১৪ অক্টোবর ২০১৯, সোমবার ০৯:১৪:২৪ এএম
সর্বশেষ:

০৮ অক্টোবর ২০১৯ ০৯:২৪:৫৯ পিএম মঙ্গলবার     Print this E-mail this

চুয়াডাঙ্গা রেলস্টেশন ৩টি জেলার কেন্দ্রস্থল হলেও টিকেট চাহিদা মিটছেনা যাত্রীদের

রানা কাদির, বিশেষ প্রতিনিধি, চুয়াডাঙ্গা
বাংলার চোখ
 চুয়াডাঙ্গা রেলস্টেশন ৩টি জেলার কেন্দ্রস্থল হলেও টিকেট চাহিদা মিটছেনা যাত্রীদের

চুয়াডাঙ্গা জেলার ১০টি রেলস্টেশনে কোন যাত্রী পরিসেবাই নেই। চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও ঝিনাইদহ জেলার কেন্দ্রস্থল হলেও টিকেট চাহিদা মিটছেনা যাত্রীদের। এতে দারুন ভোগান্তির শিকার হচ্ছে যাত্রীরা। ট্রেন যাত্রা চুয়াডাঙ্গা থেকে শুরু করলেও যাত্রীরা  বেশী দামে টিকেট কিনছে পার্শবর্তী যশোর ও খুলনা থেকে। বেশী দামে অন্য জেলা থেকে টিকেট কিনে অর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হলেও রেল কর্তৃপক্ষ থেকে এর প্রতিকার না পেয়ে দিনের পর দিন বাড়তি টাকা ব্যয় করছে যাত্রী সাধারণ।
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার আন্দুলবাড়ীয়া গ্রামের ব্যবসায়ী জাহিদ ও আব্দুল লতিফ জানান, আনসারবাড়ীয়া রেলস্টেশনের সকল কার্যক্রম ভালভাবেই চলছিলো। কিন্তু হঠাৎ করে স্টেশনটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এ স্টেশনের পরিবেশ নষ্ট হয়ে গেছে। বসবার স্থান নেই। প্রভাবশালীরা গোটা স্টেশন তাদের ব্যবসার জন্য দখল করে নিয়েছে। বেশী দিন বন্ধ থাকলে আরো অকেজো হয়ে যাবে এ স্টেশনটি। এ স্টেশনে শুধু লোকাল ও মেইল ট্রেন থামে।
 চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার উথলী গ্রামের সংবাদকর্মী সালাউদ্দীন কাজল জানান, উথলী রেলস্টেশনে যাত্রীদের বসবার জায়গা থাকলেও সেখানে কোন শৌচাগার নেই। এ কারনে বয়স্ক, শিশু, পুরুষ ও মহিলা যাত্রীদের দারুন ভোগান্তী পোহাতে হচ্ছে।  চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা পৌর এলাকার বাসিন্দা ব্যবসায়ী হারুন অর রশীদ ও সাবেক জেলা পরিষদের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান মন্জু বলেন, দর্শনা হল্ট স্টেশন প্লাটফর্ম বাড়িয়েছে। কিন্তু সেখানে কোন সীমানা প্রাচীর না থাকার কারনে যাত্রীরা যে কোন সময় খাদের মধ্যে পড়ে গিয়ে দূর্ঘটনার শিকার হতে পারে। এছাড়া স্টেশনের অনেক অংশ জুড়ে কোন সেড নেই। সেজন্য যাত্রীরা রোদ বৃষ্টিতে সমস্যায় পড়ছে।  এ স্টেশনে প্রতিদিন কয়েকশত যাত্রীর জন্য একটি শৌচাগার আছে। এখানকার যাত্রী বিশ্রামাগারটি জিআরপি পুলিশের দখলে থাকায় যাত্রীরা সেটা ব্যবহার করতে পারেনা। তাছাড়া এ স্টেশনটি মাদক কারবারী ও পকেটমারদের দখলে থাকায় যাত্রীদের বড় রকমের ভোগান্তীর শিকার হতে হচ্ছে।
চুয়াডাঙ্গা রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার মিজানুর রহমান বলেন, এ স্টেশন থেকে চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও ঝিনাইদহ জেলার যাত্রীরা ট্রেনে যাতায়াত করে। স্টেশনে প্রতিদিন দেড় হাজারের মত যাত্রী বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করে। এখানে প্রথম শ্রেনী ও সাধারণ যাত্রীদের বিশ্রামাগার রয়েছে। কিন্তু প্রথম শ্রেনীর বিশ্রামাগার খোলা হয়না। গোটা স্টেশনে দুটি শৌচাগার রয়েছে। টিন সেড গুলো জরাজীর্ণ ও ফুটো হয়ে যাওয়ায় বৃষ্টিতে যাত্রীরা ভিজে যায়। অপেক্ষার জন্য এখানে কোন ঘর নেই। বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থা না থাকায় লোডশেডিংর্য়ে সময় সম্পূর্ণ প্লাটফর্ম অন্ধকারাচ্ছন্ন থাকে। যাত্রী সুবিধার জন্য প্লাটফর্ম দুধারে বাড়ানো হলেও সেখানে সেড ও বসবার জায়গা না থাকায় যাত্রীদের দাঁড়িয়ে থাকতে ও বর্ষাকালে বৃষ্টিতে যাত্রীদের ভিজতে হয়। তিনি বলেন, আন্ত:নগর ট্রেনে তিন জেলার যাত্রীর চাপ থাকলেও এখান থেকে টিকেট পাওয়া যায়না। কমপক্ষে ৬০টি তাপানুকুল ও কেবিনের টিকেট দেয়ার সামর্থ থাকলে কিছুটা ঝামেলা মুক্ত থাকা যায়। যাতায়াতের জন্য এ টিকেট গুলো বেশী দামে যশোর ও খুলনা থেকে সংগ্রহ করে যাত্রীরা। বিশেষ করে ঢাকা -চুয়াডাঙ্গা-খুলনাগামী আন্ত:নগর চিত্রা ও সুন্দরবন ট্রেনে টিকেট সঙ্কট প্রকট আকার ধারন করেছে। তাছাড়া ঢাকা-বেনাপোল আন্ত:নগর বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনটি চুয়াডাঙ্গা স্টেশনে থামার বিষয়টি বিবেচনার দাবী জানান তিনি। এতে টিকেট বিক্রি হলে রেলের রাজস্ব বাড়বে সেই সঙ্গে যাত্রীরা নির্বিঘেœ তাদের গন্তব্যে যাতায়াত করতে পারবে। তিনি বলেন, চুয়াডাঙ্গার দুটি রেলগেটে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা না থাকায় গেটম্যানদের দায়িত্ব পালন করতে যথেষ্ট সমস্যা হচ্ছে। এ ব্যাপারে তিনি উর্ধ্বতন রেল কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ আশা করেছেন।  তিনি আরো জানান, গত জুন মাসে চুয়াডাঙ্গা রেলস্টেশনে যাত্রীদের কাছে ৬০ লাখ ৮৯ হাজার ৯২৪, জুলাই মাসে ৫৭ লাখ ৪৬ হাজার ৯৩৬ ও আগস্ট মাসে ৬২ লাখ ৫২ হাজার ৮৭১ টাকার টিকেট বিক্রি হয়েছে।
    চুয়াডাঙ্গার মোমিনপুর রেলস্টেশন সরকারিভাবে বন্ধ হয়ে গেলেও সেখান থেকে বেসরকারিভাবে মেইল ও লোকাল ট্রেনের চলাচল করছে। অত্যান্ত খারাপ অবস্থায় রয়েছে প্লাটফর্মটি। সেটা দখলদারদের দখলে রয়েছে। এক অংশ দখল করে অবৈধভাবে গড়ে তোলা হয়েছে আওয়ামী লীগের কার্যালয়।
    সরকারিভাবে বন্ধ মুন্সীগঞ্জ রেলস্টেশন থেকে প্রত্যেকদিনই বেসরকারিভাবে চলাচল করা ট্রেন গুলো ছেড়ে যাচ্ছে। টিকেট বিক্রির ছোট একটি বন্ধ ঘরে সিগনালের কার্যক্রম পালাক্রমে পরিচালনা করছেন গেটম্যান আব্দুল গনি ও বিল্লাল হোসেন। গেটম্যান আব্দুল গনি বলেন, খুব সমস্যার মধ্যেই এ দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এটা দেখার কেউ নেই। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রেলস্টেশনের সিগনাল ঘরটি রেলের পরিত্যাক্ত জমি দখল করে ঘর তোলা ব্যক্তিরা তাদের শৌচাগার রুপে ব্যবহার করছে। এছাড়া দখলদাররা স্টেশনের প্লাটফর্মে ব্যবসা কেন্দ্র ও চা বিক্রির দোকান দিয়ে তাদের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।  
     পাবনা জেলার পাকশী রেলওয়ে বিভাগীয় ব্যবস্থাপক আহসান উল্লাহ ভূঁইয়া বলেন, এ বিভাগের আওতায় ১০টি জেলা রয়েছে। চুয়াডাঙ্গা জেলায় রয়েছে ১০টি স্টেশন। এ গুলো হলো আনসারবাড়ীয়া, উথলী, দর্শনা হল্ট, আন্তর্জাতিক স্টেশন দর্শনা, জয়রামপুর, গাইদঘাট, চুয়াডাঙ্গা, মোমিনপুর, মুন্সীগঞ্জ ও আলমডাঙ্গা। এর মধ্যে আনসারবাড়ীয়া, জয়রামপুর, গাইদঘাট, মোমিনপুর ও আলমডাঙ্গা রেলস্টেশনের সরকারি কার্যক্রম জনবল সঙ্কটের কারনে বন্ধ রয়েছে কিন্তু বেসরকারি ট্রেন গুলো এ সব স্টেশনে থেকে যাত্রী ওঠানামা করায় এবং টিকেট বিক্রি করে। তবে জনবল সঙ্কট নিরসন করে সরকারিভাবে প্রত্যেকটি রেলস্টেশনের কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে খুব দ্রুতই চালু করা হবে। তবে টিকেট সঙ্কটটির ব্যাপারে তিনি বলেন, এটা ওপরের ব্যপার সেকারনে এ বিষয়ে মন্তব্য করা যাবেনা।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
সম্পাদক
শরীফ মুজিবুর রহমান
নির্বাহী সম্পাদক
নাঈম পারভেজ অপু
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক
মমতাজ বেগম
কার্যালয়
১০৫, এয়ারপোর্ট রোড, আওলাদ হোসেন মার্কেট (৩য় তলা)
তেজগাঁও, ঢাকা-১২১৫।
ফোন ও ফ্যাক্স :+৮৮০-০২-৯১০২২০২
সেল : ০১৭১১২৬১৭৫৫, ০১৯১২০২৩৫৪৬
E-Mail: banglarchokh@yahoo.com, banglarchokh.photo1@gmail.com
© 2005-2019. All rights reserved by Banglar Chokh Media Limited
Developed by eMythMakers.com
Close