২৪ জানুয়ারি ২০২০, শুক্রবার ০৪:১৮:৫৩ পিএম
সর্বশেষ:

০৮ ডিসেম্বর ২০১৯ ১১:১৮:০০ পিএম রবিবার     Print this E-mail this

বেনাপোল কাস্টম হাউস সহকারী প্রোগ্রামারের বিরুদ্ধে দূর্নীতির অভিযোগ

এম.জামান কাকা, যশোর থেকে
বাংলার চোখ
 বেনাপোল কাস্টম হাউস সহকারী প্রোগ্রামারের বিরুদ্ধে দূর্নীতির অভিযোগ

 যশোরের স্থল বন্দর বেনাপোল কাস্টম হাউসের সহকারী প্রোগ্রামার আক্তারুজ্জামানের বিরুদ্ধে ঘুষ বানিজ্য ও ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ করেছেন ব্যবসায়ীরা। বছরে কোটি টাকার ঘুষ বানিজ্য’র অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগে বলা হয়, গত ৪ বছর ধরে একই স্থানে দায়িত্ব পালন কালে তিনি ব্যবসায়ীদের জিম্মী করে আদায় করছেন উপরি টাকা। চাহিদা মত টাকা দিতে ব্যর্থ হলে তিনি ব্যবসায়ীদের ফাইল আটকিয়ে নানাভাবে হয়রানি করে থাকেন। তার হয়রানির কারনে অনেক ব্যবসায়ী বেনাপোল বন্দর থেকে চলে গেছে অন্যত্র। রুহুল আমিন নামে একজন ব্যবসায়ী টেলিফোনে অভিযোগ (মোবাইলে রেকর্ডকৃত) করে বলেন, বেনাপোল কাস্টমস হাউসে প্রতিদিন আমদানি রফতানি পন্য খালাশের জন্য প্রায় ৪০০ বিল অব এন্ট্রি (আমদানি-রফতানি) দাখিল করা হয়।

প্রতিটি বিল অব এন্ট্রি দাখিল বাবদ সহকারী প্রোগ্রামার আক্তারুজ্জামানকে ২০ টাকা করে দিতে হয়। সে হিসাবে বি/ই থেকে প্রতিদিনের গড় আয় প্রায় ৮ হাজার টাকা। বিল অব এন্ট্রি হিসাব করে সিএন্ডএফ এসোসিয়েশনের একজন কর্মচারী সন্ধ্যায় তার টাকা পৌছে দেন তার দফতরে। তাছাড়া লাইসেন্স নবায়ন জন্য সর্বনি¤œ ৩ হাজার টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত তাকে ঘুষ দিতে হয়। বেনাপোল কাস্টমস হাউসের সিএন্ডএফ এজেন্ট লাইসেন্স’র সংখ্যা সাড়ে ৮শত। লাইসেন্সের পারফরমেন্স ,বিন আন লক, আইআরসি যাচাই, রেড চ্যানেল কাটানো বাবদ তাকে ৫শ’ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত উৎকোচ দিতে হয়।
ঘুষ দূর্নীতি ও দূর্ব্যবহারের ব্যাপারে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ সম্পর্কে সহকারী প্রোগ্রামার আখতারুজ্জমান বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে দূর্ণীতি বা ঘুষ বানিজ্যের অভিযোগ উঠেছে তা ঠিক না এবং টাকা নেয়ার যে অভিযোগ উঠেছে তা মনগড়া। তিনি স্বদম্ভে বলেন তার বিরুদ্ধে পত্রিকায় লিখে কিছুই হবেনা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্টস এসোসিয়েশনের এক তরুন মোবাইলে (কথা রেকর্ডকৃত) জানান, আক্তারুজ্জামানকে আমরা বিল অব এন্ট্রি প্রতি ২০ টাকা করে ঘূষের টাকা দিয়ে থাকি দীর্ঘদিন থেকে। তারপরও তিনি আমাদের সদস্যদের কাছ থেকে জোর করে নানাভাবে হয়রানি করে টাকা আদায় করছেন তা মোটেই গ্রহনযোগ্য নয়। সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া উপজেলায় তিনি বসবাস করছেন স-পরিবারে। তিনি বাড়ি থেকে বেনাপোলে অফিস করেন। প্রতি বৃহস্পতিবার তিনি বাড়িতে যান শনিবার বিকেলে আবার ফিরে আসেন বেনাপোলে।

সাতক্ষীরার কলারোয়ার লাভলুর রহমান নামে এক ব্যক্তি জানান, আক্তারুজ্জামান কলারোয়ায় বসবাস করেন।
গত ৫ বছরে তিনি নামে বেনামে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। কিভাবে হলেন সেটা আমরা জানিনা। তবে কাস্টমস এ চাকরী করেন বলে শুনেছি।

বেনাপোল কাস্টমস সিএন্ডএফ এজেন্টস এসোসিয়েশনের সাধারন সম্পাদক এমদাদুল হক লতা মোবাইলে জানান, কেউ যদি তাকে ১০/২০ টাকা দেন এটা তাদের নিজস্ব বিষয়। আমাদের সদস্যরা আমাকে এখনও পর্যন্ত কোন অভিযোগ দেন নি।
বেনাপোল কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার উওম চাকমা জানান, ঘুষ দূর্নীতির ব্যাপারে সহকারী প্রোগ্রামারের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ সম্পর্কে আমার জানান নেই। তবে বিষয়টি সত্য হলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
সম্পাদক
শরীফ মুজিবুর রহমান
নির্বাহী সম্পাদক
নাঈম পারভেজ অপু
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক
কাউসার হোসেন সুইট
উপদেষ্টামন্ডলী
মোঃ ইমরান হোসেন চৌধুরী
কার্যালয়
১০৫, এয়ারপোর্ট রোড, আওলাদ হোসেন মার্কেট (৩য় তলা)
তেজগাঁও, ঢাকা-১২১৫।
ফোন ও ফ্যাক্স :+৮৮০-০২-৯১০২২০২
সেল : ০১৭১১২৬১৭৫৫, ০১৯১২০২৩৫৪৬
E-Mail: banglarchokh@yahoo.com, banglarchokh.photo1@gmail.com
© 2005-2020. All rights reserved by Banglar Chokh Media Limited
Developed by eMythMakers.com
Close