১৩ নভেম্বর ২০১৯, বুধবার ১১:৪৬:২৫ পিএম
সর্বশেষ:

০৭ নভেম্বর ২০১৯ ১১:২৬:৪১ পিএম বৃহস্পতিবার     Print this E-mail this

নওগাঁয় মৃত ব্যক্তিকে জীবিত দেখিয়ে জমি রেজিস্ট্রি

নওগাঁ প্রতিনিধি
বাংলার চোখ
 নওগাঁয় মৃত ব্যক্তিকে জীবিত দেখিয়ে জমি রেজিস্ট্রি

 নওগাঁর মান্দায় মৃত ব্যক্তিকে জীবিত দেখিয়ে প্রসাদপুর সাব-রেজিস্ট্রার ও দলিল লেখককের বিরুদ্ধে জমি রেজিস্ট্রি করে দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় দলিল লেখককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সাব-রেজিস্ট্রার ওই অফিসে ২৫/০১/১৭ ইং তারিখে যোগদানের পর থেকে বিভিন্ন অনিয়ম ও দূর্নীতি করে চলেছেন বলে মনে করছেন সচেতনরা। এছাড়া তিনি মহাদেবপুর উপজেলার অতিরিক্ত সাব-রেজিস্ট্রারের দায়িত্বে রয়েছেন।
জানা গেছে, প্রসাদপুর সাব রেজিস্ট্রি অফিসে মুল দাতাকে বাদ দিয়ে নকল ব্যক্তিকে দাতাকে সাজিয়ে গত ১৯/৬/১৯ ইং তারিখে দানপত্র হিসেবে জমি রেজিস্ট্রি করা হয়। যার দলিল নম্বর ৪৪০৩। প্রকৃত জমির দাতা কছিম উদ্দিন হওয়ার কথা থাকলেও অন্য এক ব্যক্তিকে দাতা সাজানো হয়। জমি রেজিস্ট্রির পর ওই ভূয়া ব্যক্তির ছবি দলিল থেকে সরিয়ে প্রকৃত দাতা কছিম উদ্দিনের ছবি লাগানো হয়।
কিন্তু দাতা কছিম উদ্দিন গত ৬/৬/১৯ ইং তারিখে মারা গেছেন। বাড়ি উপজেলার ভালাইন ইউনিয়নের মদকচক গ্রামে। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদে ২৬/৬/১৯ ইং তারিখে তাকে মৃত দেখানো হয়। কছিম উদ্দিন আগে মারা গেলেও ভূয়া কাগজপত্র তৈরী করে নকল ব্যক্তিকে দাতা সাজিয়ে পরে জমি রেজিস্ট্রি করা হয়। জমি রেজিস্ট্রির কয়েকদিন পর মৃত দেখিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে মৃত সনদ নেয়া হয়।
মৃত কছিম উদ্দিনের চার ছেলে-সাইফুদ্দিন, শরিফুল, আশরাফুল ও আলমগীর তাদের চার বোনদের বঞ্চিত করতে মৃত বাবাকে জীবিত দেখিয়ে ভুয়া ব্যক্তিকে বাবা সাজিয়ে সাব-রেজিস্ট্রার শংকর চন্দ্র বর্মন ও দলিল লেখক হামিদুর রহমানের যোগসাজসে জমি রেজিস্ট্রি করা হয়েছে। জমি রেজিস্ট্রি হওয়ার পর ওই নকল দাতার ছবি সরিয়ে আসল দাতার (কছিম উদ্দিন) ছবি দলিলে সংযুক্ত করা হয়। এ ঘটনায় দলিল লেখকে সাময়িক বহিস্কার করা হয়েছে। জমি রেজিস্ট্রির কয়েকদিন পর বিষয়টি প্রকাশ পায়।
গ্রহিতাদের একজন আশরাফুল বলেন, বাবা মারা যাওয়ার আগে সব কাগজপত্র ঠিক করা ছিল। হঠাৎ করেই বাবা মারা যান। মারা যাওয়ার কয়েকদিন পর দলিল লেখকের মাধ্যমে চার একর ৩৬ শতাংশ জমি রেজিস্ট্রি করা হয়। মুলত চার বোনকে বঞ্চিত করতেই এটা করা হয়েছিল। এরপর বোনেরা বিষয়টি জানতে পেরে আমাদের সাথে দ্বন্দ্ব শুরু করে। পরে স্থানীয় ভাবে বসে আমরা বিষয়টি আপোষ করে নিয়।
দলিল লেখক হামিদুর রহমান বলেন, কাগজপত্র দেখেই জমির দলিল করে দিয়েছি। যে ব্যক্তি মারা গেছে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে তার সনদপত্র আমার কাছে আছে। একটা ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। গত ১৫ দিন আগে সাময়িক ভাবে বহিস্কার করা হয়েছে।
মান্দা প্রসাদপুর দলিল লেখক সমিতির সাধারন সম্পাদক এরশাদ আলী বলেন, দলিল লেখক হামিদুর রহমান বেশকিছুদিন থেকে অফিসে আসতেছে না। বিভিন্ন মাধ্যম থেকে কিছু অভিযোগ শুনতে পাচ্ছি, যে মৃত ব্যক্তিকে জীবিত দেখিয়ে জমি রেজিস্ট্রি করা হয়েছে। তবে কোন পক্ষই আমার কাছে অভিযোগ করেনি।
আরো জানা গেছে, উপজেলার কুশুম্বা ইউনিয়নে শামুকখোল মৌজায় সরকারি সম্পতি (ক-তফসিল অর্পিত) ভুয়া কাগজপত্র তৈরী করে সাব-রেজিস্ট্রার শংকর কুমার এর যোগসাজসে দলিল সম্পাদন করা হয়েছে। ওই মৌজায় গত ৫/৩/১৮ ইং তারিখে ২৪২১ নম্বর দলিলে এবং আরএস-১২৮ নম্বর খতিয়ান যার দাগ নম্বর হাল- ৪৯২ ও সাবেক - ২৭০ এর ১৬ শতাংশ কাতে সাড়ে ৩ শতাংশ জমি বুদ্ধেশ্বর এর তিন ছেলে সমর, অমল ও শ্যামল কে দাতা সাজিয়ে জগমোহন এর ছেলে সঞ্জিত কুমারকে রেজিস্ট্রি করে দিতে সহযোগীতা করা হয়।
এছাড়া ৪৯২ নম্বর দলিলে গত ১৪/০১/১৮ ইং তারিখে একই খতিয়ানের ১৬ শতাংশ কাতে ৭ শতাংশ জমি গোড়ার ছেলে আনন্দ কুমারকে দাতা সাজিয়ে নওফেলের ছেলে রফিকুল ইসলাম রেজিস্ট্রি করে নেয়।
এসএ খতিয়ান মুলে গ্যাজেট হওয়ায় কেস নম্বর ৪/৮৩ সালে ভিপি সম্পত্তি হিসেবে মান্দা সহকারী ভূমি কমিশনারের কার্যালয় হতে ডিসিআর মুলে সরকারকে রাজস্ব প্রদান সাপেক্ষে শামুকখোল গ্রামের ভূমিহীন আব্দুল জব্বার ও তার দুই ছেলেকে বিধি মোতাবেক ৯ শতাংশ জমি লীজ দেয়া হয়েছে।
ভূমিহীন আব্দুল জব্বার বলেন, একই কাগজের ৯ শতাংশ জমি আমি সরকারের কাছ থেকে লীজ নিয়ে গত ১০/১২ বছর থেকে বসবাস করে আসছি। আবার ওই কাগজের বাঁকী জমি আরো দুই ব্যক্তি ভুয়া কাগজপত্র তৈরী করে রেজিস্ট্রি করে নিয়েছেন। জমির প্রকৃত মালিক ভারতে থাকেন। তাদের কোন আত্মীয় স্বজন এখানে থাকেন না।
গ্রহিতা সঞ্জিত কুমার বলেন, জমির প্রকৃত মালিক ধরনি মোহন দাস। তার ভাগ্নেদের কাছ থেকে সাড়ে ৩ শতাংশ জমি রেজিস্ট্রি করে নিয়েছি। তবে ভূমি উন্নয়ন করের রশিদের বিষয়ে তিনি কোন উত্তর দিতে পারেননি।

মান্দা প্রসাদপুর সাব-রেজিস্ট্রার শংকর চন্দ্র বর্মনের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে, বিষয়গুলো জানার পর তিনি কোন মন্তব্য করতে চাননা। তবে অফিসে একসাথে বসে চা খাওয়ার দাওয়াত দেন তিনি।#


সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
সম্পাদক
শরীফ মুজিবুর রহমান
নির্বাহী সম্পাদক
নাঈম পারভেজ অপু
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক
মমতাজ বেগম
কার্যালয়
১০৫, এয়ারপোর্ট রোড, আওলাদ হোসেন মার্কেট (৩য় তলা)
তেজগাঁও, ঢাকা-১২১৫।
ফোন ও ফ্যাক্স :+৮৮০-০২-৯১০২২০২
সেল : ০১৭১১২৬১৭৫৫, ০১৯১২০২৩৫৪৬
E-Mail: banglarchokh@yahoo.com, banglarchokh.photo1@gmail.com
© 2005-2019. All rights reserved by Banglar Chokh Media Limited
Developed by eMythMakers.com
Close