১২ নভেম্বর ২০১৯, মঙ্গলবার ০২:১৭:৫৫ এএম
সর্বশেষ:

২১ অক্টোবর ২০১৯ ০১:০৫:২৮ এএম সোমবার     Print this E-mail this

আমার ভাই মাছ-মাংস, পেঁয়াজ-রসুন খায় না, ১০০টা মেয়ে থাকলেও ফিরে তাকাবে না

ডেক্স রিপোর্ট
বাংলার চোখ
 আমার ভাই মাছ-মাংস, পেঁয়াজ-রসুন খায় না, ১০০টা মেয়ে থাকলেও ফিরে তাকাবে না

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সংস্কৃত বিভাগের অধ্যাপক বিথীকা বণিকের রাজশাহী নগরীর ধরমপুর এলাকার যোজক টাওয়ারের বাসায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের এক ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ ওঠে। গত ২৪ সেপ্টেম্বরের ওই ঘটনায় বিথীকা বণিকের ভাই শ্যামল বণিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে নগরীর মতিহার থানায় করা ওই ছাত্রীর মামলায় শ্যামল এখন জেলে রয়েছেন।

এখন নিজের ভাইকে বাঁচাতে উল্টো পুলিশ ও সাংবাদিকদের দুষছেন সংস্কৃত বিভাগের অধ্যাপক বিথীকা বণিক। তার দাবি, পুলিশকে টাকা দেননি বলে তার ভাই ছাড়া পাননি। আর ভুক্তভোগী ছাত্রী সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য দেওয়ার পরও বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকরা তা প্রকাশ করেননি।

ইংরেজি বিভাগের ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ ওঠার পর ক্যাম্পাস শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে গত ২৭ সেপ্টেম্বর বিথীকা বণিককে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা হলের প্রভোস্টের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক এম এ বারী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞাপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

ওই মামলাটি তদন্ত করছেন মতিহার থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রেজাউল করিম। মামলার সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে আজ রোববার তিনি দৈনিক আমাদের সময় অনলাইনকে জানান, মামলার তদন্তের কাজ প্রায় শেষের দিকে। ওই ছাত্রীর মেডিকেল পরীক্ষার রিপোর্ট পেলে এবং আসামির নাম-ঠিকানা যাচাইয়ের তথ্য সংশ্লিষ্ট থানা থেকে পেলেই মামলার অভিযোগপত্র দেওয়া হবে।
ঘটনা সম্পর্কে গতকাল শনিবার কথা হয় সংস্কৃত বিভাগের অধ্যাপক বিথীকা বণিকের সঙ্গে। সাংবাদিকদের দোষ দিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনাদের সঙ্গে কথা বলে তো কোনো লাভ হয় না। ২৬ তারিখে (সেপ্টেম্বর) বিকেলে বঙ্গমাতা হলে ইউনিভার্সিটির যতগুলো (সাংবাদিক) ছিল, সবাই বারবার ডিস্টার্ব করাতে আমি বলি, “আমি হলে আসছি, আপনারা হলে আসুন”। তাদের আমি সবকিছু শুনিয়েছি। তারা তো কেউ সেটা পরের দিন প্রকাশ করেনি। বরং প্রকাশ করেছে ২৭ তারিখে যে, প্রভোস্টকে পদত্যাগ করতে হবে…। এগুলো একপাক্ষিকভাবে হয়েছে। অতএব আপনারা কে কী বলবেন, কে কী লিখবেন, আমার বোঝা হয়ে গেছে।’

ইংরেজি বিভাগের ওই ছাত্রী সম্পর্কে গণমাধ্যমের কাছে এসব তথ্য দেওয়ায় অধ্যাপক বিথীকা বণিককে সবার সামনে ক্ষমা চাইতে বলেছিলেন আন্দোলনে থাকা শিক্ষার্থীরা। যদিও তিনি কোনো ক্ষমা চাননি। শিক্ষার্থীদের বলেছিলেন, নিজের ভাইকে বাঁচাতে ওই ছাত্রী সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন অধ্যাপক বিথীকা বণিক।

তবে ঘটনার অনেক দিন পরও ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে নিজের ভাইকে নিদোর্ষ দাবি করে অধ্যাপক বিথীকা বণিক বলেন, ‘আমি তো মনে করি না আমার ভাই এটা করতে পারে। ১০০ পারসেন্ট, কারণ আমার ভাইয়ের পাশে যদি ১০০টা মেয়ে থাকে, তাও ফিরে তাকাবে না। কারণ সে এ রকম ছেলে না। আমার ভাই নিরামিষভোজী। সে ইসকন (কৃষ্ণ ভাবনামৃত সংঘ) ভক্ত। মাছ-মাংস, পেঁয়াজ-রসুন খেলে শরীরে তেজ বৃদ্ধি পায় বলে তারা ওটা খায় না। ব্রহ্মচার্য জীবন পালন করে। আমার ভাই আমার মায়ের হাতেও খায় না। তারা নিজে রান্না করে নিজে খায়। আমরা মাছ-মাংস খাই বলে ওর বিছানায় আমাদের বসতে দেয় না।’

ধর্ষণচেষ্টার ঘটনাটি সাজানো দাবি করে বিথীকা বণিক বলেন, ‘আমার ভাই নির্দোষ। এখন আমি বলছি, এটা আমি না রাস্তায় যে একটা সিগারেট বেচে, তারাও বলাবলি করছে, ‘এটা সাজানো’।

তবে ওই ছাত্রীর বাবা বলেন, ‘উনি (অধ্যাপক বিথীকা বণিক) তো ঘটনা ঘটার পর থেকেই যাচাই-বাছাই না করেই বলেছেন, “এটা মিথ্যা কথা, সাজানো”। একটা মেয়ে এভাবে মিথ্যা কথা বলে এসব বিষয়ে? উনি সেটা বলার কারণেই তো দায়িত্ব (হল প্রভোস্ট) থেকে সরিয়ে দিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। শুধু তাই নয়, উনি বিভিন্নভাবে অনেক মিথ্যা কথা বলছেন। ঘটনার পর যদি তিনি দায়িত্বশীল কথা বলতেন তাহলে তার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ উঠত না।’

ঘটনার দিন নিজের বাসায় অধ্যাপক বিথীকা বণিক ইংরেজি বিভাগের ওই ছাত্রীকে দিয়ে কাজ করিয়ে নিয়েছিলেন বলেও জানান তার বাবা। ওই ছাত্রীর বাবা জানান, ওই দিন তার মেয়েকে দিয়ে পেঁয়াজ কেটে নিয়েছেন বিথীকা বণিক। এমনটি চা করিয়েও নিয়েছেন।

বিথীকা বণিকের ভাই শ্যামল বণিক এর আগেও অন্য মেয়েদের সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে দাবি করেন ইংরেজি বিভাগের ওই ছাত্রীর বাবা। তিনি বলেন, ‘তাদের বাসায় আগে একজন মেয়ে ছিল। ইউনিভার্সিটিতে চাকরি দেবে বলে তাকে দিয়ে বছর ধরে বাসার কাজ করিয়েছে। এক সময় তার ভাইয়ের সঙ্গে বিয়ে দেওয়ারও কথা ছিল। সেই মেয়ে পরবর্তীতে সেখান থেকে চলে গেছে। গোপালগঞ্জ সমিতির সঙ্গে আমি বসছিলাম রাজশাহীতে। ক্যাম্পাসের সিনিয়র যারা শিক্ষক আছেন, তারা সবাই জানে এসব ঘটনা।’

পুলিশকে টাকা দিলে শ্যামল বণিককে ছেড়ে দিতো দাবি করে অধ্যাপক বিথীকা বণিক বলেন, ‘থানা-পুলিশের কাছে যাওয়ার ফ্যামিলি আমরা না। আমার বাবা বলত, মারামারির ধার দিয়েও হাটবা না, মামলা মোকদ্দমার কাছে যাবা না, আর লোন করবা না। আমরা তো ওগুলোর দায়-দায়িত্ব বুঝি না কি? কিছু বুঝি না বলেই তো পুলিশের হাতে টাকা দিলে আমার ভাই তো আর জেলে যাইতো না। আমরা ওগুলো জানি না বলেই তো পুলিশের হাতে টাকা দেইনি।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মতিহার থানার এসআই রেজাউল করিম বলেন, ওই শিক্ষকের কাছে কোনো পুলিশ টাকা চেয়ে থাকলে তিনি সেই প্রমাণ দিক। তার এসব কথার কোনো ভিত্তি নেই।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
সম্পাদক
শরীফ মুজিবুর রহমান
নির্বাহী সম্পাদক
নাঈম পারভেজ অপু
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক
মমতাজ বেগম
কার্যালয়
১০৫, এয়ারপোর্ট রোড, আওলাদ হোসেন মার্কেট (৩য় তলা)
তেজগাঁও, ঢাকা-১২১৫।
ফোন ও ফ্যাক্স :+৮৮০-০২-৯১০২২০২
সেল : ০১৭১১২৬১৭৫৫, ০১৯১২০২৩৫৪৬
E-Mail: banglarchokh@yahoo.com, banglarchokh.photo1@gmail.com
© 2005-2019. All rights reserved by Banglar Chokh Media Limited
Developed by eMythMakers.com
Close