১৪ নভেম্বর ২০১৯, বৃহস্পতিবার ১২:৩৫:৪০ পিএম
সর্বশেষ:

১২ অক্টোবর ২০১৯ ০৫:২৮:১৫ পিএম শনিবার     Print this E-mail this

শেরপুরে গারোদের ‘রংচুগালা’ উৎসব অনুষ্ঠিত

শেরপুর প্রতিনিধি
বাংলার চোখ
 শেরপুরে গারোদের ‘রংচুগালা’ উৎসব অনুষ্ঠিত

আদিবাসী গারো সম্প্রদায়দের অন্যতম একটি উৎসব ‘রংচুগালা’। গারোদের বিশ্বাস তাদের সাংসারিক গারোদের ফসল বৃদ্ধিতে ফসলের দেবতা ‘মিসিসিলং’ এবং সৃষ্টিকর্তার অনুগ্রহের প্রয়োজন। আর তাই শত শত বছর ধরে চলে আসা রেওয়াজ অনুযায়ী বেশী বেশী ফসল উৎপাদনে তাদের ফসলের দেবতা ও সৃষ্টিকর্তাকে খুশি করতে ‘রংচুগালা’ উৎসবের আয়োজন করে আসছে। ‘রংচুগালার’ অর্থ হচ্ছে চাল থেকে তৈরী চিরা ফসলে মাঠে ছিটিয়ে দেওয়া হয়। এতে সৃষ্টিকর্তা  খুশি হয়ে তাদের ফসল উৎপাদন বাড়িয়ে দেন। আর এসব কর্য সম্পাদন করেন গারো সম্প্রদায়ের প্রধান নেতা বা খামাল (গারো ভাষায় )। এসব রেওয়াজের পাশপাশি চলে তাদের ঐতিহ্যবাহী কৃষ্টি-কালচারের সাংস্কৃতি উৎসবও। আর এ ঐতিহ্য ধরে রাখতে শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে শুক্রবার (১১ অক্টোবর) বিকেলে থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়ে গেলে ‘রংচুগালা’ উৎসব।
ঝিনাইগাতি উপজেলার মরিয়মনগর উচ্চবিদ্যালয় মাঠে এ উৎসবের আয়োজন করে স্থানীয় ‘ইয়ং মার্চেন ক্রিশ্চান এসোসিশেন’ (ওয়াইএমসিএ) এবং বাংলাদেশ গারো ছাত্র সমাজ (বাগাছাস) ঝিনাইগাতি উপজেলা শাখা। এ উৎসবের মূল পর্বের প্রর্থনা এবং আচার-কার্যাদি সম্পন্ন করেন বাংলাদেশের গারো সম্প্রদায়ের খামাল জনসন মৃ। প্রধান অতিথি ছিলেন শেরপুর জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আবু তাহের। বাগাছাস ঝিনাইগাতি শাখার সভাপতি অনিক চিরানের সভাপতিত্বে এবং ওয়াইএসসিএ’র সভাপতি পবত্রি ¤্রং এর সঞ্চালনায় অতিথিদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন নেত্রকোনা জেলার দূর্গাপুর উপজেলার মহিলা ডিগ্রী কলেজের অধ্যাপক অঞ্জন ম্রং, স্থানীয় আদিবাসী নেতা হেমার্সান চিরান, অসিম ¤্রং, সাংবাদিক ও কবি রফিক মজিদ প্রমূখ।
বাংলাদেশের গারো সম্প্রদায় বিভিন্ন স্থানে যুগযুগ ধরে এ রংচুগালা পালন করে আসছে। কৃষি নির্ভর গারোদের সৃষ্টিকর্তাকে না করে  তাদের ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি করা সম্ভব নয় তাই সৃষ্টিকর্তাকে খুশি করার জন্য এ উৎসবের আয়োজন করা হয়। গারোদের কৃষ্টি-কালচার যাতে আস্তো আস্তে হারিয়ে না যায় সেজন্য তারা এখন থেকে এই শেরপুর জেলায় নিয়মিত ভাবে রংচুগালার আয়োজন করবে বলে আয়োজক এবং স্থানীয় আদিবাসী নেতারা জানায়।
রংচুগালা উৎসবের আচারাদি সম্পন্ন শেষে শুক্রবার মধ্যরাত পর্যন্ত স্থানীয় শিল্পী ও ব্যান্ডদলের পাশপাশি বাংলাদেশের প্রথম আদিবাসীদের প্রমিলা ব্যান্ড দল এফ-মাইনর , জুমাং ও অগোছাল  নামের তিনটি ব্যান্ড দল গারো ও বাংলা ভাষায় সঙ্গীত পরিবেশন এবং তাদের কৃষ্টি’র মনোজ্ঞ নৃত্য পরিবেশন করেন।
এদিকে স্থানীয় গারো সম্প্রদায়দের মাঝে প্রথমবারের মতো ‘রংচুগালা’ অনুষ্ঠানকে ঘিরে ব্যাপক আগ্রহের পাশাপাশি উৎসবের আমেজ বিরাজ করে।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
সম্পাদক
শরীফ মুজিবুর রহমান
নির্বাহী সম্পাদক
নাঈম পারভেজ অপু
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক
মমতাজ বেগম
কার্যালয়
১০৫, এয়ারপোর্ট রোড, আওলাদ হোসেন মার্কেট (৩য় তলা)
তেজগাঁও, ঢাকা-১২১৫।
ফোন ও ফ্যাক্স :+৮৮০-০২-৯১০২২০২
সেল : ০১৭১১২৬১৭৫৫, ০১৯১২০২৩৫৪৬
E-Mail: banglarchokh@yahoo.com, banglarchokh.photo1@gmail.com
© 2005-2019. All rights reserved by Banglar Chokh Media Limited
Developed by eMythMakers.com
Close