১৮ জানুয়ারি ২০২০, শনিবার ১১:২৮:৩১ পিএম
সর্বশেষ:

৩০ ডিসেম্বর ২০১৯ ০১:০৬:১৯ পিএম সোমবার     Print this E-mail this

পাটের ১০ সমস্যা ৩ করণীয়

চাষী মামুন
বাংলার চোখ
 পাটের ১০ সমস্যা ৩ করণীয়

কথা উঠলেই আকন্ঠ আবেগ নিয়েই আমরা বলে উঠি ‘আহ পাট, আমাদের সোনালী আঁশ! এক সময় এই পাট দিয়েই চলতো আমাদের এই অঞ্চলের অর্থনীতির চাকা’ ইত্যাদি আরও কত কী! এই একসময়ের সোনালী অতীতকে মনে করে এমন কিছুটা সহানুভূতি আর আবেগ তাড়িত কথা বলেই আমরা ক্ষান্ত হই। কিন্তু কখনও নাগরিক হিসেবে এর ভেতরটা দেখার চেষ্টা চেষ্টা করেছি কি? গৌরব হারিয়ে গেলো কি করে? কোথায় আমাদের ব্যর্থতা, সীমাবদ্ধতা কিংবা চ্যালেঞ্জ কোথায়; এগুলো কি খুঁজে বের করবো নাকি শুধুমাত্র ‘হায় হায়’-ই করবো?

সোনালী আঁশ কেন আজ সোনালী অতীত; এই প্রশ্ন কি সময়োপযোগী নয়? কি তার উত্তর? কার কাছে এই উত্তর? কে দায়ী এদেশের পাটের ক্রান্তিকালের জন্য? এমন শত প্রশ্নের আপাত দৃষ্টিতে আমার কাছে দশ রকমের দৃশ্যমান বক্তব্য বা উত্তর রয়েছে; আর তা হলো: ১। পূর্ববর্তী সরকারগুলোর উদাসীনতা ও অবহেলা ২। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র ৩। পলিথিন ও প্লাস্টিকের প্রচলন, আধিক্য, সহজলভ্যতা ও স্বল্পমূল্য ৪। পেশাগত দক্ষ জনবল তৈরী, গবেষণা, ট্রেনিং ও ডিজাইন ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট/সেন্টার এর গড়ে না তোলা এবং গবেষণা ও উন্নয়নে বেরসকারী খাতকে উৎসাহিত, সম্পৃক্ত ও পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করতে না পারা ৫। আধুনিক প্রযুক্তির অভাব ৬।পাটশিল্পের প্রচার-প্রসার-উন্নয়নে ইনোভেটিভ ও প্রাতিষ্ঠিানিক কোন উদ্যোগ বা কর্মসূচি না থাকা এবং সরকারী প্রতিষ্ঠান সমূহের কার্যকারিতায় স্থবিরতা ৭। পাটশিল্পের সমৃদ্ধি, বিকাশ তথা জাগরণে রাষ্ট্রের জনগণকে সম্পৃক্ত করতে না পারা ৮। কৃষক-শ্রমিক-ক্ষুদ্র পাটব্যবসায়ী, এবং এমএসএমই উদ্যোক্তাদের উন্নয়নে টেকসই ও যুগোপযোগী কোন পদক্ষেপ এবং ব্যাংক ঋণের সুবিধা না থাকা ৯। সমন্বিত পদক্ষেপ ও টেকসই নীতির (পলিসি) অভাব ১০। পাটবীজ উৎপাদনে স্বর্নিভরতার অভাব এবং পাট চাষ হ্রাস পাওয়া ও পাটজাগের বিবিধ সমস্যা ইত্যাদি। এই ১০ টি কারন বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে পাটখাতের আজকের বিপর্যয়ের মূল কারন বলে আমার কাছে মনে হয়। এবং এগুলোই মূলত সমস্যা। কিন্তু এত কিছুর পরও আমাদের অর্জনও কিন্তু কম নয়। আমাদেও উদ্ভবন এবং অর্জণ বিশ্বকে তাক লাগিয়েছে। শত সমস্যা থাকলে আমাদেও সম্মুখে রয়েছে হাজার সম্ভাবনার দুয়ার খোলা। প্রয়োজন সময়োপযোগী উদ্যোগ গ্রহণ।

স্বাধীনতার পূর্বকালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব পাটের গুরুত্ব অনুধাবন করেছিলেন। পশ্চিমা শোষন-বঞ্চনা থেকে বাঙালিদের মুক্ত করতে সংগ্রামের ডাক দিয়েছিলেন। স্বাধীনতা স্বাদ দিয়েছেন। এরপর স্বাধীনতা উত্তরকালে তিনি পাটকল, পাটের গুদাম স্বশরীরে পরিদর্শনও করেছেন। মাঠের বাস্তবতা উপলব্ধি করতে চেয়েছিলেন। ফলে স্বাধীন রাষ্ট্রে পাটের সঠিক বিকাশ প্রত্যাশিত হয়ে উঠেছিল। কিন্তু সে প্রত্যাশা বেশীদিন স্থায়ী হয়নি। স্বপরিবারে মহান বঙ্গবন্ধু যেদিন শহীদ হলেন ঠিক সেদিন থেকেই পাটের পিদিম নিভতে শুরু করলো। পিন্ডির আগ্রাসন থেকে মুক্ত হতে না হতেই দিল্লির আগ্রাসন আর ষড়যন্ত্র শুরু হয়ে গেল! আর সে আগ্রাসনের দোসর হলো একাত্তরের মতই এদেশের কিছু মানুষ। আজকের দিনে বিদেশী ষড়যন্ত্র ও টোপে পড়া মানুষগুলো এজেন্ট হিসেবে কাজ করছে সর্বত্র। এরা সরকারের ভেতরে যেমন আছে তেমনি আছে আমাদের চারপাশ জুড়ে। কিন্তু একটা জায়গায় খুব সাহসবোধ করি যে, এত ষড়যন্ত্র আর নীল নকশার মধ্যেও এদেশের একজন রাষ্ট্রনায়ক বঙ্গবন্ধুর রক্ত বহন করে পাটখাতের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় ব্যাপক রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ গ্রহন করে যাচ্ছেন একের পর এক। এই খাতের সৃজনশীল বিকাশে আজকের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুদুরপ্রসারী উদ্যোগ পাটখাত সংশ্লিষ্টদের আশাবাদী করে তুলেছে। একথা পড়ে অনেকেই হয়তো আমাকে অনেক গালমন্দ করতে পারেন, বলতে পারেন চাটুকার, মিথ্যাবাদী আরও কত কি? কিন্তু আসলে কি তাই? শুধুমাত্র বিরোধীতার কারনে বিরোধিতা না করে আসুন নিরপেক্ষভাবে বিশ্লেষন করি যে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগগুলো কতটা আন্তরিক, দুরদর্শী এবং টেকসই। যদিও এগুলো শেষ উদ্যোগ নয়। এখনও অনেক কিছুই করতে হবে এইখাতের প্রকৃত উন্নয়নে। কিন্তু শুরুটা তো হয়ে গেছে!
যে ১০ টি সমস্যা কিংবা প্রয়োজনীয়তার কথা পূর্বে উল্লেখ করেছি এখন সেগুলো বাস্তবায়ন, উন্নয়ন এবং উত্তরণের দিকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। মন্ত্রণালয় থেকে নিতে হবে আশু কার্যকরী উদ্যোগ। একদিনেই সব হয়ে যাবে তেমনটা যেমন আশা করা যায়না তেমনি কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণে বিলম্ব কিংবা অবহেলাও মার্জনীয় নয়।

এখন করনীয় কি?

আমি মনে করি এবং এটি পরামর্শও যে, পাটখাতের সমস্যা আছে একথা স্বীকার করে সেগুলো যথাযথভাবে এড্রেস করে আমাদেরকে ৩ ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। এই পদক্ষেপ সমূহ নিম্নরূপ:
১। তাৎক্ষনিক পদক্ষেপ ২। স্বল্পমেয়াদী পদক্ষেপ ৩। দীর্ঘমেয়াদী পদক্ষেপ।
 এই ৩ পদক্ষেপ পাটের রক্ষা কবচ হয়ে সোনালী গৌরব ফেরাতে কাজ করবে। তাৎক্ষনিক পদক্ষেপ বা ইমিডিয়েট স্টেপ সহ স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদে কি কি পদক্ষেপ গ্রহণ করা যায় সেগুলোর বিস্তারিত পরবর্তী লেখায় প্রকাশ করবো। আজ এ কথা বলেই শেষ করতে চাই যে, পাটের জাগরণে প্রয়োজন সম্মিলিত তথা সমন্বিত উদ্যোগ। এই উদ্যোগে বিভাজন থাকা যাবেনা, খোঁজা যাবেনা কে হিন্দু, কে মুসলিম, কে খ্রিস্টান, আর কে বৌদ্ধ কিংবা কার কি রাজনৈতি পরিচয় বা দর্শন, ওক দেখতে সাদা আর কে কালো। উদোর ও সার্বজনীন পলিসি বা নীতি গ্রহণের মধ্য দিয়েই পাটের নব জাগরণ সম্ভব। আর তা আসবে নবীনদের হাত ধরেই।।

লেখক: সরদার শাম্স আল-মামুন (চাষী মামুন),
জুট প্রমোটার, প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, পাটশালা ও জুট গুড্স রিসার্চ এন্ড ট্রেনিং ইনস্টিটিউট।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
সম্পাদক
শরীফ মুজিবুর রহমান
নির্বাহী সম্পাদক
নাঈম পারভেজ অপু
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক
কাউসার হোসেন সুইট
উপদেষ্টামন্ডলী
মোঃ ইমরান হোসেন চৌধুরী
কার্যালয়
১০৫, এয়ারপোর্ট রোড, আওলাদ হোসেন মার্কেট (৩য় তলা)
তেজগাঁও, ঢাকা-১২১৫।
ফোন ও ফ্যাক্স :+৮৮০-০২-৯১০২২০২
সেল : ০১৭১১২৬১৭৫৫, ০১৯১২০২৩৫৪৬
E-Mail: banglarchokh@yahoo.com, banglarchokh.photo1@gmail.com
© 2005-2020. All rights reserved by Banglar Chokh Media Limited
Developed by eMythMakers.com
Close