০৮ ডিসেম্বর ২০১৯, রবিবার ০৫:৪৯:০৮ এএম
সর্বশেষ:

১৯ নভেম্বর ২০১৯ ১১:৫৭:১৩ পিএম মঙ্গলবার     Print this E-mail this

সৈয়দপুরে লবনের মূল্য বৃদ্ধি নিয়ে গুজবে বাড়তি মূল্যে বিক্রির অভিযোগ

মিজানুর রহমান মিলন, সৈয়দপুর থেকে
বাংলার চোখ
 সৈয়দপুরে লবনের মূল্য বৃদ্ধি নিয়ে গুজবে বাড়তি মূল্যে বিক্রির অভিযোগ

আগামি দিনে লবনের সঙ্কট হতে পারে, এজন্য চট্রগ্রামের মোকামে লবনের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে এমন গুজব ছড়িয়ে পড়েছে সৈয়দপুরসহ আশেপাশের জেলা উপজেলায়। আর এগুজবকে কেন্দ্র করে ব্যবসা প্রধান শহর সৈয়দপুরে লবন সংগ্রহ করে রাখতে পাইকারি দোকানগুলোতে লবন নিয়ে কাঁড়াকাঁড়ি শুরু হয়েছে মানুষজনের মাঝে।

এ সুযোগে অসাধু ব্যবসায়ীরা লবনের মূল্য হু হু করে বাড়িয়ে দিয়েছে। মঙ্গলবার সারাদিন গোটা সৈয়দপুরে গুজবের কারণে মানুষজনকে লবন সংগ্রহ করতে হুড়োহুড়ি করতে দেখা গেছে। তবে বিকেলের পর উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশ দেশে লববের কোন সংঙ্কট নেই এবং কেউ যেন বাড়তি মূল্যে লবন কেনাবেচা না করে বিষয়টি জানাতে মাইক প্রচারসহ অন্যান্য তৎপরতা শুরু করলে সন্ধ্যার পর থেকে মানুষজনকে আর হুড়োহুড়ি করতে দেখা যায়নি।   

সুত্র জানায়,মঙ্গলবার সকালে হঠাৎ করে সারাদেশের মতো সৈয়দপুরেও গুজব ছড়িয়ে পড়ে আগামি দিনে লবনের সঙ্কট সৃষ্টিসহ মূল্যবৃদ্ধি হবে। এমন গুজবে মানুষজনের মাঝে লবণ কেনার হিড়িক পড়ে। বেলা বাড়ার সাথে সাথে এ গুজব মারাত্মক আকার ধারণ করে। আশেপাশের জেলা উপজেলা থেকেও ব্যবসায়ীরা লবণ কিনতে সৈয়দপুরে ছুটে আসে। সৈয়দপুরসহ ওইসব এলাকার ক্রেতারা বলেন লবন সংকট হবে এমন গুজবে প্রতিটি এলাকায় লবনের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে কেজিপ্রতি ২০/২৫ টাকা হারে।

এ দাম আরও বাড়তে পারে এমন আশঙ্কায় তারা লবন সংগ্রহ করতে সৈয়দপুরে পাইকারি বাজারে ছুটে এসেছেন। ক্রেতাদের এমন কথায় মঙ্গলবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শহরের পাইকারি খুচরা বাজার ঘুরে ঘটনার সত্যতা মেলে। গোটা পাইকারি ও খুচরা বাজারেই লবন ক্রেতাদের উপচেপড়া ভীড় দেখা গেছে। তাদের ভীড়ের সুযোগে পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা মূহুর্তেই বাড়িয়ে দেয় লবনের দাম। সুত্র জানায় শহরের শহীদ জহুরুল হক সড়কের (বিচালিহাট) পাইকারি লবন ব্যবসায়ীরা সোমবার যেসব খোলা লবন মণ প্রতি ৪৪০ টাকায়  বিক্রি করেছেন। সেই লবন গুজবের সুযোগে ৪৮০ থেকে ৫৫০ টাকায় বিক্রি করেন।

এছাড়া বিভিন্ন কোম্পানীর লবন প্রতি বস্তা ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকার স্থলে ৭৫০ থেকে ৮৫০ টাকায় বিক্রি করেছেন। এত বাড়তি দামের পরেও ক্রেতারা পাইকারি দোকানগুলোতে লবন কিনতে হুমড়ি খেয়ে পড়ে। তারা লবন সংগ্রহ করে ট্রাক, পিকআপ,
রিক্সাভ্যানে করে নিয়ে যায়। এদিকে পাইকারি বাজারের এ উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে খুচরা বাজারেও। ওইসব বাজারে খোলা লবন ১৫ টাকা কেজির স্থলে ৩০ টাকা এবং প্যাকেট লবন প্রকার ভেদে ৪০/৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। মূহুর্তেই খালি হয়ে যায় প্রতিষ্ঠান-
-গুলোতে মজুদ থাকা সব লবন। অভিযোগ রয়েছে সৈয়দপুরে ৫/৬ জন ব্যবসায়ী লবনের বাজারের নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন। তারা চট্রগ্রামের মোকামে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের মাধ্যমে মূহুর্তেই মঙ্গলবার বাড়িয়ে দেয় লবনের দাম।

সুত্রটি জানায়, তারা বাড়তি দামে লবন বিক্রি করলেও ক্রেতাদের মাঝে কোন রশীদ দেননি। আর ক্রেতাদের চাপে বিক্রি রশীদ দিলেও দেখানো হয়েছে পূর্বের দর হিসেবে। এব্যাপারে পাইকারি লবন ব্যবসায়ী আকতার হোসেন, ইমরান এজাজসহ অনেকের সাথে লবনের মূল্য বৃদ্ধি প্রসঙ্গে কথা হলে তারা মূল্য বৃদ্ধির কথা অস্বীকার করে বলেন, তারা পূর্বের দামেই লবন বিক্রি করছেন এবং লবনের কোন সংকট নেই। তবে তাদের কথার সাথে মিলেনি বাজারের  দৃশ্য।

এদিকে গুজবের কারণে লবনের মূল্য বৃদ্ধি বিষয়ে সকলকে সচেতন হওয়ার আহবান জানানো হয়েছে উপজেলা ও থানা প্রশাসনের পক্ষ থেকে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সৈয়দপুর শহরে মাইকিং করে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। ওই বিজ্ঞপ্তিতে দেশে লবনের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে জানিয়ে  বাড়তি দামে লবন বিক্রি করা থেকে বিরত থাকার আহবান জানানো হয়েছে বিক্রেতাদের প্রতি।

এছাড়া একইভাবে বাড়তি মূল্যে কাউকে লবন না কিনতে ভোক্তাদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে। যদি কোন বিক্রেতা বাড়তি মূল্যে লবন বিক্রি করে তাহলে থানা পুলিশসহ উপজেলা প্রশাসনকে জানাতে সকলের প্রতি আহবান জানানো হয়েছে। এদিকে সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শাহজাহান পাশার নেতৃত্বে লবনের পাইকারি ও খুচরা বাজার নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এব্যাপারে সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম গোলাম কিবরিয়ার সাথে কথা হলে তিনি জানান লবনের পর্যাপ্ত মজুদ থাকার পরেও যারা গুজব সৃষ্টি করে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরীর পাঁয়তারা করছে তাদের চিহৃিত করতে টীম কাজ করছে। এছাড়া সৈয়দপুরে লবনের বাজার নিয়ন্ত্রন রাখতে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হচ্ছে।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
সম্পাদক
শরীফ মুজিবুর রহমান
নির্বাহী সম্পাদক
নাঈম পারভেজ অপু
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক
মমতাজ বেগম
কার্যালয়
১০৫, এয়ারপোর্ট রোড, আওলাদ হোসেন মার্কেট (৩য় তলা)
তেজগাঁও, ঢাকা-১২১৫।
ফোন ও ফ্যাক্স :+৮৮০-০২-৯১০২২০২
সেল : ০১৭১১২৬১৭৫৫, ০১৯১২০২৩৫৪৬
E-Mail: banglarchokh@yahoo.com, banglarchokh.photo1@gmail.com
© 2005-2019. All rights reserved by Banglar Chokh Media Limited
Developed by eMythMakers.com
Close