২৪ জানুয়ারি ২০২০, শুক্রবার ০৬:২৬:১৭ পিএম
সর্বশেষ:

১০ ডিসেম্বর ২০১৯ ১২:৩৫:২৬ এএম মঙ্গলবার     Print this E-mail this

অর্থ আত্মসাতের মামলায় স্বেচ্ছাসেবকলীগ সভাপতি সুলতানের এক বছরের সাজা

ইমরান হোসেন ইমন, ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি
বাংলার চোখ
 অর্থ আত্মসাতের মামলায় স্বেচ্ছাসেবকলীগ সভাপতি সুলতানের এক বছরের সাজা

বগুড়ার ধুনটে চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারনা করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দায়েরকৃত একটি মামলায় ধুনট উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি সুলতান মাহমুদকে এক বছরের সাজা প্রদান করেছে আদালত। সোমবার দুপুরে ধুনট থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে সাজাপ্রাপ্ত পলাতক ওই স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতাকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করেছে। গ্রেফতারকৃত সুলতান মাহমুদ ধুনট সদরপাড়া এলাকার মৃত আজিজার রহমানের ছেলে। তার বিরুদ্ধে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি দেওয়ার নামে রাজনৈতিক নেতা, পুলিশ, আইনজীবি, শিক্ষক সহ শতাধিক মানুষকে প্রতারনার ফাঁদে ফেলে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ায় অভিযোগ রয়েছে।

এসব ঘটনায় তার বিরুদ্ধে আদালতে একাধিক মামলাও দায়ের করেছে ভুক্তভোগিরা। এ ঘটনায় গত ২ অক্টোবর বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় ‘ধুনটে সরকারি চাকরি দেওয়ার নামে কোটি টাকা হাতিয়ে স্বেচ্ছাসেবকলীগ সভাপতি উধাও !’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ হলে পরদিন ধুনট থানা পুলিশ দু’টি মামলার ওয়ারেন্টমুলে সুলতান মাহমুদকে গ্রেফতার করে। কিন্তু কয়েকদিন পরেই জামিনে বের হয়ে আসে সুলতান মাহমুদ।

অনুসন্ধানে জানাযায়, সুলতান মাহমুদ ২০১৫ সালে ধুনট উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদ নিয়ে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। পরবর্তীতে ২০১৭ সালে ধুনট উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি পদে নির্বাচিত হন। এরপর থেকেই দখলবাজি, টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, তদবির, নিয়োগ বাণিজ্যে জড়িয়ে পড়েন সুলতান মাহমুদ। তবে তিনি সব থেকে বেশি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন নিয়োগ বানিজ্যের নামে। মন্ত্রী, এমপি, প্রশাসনিক ও বিভিন্ন অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের নাম ব্যবহার করে পুলিশ কনস্টেবল, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ, স্বাস্থ্য বিভাগ সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারনার জাল ফেলে প্রায় বগুড়া, কাজিপুর, ধুনট সহ বিভিন্ন এলাকার শতাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে কয়েক কোটি টাকা হতিয়ে নেন সুলতান মাহমুদ। তার প্রতারনার জালে রয়েছেন রাজনৈতিক নেতা, পুলিশ, আইনজীবি, শিক্ষক সহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ।

তবে এসব টাকা হাতিয়ে নেওয়ার সময় স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা সুলতান মাহমুদ নির্ধারিত টাকার পরিমান লিখে তার সঞ্চয়ী হিসাব নং-১৩৬ ধুনট রূপালী ব্যাংক শাখার চেক দেন চাকরি প্রার্থীদের। তবে কোন কারনে চাকরি দিতে ব্যর্থ হলে এক মাসের মধ্যে এককালীন টাকা রূপালী ব্যাংক থেকে তুলে দেওয়ারও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। কিন্তু সুলতান মাহমুদের ব্যাংক এ্যাকাউন্টে কোন টাকা থাকায় হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়ে এসব ভুক্তভোগিরা। এসব ঘটনায় ভুক্তভোগিরা বগুড়ার আদালতে সুলতান মাহমুদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও দায়ের করেন।

ধুনট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইসমাইল হোসেন জানান, সুলতান মাহমুদের বিরুদ্ধে চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারনা করে অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় আদালতে একাধিক মামলা দায়ের হয়েছে। তন্মধ্যে একটি মামলায় আদালত তাকে এক বছরের সাজা প্রদান করেছে। কিন্তু এরপর থেকেই পলাতক ছিল সুলতান মাহমুদ। সোমবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরন করা হয়েছে।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
সম্পাদক
শরীফ মুজিবুর রহমান
নির্বাহী সম্পাদক
নাঈম পারভেজ অপু
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক
কাউসার হোসেন সুইট
উপদেষ্টামন্ডলী
মোঃ ইমরান হোসেন চৌধুরী
কার্যালয়
১০৫, এয়ারপোর্ট রোড, আওলাদ হোসেন মার্কেট (৩য় তলা)
তেজগাঁও, ঢাকা-১২১৫।
ফোন ও ফ্যাক্স :+৮৮০-০২-৯১০২২০২
সেল : ০১৭১১২৬১৭৫৫, ০১৯১২০২৩৫৪৬
E-Mail: banglarchokh@yahoo.com, banglarchokh.photo1@gmail.com
© 2005-2020. All rights reserved by Banglar Chokh Media Limited
Developed by eMythMakers.com
Close