২৯ মার্চ ২০২০, রবিবার ০৬:৪২:১৫ এএম
সর্বশেষ:

১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ০২:১৭:৫১ এএম বৃহস্পতিবার     Print this E-mail this

আজ বিশ্ব ভালোবাসা দিবস

রুপম আচার্য্য, প্রতিবেদক
বাংলার চোখ
 আজ বিশ্ব ভালোবাসা দিবস

আজ বিশ্ব ভালোবাসা দিবস (ভ্যালেন্টাইন্স ডে) ফাল্গুনের দ্বিতীয় দিন। এ দিনটিকে বিশ্বব্যাপী ভালোবাসা দিবস হিসেবে পালন করা হয়। প্রেমে-ভালোবাসায় মাতোয়ারা হওয়ার দিন। প্রেমিক-প্রেমিকা, বন্ধ-বান্ধব, স্বামী-স্ত্রী, মা-সন্তান, ছাত্র-শিক্ষক সহ বিভিন্ন বন্ধনে আবদ্ধ মানুষেরা এই দিনে একে অন্যকে তাদের ভালোবাসা জানায়। যদিও এই দিবসের দিনেই ঋতুরাজ বসন্ত রাঙিয়ে দিয়েছে প্রকৃতি। তবে বিশেষ এই দিনে, স্থান, ব্যক্তিভেদে রয়েছে ভালোবাসার রকমফের। কি প্রাচ্য, কি পাশ্চাত্য- কবিতা, গান আর পংক্তিমালায় অব্যক্ত ভালোবাসা প্রকাশের পথ খুঁজে নেয় শ্বাশত প্রেম। প্রেমের ঋতু বসন্তই ভালোবাসা দিবসের অনন্ত সঙ্গী হয়েছে। মানুষে মানুষে বন্ধুত্ব, মমতা ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যয়ে নানা আয়োজনে আজ ১৪ ফেব্রুয়ারী বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বে পালিত হচ্ছে। বর্তমানে সমগ্র বিশ্বে এই দিনটিকে খুবই ঘটা করে আনন্দ উৎসবের মধ্য দিয়ে পালন করা হয়।
ভালোবাসা নিয়ে অজ¯্র কবিতা আর গান সুরে-বেসুরে শোনানো হবে প্রিয়জনকে। প্রিয়তমার হাত ধরে কিংবা পাশে বসে অনেকেই রচনা করবে নিজেদের ভবিষ্যত। হয়তো এদিনেই বিভেদ ভুলে মিলন হবে দুই বন্ধুর। কেউবা অণপ্রাণিত হবে সৃষ্টির প্রতি ভালোবাসায়। মুঠোফোনের মেসেজ, ই-মেইল অথবা ফেসবুকের চ্যাটিংয়ে খুঁজে পাবে নতুন দিনের ঠিকানা। এই দিনে পার্ক ও বিনোদন কেন্দ্রগুলো ভালবাসার মানুষদের দ্বারা পরিপূর্ণ থাকে। ভালবাসা দিবসের এই দিনে প্রিয়জনকে সবাই ফুল, চকোলেট, পারফিউম, বই ইত্যাদি শৌখিন উপঢৌকন সহ বিভিন্ন সামগ্রী উপহার দিয়ে থাকে। বিশ্ব ভালবাসা দিবসে এখন থেকে কয়েক বছর আগ পর্যন্তও বিশ্বব্যাপী ঘটা করে পালন করা হতো না। তবু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ভালোবাসার একটি দিন নির্ধারিত হয়েছে। সারাবছর ভালোবাসবার যে আয়োজন তা একটি দিনে আরেকটু বাড়তি গুরুত্ব পেলে ক্ষতি কী? প্রকৃতির পালাবদলে এসেছে বসন্ত, সেই ফাগুনের মাতাল হাওয়ায় আজ উদ্দাম ভেসে যাবে প্রেম পিয়াসী তরুণ-তরুণী, ভালোবাসার রঙে রঙিন হবে হৃদয়। মনের যতো বাসনা, যতো অব্যক্ত কথা ডালাপালা মেলে ছড়িয়ে পড়বে বসন্তের মধুর হাওয়ায়। কপোত-কপোতী পরস্পরকে নিবেদন করবে মনের যতো কথা, জানাবে ভালোবাসা। আজ চুপকথা শুনবার ও শোনানোর দিন। আজ কারো কারো চুপকথাগুলো হয়ে যাবে রূপকথা। সারাজীবন মনে রাখার মতো গল্প।

উল্লেখ্য, এই দিবসটি যুক্তরাষ্ট্র বা পাশ্চাত্য সমাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। তবে বর্তমানে এই দিবসটি বিশ্বব্যাপী দেশে দেশে আনন্দ উন্মাদনার সাথে পালন করা হয়। আমরা অনেকেই এই দিবসটি পালন করে থাকি তবে হয়তো আমরা অনেকেই জানিনা এই দিবসটি কিভাবে বা কোথা থেকে আসলো। জানা না থাকলে আসুন আমরা এ বিষয়ে জানার চেষ্টা করি। কথিত আছে, ২৬৯ কিংবা ২৭০ খ্রিষ্টাব্দে রোমান সম্রাট ক্লডিয়াস মৃত্যু দেন সেন্ট ভ্যালেন্টাইনকে। কারো মতে, অন্ধপ্রেমিকার চোখের দৃষ্টি ফেরাতেই জীবন দিতে হয়েছে তাকে। কেউ বলে, বিয়ে প্রথা নিষিদ্ধের বিরুদ্ধে নিজে বিয়ে করে বিদ্রোহী হন তিনি। আবার কারো মতে, রোগীর সেবা আর খ্রিষ্টধর্ম প্রচারের অপরাধে জীবন দিতে হয় চিকিৎসক ভ্যালেন্টাইনকে। জীবনের পরিসমাপ্তির মধ্য দিয়ে প্রেমের প্রতীক হয়ে উঠেন সেইন্ট ভ্যালেন্টাইন। ৪৯৬ খ্রিষ্টাব্দে প্রথম পোপ জুলিয়াস ঘোষণা করেন ভ্যালেনটাইন ডে। তখন থেকে ক্রমেই বাড়ছে ভালোবাসা দিবস পালনের পরিধি। আরেক ইতিহাস দাবি করে, সেনাবাহিনীতে লোক সংকট হলে তরুণ-তরুণীর বিয়েতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন সম্রাট ক্লডিয়াস। যাতে অবিবাহিত তরুণেরা সৈনিক হতে আগ্রহ প্রকাশ করে। সম্রাটের এই নির্দেশ প্রথম অমান্য করেন সেন্ট ভ্যালেন্টাইন নামের এক ধর্মযাজক। তিনি ভালোবেসে মার্সিয়া নামের এক তরুণীকে বিয়ে করেন এবং নিজে দাঁড়িয়ে থেকে অন্যদের বিয়ে দেন। আদেশ অমান্যের জন্য ভালেন্টাইনকে মৃত্যুদু দেন। তার স্মরণেই ভালোবাসা দিবস পালিত হয়ে আসছে। এটিই সবচেয়ে প্রচারিত সংজ্ঞা। তবে খ্রিস্টধর্ম মতে এটি একটি প্রাচীন রোমান রীতি। এই রীতিতে মধ্য ফেব্রুয়ারিতে গ্রামের সব তরুণ একটি বাক্সে মেয়েদের নাম চিরকুটে লিখে জমা করতো। পরে ওই বাক্স থেকে প্রত্যেক যুবক একটি করে চিরকুট তুলত, যার হাতে যে মেয়ের নাম উঠত তার সঙ্গেই সে সংসার করতো পরে সেটি নবায়নও করতো। খ্রিস্ট্রান ধর্মাম্বলীরা সেই রীতি পালটে ১৪ তারিখ ভালোবাসা দিবস ঘোষণা করে। এছাড়া প্রাচীন রোমে দেবতাদের রাণী জুনোর সম্মানে ১৪ ফেব্রুয়ারি ছুটি পালন করা হতো। রোমানরা বিশ্বাস করত যে, জুনোর ইশারা-ইঙ্গিত ছাড়া কোনও বিয়ে সফল হয় না। সেইসব গল্প-কাহিনী ঘিরে দেশে দেশে শুরু হয় ভালোবাসা দিবস পালন।

ভ্যালেন্টাইন্স ডে’র উৎপত্তির বিষয়ে আরেকটি সম্পূর্ণভিন্নমত রয়েছে। এই মতের লোকেরা বলেন, ভ্যালেন্টাইনের সঙ্গে প্রিয়জনকে ভালোবাসার বার্তা পাঠানোর আদৌ কোনও সম্পর্ক নেই। প্রাচীনকালে মানুষের বিশ্বাস ছিল, ১৪ ফেব্রুয়ারি হলো পাখিদের বিয়ের দিন। পাখিরা বছরের দ্বিতীয় মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে ডিম পাড়তে বসে। আবার কেউ বলেন, মধ্যযুগের শেষদিকে মানুষ বিশ্বাস করত এদিন থেকে পাখিদের মিলন ঋতু শুরু হয়। পাখিরা সঙ্গী খুঁজেবেড়ায়। পাখিদের দেখাদেখি মানুষও তাই সঙ্গী নির্বাচন করে এ দিনে। ৪৯৬ খ্রিষ্টাব্দে ভ্যালেন্টাইন্স ডে’র উদ্ভব হলেও এটি বিশ্বব্যাপী প্রথম দিকে তেমনিভাবে প্রচার ও প্রসার লাভ করেনি। পাশ্চাত্যের ক্ষেত্রে জন্ম দিনের উৎসব, ধর্মোৎসব সবক্ষেত্রেই ভোগের বিষয়টি মুখ্য। তাই গির্জা অভ্যন্তরেও মদ্যপানে তারা বিরত থাকে না। খ্রিস্টীয় চেতনা ভ্যালেন্টাইন দিবসের কারণে বিনষ্ট হওয়ার অভিযোগে ১৭৭৬ সালে ফ্রান্স সরকার ভ্যালেন্টাইন্স উৎসব নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। ইংল্যান্ডে ক্ষমতাসীন পিউরিটানরাও একসময় প্রশাসনিক ভাবে এ দিবস উৎযাপন করা নিষিদ্ধ করেছিল। এছাড়া অস্ট্রিলিয়া, হাঙ্গেরি ও জার্মানিতে বিভিন্ন সময়ে এ দিবসটি জনগণ ও সরকারিভাবে প্রত্যাখ্যাত হয়েছিল।

বাংলাদেশে ভালোবাসা দিবসের প্রচলন খুব বেশি দিনের নয়। ৯০ দশকের শুরুতে এর প্রচলন ঘটে। বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে বিশ্বের আর সব দেশের মতো ১৪ ফেব্রুয়ারি ঢেকে যায় করপোরেট সংস্কৃতির মোড়কে। সঙ্গে থাকে বাণিজ্যিক হিসাব। ‘এত কোটি টাকার ফুল বিক্রি/ ফুল চাষীদের মুখে হাসি/ ভালোবাসা দিবসে পুলিশের জন্য ফুল’ এ জাতীয় শিরোনামে মুখর হয় পত্রিকার পাতা। বর্তমান সময়ে এসে ভ্যালেন্টাইন্স দিবসের কদর প্রবল ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ভালোবাসা দিবসে ভালোবাসার শুভেচ্ছা শুধু প্রেমিক- প্রেমিকাই নয়, প্রযোজ্য বাবা-মা- ভাইবোন, বন্ধু সকলের ক্ষেত্রেই। তাই দিন শেষে সব ছাপিয়ে ভালোবাসাই সত্য। এই বসন্তে আপনার ভালোবাসা দিবসটি প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটুক, ভালোবাসায় কাটুক।


সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
সম্পাদক
শরীফ মুজিবুর রহমান
নির্বাহী সম্পাদক
নাঈম পারভেজ অপু
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক
কাউসার হোসেন সুইট
উপদেষ্টামন্ডলী
মোঃ ইমরান হোসেন চৌধুরী
কার্যালয়
১০৫, এয়ারপোর্ট রোড, আওলাদ হোসেন মার্কেট (৩য় তলা)
তেজগাঁও, ঢাকা-১২১৫।
ফোন ও ফ্যাক্স :+৮৮০-০২-৯১০২২০২
সেল : ০১৭১১২৬১৭৫৫, ০১৯১২০২৩৫৪৬
E-Mail: banglarchokh@yahoo.com, banglarchokh.photo1@gmail.com
© 2005-2020. All rights reserved by Banglar Chokh Media Limited
Developed by eMythMakers.com
Close