১৫ অক্টোবর ২০১৯, মঙ্গলবার ০২:২৬:৪৫ এএম
সর্বশেষ:

১০ অক্টোবর ২০১৯ ১১:০০:০২ পিএম বৃহস্পতিবার     Print this E-mail this

স্বাস্থ্যঝুঁকিতে যশোর জিলা স্কুলের ছাত্র শিক্ষক ও অভিভাবক

এম.জামান কাকা, যশোর থেকে
বাংলার চোখ
 স্বাস্থ্যঝুঁকিতে যশোর জিলা স্কুলের ছাত্র শিক্ষক ও অভিভাবক

 যশোর জিলা স্কুলের সামনে কর্ম ব্যস্ত মুজিব সড়কে রাস্তার ওপরের ডাস্টবিনটি ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। দুর্গন্ধে অভিভাবক ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জীবন দুর্বিসহ হয়ে উঠেছে। ডাস্টবিনটি তাদের স্বাস্থ্য ঝুঁকিরও কারণ। এই ডাস্টবিনের পাশে বসে ভ্রাম্যমাণ খাবারের দোকান। যার একমাত্র ক্রেতা স্কুলের শিক্ষার্থী। ওই দোকানের খাবারের ওপর ডাস্টবিনের মাছি বসে দুষিত করে তুলছে খাদ্য। এ অবস্থার পরও পৌর সচিব গো ধরেছেন ডাস্টবিন যেখানে আছে ওখানেই থাকবে।
ঐতিহ্যবাহী এ বিদ্যাপিঠের পরিবেশ ও শত শত শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকের স্বার্থ তার কাছে তুচ্ছ বলে মনে করছেন ভুক্তভোগীরা। ভুক্তভোগীরা এখান থেকে ডাস্টবিনটি সরানো দাবি করেছেন।
যশোর জিলা স্কুলের দ্বিতীয় নম্বর গেটের (উত্তর গেট) সামনে রাস্তার পাশে ডাস্টবিন অবস্থিত। সার্কিট হাউসপাড়া, ষষ্টিতলাপাড়া ও জিলা স্কুলের পাশের এলাকার বাসিন্দারা ময়লা-আর্বজনা এখানে ফেলেন। এসব ময়লা-আবর্জনা পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে প্রতি নিয়ত। স্কুলের মধ্যে মশা-মাছিতে ছেঁয়ে যাচ্ছে। শিক্ষার্থীরা টিফিনের খাবারও খেতে পারছে না ঠিকমতো। তাদের টিফিনের খাবার নষ্ট হচ্ছে। আর স্কুলের প্রবেশ করতে হলে নাকে কাপড় দিয়ে যেতে হচ্ছে।
অভিভাবকরা বাচ্চাদের আনা-নেয়া করতে গেটের সামনে দাঁড়াতেও পারছেন না। স্কুলের মধ্যে ও আশেপাশে খাবার খেলে বাচ্চারা স্বাস্থ্যহানীর ঝুঁকি মধ্যে পড়ছে। আশপাশের খাবার হোটেলগুলোতেও খাবারের মান নষ্ট হচ্ছে। অথচ এই সময় চলছে যশোর পৌর এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান।
ভুক্তভোগী অভিভাবকরা বলেন, প্রতিদিন সকালে ছেলেকে স্কুলে রেখে তারা স্কুলের বাইরে থাকেন। গেটের সামনে ডাস্টবিন থাকায় এখানে তিনি আর বসতে পারছেন না। নাকে কাপড় দিয়ে ছাড়া স্কুলে ঢোকা যায় না। জিলা স্কুল বৃহত্তর যশোরের ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানের সামনে ডাস্টবিন করার বিষয়টি আমাদের কাছে বোধগম্য হচ্ছে না। মেয়র ও জেলা প্রশাসক মহাদয়োর এদিকে দৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন।
বাধ্য হয়ে সকলকে দুগন্ধ সহ্য করতে হয়। ডিজিটাল যশোরে একটি ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানের সামনে কেন ডাস্টবিন করা হলো তা আমাদের কাছে বোধগম্য নয়। স্কুল ছুটির হলে এ গেট খুলে দেয়া হয়। দুগন্ধ সহ্য করে ছেলেদের জন্য তাদের গেটের সামনে বাধ্যগত বসে থাকতে হয়। এরা অসহায় হয়ে দেখেন দুর্গন্ধের কারণে তার ছেলে স্কুলে টিফিন খেতে পারে না। না খেয়ে তাদের ক্লাস করতে হয়।
ছাত্ররা জানায় ডাস্টবিনটি স্কুলের পরিবেশ নষ্ট করছে। স্কুলের মধ্যে মশা-মাছি বেড়ে যাচ্ছে। দ্বিতীয় গেটটি ব্যবহার করতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ডাস্টবিনটির কারণে স্কুলে থাকতে আমাদের কষ্ট হয়। বাবা-মারাও গেটের সামনে দাঁড়াতে পারে না। ডাস্টবিনটি দ্রুত সরানো প্রয়োজন।
সিনিয়র সহকারি জামাল উদ্দিন বলেন, ডাস্টবিনটি সরাতে প্রধান শিক্ষক মেয়রকে একাধিকবার চিঠি দিয়েছেন। কিন্তু কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।
প্রধান শিক্ষক একেএম গোলাম আযম বলেন, আমি জিলা স্কুলে যোগদান করার পর মেয়র সাহেবকে ডাস্টবিনটি সরানোর জন্য অনুরোধ করেছি। তিন তিন বার লিখিতভাবে, ১০ বার মৌখিক ও জেলা প্রশাসক দিয়ে ডাস্টবিন সরানোর জন্য বলা হয়েছে। ছাত্ররা এ দাবিতে মানববন্ধন করেছে ও মেয়র ঘেরাও কর্মসূূচি করেছে। তারপরও মেয়র কোন ব্যবস্থা নেননি। তিন মাসের কথা বলে তিন বছর কাটিয়ে দিচ্ছেন তিনি।
পৌর সচিব আজমল হায়দার খান বলেন, দম্ভ প্রকাশ করে বলেন, ডাস্টবিন সরানোর কোন সুযোগ নেই। ডাস্টবিনটি ওখানেই থাকবে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আরিফ বলেন, ডাস্টবিনটির বিষয়ে মেয়র সাহেবের সাথে দ্রুত কথা বলে সরানোর ব্যবস্থা করা হবে।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
সম্পাদক
শরীফ মুজিবুর রহমান
নির্বাহী সম্পাদক
নাঈম পারভেজ অপু
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক
মমতাজ বেগম
কার্যালয়
১০৫, এয়ারপোর্ট রোড, আওলাদ হোসেন মার্কেট (৩য় তলা)
তেজগাঁও, ঢাকা-১২১৫।
ফোন ও ফ্যাক্স :+৮৮০-০২-৯১০২২০২
সেল : ০১৭১১২৬১৭৫৫, ০১৯১২০২৩৫৪৬
E-Mail: banglarchokh@yahoo.com, banglarchokh.photo1@gmail.com
© 2005-2019. All rights reserved by Banglar Chokh Media Limited
Developed by eMythMakers.com
Close