০৮ ডিসেম্বর ২০১৯, রবিবার ১০:৪৫:২১ পিএম
সর্বশেষ:

১৭ নভেম্বর ২০১৯ ১১:৪৪:৩৮ পিএম রবিবার     Print this E-mail this

ভারত থেকে সোনামসজিদ বন্দর দিয়ে পাথর আমদানীতে জটিলতার শঙ্কা

সাখাওয়াত জামিল দোলন চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে
বাংলার চোখ
 ভারত থেকে সোনামসজিদ বন্দর দিয়ে পাথর আমদানীতে জটিলতার শঙ্কা

চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দরে ভারত থেকে আমদানীকৃত পাথরে সরকার নির্ধারিত ট্যারিফ সিডিউল অনুযায়ী টোল ও ফি আদায়ের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে আমদানীতে জটিলতার চরম শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ ও বেসরকারিভাবে বন্দর পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত সোনামসজিদ স্থলবন্দর পানামা পোর্ট লিঙ্ক লিমিটেড কর্তৃপক্ষ রবিবার থেকে আগের নিয়ম প্রত্যাহার করে সরকার নির্ধারিত ট্যারিফ সিডিউল অনুযায়ী টোল ও ফি আদায়ের সিদ্ধান্ত নেয়ায় এই জটিলতা দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন আমদানীকারকরা।

জানা যায়, গত ৯ নভেম্বর শনিবার ও ১৪ নভেম্বর বৃহস্পতিবার সোনামসজিদ স্থলবন্দরের উন্নয়ন, কার্যক্রমে গতিশীলতা বৃদ্ধি, ব্যবসা সহজীকরণ এবং সরকার নির্ধারিত ট্যারিফ সিডিউল অনুযায়ী টোল ও ফি আদায় বিষয়ে বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ ও বেসরকারিভাবে বন্দর পরিচালনার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান সোনামসজিদ স্থলবন্দর পানামা পোর্ট লিঙ্ক লিমিটেড এবং বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (ট্রাফিক) ও যুগ্ম সচিব ড. শেখ আলমগীর হোসেনের সাথে বন্দর শ্রমিক ইউনিয়ন, চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ, আমদানীকারক গ্রুপ, সিএন্ডএফ এজেন্ট প্রতিনিধিসহ বন্দর সংশ্লিষ্টদের এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

মতবিনিময় সভায় সিদ্ধান্ত দেয়া হয় রোববার থেকে পাথর আমদানীকারকরা বন্দর কর্তৃপক্ষকে আর আগের নিয়মে ট্রাক প্রতি ৭৮৩ টাকা করে দিয়ে ট্রাক আনলোড করাতে পারবেন না। ট্রাক আনলোড করাতে হলে সরকার নির্ধারিত ফি দেয়া লাগবে।
কিন্তু আমদানীকারকরা জানান, আমরা আমাদের অপারগতার কথা তুলে ধরেছি। আর সেখানে কেন প্রকার সিদ্ধান্ত ছাড়াই মতবিনিময় সভা শেষ হয়।

এ বিষয়ে সোনামসজিদ স্থলবন্দর পানামা পোর্ট লিঙ্ক লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার মোহাম্মদ বেলাল হোসেন জানান, পাথর ভর্তি ট্রাক রোববার থেকে বন্দর চত্বরে আনলোড করতে হবে এবং এজন্য সরকার নির্ধারিত ট্যারিফ সিডিউল অনুযায়ী টোল ও ফি বাবদ টন প্রতি ১০০ থেকে ১১০ টাকা দিতে হবে আমদানীকারকদের।

তবে সোনামসজিদ স্থলবন্দর আমদানী ও রপ্তানীকারক গ্রুপের উপদেষ্টা কবিরুর রহমান খোকন এই সিদ্ধান্তকে অসামঞ্জস্য উল্লেখ করে জানান, দেশের অন্যান্য বন্দর থেকে ভারতের পাথর সমৃদ্ধ এলাকা পাকুড়ের দূরত্ব সোনামসজিদ স্থলবন্দর থেকে প্রায় ৫০ কি.মি. কম হবার কারণে অনেক আমদানীকারক অন্য বন্দরের চেয়ে অনেক বেশি পরিমান পাথর এই বন্দর দিয়ে আমদানী করছেন যা দেশের মেগা প্রকল্প সমূহে ব্যবহৃত হচ্ছে।

আর রপ্তানিকারকদের অতি মুনাফা, ভারতের মহদিপুর বন্দরে বিভিন্ন পণ্য ভর্তি ট্রাক সোনামসজিদ বন্দরে আসতে ওপারে অহেতুক লোকাল ট্রাকে পণ্য পুন:লোড করে বেশী ভাড়া প্রদানে বাধ্য করা, ইচ্ছাকৃতভাবে জট তৈরি করে বিলম্ব করিয়ে ট্রাক থেকে বিলম্ব ফি আদায়ে এমনিতেই লোকসানে পড়েছেন পাথর আমদানীকারকরা।

তার ওপর সোনামসজিদ স্থলবন্দরে বন্দর কর্তৃপক্ষ আগের মতো করে সুযোগ না দিলে এবং সরকার নির্ধারিত ট্যারিফ সিডিউল অনুযায়ী টোল ও ফি বাবদ টন প্রতি পাথরের জন্য বন্দর কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে টাকা দিতে হলে সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে কারোর পক্ষেই পাথর আমদানী করা সম্ভব হবে না।

যেখানে আগে বন্দর কর্তৃপক্ষ ও সবার সিদ্ধান্তে আনলোডের ক্ষেত্রে ট্রাক প্রতি ৭৮৩ টাকা করে দেয়া হতো সেখানে নতুন এই সিদ্ধান্তানুসারে এক ট্রাক পাথরের জন্য ১৫২ টাকা প্রতিটন হারে ৫ হাজার টাকা থেকে ৬ হাজার টাকা পর্যন্ত গুণতে হবে। যেটা অসামাঞ্জস্য।

তবে সোনামসজিদ স্থলবন্দর পানামা পোর্ট লিঙ্ক লিমিটেডের ডেপুটি পোর্ট ম্যানেজার মাইনুল ইসলাম জানান, কয়েকমাস থেকে সোনামসজিদ স্থলবন্দরে পাথর ছাড়া অন্য পণ্য তেমন আমদানী বন্ধ হয়ে গেছে। ভারত থেকে সোনামসজিদ বন্দর দিয়ে মাসে পাথরবাহী প্রায় সাড়ে তিন হাজার ট্রাকে এক লক্ষ দশ হাজার মেট্রিক টন পাথর আসে যেখানে রাজস্ব দিতে হয় টন প্রতি ৭৭২ টাকা। এ হিসেবে সরকার মাসে রাজস্ব আহরণ করে প্রায় সাড়ে আট কোটি টাকা।

আর বন্দর পরিচালনা কর্তৃপক্ষ প্রতি ট্রাকে যে ৭৮৩ টাকা নেয় তার ৪৯% পায় সরকার ৫১% পায় বন্দর পরিচালনা কর্তৃপক্ষ। পাথর থেকে সরকার নির্ধারিত ট্যারিফ সিডিউল অনুযায়ী টোল ও ফি আদায় না হওয়ায় গত ১৩ বছরে অন্তত ৩শ’ কোটি টাকা পায়নি সরকার। আর তাই এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
সম্পাদক
শরীফ মুজিবুর রহমান
নির্বাহী সম্পাদক
নাঈম পারভেজ অপু
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক
মমতাজ বেগম
কার্যালয়
১০৫, এয়ারপোর্ট রোড, আওলাদ হোসেন মার্কেট (৩য় তলা)
তেজগাঁও, ঢাকা-১২১৫।
ফোন ও ফ্যাক্স :+৮৮০-০২-৯১০২২০২
সেল : ০১৭১১২৬১৭৫৫, ০১৯১২০২৩৫৪৬
E-Mail: banglarchokh@yahoo.com, banglarchokh.photo1@gmail.com
© 2005-2019. All rights reserved by Banglar Chokh Media Limited
Developed by eMythMakers.com
Close