১৫ অক্টোবর ২০১৯, মঙ্গলবার ০২:৪৯:২৮ এএম
সর্বশেষ:

১০ অক্টোবর ২০১৯ ০৩:১৬:০৮ পিএম বৃহস্পতিবার     Print this E-mail this

বৈধ কাগজে কাজ হয় না টোকেন দেখালেই চিটাগাং গেইট - কাঁচপুর

মোস্তফা কামাল বুলবুল ফেনী থেকে
বাংলার চোখ
 বৈধ কাগজে কাজ হয় না টোকেন দেখালেই চিটাগাং গেইট - কাঁচপুর

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও আন্ত:জেলা সড়ক এমনকি পাড়া-মহল্লায়ও ভূঞা ট্রান্সপোর্ট প্রাইভেট লিমিটেডের স্ট্রিকার সংযুক্ত ট্রাক, মিনিট্রাক, পিকআপ আর কাভার্ডভ্যান। প্রতিনিয়ত এসব দেখে প্রতিষ্ঠানটির গাড়ীর পরিমাণ নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠছে। সম্প্রতি ক্যাসিনোকান্ড ও দূর্নীতি বিরোধী অভিযানে রাঘববোয়ালরা গ্রেফতারের পর পরিবহন খাতে চাঁদাবাজীও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। সম্প্রতি জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় ফেনীর পরিবহন চাঁদাবাজী নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্বয়ং জেলা প্রশাসক মো: ওয়াহিদুজজামান। ওই সভায় জেলা প্রশাসক বলেন, ‘পরিবহন খাতে ফেনীর মতো এমন প্রকাশ্য চাঁদাবাজী বিশ্বের কোথাও নেই।’ তার এ বক্তব্যে সবাই চমকে উঠলেও চাঁদাবাজী বন্ধে প্রশাসনের চোখে পড়ার মতো প্রদক্ষেপ দেখা যায়নি।
জানা গেছে, ২০১৪ সালে শহরের মহিপাল ফিলিং স্টেশন সংলগ্ন স্থানে তিনটি ট্রাক নিয়ে ট্রান্সপোর্ট ব্যবসা শুরু করে ভূঞা ট্রান্সপোর্ট। এর মালিক মোহাম্মদ আলী। তিনি ২০১৬ সালে ফেনী জেলা ট্রাক, মিনিট্রাক, পিকআপ ও কাভার্ডভ্যান শ্রমিক (রেজি: নং- ৪৩৫) ইউনিয়নের নির্বাচনে সভাপতি হন। ইতিমধ্যে তার নিজের মালিকীয় গাড়ির সংখ্যা অর্ধডজন হলেও ফেনীর যত্রতত্রই দেখা যায় ভূঞা ট্রান্সপোর্টের লোগো সংবলিত গাড়ী। এর মধ্যে ট্রাক, পিকআপ, কাভার্ডভ্যান এমনকি ইমাও রয়েছে। শহরতলীর লালপোলে ইতিমধ্যে নিজস্ব টার্মিনালও গড়ে তোলেছেন তিনি। ফেনী শহরে অর্ধশত ট্রান্সপোর্ট প্রতিষ্ঠান থাকলেও সবাইকে ছাড়িয়েছে ভূঞা ট্রান্সপোর্ট।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সড়ক-মহাসড়কে আইনী ঝামেলা থেকে রেহাই পেতে প্রায় প্রতিটি ট্রাক, পিকআপ, কাভার্ডভ্যানে সাঁটানো হয় ভূঞা ট্রান্সপোর্ট এর নির্ধারিত স্ট্রিকার। প্রকারভেদে মাসিক হারে ১ থেকে ২ হাজার টাকা চুক্তিতে এসব স্ট্রিকার লাগানো হয়। আর ভর্তি হতে দিতে হয় ২ হাজার ৭শ টাকা। ট্রান্সপোর্টটির নামে ‘টোকেন’ বাণিজ্য গোপন কিংবা নতুন কিছু নয়। বিষয়টি অনেকে স্বীকার করলেও নাম উদ্বৃত হয়ে এনিয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।
সম্প্রতি সদর উপজেলার কালিদহ ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের জনৈক ব্যক্তি নতুন ট্রাক (ঢাকা মেট্টো-গ- ৩২-৪১৪৫) কিনেছেন। সকল কাগজপত্র ঠিক থাকা স্বত্তেও ‘সড়কে হয়রানী’ এড়াতে গত বৃহস্পতিবার তিনি ভূঞা ট্রান্সপোর্টে (ভর্তি) নাম লিখিয়েছেন।
দাগনভূঞার ট্রাক মালিক টিপু জানান, ভূঞা ট্রান্সপোর্টের স্ট্রিকার লাগানো হলে চট্টগ্রামের সিটি গেইট থেকে কাঁচপুর পর্যন্ত নিরাপদে গাড়ী চালানো যায়। ট্রান্সপোর্টের মালিক মোহাম্মদ আলী প্রশাসনকে ম্যানেজ করায় কোন ধরনের ঝামেলায় পড়তে হয়না।
ফেনী শহরের জয়নাল আবদীন নামের আরেক মালিক জানান, তার দুটি ট্রাক রয়েছে। তিনিও একই প্রন্থা অবলম্বন করেছেন।
ভূঞা ট্রান্সপোর্টের কত পরিমাণ গাড়ী চলে এর সঠিক তথ্য জানা যায়নি। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ফেনী জেলা ট্রাক, মিনিট্রাক ও কভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মোহাম্মদ আলীও গাড়ীর পরিমাণ জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তবে সংশ্লিষ্ট অনেকে ধারণা করছেন, গাড়ী পরিমাণ ৪ হাজারের অধিক হবে। ইতিমধ্যে স্ট্রিকার বাণিজ্যের অভিযোগ এনে এর প্রতিকার চেয়ে ফেনী জেলা ট্রাক মালিক সমিতি ও ফেনী জেলা পিকআপ মালিক সমিতির পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তওে অভিযোগ করেন। লিখিত অভিযোগে তারা, ঢাকা মেট্টো- নং- ৭৮০৬, ফেনী- ট- ০৫-০১৬৬, কুমিল্লা- ট- ১১-০০২৭, ফেনী- ট- ১১-০০২৩, ঢাকা মেট্টো- ট- ১৪-০৭৯৪, ফেনী- ট- ১১- ০২০৩, ঢাকা মেট্টো- ট- ১৮১৬৮২, যশোর- ট- ১১- ০০৩৭ গাড়ীর নাম্বার উল্লেখ করেন। তাদের অভিযোগ, ‘ফেনী-চট্টগ্রাম হাইওয়ের মহিপালে প্রত্যেক ট্রাক ও পিকআপ হইতে ভর্তি ফি ৩ হাজার টাকা ও মাসিক ১ হাজার টাকা হারে চাঁদা আদায় করিতেছে। এই টোকেন গাড়ীর সাথে লাগানো থাকিলে ট্রান্সপোর্টের নাম লিখা থাকিলে, ফেনীর ট্রাফিক বিভাগ কোন গাড়ী আটক করিয়া গাড়ীর কাগজপত্র দেখিবেনা বা মামলা মোকদ্দমা করিবেনা মর্মে প্রচার চালাইয়া ফেনীতে শত শত গাড়ীকে টোকেনের আওতায় আনায় ফেনীতে সরকার ও বিআরটিএ রাজস্ব আয় হারাচ্ছে। গাড়ীর মালিক ও শ্রমিকগণ আইনের প্রতি শ্রদ্ধা হারাতে বসেছে। উল্লেখ্য যে, গাড়ীর মালিক সহ আরও অন্যান্য মালিকগণ এই বিষয়ে সাক্ষ্য প্রমাণ দিবে’।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নোয়াখালীর সেনবাগের এক ব্যক্তি জানান, তার অধীনে ৫০টি গাড়ী নোয়াখালী জেলায় চলাচল করে। ভূঞা ট্রান্সপোর্টের স্ট্রিকার লাগানো থাকায় কেউ এসব গাড়ী থামাতে সংকেতও দেয় না।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক চালক-মালিক জানান, বিভিন্ন নামে চাঁদা দিতে গিয়ে তারা সমস্যায় পড়ছেন। শুধু ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অঞ্চলের গাড়ীই নয়, অন্য জেলার মালিকরাও ঝামেলায় না পড়তে ভূঞা ট্রান্সপোর্ট নামের এ প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করানো হয়। এ স্ট্রিকার থাকলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে কাউকে চাঁদা দিতে হয় না।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী  বলেন, ‘ট্রান্সপোর্ট এজেন্সির সাথে শ্রমিক ইউনিয়নের কোন ব্যক্তি জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
জানতে চাইলে মহিপাল হাইওয়ে থানার ওসি মো: শাহজাহান খান ফেনীর সময় কে বলেন, ‘আমি থানায় নতুন এসেছি। এ ধরনের কোন বিষয় আমার জানা নেই। তবে গাড়ীর ফিটনেস না থাকলেই মামলা দেয়া হয়।’
হাইওয়ে কুমিল্লা অঞ্চলের পুলিশ সুপার নজরুল ইসলাম  বলেন, ‘হাইওয়ে পুলিশের নামে কোন চাঁদা তোলা হয় না।’
বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট এজেন্সি (বিআরটিএ) ফেনী অফিসের কর্মকর্তারা এ ব্যাপারে কথা বলতে চাননি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মালিকানা ছাড়া অন্যের গাড়ীতে এ ধরনের স্ট্রিকার ব্যবহার বেআইনী।
অভিযোগ প্রসঙ্গে মোহাম্মদ আলী মোবাইল ফোনে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করে তার সাথে অফিসে স্বাক্ষাত করতে বলেন। 

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
সম্পাদক
শরীফ মুজিবুর রহমান
নির্বাহী সম্পাদক
নাঈম পারভেজ অপু
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক
মমতাজ বেগম
কার্যালয়
১০৫, এয়ারপোর্ট রোড, আওলাদ হোসেন মার্কেট (৩য় তলা)
তেজগাঁও, ঢাকা-১২১৫।
ফোন ও ফ্যাক্স :+৮৮০-০২-৯১০২২০২
সেল : ০১৭১১২৬১৭৫৫, ০১৯১২০২৩৫৪৬
E-Mail: banglarchokh@yahoo.com, banglarchokh.photo1@gmail.com
© 2005-2019. All rights reserved by Banglar Chokh Media Limited
Developed by eMythMakers.com
Close