৩০ মার্চ ২০২০, সোমবার ১২:৫৮:০৮ এএম
সর্বশেষ:

১১ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ১১:২৯:৪৪ পিএম মঙ্গলবার     Print this E-mail this

ওসি তপনের বিরুদ্ধে হাজারো অভিযোগ তবুও বহাল তবিয়তে

বিশেষ প্রতিবেদক
বাংলার চোখ
 ওসি তপনের বিরুদ্ধে হাজারো অভিযোগ তবুও বহাল তবিয়তে

রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তপন চন্দ্র সাহা নানা অপকর্ম ও চাঁদাবাজির হাজারো অভিযোগ পাওয়া গেছে। তার বিরুদ্ধে থানা হেফাজতে ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেনকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।

এছাড়াও তিনি দক্ষিন খান থানায় থাকাকালীন সময়ে নানা অপকর্ম করায় জনগণ অতিষ্ঠ ছিল।

বিশ্বস্ত কয়েকটি সূত্র জানায়, ওসি তপন চন্দ্র সাহা দক্ষিনখান থানায় থাকাকালীন সময়ে নানা অপকর্ম ও চাঁদাবাজি করে চলতেন। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতাকর্মীদের ম্যানেজ করে তার চাঁদাবাজি করার জন্য দুই বা তিনজন কনস্টেবল ও চার-পাঁচজন ক্যাডারকে নিয়োগ দেন। তারা সব ব্যবসায়ীর কাছ থেকে চাঁদা উঠান। চাঁদার পরিমাণ একেক জনের ক্ষেত্রে একেক রকম তখন ছিল। এমনকি তিনি বিএনপি`র নেতাকর্মীদের বিভিন্ন হয়রানি করেন বলেও জানা যায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শর্তে ব্যাটারি চালিত টেম্পু চালক বলেন, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের কিন্তু ব্যাটারি চালিত টেম্পো ও রিকশা চলাচলে সরকার থেকে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। কিন্তু তিনি টাকার বিনিময়ে তা জায়েজ করেছেন।

তিনি বলেন, আমাদের এখানে ব্যাটারি চালিত টেম্পু রয়েছে আটশ থেকে এক হাজারটি। আর সব চাঁদার টাকা পুলিশের লাইনম্যানদের হাতে দিতে হয়। সেসময় আমরা প্রতিদিন একশ টাকা করে দিতাম। এতে মাসে তিন হাজার টাকা হতো। তবে যদি ৩ হাজার টাকা করে দেয়া হয় আর যদি আটশ টেম্পু থাকে। তবে পুলিশকে দেওয়া লাগতো প্রতিমাসে ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা। যা বর্তমান ওসির চেয়ে তিনগুণ বেশি। এছাড়া তিনি বিভিন্ন সাধারণ মানুষদেরকে আটক করে তাদের কাছ থেকে টাকা উঠাতেন। যদি তারা টাকা না দিত, তবে তিনি মাদক মামলায় আসামি করে কোর্টে পাঠিয়ে দিতেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শর্তে আরেক ব্যবসায়ী বলেন, ফুটপাতে কেউ তার সময় ব্যবসা করতে গেলেই টাকা দিতে হতো। আশকোনা হজ ক্যাম্পের সামনে যেসব ফুটপাতগুলো আছে, তাদের কাছ থেকেও মোটা অংকের টাকা তিনি তার বাহিনীদের কাছ থেকে নিতেন। এছাড়াও তার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ ছিল সাধারণ ব্যবসায়ীরা।

এমনকি তার বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেছে, সেখানকার বিএনপি নেতা খলিল মোল্লার এলকে মার্কেট থেকেও মোটা অঙ্কের টাকা উঠান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়রা  আক্ষেপ করে বলেন এ সব পুলিশের কারণেই সব পুলিশের বদনাম হয়।
জানা যায়, তপন চন্দ্র সাহার দক্ষিনখান থানার ওসি থাকাকালীন সময়ে আজমপুর ফরিদ মার্কেটের এক শিশুকে কয়েকজন দুর্বৃত্ত ট্যাঙ্কির মধ্যে ফেলে হত্যা করে। সে সময় শিশুর বাবা মামলা করতে গেলে তার মামলা না নিয়ে দুর্বৃত্তদের পক্ষে শিশুর বাবার বিরুদ্ধে হয়রানি করে। এতে ক্ষুব্ধ জনগণ ঢাকা টু ময়মনসিংহ সড়ক অবরোধ করে এবং বিক্ষোভ সমাবেশ করে।
এতে সেই সময়  তাকে ট্রান্সফার করে উত্তরা পশ্চিম থানায়।

বিশ্বস্ত কয়েকটি সূত্র জানায়, দক্ষিনখান থানা এ থাকাকালীন সময়ে যেসব অপকর্ম তিনি করেছিলেন ঠিক একই অপকর্ম তিনি উত্তরা পশ্চিম থানায় এসে করছেন। এখানেও তিনি তোলাবাজি ও চাঁদাবাজি সহ নানা অপকর্ম করেই যাচ্ছেন। তারই চাঁদাবাজির কারণে অতিষ্ঠ ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর চাপা ক্ষোভ থাকলেও তারা তা প্রকাশ করতে পারছেন না। ব্যাটারি চালিত টেম্পু ও রিক্সা গুলো ঢাকা শহরে চলাচলের অনুমতি না থাকলেও তিনি তা কিছু শ্রমিকদের মাধ্যমে অনুমতি দিয়েছেন। এখানেও তিনি মোটা অংকের টাকা তোলেন বলে জানা যায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শর্তে বাংলার চোখকে কিছু শিশু শ্রমিক বলেন, আমরা শিশু শ্রমিক হলেও লেগুনা ও টেম্পু চালাই। সেখান থেকে টাকা উপার্জন করে বাবা-মাকে অর্থগুলো দিয়েও দেই। এই বয়সে আমাদের স্কুলে যাওয়ার কথা থাকলেও বাবা-মা খুব অসচ্ছল। তাই কিছু একটা করতে হবে। আর আমরা এসব টেম্পো ও রিক্সা চালাই ওসি তপন চন্দ্র সাহার লাইনম্যানদেরকে মোটা অংকের টাকা দিয়ে।

এ প্রসঙ্গে উত্তরার স্থানীয় আনিসুল হক নামের এক যাত্রী বলেন, ওসি তপন চন্দ্র সাহা এসব ছোট ছোট বাচ্চাদেরকে দিয়ে সব কাজ করে নিচ্ছেন। এই ছোট ছোট বাচ্চাদের যদি কিছু বলা হয়, তখনই তারা ওসি তপন চন্দ্র সাহার লোক বলে জানান।

জানা যায়, এই শিশু টেম্পো চালক গত কয়েকদিন আগে একজনকে আহত করেছিল। তখন শিশু চালককে কিছু বলতে গেলেই সে তপন চন্দ্র সাহার লোক বলে সেখান থেকে চলে যায়।

এছাড়াও রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) কিছু জায়গা প্রভাবশালী স্থানীয়দের দিয়ে দেন। আর তারা সেখানে মার্কেট গড়ে তুলেন। তার চাঁদার অর্থও তিনি গ্রহণ করেন।   

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, থানা হেফাজতে ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেনকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে উত্তরা পশ্চিম থানার ওসি তপন চন্দ্র সাহাসহ ৪ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

গত ১৬ জানুয়ারি ঢাকার জজ আদালতে নিহত ব্যবসায়ীর স্ত্রী আলো বেগম হেফাজতে মৃত্যু নিবারণ আইনে এসব পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। এর আগে এ বিষয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করেছিল যমুনা টেলিভিশনের ‘ক্রাইমসিন’।

গত বছরে বিজয় দিবসের রাতে উত্তরা পশ্চিম থানার টহল পুলিশ আলমগীর হোসেনকে ইয়াবাসহ আটক করে। পরদিন তাকে থানা থেকে কারাগারে চালান করে পুলিশ। কারাগারে অসুস্থ হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেয়ার পর সেখানে মারা যান এই ব্যবসায়ী।

ব্যবসায়ীর স্বজনদের অভিযোগ, স্থানীয় চাঁদাবাজ শান্তর মদদে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসিয়ে আলমগীরকে থানা হেফাজতে নির্যাতন করা হয়েছে। উত্তরা পশ্চিম থানার এসআই মিজানুর রহমান ও ওসি তপন চন্দ্র সাহাসহ অন্যরা পরস্পর যোগসাজশে থানা হেফাজতে মারধর করেছেন।
এসব ব্যাপারে ডিএমপি পুলিশ থেকে তার বিরুদ্ধে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে তিনি যদি দোষী সাব্যস্ত হন তবে তাকে বরখাস্ত করা হবে বলে এক সূত্রে জানা গেছে।
এবিষয়ে উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তপন চন্দ্র সাহা বাংলার চোখকে বলেন, আমার বিরুদ্ধে হাজতে যে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে তার তদন্ত চলছে। তদন্তের আগে আমি কিছু বলতে পারবো না। এছাড়া আপনি যে সব অভিযোগের কথা বলছেন, তা নিয়ে আপনি নিউজ করতে পারেন। সাংবাদিকদের সেই দায়িত্ব আছে। তবে কোনো কিছু ভুল হলে আমি আপনার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করবো।

এই প্রসঙ্গে পুলিশের উত্তরা জোনের ডিসি বাংলার চোখকে বলেন, এই সব বিষয়ে আমি কি বা বলতে পারি। তারপর তিনি ফোনে আর কোনো কথা বলেননি।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
সম্পাদক
শরীফ মুজিবুর রহমান
নির্বাহী সম্পাদক
নাঈম পারভেজ অপু
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক
কাউসার হোসেন সুইট
উপদেষ্টামন্ডলী
মোঃ ইমরান হোসেন চৌধুরী
কার্যালয়
১০৫, এয়ারপোর্ট রোড, আওলাদ হোসেন মার্কেট (৩য় তলা)
তেজগাঁও, ঢাকা-১২১৫।
ফোন ও ফ্যাক্স :+৮৮০-০২-৯১০২২০২
সেল : ০১৭১১২৬১৭৫৫, ০১৯১২০২৩৫৪৬
E-Mail: banglarchokh@yahoo.com, banglarchokh.photo1@gmail.com
© 2005-2020. All rights reserved by Banglar Chokh Media Limited
Developed by eMythMakers.com
Close