১২ নভেম্বর ২০১৯, মঙ্গলবার ১২:০৬:০৪ পিএম
সর্বশেষ:

০৮ নভেম্বর ২০১৯ ০২:০০:৪০ এএম শুক্রবার     Print this E-mail this

জীবন যুদ্ধে টিকে থাকা নওগাঁর মাউথ পেইন্টার এমদাদুল এর ছবি আঁকার গল্প

মো.সবুজ হোসেন নওগাঁ প্রতিনিধি
বাংলার চোখ
 জীবন যুদ্ধে টিকে থাকা নওগাঁর মাউথ পেইন্টার এমদাদুল এর ছবি আঁকার গল্প

নওগাঁর মান্দার উপজেলার চককেশব বালুবাজার গ্রামের এমদাদুল মল্লিক ইব্রাহিম। জন্মগত ভাবে তিনি শারীরিক প্রতিবন্ধি না হলেও একটি দূর্ঘটনায় এখন তিনি প্রতিবন্ধি। দুই হাত নেই, পা থাকলেও অবশ। তবে মুখ দিয়ে ভাল ছবি আঁকতে পারেন। এখন তিনি মাউথ পেইন্টার ইব্রাহিম নামে পরিচিতি লাভ পেয়েছেন। হুইল চেয়ারের সাথে বিশেষ উপায়ে লাগানো ক্যানভাসে গরু, গাছ, মানুষসহ বিভিন্ন ছবি আঁকেন। তবে সরকার কর্তৃক প্রতিবন্ধী ভাতা ও মায়ের বিধবা ভাতা দিয়ে কোন রকমে চলছে তার জীবন সংসার।
এমদাদুল মল্লিক ইব্রাহিম পড়াশোনা করেছেন এইচএসসি পর্যন্ত। কাজ করতেন দিনাজপুর পল্লী বিদ্যুতের লাইনম্যান হিসেবে। গত ২০০৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর পল্লী বিদ্যুতের লাইনম্যান হিসেবে কাজ করতে গিয়ে বৈদ্যুতিক এক দূর্ঘটনার কারণে বিদ্যুতের খুঁটি থেকে পড়ে যান। এরপর দুই হাত কেটে ফেলতে হয়েছে। দুই পা থাকলেও অবশ। দূর্ঘটনার পর যেন তার জীবনে আকাশ ভেঙে পড়ে। লাইনম্যান হিসেবে কাজ করতে গিয়ে দূর্ঘটনায় চিকিৎসার খরচ পল্লীবিদ্যুৎ বহন করে। কিন্তু তার ভবিষ্যৎ জীবনের দায়িত্ব নেয়া হয়নি। দূর্ঘটনার পর স্থানীয় ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হয়ে সাভারের সিআরপিতে চিকিৎসা নেন দীর্ঘ আট বছর। সমাজের অবহেলার পাত্র না হয়ে সিআরপিতে থাকা অবস্থায় নিজ চেষ্টায় তিনি ছবি আঁকা শিখেছেন। মুখ দিয়ে গ্রাম, বাংলা ও প্রকৃতির ছবি আঁকেন। এসব ছবি এঁকে তা বিক্রি করে কিছু টাকা আয় করেন। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে গত চার বছর থেকে গ্রামের বাড়ি চককেশব বালুবাজারে  বৃদ্ধা মায়ের সাথে বসবাস করছেন।

এখন হুইল চেয়ারে বসে দিনে অধিকাংশ সময় কাটে। হাত না থাকলেও মুখ দিয়ে ছবি আঁকতে পারেন। তাই নিজ চেষ্টায় তিনি ছবি আঁকা শিখে নিজের কর্মকে সবার কাছে তুলে ধরেছেন। মুখে তুলি। ঘাড় ঘুরিয়ে বার বার রং নিচ্ছেন আর ছবি আঁকছেন। হুইল চেয়ারের সাথে বিশেষ উপায়ে লাগানো ক্যানভাসে গরু, গাছ, মানুষসহ বিভিন্ন ছবি আঁকছেন তিনি। মুখ দিয়ে তিনি ছবি আঁকায় মাউথ পেইন্টার ইব্রাহিম নামে পরিচিতি। প্রতিভাবান এমদাদুল মল্লিক ইব্রাহিম বলেন, সিআরপিতে থাকা অবস্থায় সবার কাছে শুনেছেন লাভলী নামে একজন মুখ দিয়ে ছবি আঁকতেন। লাভলীর সঙ্গে তার কখনো দেখা হয়নি। লাভলীর গল্প শুনেই অনুপ্রেরণা। তিনি বলেন, প্রথম দিকে ছবি আঁকতে বসলে মাথা ঘুরত। বমি করতাম। পরে সব ঠিক হয়ে যায়। এক সময় ঘন্টার পর ঘন্টা ছবি আঁকতে পারতাম। বেশি ভালো লাগে প্রাকৃতিক দৃশ্য আঁকতে। নিজ বাড়ির পুকুর পাড়ে বসে মুখের সাহায্যে পেন্সিল ও রঙ তুলি দিয়ে ছবি আঁকেন। বর্তমানে বেশিক্ষন ছবি আঁকতে পারিনা। একটানা ছবি আঁকলে গায়ে জ্বর আসে। শরীরের সার্বিক পরিস্থিতিও খুব একটা ভালো নেই। তাই তিনি যদি সুযোগ পান প্রতিভাকে কাজে লাগিয়ে পরিবারের স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনতে চান। তিনি বেশ গর্ব নিয়ে বলেন, সিআরপিতে থাকা অবস্থায় আমার আঁকা ছবি দিয়ে অনেকগুলো প্রদর্শনী হয়েছে। আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশের কিছু মানুষের সাথে পরিচয় ছিল। তাদের সাথে যোগাযোগও ছিল নিয়মিত। তাদের মাধ্যমেই ছবিগুলো আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশে বিক্রি হয়েছে। ছবির দাম নিয়ে দেন দরবার তেমন একটা করা হয় না। বেশির ভাগ সময়ই একেকজন খুশি হয়ে যা দেন, তাই নেন। সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি তার কাছ থেকে ২০টি ছবি নিয়ে এক লাখ টাকা দিয়েছিলেন। বর্তমানে সরকার কর্তৃক প্রতিবন্ধী ভাতা ও মায়ের বিধবা ভাতা দিয়ে কোন রকমে চলছে তার সংসার।

নওগাঁর মান্দা উপজেলার পরানপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইলিয়াস খান বলেন, মাউথ পেইন্টার এমদাদুল মল্লিক ইব্রাহিমকে প্রতিবন্ধী ভাতা কার্ড এবং তার মায়ের জন্য বিধবা ভাতা কার্ডের ব্যবস্থা করে দেয়া হয়েছে। উপজেলা ভিত্তিক ছবি প্রদর্শনীর ব্যবস্থা না থাকায় ইব্রাহিমের প্রতিভাকে সে বিকশিত করা সক্ষম হচ্ছে না। যদি বড় পর্যায়ে কখনো তার প্রতিভাকে দেখানোর সুযোগ পেত তাহলেও অনেক দুর এগিয়ে যেতে পারত ইব্রাহিম।

ইব্রাহিমের প্রতিভাবে সম্মান জানিয়ে মান্দা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, দুই হাত নেই। আবার পা থেকেও নেই। কিন্তু তারপরও এতো সুন্দর করে তিনি মুখের সাহায্যে ছবি আঁকেন যা প্রকাশ করার মতো না। মুখ দিয়ে ছবি আঁকা যে তার একটি বিশেষ গুন ছবিগুলোর দিকে লক্ষ্য করলে বোঝা যায়। উপজেলা প্রশাসন থেকে তার ছবি প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা এবং সরকার কর্তৃক সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।


সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
সম্পাদক
শরীফ মুজিবুর রহমান
নির্বাহী সম্পাদক
নাঈম পারভেজ অপু
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক
মমতাজ বেগম
কার্যালয়
১০৫, এয়ারপোর্ট রোড, আওলাদ হোসেন মার্কেট (৩য় তলা)
তেজগাঁও, ঢাকা-১২১৫।
ফোন ও ফ্যাক্স :+৮৮০-০২-৯১০২২০২
সেল : ০১৭১১২৬১৭৫৫, ০১৯১২০২৩৫৪৬
E-Mail: banglarchokh@yahoo.com, banglarchokh.photo1@gmail.com
© 2005-2019. All rights reserved by Banglar Chokh Media Limited
Developed by eMythMakers.com
Close