২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, শনিবার ০২:০১:০৬ পিএম
সর্বশেষ:

২৫ জানুয়ারি ২০২০ ০২:০৮:২৪ পিএম শনিবার     Print this E-mail this

টক বরই বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন

মহিউদ্দিন আহমেদ শ্রীপুর(গাজীপুর) থেকে
বাংলার চোখ
 টক বরই বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় উঁচু চালা জমিতে, সড়কের ধারে অনেকটা অবহেলায় বিচ্ছিন্ন ভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকতো ‘টক বরই’ গাছ। নানা কারনে কৃষক আগাছা হিসেবে মনে করতো এ ধরনের বরই গাছকে।অবহেলার কারনে গত কয়েকবছরের ব্যবধানে টক বরই বিলুপ্তের তালিকায় চলে গিয়েছিল। তবে টক বরইয়ের বাণিজ্যিক ব্যবহার বাড়ায় এখন কৃষকের আগ্রহ তৈরী হয়েছে এই টক বরইকে কেন্দ্র করে। তারা বানিজ্যিক ভাবে শুরু করেছে টক বরই চাষ। এবার গাজীপুর জুড়েই হয়েছে টক বরইয়ের ভালো ফলন এতে কৃষকের মুখে হাঁসি ফুঁটে উঠেছে। লাভজনক বিধায় প্রতিনিয়ত বাড়ছে এই বরই চাষ।জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসের তথ্যমতে, জেলাজুড়ে এবার ৭৫০ হেক্টর জমিতে বরই চাষ হয়েছে। এর মধ্যে গাজীপুর সদরে ৩৭০ হেক্টর, শ্রীপুরে ২১৫ হেক্টর, কাপাসিয়ায় ৮৫ হেক্টর, কালিয়াকৈরে ৫৫ হেক্টর, কালিগঞ্জে ২৫ হেক্টর জমিতে বরইয়ের চাষ হয়েছে। বরইয়ের উৎপাদন হয়েছে ১১ হাজার ৩৯৭ মেট্রিকটন।প্রথমে কৃষক আপেল, বাউকুল সহ নানা ধরনের মিষ্টি বরই চাষে উৎসাহী হলেও গত ২-৩ বছর ধরেই তারা ফিরে গেছে দেশী টক বরই চাষে। এখন সবার আগ্রহের কেন্দ্রে এই টক বরই। ভালো দাম, বরইয়ের পুষ্টি গুনাগুন, সংরক্ষন ব্যবস্থা, রোগবালাই কম, ভালো ফলন ও বানিজ্যিক ব্যবহার বাড়ায়  প্রতিনিয়ত সম্প্রারিত হচ্ছে টক বরই চাষ।কাপাসিয়া উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের নলগাঁও গ্রামের শহীদ শিকদার এবার পাঁচ বিঘা জমির ২০০ গাছের টক বরই বিক্রি করেছেন ২ লাখ ৬১ হাজার টাকায়।তিনি জানান, আগে আপেল কুলের চাষ করতেন। কিন্তু স্থানীয় বাজারগুলোতে তেমন দাম পাওয়া যেত না। তাই আগাম বরই উৎপাদনের লক্ষ্যে পাঁচ বছর আগে তার বাগানের বরই গাছে বিলুপ্তপ্রায় দেশি প্রজাতির টক বরইয়ের কলম করেন। এটাতেই শুরু হয় তার সফলতা। এখন সবাই টক বরই চাষে ঝুঁকছেন।এই গ্রামের অন্য কৃষকদের ভাষ্য, আচার তৈরিতে টক বরই প্রয়োজন। টক বরইয়ে আগাম ফলন হয়, শুকিয়ে সংরক্ষন করা যায়, সবদিক মিলিয়ে গত কয়েকবছরে এর বানিজ্যিক ব্যবহার বাড়ায় এর চাহিদা তৈরী হয়েছে। এই কারনে সবাই টক বরই চাষে ঝুঁকছেন। তবে সবচেয়ে বড় সুবিদা হলো রোগবালাই না থাকায় কিটনাশক দিতে হচ্ছে না, তাই তেমন কোন খরচও নেই এই বরই চাষে। আগাম বাজারে উঠায় দামও পাওয়া যায় ভালো। বর্তমানে স্থানীয় বাজারগুলোতে টক বরই বিক্রি হচ্ছে ৬০-৭০ টাকা কেজি।শ্রীপুর উপজেলার গাজীপুর দক্ষিন পাড়া গ্রামের কৃষক আলী আহমেদ জানান, উঁচু চালাজমি হওয়ায় তার জমিতে তেমন কোন ফসল উৎপাদন হতো না, তাই তেমন এবার প্রায় ১৫ বিঘা জমিতে বিভিন্ন এলাকা থেকে সংগ্রহ করে ৬শ দেশী বিলুপ্ত প্রজাতির টক বরইয়ের চারা রোপন করেছেন।নলগাঁও বাজারের বরই ব্যবসায়ী রাজু মিয়ার ভাষ্য, রাজধানীসহ সারাদেশেই এই টক বরইয়ের চাহিদা আছে। এ বরই শুকিয়ে সংরক্ষন করে বিদেশেও রপ্তানী করা হয়। অন্য প্রজাতির মিষ্টি বরই সংরক্ষন করা যায় না। প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত এই বাজারে বরই নিয়ে আসে কৃষকরা। সেখান থেকে পাইকাররা ট্রাক ভর্তি করে রাজধানী সহ বিভিন্ন এলাকা নিয়ে যান বিক্রির উদ্দেশ্যে।শ্রীপুরের বরই চাষী জোবায়ের হোসেন প্রায় আট বিঘা পতিত জমিতে বরই চাষ করে ভালো ফলন পেয়েছেন। তিনি বলেন, বাড়ির আশপাশের পতিত জমিতে বরই চাষ করে জমির ব্যবহারের পাশাপাশি ফল উৎপাদন করা যাচ্ছে। টক বরই চাষে তার মতো এলাকার অনেকেই আর্থিকভাবে লাভবান হয়ে স্বাবলম্বী হয়ে উঠছেন।গাজীপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক মাহবুব আলম জানান, জেলা জুড়ে বসত বাড়ির আশপাশে ফেলে রাখা পতিত জমিতে ব্যাপকভাবে বরই চাষ হচ্ছে। বরই গাছে কৃষকরা কলম করে তারা সহজেই জাত পরিবর্তন করতে পারে। বর্তমানে প্রতি হেক্টর জমিতে ১০-১৫ টন বরই উৎপাদন হচ্ছে। বানিজ্যিক ব্যবহার বাড়ায় ভালো দামে কৃষক লাভবান হচ্ছেন, এতে গ্রামীন অর্থনীতিও সাবলম্ভী হয়ে উঠছে।টক বরই চাষে কৃষক কেন আগ্রহ হলো এর কারন জানাতে গিয়ে বাংলাদেশ কৃষি গবেষনা ইন্সস্টিটিউট এর ফল গবেষণা বিভাগের উর্দ্ধতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো.জিল্লুর রহমান জানান, একদিকে টক বরই শুকিয়ে সংরক্ষন করে নানা ধরনের মুখরোচক খাবার সহ আচার তৈরী করা যায় আবার পুষ্টি গুনাগুন বেশী থাকায় দেশ জুড়েই এর ব্যাপক চাহিদা তৈরী হওয়ায় কৃষক টক বরই চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। সবমিলিয়ে বানিজ্যিক ব্যবহার বেড়েছে এই টক বরইয়ের।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
সম্পাদক
শরীফ মুজিবুর রহমান
নির্বাহী সম্পাদক
নাঈম পারভেজ অপু
আইটি উপদেষ্টা
সোহেল আসলাম
উপদেষ্টামন্ডলী
মোঃ ইমরান হোসেন চৌধুরী
কার্যালয়
১০৫, এয়ারপোর্ট রোড, আওলাদ হোসেন মার্কেট (৩য় তলা)
তেজগাঁও, ঢাকা-১২১৫।
ফোন ও ফ্যাক্স :+৮৮০-০২-৯১০২২০২
সেল : ০১৭১১২৬১৭৫৫, ০১৯১২০২৩৫৪৬
E-Mail: banglarchokh@yahoo.com, banglarchokh.photo1@gmail.com
© 2005-2020. All rights reserved by Banglar Chokh Media Limited
Developed by eMythMakers.com
Close