১৪ অক্টোবর ২০১৯, সোমবার ১০:১২:২৩ এএম
সর্বশেষ:

০৯ অক্টোবর ২০১৯ ০৩:০৫:১৫ পিএম বুধবার     Print this E-mail this

দে‌শে দ‌ুর্নী‌তিতে প্রচণ্ড উন্নয়ন হয়েছে: স‌ুলতানা কামাল

ডেক্স রিপোর্ট
বাংলার চোখ
 দে‌শে দ‌ুর্নী‌তিতে প্রচণ্ড উন্নয়ন হয়েছে: স‌ুলতানা কামাল

দে‌শে দ‌ুর্নী‌তিতে প্রচণ্ড উন্নয়ন হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও মানবাধিকার কর্মী সুলতানা কামাল। তিনি বলেন, ‘পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, যেখানে বালিশ কিনতে লাগে ১৪ হাজার টাকা, আর বালিশের কভার কিনতে লাগে ৭ হাজার টাকা। তার মানে আমরা উন্নয়ন করেছি দুর্নীতিতে। দুর্নীতিতে প্রচণ্ড উন্নয়ন করেছি।’

বুধবার (৯ অক্টোবর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে প্রতিবন্ধী নারীদের জাতীয় পরিষদ (এনসিডিডব্লিউ) আয়োজিত ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন ২০১৩ বাস্তবায়ন, বিদ্যমান পরিস্থিতি ও করণীয়’ বিষয়ক এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

সুলতানা কামাল ব‌লেন, ‘যদিও দেশে ক্যাসিনোর শুদ্ধি অভিযান চলছে। তবে অন্যদিকে ক্ষমতার দাপটে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকে পিটিয়ে মেরে ফেলছি। মানুষকে হয়রানি করছি। শেয়ার বাজার লুট করছি। এগুলো নিয়ে আমরা কিন্তু কোনও কথা বলছি না। সেই জায়গায় আমরা বিরাট উন্নয়ন করেছি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা প্রত্যেকেই প্রতিবন্ধীদের নিয়ে কতটা ভাবি, চিন্তা করি? আমরা তো বলে থাকি দেশ এখন উন্নয়নের মহাসড়কে এগোচ্ছে। বাংলাদেশ সারাবিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল হয়ে গেছে। আমরা কি এই উন্নয়নের সঙ্গে মানবিকতাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পেরেছি? উন্নয়নের সঙ্গে সভ্যতা‌কে তাল মিলিয়ে চালাতে পারছি? তাহলে আমরা উন্নয়ন বলতে কী বুঝাতে চাচ্ছি? শুধু কি রাস্তাঘাট, ইমারত, ব্রিজ তৈরি‌কে উন্নয়ন বলি?’

এই মানবাধিকার কর্মী বলেন, ‘২০১৩ সালে প্রতিবন্ধীদের নিয়ে যে আইনটি পাস করা হয়েছে, সে আইনটি বাস্তবায়িত হচ্ছে না। এর কারণ হলো প্রতিবন্ধীদের আমরা আন্তরিকতা সহকা‌রে দেখি না। আমরা যারা এই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হয়েছি, আমরাই কি তাদের কথা মন দিয়ে শুনি? নাকি শুধু নিজে বলার জন্য উপস্থিত হয়ে থাকি? শুধু তাই নয়, আমরা প্রত্যেক জায়গায় আন্তরিকভাবে দেখি না। নিজেদের মর্যাদাটুকু বুঝি না। অন্যায় অবিচার হলে তার প্রতিবাদ করার চেষ্টা করি না, যার কারণে প্রত্যেকটি জায়গায় দুর্নীতিতে ভরে গেছে ‘

তিনি বলেন, ‘প্রতিবন্ধীদের নিয়ে যে আইনটি প্রধানমন্ত্রী পাস করেছেন, কিন্তু যারা বাস্তবায়ন করবে তারা সে আইনটি বাস্তবায়ন করছে না। যদিও প্রধানমন্ত্রী একটি ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বলেছিলেন কোনও কোটা থাকবে না। সেটার কি কোনও দলিল লিখিত প্রমাণ আছে? ত‌বে প্র‌তিবন্ধী আইন বাস্তবায়ন হচ্ছে না কেন? প্রধানমন্ত্রী যখন আইনটি পাস করেছিলেন তার কোনও বাস্তবায়ন কিন্তু আমরা দেখি নাই। তবে যখন কোটা বাতিলের কথা বললেন, তখন কিন্তু আস্তে আস্তে কোটা বাতিল হয়ে যাচ্ছে।’

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক এই উপদেষ্টা বলেন, ‘প্রতিবন্ধী আইন বাস্তবায়ন করার দায়িত্বে যারা আছেন, তাদের কাছে অত্যন্ত আন্তরিকভাবে দাবি জানাচ্ছি— এই আইনটি বাস্তবায়ন করুন। কারণ, এটি আপনাদের নৈতিক দায়িত্ব, পেশাগত দায়িত্ব। আমাদের করের টাকা নিয়ে সেখানে বসে আছেন, এই দায়িত্ব পালনের জন্য।’

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি নাসিমা আক্তারের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
সম্পাদক
শরীফ মুজিবুর রহমান
নির্বাহী সম্পাদক
নাঈম পারভেজ অপু
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক
মমতাজ বেগম
কার্যালয়
১০৫, এয়ারপোর্ট রোড, আওলাদ হোসেন মার্কেট (৩য় তলা)
তেজগাঁও, ঢাকা-১২১৫।
ফোন ও ফ্যাক্স :+৮৮০-০২-৯১০২২০২
সেল : ০১৭১১২৬১৭৫৫, ০১৯১২০২৩৫৪৬
E-Mail: banglarchokh@yahoo.com, banglarchokh.photo1@gmail.com
© 2005-2019. All rights reserved by Banglar Chokh Media Limited
Developed by eMythMakers.com
Close