ঢাকা-১২১৫।
ফোন ও ফ্যাক্স :+৮৮০-০২-৯১০২২০২
সেল : ০১৭১১২৬১৭৫৫, ০১৯১২০২৩৫৪৬
E-Mail: banglarchokh@yahoo.com, banglarchokh.photo1@gmail.com
© 2005-2019. All rights reserved by Banglar Chokh Media Limited
Developed by eMythMakers.com
Close