২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০, বৃহস্পতিবার ১২:৫৫:১৭ এএম
সর্বশেষ:

১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ০৭:২৫:২৯ পিএম বৃহস্পতিবার     Print this E-mail this

ব্যাংক থেকে টাকা মেরে শতাধিক ব্যাংক লুটেরা বিদেশে রাজকীয় হালে

ডেক্স রিপোর্ট
বাংলার চোখ
 ব্যাংক থেকে টাকা মেরে শতাধিক ব্যাংক লুটেরা বিদেশে রাজকীয় হালে

পরিস্থিতি এমন যে- ব্যাংক থেকে টাকা মেরে দেয়া সবচেয়ে সহজ। এই উৎসবে মেতেছিলেন বেশ কয়েকজন। হাজার হাজার কোটি টাকা মেরে তারা এখন লাপাত্তা। যুক্তরাষ্ট্র, মালয়েশিয়া, দুবাই, কানাডা, অস্ট্রেলিয়াসহ উন্নতি বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমিয়েছেন বিনা বাধায়। করছেন রাজকীয় জীবন-যাপন।

ব্যাংক থেকে টাকা মেরে বিভিন্ন সময় বিদেশে পালিয়ে গেছেন এমন শতাধিক লুটেরাকে চিহ্নিত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ঋণের টাকা তুলতে না পেরে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো এসব ঋণকে মন্দ ঋণ (খেলাপি) ঘোষণা করতে বাধ্য হচ্ছে। এমনকি এদের কারণে একটি অব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে অবসায়ন করা হয়েছে।

এই তালিকায় সর্বশেষ সংযোজন প্রশান্ত কুমার হালদার ওরফে পি কে হালদার। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা মেরে দিয়েছেন। প্রতিবেশি ভারতে করেছেন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠান আছে কানাডাতেও।

কয়েকশ কোটি টাকা নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আফজাল হোসেন। এমন আরও অনেকে ব্যাংকের টাকা মেরে ব্যাংকক, দুবাই, অস্ট্রোলিয়াসহ মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নিয়েছে।

বেসিক ব্যাংক থেকে ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নামে ৩০০ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে কানাডায় পালিয়েছেন স্ক্র্যাপ (জাহাজভাঙা) ব্যবসায়ী গাজী বেলায়েত হোসেন মিঠু ওরফে জি বি হোসেন। দুদক তার পাসপোর্টের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেও তাকে আটকানো যায়নি। গাজী বেলায়েত এখন কানাডার টরন্টোয় থাকেন।

অগ্রণী ব্যাংকের ২৫৮ কোটি ৫৬ লাখ ১৬ হাজার টাকা ও বিডিবিএল থেকে প্রায় ১০০ কোটি টাকা নিয়ে আত্মসাৎ করে মালয়েশিয়ায় পালিয়েছেন মাররীন ভেজিটেবল অয়েল লিমিটেডের চেয়ারম্যান টিপু সুলতান এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক জহির আহমেদ।

ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ৫ হাজার ৩০০ কোটি টাকা নিয়ে বিদেশে পালিয়ে গেছেন এরশাদ ব্রাদার্সের মালিক মো. এরশাদ আলী। তাঁর দুই ভাই ইসা বাদশা ও মুসা বাদশাও কয়েকশ কোটি টাকা নিয়ে কানাডার টরেন্টোয় বাদশাহি-জীবন যাপন করছেন।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ব্যাংক খাতে জবাবদিহির চরম সংকট বিরাজ করছে। একজন মানুষ কীভাবে একই প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার হিসেবে থাকছেন আবার ঋণও নিচ্ছেন নিজ নামে। এসবের পেছনে হয়তো আরও কোনো গল্প থাকতে পারে। এরা কারও না কারও সহায়তা নিয়ে এসব করছেন।

এই অর্থনীতিবিদের মন্তব্য, ‘ব্যাংক খাতে একটা শুদ্ধি অভিযান সময়ের দাবি। কেননা ব্যাংকের টাকা লুট করা এবং প্রতারণা এসব এখন সংক্রামক ব্যাধির মতো ছড়িয়ে পড়ছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের উচিত এসব বিষয়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা।’

আরেক বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও সাবেক তত্ত্বাধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘ব্যাংক খাতে সুশাসনের অভাবে এসব ঘটনা বারবার ঘটছে। পুরো আর্থিক খাতে একাট ঝাঁকুনি দরকার। বিশেষ করে ব্যাংকিং খাতের নিয়ন্ত্রক হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংককে আরও শক্তিশালী ভূমিকা পালন করতে হবে। সেই সঙ্গে সরকারের সদিচ্ছা থাকতে হবে যে, আর্থিক খাতে আর কোনো প্রতারণা বা ঋণ কেলেঙ্কারির ঘটনা ঘটবে না।’

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
সম্পাদক
শরীফ মুজিবুর রহমান
নির্বাহী সম্পাদক
নাঈম পারভেজ অপু
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক
কাউসার হোসেন সুইট
উপদেষ্টামন্ডলী
মোঃ ইমরান হোসেন চৌধুরী
কার্যালয়
১০৫, এয়ারপোর্ট রোড, আওলাদ হোসেন মার্কেট (৩য় তলা)
তেজগাঁও, ঢাকা-১২১৫।
ফোন ও ফ্যাক্স :+৮৮০-০২-৯১০২২০২
সেল : ০১৭১১২৬১৭৫৫, ০১৯১২০২৩৫৪৬
E-Mail: banglarchokh@yahoo.com, banglarchokh.photo1@gmail.com
© 2005-2020. All rights reserved by Banglar Chokh Media Limited
Developed by eMythMakers.com
Close